শেয়ার বাজার

উৎপাদন খরচ বৃদ্ধিতে রাজবাড়ীর কৃষকদের মাঝে ফসলের ন্যায্যমূল্য নিয়ে শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

উৎপাদন খরচ বৃদ্ধিতে রাজবাড়ীর কৃষকদের মাঝে ফসলের ন্যায্যমূল্য নিয়ে শঙ্কা

রাজবাড়ী জেলার কৃষকেরা মাঠে ফসল ফলানোর খরচ বৃদ্ধি পাওয়া এবং বিক্রির সময় সঠিক দাম না পাওয়া নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। পদ্মা নদীর পলিমাটিতে উর্বর এই অঞ্চলে ধান, পাট ও বিভিন্ন সবজি আবাদ করা হলেও সম্প্রতি সবকিছুর দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়েছে। কৃষকদের দাবি অনুযায়ী, জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে সেচ ও শ্রমিকের মজুরি পর্যন্ত প্রতিটি ধবেই বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

চলতি মৌসুমে জেলার বিস্তীর্ণ মাঠে প্রায় ৫২ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান এবং তিনশ হেক্টরের বেশি জমিতে আগাম সবজির আবাদ করা হয়েছে। তবে জ্বালানি তেলের দাম লিটারে বিশ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় সেচ ও চাষাবাদের খরচ সরাসরি প্রভাবিত হয়েছে। এছাড়া প্রয়োজনের সময় সার ও কীটনাশক সময়মতো না পাওয়ার অভিযোগও করেছেন অনেক কৃষক।

একজন নারী কৃষক তাঁর বক্তব্যে জানান, সার, কীটনাশক, শ্রমিক ও জ্বালানির চড়া দামের কারণে এ বছর খরচ অনেক বেশি হচ্ছে অথচ বিক্রির সময় তাঁরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তিনি সরকারের কাছে কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্য নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন। কৃষকদের মতে, উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাজারদর না পেলে তাঁরা পরবর্তী সময়ে চাষাবাদে আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারেন।

অন্যদিকে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, বর্তমানে রাজবাড়ীতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ইউরিয়া, ডিএপি, পটাশ ও টিএসপি সার মজুত রয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. শহিদুল ইসলাম জানান, মাঠপর্যায়ে মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে এবং কিছু এলাকায় উচ্চমূল্যে সার বিক্রির ঘটনায় ইতিমধ্যে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কৃষকদের ক্যাশ মেমোর মাধ্যমে সার কেনার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।

সব মিলিয়ে কৃষি বিভাগের নজরদারি সত্ত্বেও মাঠপর্যায়ের কৃষকদের বড় উদ্বেগ রয়ে গেছে উৎপাদন খরচ ও বাজারদর নিয়ে। মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমানো এবং কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ফসল ক্রয়ের ব্যবস্থা করা হলে তাঁরা কিছুটা স্বস্তি পাবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজধানীর বাজারে আটা ময়দা ও ডিমসহ নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

রাজধানীর বাজারে আটা ময়দা ও ডিমসহ নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী

রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে নিত্যপণ্যের বাড়তি দামের চাপে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচ অব্যাহতভাবে বাড়ছে। সম্প্রতি নয়াবাজার, কারওয়ান বাজার ও কেরাণীগঞ্জের বউবাজার ঘুরে দেখা গেছে যে আটা, ময়দা, ডিম ও মাছের দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। ছুটির দিনে চাহিদা বেশি থাকায় প্রায় সব ধরনের সবজির দামও কেজিতে কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সীমিত আয়ের মানুষের জন্য বাজার খরচ সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

বাজারে প্রতি কেজি খোলা আটা ৫০ টাকা এবং ময়দা ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে যা এক মাস আগে কম ছিল। পাইকারিতে ৫০ কেজির ময়দার বস্তার দাম বেড়ে যাওয়ায় এর প্রভাব বনরুটি ও বেকারি পণ্যে পড়ার উপক্রম হয়েছিল। এছাড়া প্রতি ডজন ডিম ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে যা ছয় মাস আগের তুলনায় বেশ খানিকটা বেশি। ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দামও গত দেড় মাসের তুলনায় কেজিতে বৃদ্ধি পেয়েছে।

