শেয়ার বাজার

ডিমের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডিমের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর

ডিমের বাজারে কৃত্রিম সংকট, অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি ও অতিরিক্ত মুনাফা পরিহার করার জন্য ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। সম্প্রতি সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ডিমের উৎপাদন ও সরবরাহ পর্যালোচনা সংক্রান্ত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই আহ্বান জানান। সাধারণ মানুষের কাছে ডিম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য হওয়ায় এর দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়লে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ওপর সরাসরি চাপ সৃষ্টি হয়। উৎপাদক থেকে খুচরা পর্যায় পর্যন্ত সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিটি ধাপে যৌক্তিক মুনাফা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের তাগিদ দেন তিনি।

সভায় ব্যবসায়ীরা জানান যে সাম্প্রতিক সময়ে ভুট্টা ও সয়াবিনসহ পোলট্রি খাদ্যের বিভিন্ন উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রতি ডিমের উৎপাদন ব্যয় প্রায় ১১ টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে উৎপাদক পর্যায়ে প্রতি ডিমের গড় বিক্রয়মূল্য ৭ টাকা ৯১ পয়সা থাকলেও সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে প্রায় ১১ টাকা ৩০ পয়সায় দাঁড়ায়। বছরের একটি বড় সময় উৎপাদন খরচের নিচে ডিম বিক্রি করতে হলেও দাম বাড়ার সময়টিই সাধারণত বেশি আলোচনায় আসে। উৎপাদক থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে সাধারণত দেড় থেকে দুই টাকা পর্যন্ত মূল্য সংযোজন হয়ে থাকে বলে তারা উল্লেখ করেন।

মৌসুমি দামের ওঠানামা কমাতে অতিরিক্ত উৎপাদনের সময় এক থেকে দেড় মাস ডিম সংরক্ষণের কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি পোলট্রি খাদ্যের উপকরণের মূল্য নিয়ন্ত্রণ, করের চাপ কমানো, পরিবহন ও বাজারজাতকরণের প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং তথ্য প্রকাশের সুপারিশ করেন তারা। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ডিমের দাম কমে আসবে বলে ব্যবসায়ীরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। মন্ত্রীর মতে, ব্যবসার নামে অস্বাভাবিক মুনাফা করা কিংবা সরবরাহ ব্যবস্থায় কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার অস্থিতিশীল করার কোনো সুযোগ নেই।

ব্যবসায়ীদের উত্থাপিত যৌক্তিক সমস্যা ও সুপারিশগুলো সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তবে বাজারে কোনো পক্ষ যেন সুযোগ নিয়ে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখা হবে বলে তিনি সতর্ক করেন। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো উৎপাদকদের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি, ব্যবসায়ীদের যৌক্তিক মুনাফা এবং ভোক্তাদের সহনীয় দামে ডিম কেনা নিশ্চিত করা। বাজারে কৃত্রিম সংকট বা অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো তা পর্যবেক্ষণ করবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান হলেন জাহেদুল হক 

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৩ এপ্রিল, ২০২৪

স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান হলেন জাহেদুল হক 

স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ৩৮৯তম পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত রবিবার এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান হলেন শরিয়াহ্ ভিত্তিক স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক পিএলসি.-এর পরিচালক, চট্টগ্রামের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজ সেবক মো. জাহেদুল হক।

জাহেদুল হক চট্টগ্রামের বোয়ালখালী থানাধীন পশ্চিম শাকপুরা গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি চট্টগ্রাম কলেজিয়েট হাই স্কুল থেকে ১৯৮৫ সালে এসএসসি এবং চট্টগ্রাম সরকারি কমার্স কলেজ থেকে ১৯৮৭ সালে এইচএসসি পাশ করেন। ১৯৯২ সালে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নর্থইস্ট লুইসিয়ানা ইউনিভার্সিটি থেকে বিবিএ সম্পন্ন করেন।

চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের প্রাক্তন পরিচালক, বাংলাদেশ গার্মেন্টস্ ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড এক্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) এর প্রাক্তন সদস্য, চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড কমার্স ও খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ফাইন্যান্স ইন্ডাস্ট্রিজ এর সহ সভাপতি জনাব মো. জাহেদুল হক সততা, যোগ্যতা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে দ্রুত সফলতার শীর্ষে আরোহণ করেন। পেশাগত জীবনে তিনি মেসার্স জাহেদ ব্রাদার্স এর প্রোপ্রাইটর এবং মেসার্স নূর অয়েল অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্টস্ ও মেসার্স আরাফাত লিমিটেডের পরিচালক।

