শেয়ার বাজার

আবার আলোচনায় বিএনপির চাঁদাবাজি ও দখল, নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না কেন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আবার আলোচনায় বিএনপির চাঁদাবাজি ও দখল, নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না কেন

গত ফেব্রুয়ারি মাসের জাতীয় নির্বাচনে জয়লাভের পর বিএনপি সরকার গঠন করার ইতোমধ্যে ছয় মাসের বেশি সময় অতিক্রান্ত হয়েছে। তবে এই দীর্ঘ সময়েও দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত কোনো উন্নতি ঘটেছ কি না, তা নিয়ে জনমনে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সাধারণ মানুষের মাঝে সরকারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নানা সংশয় তৈরি হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে উদ্বেগ দিন দিন বাড়ছে।

বিশেষ করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের একাংশের বিরুদ্ধে হামলা, চাঁদাবাজি এবং জোরপূর্বক দখলের গুরুতর অভিযোগ উঠছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য জেলা ও মহানগরে এই ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের চিত্র প্রায়ই সামনে আসছে। সাধারণ ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিকরা এই পরিস্থিতির কারণে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে একটি সিন্ডিকেট যেভাবে অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে, তা দ্রুত দমন করা সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা বললেও মাঠপর্যায়ে তার কার্যকর বাস্তবায়ন দেখা যাচ্ছে না। ফলে সাধারণ মানুষের মনে সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে নানা প্রশ্নের উদ্রেক হচ্ছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারকদের পক্ষ থেকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হলেও অপরাধপ্রবণতা পুরোপুরি রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। জনস্বার্থে এই ধরনের বেআইনি দখল ও চাঁদাবাজি শক্ত হাতে দমন করা না গেলে সরকারের সার্বিক অর্জন প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে বলে সতর্ক করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ডিএনএ পরীক্ষায় মিলল সন্তানের পিতৃপরিচয়
ধর্ষণ মামলায় ফাঁসানো হয় ইমামকে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৭ মে, ২০২৬

ধর্ষণ মামলায় ফাঁসানো হয় ইমামকে
সীমান্ত কণ্ঠ ডেস্ক:: অবশেষে ডিএনএ পরীক্ষায় নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন ফেনীর পরশুরামে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার মসজিদের ইমাম মোজাফফর। একই সঙ্গে তদন্ত ও ডিএনএ রিপোর্টে বেরিয়ে এসেছে কিশোরীর ভূমিষ্ঠ সন্তানের পিতৃপরিচয়। পরিকল্পিতভাবে ওই ইমামকে ধর্ষণ মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জানা গেছে, জেলার পরশুরাম উপজেলার এক কিশোরী (১৪) ২০১৯ সালে স্থানীয় মক্তবে পড়াশোনা শেষ করে। এর পাঁচ বছর পর অন্তঃসত্ত্বা হয়ে সন্তান প্রসব করলে পরিবারের পক্ষ থেকে ওই মক্তবের শিক্ষক ও স্থানীয় জামে মসজিদের ইমাম মোজাফফর আহমদের (২৫) বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়। ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর ওই কিশোরীর মা বাদী হয়ে পরশুরাম মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। 

এদিকে, ওই বছরের ২৬ নভেম্বর অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে অভিযুক্ত মোজাফফর আহমদ ফেনীর আদালতে পাল্টা মামলা করতে গেলে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়। পরে ১ মাস ২ দিন কারাভোগ করে জামিনে মুক্তি পান মোজাফফর।

পরবর্তীতে মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযুক্ত মোজাফফর আহমদ ও কিশোরীর সংরক্ষিত ভ্যাজাইনাল সোয়াব ঢাকার মালিবাগে সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। ২০২৫ সালের ২১ জানুয়ারি প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ভ্যাজাইনাল সোয়াবে পুরুষের বীর্যের উপস্থিতি শনাক্ত হয়নি। ফলে মোজাফফরের ডিএনএর সঙ্গে তুলনামূলক মতামত দেয়া সম্ভব হয়নি।

এরপর কিশোরী ও তার ভূমিষ্ঠ হওয়া শিশু কন্যার জৈবিক পিতা শনাক্তে নতুন করে ডিএনএ পরীক্ষার আবেদন করে পুলিশ। তদন্ত চলাকালে পুলিশ কিশোরীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে একপর্যায়ে সে স্বীকার করে, তার আপন বড় ভাই (২২) দীর্ঘদিন ধরে তাকে ধর্ষণ করে আসছিল। বিষয়টি আড়াল করতে পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় মসজিদের ইমাম মোজাফফরকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেন। পরে ২০২৫ সালের ১৯ মে ওই কিশোরীর অভিযুক্ত ভাইকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায় পুলিশ। পরদিন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে আপন বোনকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেন তিনি।

আদালতের নির্দেশে একই বছরের ৪ আগস্ট কিশোরী, তার শিশু কন্যা এবং বড় ভাইয়ের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। ৯ আগস্ট প্রকাশিত ডিএনএ প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়, কিশোরীর অভিযুক্ত ভাইয়ের সঙ্গে শিশুটির জৈবিক পিতা হিসেবে ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ মিল রয়েছে। একই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কারাভোগ করা মোজাফফর আহমদ ওই শিশুর জৈবিক পিতা নন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পরশুরাম মডেল থানা পুলিশের উপপরিদর্শক শরীফ হোসেন অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, মোজাফফর আহমদের বিরুদ্ধে আনিত ধর্ষণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। ফলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০-এর ৯(১) ধারার মামলা থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। অপরদিকে, ওই কিশোরীর ভাইয়ের বিরুদ্ধে একই ধারায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি ফেনী জেলা কারাগারে রয়েছেন।

