রাজবাড়ী জেলার কৃষকেরা মাঠে ফসল ফলানোর খরচ বৃদ্ধি পাওয়া এবং বিক্রির সময় সঠিক দাম না পাওয়া নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। পদ্মা নদীর পলিমাটিতে উর্বর এই অঞ্চলে ধান, পাট ও বিভিন্ন সবজি আবাদ করা হলেও সম্প্রতি সবকিছুর দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়েছে। কৃষকদের দাবি অনুযায়ী, জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে সেচ ও শ্রমিকের মজুরি পর্যন্ত প্রতিটি ধবেই বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।
চলতি মৌসুমে জেলার বিস্তীর্ণ মাঠে প্রায় ৫২ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান এবং তিনশ হেক্টরের বেশি জমিতে আগাম সবজির আবাদ করা হয়েছে। তবে জ্বালানি তেলের দাম লিটারে বিশ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় সেচ ও চাষাবাদের খরচ সরাসরি প্রভাবিত হয়েছে। এছাড়া প্রয়োজনের সময় সার ও কীটনাশক সময়মতো না পাওয়ার অভিযোগও করেছেন অনেক কৃষক।
একজন নারী কৃষক তাঁর বক্তব্যে জানান, সার, কীটনাশক, শ্রমিক ও জ্বালানির চড়া দামের কারণে এ বছর খরচ অনেক বেশি হচ্ছে অথচ বিক্রির সময় তাঁরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তিনি সরকারের কাছে কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্য নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন। কৃষকদের মতে, উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাজারদর না পেলে তাঁরা পরবর্তী সময়ে চাষাবাদে আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারেন।
অন্যদিকে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, বর্তমানে রাজবাড়ীতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ইউরিয়া, ডিএপি, পটাশ ও টিএসপি সার মজুত রয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. শহিদুল ইসলাম জানান, মাঠপর্যায়ে মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে এবং কিছু এলাকায় উচ্চমূল্যে সার বিক্রির ঘটনায় ইতিমধ্যে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কৃষকদের ক্যাশ মেমোর মাধ্যমে সার কেনার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।
সব মিলিয়ে কৃষি বিভাগের নজরদারি সত্ত্বেও মাঠপর্যায়ের কৃষকদের বড় উদ্বেগ রয়ে গেছে উৎপাদন খরচ ও বাজারদর নিয়ে। মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমানো এবং কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ফসল ক্রয়ের ব্যবস্থা করা হলে তাঁরা কিছুটা স্বস্তি পাবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।