মানবহিতৈষী, সকলের প্রিয় ব্যক্তিত্ব জাহেদুল হক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত। তিনি বোয়ালখালী হাজী মো. নুরুল হক ডিগ্রী কলেজ, শাকপুরা, চট্টগ্রাম- এর গভর্নিং বডির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য; চট্টগ্রাম রাইজিং স্টার ক্লাবের এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান, আর্মি গল্ফ ক্লাব ঢাকা, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল এবং চট্টগ্রাম হার্ট ফাউন্ডেশনের আজীবন সদস্য; চট্টগ্রাম বোট ক্লাব, চট্টগ্রাম ক্লাব লিমিটেড, চট্টগ্রাম কলেজিয়েট ক্লাব এবং চট্টগ্রাম সিনিয়রস্' ক্লাব লিমিটেডের স্থায়ী সদস্য। এছাড়াও তিনি আমেনিয়া ফোরকানিয়া নূরীয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার প্রতিষ্ঠাতা এবং চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিলর।


রাষ্ট্রায়ত্ত ১০ ব্যাংকে নতুন এমডি নিয়োগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১ অক্টোবর, ২০২৪

রাষ্ট্রায়ত্ত ১০ ব্যাংকে নতুন এমডি নিয়োগ

সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক, কৃষি ব্যাংক, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক, বাংলাদেশ ডেপলমেন্ট ব্যাংক ও বেসিক ব্যাংক- এ রাষ্ট্রায়ত্ত ১০ ব্যাংকে নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, বাংলাদেশ ডেপলমেন্ট ব্যাংক ও বেসিক ব্যাংকে চুক্তিভিত্তিক নতুন এমডি ও সিইও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আর আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক, কৃষি ব্যাংক এবং প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক এ চার প্রতিষ্ঠানে এমডি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দিয়ে।

উপব্যবস্থাপনা (ডিএমডি) পরিচালক থেকে এমডি পদে পদোন্নতি ও পদায় দিয়ে সোমবার (২১ অক্টোবর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জরি করা হয়েছে। আর বাকি ৬ ব্যাংকের এমডি নিয়োগের সুপারিশ করে পরিচালনা পর্ষদকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

সোনালী ব্যাংকের এমডি ও সিইও পদে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এমডি মো. শওকত আলী খান। জনতা ব্যাংকের ব্যাংকের এমডি ও সিইও পদে নিয়োগ পেয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের এমডি মো. মজিবর রহমান।

অগ্রণী ব্যাংকের এমডি ও সিইও পদে নিয়োগ পেয়েছেন ব্যাংকটির সাবেক ডিএমডি মো. আনোয়ারুল ইসলাম। রূপালী ব্যাংকের এমডি ও সিইও পদে নিয়োগ পেয়েছেন রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ডিএমডি মো. আ. রহিম।

বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের এমডি ও সিইও হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জনতা ব্যাংকের সাবেক ডিএমডি মো. জসীম উদ্দিন এবং বেসিক ব্যাংকের এমডি ও সিইও পদে নিয়োগ পেয়েছেন জনতা ব্যাংকের আরেক সাবেক ডিএমডি মো. কামরুজ্জামান।

এছাড়া সোনালী ব্যাংকের ডিএমডি মীর মোফাজ্জল হোসেনকে আনসারি-ভিডিপি ব্যাংকের এমডি, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ডিএমডি সালমা বানুকে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের এমডি, সোনালী ব্যাংকের ডিএমডি সঞ্চিতা বিনতে আলীকে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এমডি এবং বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ডিএমডি চানু গোপাল ঘোষকে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের এমডি হিসেবে পদোন্নতি ও পদায়ন করা হয়েছে।

এর আগে রাষ্ট্রায়ত্ত ৬ বাণিজ্যিক ব্যাংক- সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ও বেসিক ব্যাংকে শেখ হাসিনা সরকারের সময় তিন বছরের চুক্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত এমডি ও সিইওদের চুক্তির অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করে সরকার।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর এসব ব্যাংকের এমডিদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করতে চেয়ারম্যানদের চিঠি দেয় অর্থ মন্ত্রণালয়। তারপর থেকে এসব ব্যাংকের এমডি ও সিইও পদ শূন্য ছিলো।

