শেয়ার বাজার

সৈকতে ডিম পেড়ে সামুদ্রিক কচ্ছপের বাসা বানানোর বিরল দৃশ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সৈকতে ডিম পেড়ে সামুদ্রিক কচ্ছপের বাসা বানানোর বিরল দৃশ্য

প্রকৃতির এক বিস্ময়কর ও বিরল ঘটনার সাক্ষী হয়েছে একটি সামুদ্রিক সৈকত। সেখানে গভীর রাতে বালু খুঁড়ে একটি কচ্ছপ ডিম পাড়ার পর নিখুঁতভাবে বাসা তৈরি করেছে, যা ওই অঞ্চলের জন্য সম্পূর্ণ নতুন একটি অভিজ্ঞতা। স্থানীয় পরিবেশকর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা এই দুর্লভ দৃশ্য দেখে দারুণভাবে বিমোহিত হয়েছেন।

সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য গবেষকদের মতে, এই ধরনের সামুদ্রিক কচ্ছপ সাধারণত নিরাপদ ও উপযুক্ত পরিবেশ পেলে নির্দিষ্ট কিছু সৈকতেই ডিম পাড়ার জন্য আসে। তবে বর্তমান সৈকতটিতে এর আগে কচ্ছপের বাসা বাঁধার কোনো রেকর্ড ছিল না। এটি প্রমাণ করে যে ওই এলাকার উপকূলীয় পরিবেশ সামুদ্রিক প্রাণীদের প্রজননের জন্য ধীরে ধীরে উপযোগী হয়ে উঠছে।

সামুদ্রিক কচ্ছপের এই সফল প্রজনন প্রচেষ্টাকে স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। কচ্ছপটি যাতে নিরাপদে ডিমগুলো ফুটিয়ে সাগরে ফিরে যেতে পারে, সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী দলগুলো এরই মধ্যে বিশেষ নজরদারি শুরু করেছে। ডিমগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বালুর চারপাশে সতর্কতামূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।

পরিবেশবিদদের ধারণা, এই ঘটনা উপকূলীয় অঞ্চলে সামুদ্রিক প্রাণীর বিচরণ ও প্রজনন সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াবে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে সামুদ্রিক কচ্ছপ রক্ষায় আরও বড় পরিসরে গবেষণা ও সংরক্ষণমূলক উদ্যোগ গ্রহণের পথ উন্মুক্ত করবে এই বিরল ঘটনা।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি: কাঙ্ক্ষিত আসন পেতে প্রস্তুতি যেভাবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি: কাঙ্ক্ষিত আসন পেতে প্রস্তুতি যেভাবে

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে শিক্ষার্থীদের কেবল সাধারণ পড়াশোনায় সীমাবদ্ধ থাকলেই চলবে না, বরং একটি সুনির্দিষ্ট ও পরিকল্পিত কৌশল গ্রহণ করতে হবে। ভর্তিচ্ছুদের শুরু থেকেই রুটিন তৈরি করে নিয়মিত পড়াশোনা করতে হবে এবং সময়ের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে যে সবার শেখার গতি ও ধরন এক হয় না, তাই অন্যের তৈরি করা রুটিন অন্ধভাবে অনুসরণ না করে নিজের সক্ষমতা অনুযায়ী পরিকল্পনা সাজানোই শ্রেয়।

প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো বিগত বছরের প্রশ্নপত্র গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা এবং নিয়মিত অনুশীলন করা। কোন কোন অধ্যায় বা টপিক থেকে বারবার প্রশ্ন আসছে, তা চিহ্নিত করে সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে হবে। বিগত বছরের প্রশ্নগুলোর ভাষা ভিন্ন হতে পারলেও অনেক সময় মূল ধারণা বা থিম একই থাকে, যা প্রশ্নব্যাংক সমাধানের মাধ্যমে সহজেই অনুধাবন করা সম্ভব।

নিয়মিত মডেল টেস্টে অংশ নেওয়া ভর্তি প্রস্তুতির একটি অপরিহার্য ধাপ, যা পরীক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এবং নিজেদের দুর্বলতাগুলো খুঁজে বের করতে সাহায্য করে। মডেল টেস্টের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ে প্রশ্ন সমাধানের অভ্যাস গড়ে ওঠে, যা মূল পরীক্ষার হলে টাইম ম্যানেজমেন্ট বা সময় ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে নেগেটিভ মার্কিং এড়াতে এবং পরীক্ষার ভীতি দূর করতে বেশি বেশি মডেল টেস্ট দেওয়ার বিকল্প নেই।