সবজি বাজারে কাঁচামরিচ, পটোল, বেগুন, করলা এবং শিম চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে কারওয়ান বাজারের বিক্রেতা শাহানাজ বেগম জানান যে বৃষ্টির কারণে সবজি সরবরাহে ঘাটতি থাকায় দাম বাড়তির দিকে রয়েছে। অন্যদিকে মাছের বাজারে রুই, কাতলা, পাবদা ও চিংড়ির দাম বেশি থাকলেও সরবরাহ বাড়ার কারণে ইলিশের দাম কিছুটা কমেছে। গরুর মাংস এবং খাসির মাংসের দাম অবশ্য অপরিবর্তিত রয়েছে।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে বহু নিত্যপণ্যে কর কমানো হলেও খুচরা বাজারে তার সুফল পুরোপুরি পৌঁছাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ভোক্তারা। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের প্রতিনিধি নাজের হোসাইন জানান যে কর কমানোর পরও দাম না কমায় বিষয়টি সরকারের গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। বাজারে পণ্যের দাম না কমায় সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসছে না।


কংগ্রেস
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫ জুন, ২০২৬

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস অনুষ্ঠিত

    সিংগাইর প্রতিনিধি  : বিষমুক্ত নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, আধুনিক, জলবায়ু সহনশীল কৃষি উন্নয়নে মানিকগঞ্জের সিংগাইরে “পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার (১৫ জুন) দুপুর ১২ টার দিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আয়োজিত প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল এন্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউটিশন এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) প্রকল্পের আওতায় উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা নির্বাহি অফিসার খায়রুন্নাহারের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় কংগ্রেসে আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু সহনশীল কৃষি ও বিষমুক্ত নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের রূপরেখা নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়। । অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন, উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো: কিশোর আহমেদ।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন, মানিকগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষন কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মতিউর রহমান, উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো: হাবেল উদ্দিন ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আলাউদ্দিন, উপকার ভোগী কৃষক আলী হোসেন ও কৃষাণী সাবিনা আক্তার প্রমূখ। বক্তারা বলেন, কৃষকের দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে পার্টনার প্রকল্পের আওতায় ফিল্ড স্কুল, উত্তম কৃষি চর্চা, আধুনিক সেচ প্রযুক্তি, মানসম্মত তথ্য ব্যবস্থাপনা ও ফার্মার্স সার্ভিস সেন্টার চালু করা হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন সহনশীল চাষাবাদ, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং কৃষিকে লাভজনক বাণিজ্যিক পেশা হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করতে হবে বক্তারা।

    অতিথিগণ বক্তব্যে আরও বলেন, 'পার্টনার কংগ্রেস' হলো অত্র প্রকল্পের আওতায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কর্তৃক আয়োজিত একটি সমাবেশ বা মিলনমেলা। এর মূল লক্ষ্য মাঠপর্যায়ের কৃষকদের নিরাপদ, আধুনিক ও লাভজনক কৃষি প্রযুক্তির প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং কৃষিকে উৎপাদনমুখী থেকে স্মার্ট ও বাণিজ্যিক কৃষিতে রূপান্তর করা। দিনদিন আমরা অতিরিক্ত ও অনিরাপদ খাবার গ্রহণ করার ফলে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছি। এতে খাবার গ্রহণের চেয়ে চিকিৎসা ব্যয় অনেকগুণে বেড়ে গেছে। এই জন্য উত্তম কৃষি চর্চার (GAP) মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও গ্রহণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এটি কেবল বিষমুক্ত ও পুষ্টিকর খাবারই নিশ্চিত করে না, বরং মানবস্বাস্থ্য, মাটি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে কৃষিকে টেকসই ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত করে।

     