যোগাযোগ করা হলে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবের রুটিন দায়িত্ব পালন করা অতিরিক্ত সচিব অমল কৃষ্ণ মণ্ডল জাগো নিউজকে বলেন, ৪টি ব্যাংকের ডিএমডি-কে পদোন্নতি দিয়ে এমডি পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। আর বাকি ৬টি ব্যাংকের এমডি নিয়োগের জন্য সুপরিশ করে ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদকে চিঠি দেয়া হয়েছে। এখন পরিচালনা পর্ষদ তাদেরকে চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগ দেবেন।


নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সিলেটে বিএডিসির মেগা প্রকল্প: অনাবাদী মাঠে ফসলের হাসি, বদলাচ্ছে ১৭ হাজার হেক্টরের কৃষি ও হাওরের অর্থনীতি

​আশিকুল ইসলাম হানিফ:

হাওর, নদী, খাল আর পাহাড়ি ছড়ায় ঘেরা প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের জনপদ সিলেট বিভাগ। পানি প্রাচুর্য ও উর্বর কৃষিজমি থাকা সত্ত্বেও ভৌগোলিক প্রতিকূলতা ও সেচ সুবিধার অভাবে এ অঞ্চলে কৃষির সম্ভাবনা দীর্ঘদিন পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে সেচের অভাবে বছরের পর বছর অনাবাদী থেকে যায় প্রায় ৩ লক্ষ হেক্টর জমি। অন্যদিকে বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢল, জলাবদ্ধতা ও আগাম বন্যা কৃষকের কষ্টের ফসলকে করে তোলে চরম ঝুঁকিপূর্ণ।  

​এই অবস্থা থেকে উত্তরণে এবং সিলেটের কৃষি অর্থনীতিতে এক নতুন বিপ্লব ঘটাতে কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)। সংস্থাতার বাস্তবায়নাধীন ‘সিলেট বিভাগে ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবস্থাপনা ও ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্প’-এর আওতায় বিস্তৃত পরিসরে খাল-ছড়া পুনঃখনন, পরিবেশবান্ধব সেচ অবকাঠামো নির্মাণ ও আধুনিক সেচ প্রযুক্তি প্রসারের মাধ্যমে ১৭,০১৯ হেক্টর অনাবাদী ও পতিত জমিতে সেচ সুবিধা সম্প্রসারণের কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে।  

​শুষ্ক মৌসুমে সেচ ও বর্ষায় পানি নিষ্কাশন: এক প্রকল্পে জোড়া সমাধান

​প্রকল্পটির মূল কৌশল হলো ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে খাল, নালা ও পাহাড়ি ছড়া পুনঃখনন ও সংস্কারের মাধ্যমে বর্ষার পানি সংরক্ষণ করা।

১. বর্ষার পানি সংরক্ষণ ও জলাবদ্ধতা নিরসন: খাল/নালা/পাহাড়ি ছড়া খননের মাধ্যমে বর্ষার অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশন এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচের জন্য পানি সংরক্ষণ করা হচ্ছে।

২. ভূ-গর্ভস্থ সেচনালা (Buried Pipe Line): উন্মুক্ত নালার বদলে মাটির নিচে পাইপলাইন (ব্যারিড পাইপ লাইন) দিয়ে সরাসরি কৃষকের জমিতে পানি পৌঁছানো হচ্ছে। এতে পানির অপচয় কমার পাশাপাশি সেচ দক্ষতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

৩. আগাম বন্যা থেকে ফসল রক্ষা: খালের নাব্যতা বৃদ্ধি পাওয়ায় চৈত্র-বৈশাখ মাসের আগাম পাহাড়ি ঢলের হাত থেকে কৃষকের বোরো ফসল রক্ষা পাচ্ছে।  

​২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাস্তব অগ্রগতি ও সাফল্য

​প্রকল্প কার্যালয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, অতি সম্প্রতি সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মাঠপর্যায়ে সেচ অবকাঠামো ও কৃষি উৎপাদনে অভাবনীয় সাফল্য অর্জিত হয়েছে:

​১৪৫ কিমি খাল ও ছড়া খনন: নদী ও হাওরের নাব্যতা ফেরাতে ১৪৫ কিলোমিটার খাল ও পাহাড়ি ছড়া পুনঃখনন ও সংস্কার করা হয়েছে। এর ফলে সরাসরি ১,৪৫০ হেক্টর জমিতে সেচ প্রদান করা সম্ভব হয়েছে এবং ৪,২৮০ হেক্টর জমির দীর্ঘমেয়াদী জলাবদ্ধতা নিরসন হয়েছে।  

​নৌচলাচল ও মৎস্য অভয়ারণ্য: খাল খননের মাধ্যমে নাব্যতা বৃদ্ধি পাওয়ায় হাওরাঞ্চলে নৌচলাচল সহজ হয়েছে এবং কৃষকগণ সহজে নৌকার মাধ্যমে ফসল পরিবহন করতে পারছেন। পাশাপাশি এসব পুনঃখননকৃত জলাশয়ে দেশীয় মাছের অভয়ারণ্য গড়ে উঠেছে।  

​২৭৭.৬ কিমি ভূ-গর্ভস্থ পাইপলাইন ও সেচযন্ত্র: ৬৯টি আধুনিক সেচযন্ত্র সরবরাহ এবং ২৭৭.৬ কিলোমিটার ভূ-গর্ভস্থ সেচনালা নির্মাণের ফলে ২,৯৫৫ হেক্টর অনাবাদী জমি সেচের আওতায় এসেছে। এতে সেচের পানির অপচয় রোধের পাশাপাশি কৃষকের উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।  

​৮ কিমি ‘গোপাট’ ও আগাম বন্যা মোকাবিলা: বোরো ফসল দ্রুত কেটে ঘরে তোলার সুবিধার্থে ৮ কিলোমিটার ‘গোপাট’ (ফসল পরিবহনের পথ) নির্মাণ করা হয়েছে। এর ফলে ৪,০৫০ হেক্টর জমির ফসল দ্রুত পরিবহন করা সম্ভব হয়েছে এবং আগাম বন্যার হাত থেকে প্রায় ৫,৪০০ জন কৃষকের ফসল রক্ষা পেয়েছে।  

​থ্রেশিং ফ্লোর নির্মাণ: পাহাড়ি ঢল আসার আগেই ধান দ্রুত মাড়াই, শুকানো এবং নিরাপদে ঘরে তোলার জন্য কৃষকদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে পাকা থ্রেশিং ফ্লোর।  

​কৃষক প্রশিক্ষণ: স্থানীয় পর্যায়ে সেচযন্ত্র পরিচালনা, মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিক সেচ ব্যবস্থাপনার ওপর ২৭০ জন কৃষক ও পাম্প অপারেটরকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।  

​প্রকল্প পরিচালকের বক্তব্য

​এ বিষয়ে প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী প্রনজিত কুমার দেব জানান, “সিলেট বিভাগে বিভিন্ন মৌসুমে বিপুল পরিমাণ জমি অনাবাদী থাকে। এসব অনাবাদী ও পতিত জমি চাষের আওতায় আনতে বর্তমান সরকার নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ১৭ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমি সেচের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।”  

​তিনি আরও বলেন, “ইতোমধ্যেই ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩৫০০ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। ধাপে ধাপে বাকী জমিগুলোকেও আধুনিক সেচের আওতায় আনা হবে। এছাড়া সেচ খরচ কমাতে ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির প্রসারে সৌরশক্তি চালিত সেচ পাম্প (Solar Pump) স্থাপনের বৃহৎ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বর্তমান সরকার।”  

​খাদ্য নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধ কৃষির অঙ্গীকার

​সংশ্লিষ্ট উপকারভোগীদের মতে, বিএডিসির এই প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষক-কৃষাণীদের প্রশিক্ষণের ফলে স্থানীয় পর্যায়ে সেচ ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা তৈরি হয়েছে এবং আত্বকর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।  

​পানির প্রাচুর্যে ভরা সিলেট অঞ্চলে পরিকল্পিত পানি ব্যবহারের মাধ্যমে অনাবাদী প্রান্তরগুলো এখন সোনালী ফসলে ভরে উঠছে। হাওর ও পাহাড়ি জনপদের কৃষকদের শ্রমের সাথে আধুনিক সেচ ব্যবস্থাপনার এই মেলবন্ধন কেবল স্থানীয় কৃষি উৎপাদনকেই বাড়াবে না, বরং দেশের সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।