শেয়ার বাজার

পেঁয়াজের দামে ঊর্ধ্বগতি
আবারও শতক হাঁকালো খুচরা বাজারে!

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৪

আবারও শতক হাঁকালো খুচরা বাজারে!

ভারত রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার পর গত নভেম্বর-ডিসেম্বরে দেশের বাজারে হু হু করে বেড়ে যায় পেঁয়াজের দাম। নতুন বছরে জানুয়ারির শুরুতে মুড়ি কাটা পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়ায় দামও কেজিপ্রতি নেমে আসে ৮০ টাকায়। তবে আবারও নতুন করে বাজারে পেঁয়াজের দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। খুচরা বাজারে দাম বাড়তে বাড়তে আবারও শতক হাঁকিয়েছে পেঁয়াজের কেজি।

সোমবার (২৯ জানুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দামবৃদ্ধির এ চিত্র দেখা গেছে। এসব বাজারের বেশিরভাগ দোকানেই নতুন পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা কেজি দরে। পুরনো পেঁয়াজের কেজি ৯০ টাকা।

দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে রামপুরা বাজারে বিক্রেতা এনামূল হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, মুড়ি কাটা শেষ, নতুন হালি পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়তে কিছুদিন সময় লাগবে।

তিনি বলেন, মোকামে দাম বেড়েছে। পাবনায় প্রতি মণ পেঁয়াজ ৩২০০ থেকে ৩৪০০ টাকা কেনা পড়ছে। যা আগের থেকে ৪০০ টাকা বেশি। মূলত গতকাল থেকেই এমন দাম বেড়েছে।

এদিকে, পাবনায় স্থানীয় বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেখানকার মোকামগুলোতে পেঁয়াজের দাম বাড়তে শুরু করেছে। কয়েকদিন আগে সেখানে বিভিন্ন হাটে পাইকারিতে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হতো ৬০-৭০ টাকায়। সাঁথিয়া উপজেলার করমজা চতুর হাটসহ বিভিন্ন হাটে একই পেঁয়াজ এখন ৭৫-৮৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

আগাম পেঁয়াজের উৎপাদন শেষ হয়ে আসার কারণে গত তিনদিনে পাবনার বিভিন্ন উৎপাদন সংশ্লিষ্ট এলাকায় পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

কৃষক ও পেঁয়াজ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাজারে এখন আগাম বা মুড়ি কাটা জাতের পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে। মাস দেড়েক আগে এই পেঁয়াজ হাটে উঠেছে। সুজানগর ও সাঁথিয়া উপজেলার কৃষকেরা যে মুড়ি কাটা জাতের পেঁয়াজের আবাদ করেছিলেন, তার বেশিরভাগই এরই মধ্যে তোলা হয়ে গেছে। ফলে বাজারে এই জাতের পেঁয়াজের সরবরাহ কমতে শুরু করেছে। এ কারণে মুড়ি কাটা পেঁয়াজের দাম বাড়ছে।

কৃষকেরা জানিয়েছেন, মাসখানেকের মধ্যেই প্রধান জাত হালি কাটা পেঁয়াজ বাজারে উঠতে শুরু করবে। তখন দাম আবার কমে আসবে।

চাল-ডাল-আটা-ময়দা-মসলাসহ কিছু নিত্যপণ্যের দাম চড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৪ নভেম্বর, ২০২৩

চাল-ডাল-আটা-ময়দা-মসলাসহ কিছু নিত্যপণ্যের দাম চড়া

বাজারে বেশকিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। এর মধ্যে চিনির দাম বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। এছাড়া  চাল, ডাল, আটা, ময়দা, মসলাসহ প্রায় সব নিত্যপণ্যের দাম।

শুক্রবার (২৪ নভেম্বর) রামপুরা মালিবাগ কারওয়ান বাজারসহ কয়েকটি বাজার ও মুদি দোকান ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র। তবে বাজারে সবজির দাম কিছুটা কম দেখা গেছে। নিম্নমুখী আছে মুরগি ও ডিমের দাম।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খোলা বাজারে খোলা সাদা চিনি বিক্রি হচ্ছে কেজি ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায়। আর প্যাকেজাত সাদা চিনি ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকায়। এসব চিনির দাম কয়েক সপ্তাহ আগে ১৪০ টাকার মধ্যে ছিল।

রামপুরা এবি স্টোরের কালাম হোসেন বলেন, কোম্পানি তারপরও চিনি দিচ্ছে না। তারাই সংকট লাগিয়ে রেখে দাম বাড়াচ্ছে।