     স্মার্ট ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে কৃষি চর্চার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। পাশাপাশি কৃষিপণ্য বিপণন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও ন্যায্য বাজারমূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানা বক্তারা। এছাড়া অনুষ্ঠানস্থলে স্টলে উন্নত জাতের ফসল ও কৃষিপণ্য প্রদর্শন করা হয়, যা কৃষকদের মধ্যে নতুন প্রযুক্তি ও পদ্ধতি সম্পর্কে আগ্রহ সৃষ্টি করে। এসময় উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো: ইব্রাহীম হোসেন, সিংগাইর প্রেসক্লাব এর সাধারণ সম্পাদক দৈনিক ইনকিলাব প্রতিনিধি মো. রকিবুল হাসান বিশ্বাস ও যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক দৈনিক আমার দেশ প্রতিনিধি আব্দুল মোতালেব ও সিংগাইর উপজেলা প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক মোবারক হোসেন’ দৈনিক”প্রতিদিনের বাংলাদেশ” প্রতিনিধি মো.আতিকুল ইসলামসহ কৃষক, পার্টনার ফিল্ড স্কুলের কর্মকর্তা ও সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। পরিশেষে সভার সভাপতি উপজেলা নির্বাহি অফিসার খায়রুন্নাহার এর বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।  অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় উপজেলা কৃষি সম্প্রারণ অফিসার রিদওয়ানুল হক ও উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কাজী শহিদুল ফেরদৌস দায়িত্ব পালন বরেন।


    ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধিতে দেশের কৃষকদের উৎপাদন খরচ ও দুশ্চিন্তা বৃদ্ধি

    নিজস্ব প্রতিবেদক

    প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

    ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধিতে দেশের কৃষকদের উৎপাদন খরচ ও দুশ্চিন্তা বৃদ্ধি

    সার ও বীজের চড়া দামের সংকটের মধ্যে সম্প্রতি একলাফে লিটারে ২০ টাকা ডিজেলের দাম বাড়ায় দেশের কৃষকদের কষ্ট আরও বেড়ে গেছে। আধুনিক ও যন্ত্রনির্ভর কৃষিতে জমি প্রস্তুত, সেচ দেওয়া, ফসল কাটা এবং মাড়াইয়ের মতো প্রায় সব কাজেই জ্বালানি হিসেবে ডিজেল অপরিহার্য। কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে মোট ৪৩ লাখ ৫০ হাজার টন ডিজেলের চাহিদার প্রায় ২৪ শতাংশ কৃষিকাজে ব্যবহৃত হয়। এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে কৃষকদের অতিরিক্ত প্রায় ২ হাজার ৮৮ কোটি টাকা ব্যয় বৃদ্ধি পাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    বিশেষ করে বোরো মৌসুমে সেচ কার্যক্রমের ৮০ শতাংশই ডিজেলচালিত যন্ত্রের ওপর নির্ভরশীল থাকায় উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়ে যাবে। ধান উৎপাদনে খ্যাতিসম্পন্ন নওগাঁ, ঠাকুরগাঁও, জয়পুরহাটসহ বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষকেরা জানিয়েছেন যে ডিজেলের দাম বাড়ায় জমি চাষ, সেচ ও ফসল মাড়াইয়ের খরচ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। কোথাও কোথাও পাওয়ার টিলারের খরচ এবং সেচপাম্পের ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মালিকেরা। এর ফলে বিপ্রতি ফসল উৎপাদনে অতিরিক্ত দেড় থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তি খরচ হচ্ছে প্রান্তিক চাষিদের।

    কৃষি অর্থনীতিবিদ জাহাঙ্গীর আলম খান মনে করেন, ডিজেলের দাম বাড়ার কারণে কৃষকদের উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যাবে এবং তাঁরা কঠিন সংকটের মুখে পড়বেন, যা পরবর্তীতে খাদ্যে মূল্যস্ফীতি বাড়াতে পারে। কৃষকদের রক্ষায় তিনি সরকারকে নগদ অর্থসহ প্রণোদনা দেওয়ার সুপারিশ করেছেন। একই সঙ্গে কৃষকদের দাবি, ফসলের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ধানের ন্যায্য দামও যেন সেই অনুপատ বাড়িয়ে দেওয়া হয়।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুর রহিম জানিয়েছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব সবার মতো কৃষকদের ওপরও পড়ছে এবং কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি, কৃষিজমিতে ডিজেলনির্ভর সেচের ওপর চাপ কমাতে বিকল্প হিসেবে সৌরবিদ্যুচ্চালিত পাম্প বসানোর কাজও চলমান রয়েছে।