পরীক্ষার হলে প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়ার পর তিন ধাপে উত্তর করার কৌশল অবলম্বন করলে ভালো ফলাফল করা সম্ভব। প্রথমে নিশ্চিত প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে হবে, দ্বিতীয় ধাপে চিন্তাভাবনা করে উত্তর করা যাবে এমন প্রশ্নগুলো ধরতে হবে এবং সবচেয়ে শেষে জটিল বা সময়সাপেক্ষ প্রশ্নগুলো বিবেচনা করতে হবে। কোনো বিষয়ে দুর্বলতা থাকায় হতাশ না হয়ে নিজের শক্তির জায়গাগুলোকে আরও মজবুত করতে হবে এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আত্মবিশ্বাস ধরে রেখে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।


শেখ হাসিনাকে ফেরানোর শপথ নেওয়ার পর পুলিশের হাতে আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

শেখ হাসিনাকে ফেরানোর শপথ নেওয়ার পর পুলিশের হাতে আটক

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিতে অভিনব কায়দায় শপথ নেওয়া এক ব্যক্তিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে আটক করেছে পুলিশ। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর হয়ে ওঠে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ওই ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে। আটককৃত ব্যক্তির নাম মো. হারুন এবং তাঁর বয়স পঞ্চাশ বছর বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটক হারুন কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় কর্মী। এর আগে কেরানীগঞ্জের একটি আবাসিক এলাকায় দলীয় কয়েকজন নেতা-কর্মী একত্রিত হয়ে শেখ হাসিনাকে পুনরায় দেশে ফিরিয়ে আনার শপথ গ্রহণ করেন। সেই ঘটনার একটি ভিডিও মুঠোফোনে ধারণ করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলে বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, হারুন এর আগেও রাজধানীতে দলীয় বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন। তিনি গত মে মাসে মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোড এলাকায় একটি বিক্ষোভ মিছিলের প্রস্তুতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় থেকে তিনি বিভিন্ন সময়ে নিষিদ্ধ দলটির পক্ষে প্রচারণামূলক বক্তব্য ও পোস্ট দিয়ে আসছিলেন বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

এ বিষয়ে মোহাম্মদপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার জুয়েল রানা গণমাধ্যমকে জানান যে মো. হারুনের দলীয় সুনির্দিষ্ট কোনো পদপদবি না থাকলেও তিনি দলটির একজন উগ্র ও সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত। শপথ নেওয়ার ঘটনার ভিডিও বিশ্লেষণ করে তাঁকে শনাক্ত করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করে আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী আদালতে সোপর্দ করা হবে।


নড়াইলে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় কৃষককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নড়াইলে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় কৃষককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ

নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় মাদক সেবনের প্রতিবাদ করায় মানসুর মোল্যা নামের এক কৃষককে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। কদমতলা গ্রামে রাতের বেলা ঘটে যাওয়া এই সহিংস ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত মানসুর মোল্যা ওই গ্রামের হাবি মোল্যার ছেলে এবং তিনি পেশায় একজন কৃষক ছিলেন। এই হামলায় নূর ইসলাম নামের আরও একজন ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন, যিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে জানা যায়, এলাকার একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর সঙ্গে মাদক সেবন নিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য কাসেদ মোল্যার বিরোধ চলছিল। এর আগে পেড়লী ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার কাসেদ মোল্যার সঙ্গে হাসিব মোল্যার মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে বাগ্‌বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছিল। অভিযুক্ত হাসিব দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় বিভিন্ন ধরনের মাদকাসক্ত কার্যকলাপে লিপ্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পূর্বের ওই বিরোধ এবং হাতাহাতির জেরে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডে পুরো এলাকাবাসী আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

ঘটনার রাতে কদমতলা ত্রি-মোহনার মোড়ে অভিযুক্ত হাসিবকে দেখতে পেয়ে মানসুর মোল্যা ও নূর ইসলাম আগের দিনের মারধরের কারণ জানতে চান। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে হাসিব ক্ষিপ্ত হয়ে তার কাছে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের উভয়ের ওপর হামলা চালান। তিনি অত্যন্ত নির্মমভাবে তাদের এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলেও পথেই মানসুরের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য কাসেদ মোল্যা গণমাধ্যমকে জানান, অভিযুক্ত হাসিব একজন বেপরোয়া মাদকসেবী এবং তাকে নিষেধ করার কারণেই সে অতীতে তাকেও লাঞ্ছিত করেছিল। সেই ঘটনার প্রতিবাদ করতে গিয়েই আজ নিরীহ কৃষক মানসুরকে নিজের জীবন হারাতে হলো। নিহতের স্বজনরা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইদ্রিস আলী জানান, খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত হাসিবকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের জোরালো অভিযান অব্যাহত রয়েছে।