এ ব্যাপারে পরশুরাম মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, ডিএনএ পরীক্ষায় প্রকৃত সত্য সামনে আসার পর ওই ইমামের নাম চার্জশিট থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। তথ্য চ্যানেল টুয়েন্টি ফোর


শান্তি আলোচনা ঠেকাতে ইউরোপ ‘সবকিছু করছে’: জাতিসংঘে রাশিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

শান্তি আলোচনা ঠেকাতে ইউরোপ ‘সবকিছু করছে’: জাতিসংঘে রাশিয়া

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার চলমান সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের উদ্যোগগুলোকে নস্যাৎ করতে ইউরোপীয় দেশগুলো সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে বলে তীব্র অভিযোগ করেছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। সম্প্রতি নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই অভিযোগ করেন। লাভরভের মতে, পশ্চিমা দেশগুলোর এই ধরনের আগ্রাসী মনোভাব ও তৎপরতা কেবল যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করছে এবং অঞ্চলটিতে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথকে কঠিন করে তুলছে।

বক্তব্যে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন যে পশ্চিমা দেশগুলো নিয়মিতভাবে ইউক্রেনকে আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত করছে এবং কিয়েভ প্রশাসনকে সামরিক সহায়তা দিয়ে শক্তিশালী করে তুলছে। এমনকি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে সাধারণ মানুষ এবং গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোগুলোর ওপর হামলা চালাতে ইউক্রেনকে প্রত্যক্ষভাবে মদদ জোগাচ্ছে পশ্চিমা মিত্ররা। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, রাশিয়াকে কৌশলগতভাবে পরাস্ত করার যে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা পশ্চিমারা করেছে, তা শেষ পর্যন্ত তাদের নিজেদেরকেই এক গভীর কৌশলগত অচলাবস্থার মুখে ফেলবে।

ইউরোপীয় রাজনীতির বাইরেও বৈশ্বিক নানা গুরুত্বপূর্ণ সংকট ও ভূরাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে নিজের বক্তব্যে জোরালো অবস্থান তুলে ধরেন সের্গেই লাভরভ। মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘমেয়াদি সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই অঞ্চলের মূল সমস্যার স্থায়ী সমাধানের এখনই উপযুক্ত সময় এসেছে। এ ক্ষেত্রে জাতিসংঘের পূর্বে গৃহীত অসংখ্য সিদ্ধান্ত ও প্রস্তাবের আলোούে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।

এছাড়াও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বিভিন্ন আলোচিত বিষয়ে রাশিয়ার দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে অবিলম্বে সব ধরনের বন্দিদশা থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি জোর আহ্বান জানান। পাশাপাশি, শক্তি প্রয়োগ করে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার ঘটনাকে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করেন তিনি। অন্যদিকে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির নিরাপদ ও সুষম ব্যবহারের লক্ষে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াতে একটি বিশেষ বৈশ্বিক সংস্থা গঠনের চীনা উদ্যোগকে মস্কো পূর্ণ সমর্থন জানায়।


যুক্তরাষ্ট্রের পথে চীনের জোড়া জায়ান্ট পান্ডা, থাকবে ১০ বছর

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের পথে চীনের জোড়া জায়ান্ট পান্ডা, থাকবে ১০ বছর

যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে সফলভাবে দীর্ঘ যাত্রা শুরু করেছে চীনের জনপ্রিয় দুই জায়ান্ট পান্ডা। দীর্ঘমেয়াদী প্রাণী বিনিময় কর্মসূচির অংশ হিসেবে পান্ডা দুটিকে আটলান্টার একটি বিখ্যাত চিড়িয়াখানার প্রাঙ্গণে পাঠানো হচ্ছে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার দীর্ঘস্থায়ী ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্বজুড়ে এই বিশেষ কূটনীতি বেশ সুপরিচিত এবং এটি দুই দেশের জনগণের মাঝে পারস্পরিক সৌহার্দ্য বাড়াতে ভূমিকা রাখে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পান্ডা দুটির এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে প্রায় ১৫ ঘণ্টা সময় লাগার কথা রয়েছে। যাত্রাপথে প্রাণীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও আরামদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। প্রাণী বিশেষজ্ঞরা পুরো সময় জুড়েই পান্ডা দুটির স্বাস্থ্য ও মানসিক অবস্থা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। পর্যাপ্ত বাঁশ এবং পানীয় জলের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে তাদের দীর্ঘ বিমানযাত্রার এই বিশেষ ফ্লাইটে।

আটলান্টার এই চিড়িয়াখানায় আগামী এক দশক অর্থাৎ পুরো দশ বছর অবস্থান করবে পান্ডা জোড়াটি। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বেশ কিছু পান্ডা চীনে ফিরিয়ে নেওয়া হলেও, নতুন এই জুটির আগমন দেশটির দর্শকদের জন্য এক বিশাল আনন্দের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ পান্ডাগুলোকে বরণ করতে ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রেখেছে। দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করার আগে তাদের নতুন পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও কূটনীতির ক্ষেত্রে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝেও সাংস্কৃতিক ও পরিবেশগত অংশীদারিত্ব বজায় রাখতে এই ধরনের পদক্ষেপ বরাবরই কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষ ও পর্যটকরা এই নতুন অতিথিদের সাদরে গ্রহণ করবেন এবং এটি দুই দেশের সুসম্পর্ককে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।