এদিকে, মুদি দোকানে চলতি মাসের শুরুতে মসুর ডালের দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়েছিল। মাঝে কয়েক দিন কমে আবার বেড়েছে এখন। বর্তমানে মোটা দানার ডালের কেজি ১১০ থেকে ১২০ এবং ছোট দানার ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া খোলা আটা ৪৮ থেকে ৫০ টাকা আর খোলা ময়দা ৬৫ থেকে ৭৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। যা গত সপ্তাহের তুলনায় ৫ টাকা বেশি।

অন্যদিকে, খুচরা বাজারে আলু এখনও ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মানভেদে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় আর আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়।পাশাপাশি মানভেদে দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে কেজি ২৩০ থেকে ২৫০ টাকায়, আমদানি রসুন ২০০ থেকে ২২০ টাকায়। আমদানি করা আদা ২২০ বিক্রি হচ্ছে।

মসলা জাতীয় পণ্য বিক্রেতা ফারুক আহমেদ বলেন, আদা রসুনের দাম বেড়েছে। তবে পেঁয়াজ আগের দামে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারভেদে ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ডজন ১২০ থেকে ১৩৫ টাকায়। ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৭০-১৯০ টাকা।

এছাড়া মানভেদে বিআর আটাশের চাল ৫৬ থেকে ৬০ টাকা, মানভেদে মিনিকেট চাল ৭০ থেকে ৭২ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

চালের দাম বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে বুলু রাইস স্টোরের স্বত্তাধিকারী বুলু মিয়া বলেন, বিআর আটাশ চালের দাম কেজিতে চার টাকা বাড়ছে। নাজিরেও বাড়ছে চার টাকা আর মিনিকেটে বাড়ছে দুই টাকা। কয়েক বছর থেকে ধান কাটা-মারির মৌসুমে আর চালের দাম কমে না। এখন অব সিজনে দাম কমে। সিজন সময়ে আগে কমতো।

তবে বাজারের সবজির দাম কমে প্রায় অধিকাংশ সবজি ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে বিক্রি হতে দেখা গেছে।


বেশি করে গরম পানি দিয়ে পান কাগজি লেবুরস

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৯ জুন, ২০২৬

বেশি করে গরম পানি দিয়ে পান কাগজি লেবুরস

বেশি করে গরম পানি দিয়ে পান কাগজি লেবুরস

# মেোশারফ হোসেন, সিংগাইর থেকে #

 

গাছ ছোট ও ঝোপালো, তীক্ষ  কাঁটাযুক্ত। কাঁটা অসংখ্য, আকারে ছোট। পাতা ছোট, পত্রকৃত ডিম্বাকার, সরু পাকাযুক্ত। ফুল ছোট, পত্রকক্ষে একসঙ্গে ৩ থেকে ১০টি ফুল উৎপন্ন হয়। ফল ছোট, গোলাকার থেকে ডিম্বাকার, কোসা পাতলা, রস বেশ টক। বীজ সর্বদাই বহুভ্রƒণী। এসব বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতেই লেবু জাতীয় ফলগুলো থেকে কাগজি লেবুকে আলাদা করা যায়। ফলটির ইংরেজি নাম খরসব এবং বৈজ্ঞানিক নাম ঈরঃৎবং ধঁৎধহঃরভড়ষরধ যা জঁঃধপবধব পরিবারের অন্তর্গত। কাগজি লেবুসহ সব লেবু জাহতীয় ফলের উৎপত্তি স্থল হিসেবে হিমালয় পর্বতের পাদদেশকে ধরা হয়। কোনো কোনো প্রজাতির উৎপন্নস্থল ভারত। বাংলাদেশের মৌলভীবাজার, সিলেট, কাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, চট্টগ্রাম, রংপুর, পাবনা, রাজশাহী ও পিরোজপুরসহ প্রায় পুরো দেশেই লেবু ভালো জন্মে। আমাদের দেশে লেবু বলতে কাগজি ও এলাচি লেবুকেই বুঝানো হয়। দেশে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে ১৩ হাজার মেট্রিক টন লেবু উৎপন্ন হয়। উন্নত জাতের আধুনিক লেবুগুলোর মধ্যে বারি লেবু-১, বারি লেবু-২ ও বারি লেবু-৩ উল্লেখযোগ্য। এছাড়া কাগজি লেবুর জাতের মধ্যে রয়েছে কাগজি ওভাল, কাগজি রাউন্ড, কালামুন্সি, তাহিতি, মেক্সিকান প্রভৃতি। কাগজি লেবুর জন্য উষ্ণমণ্ডলীয় জলবায়ু দরকার। উষ্ণু, মাঝারি আর্দ্র এবং প্রবল বাতাস ও তুষারমুক্ত জমি কাগজি লেবু চাষের জন্য উপযোগী। আর্দ্রতা বেশি না হলে সমুদ্র সমতল থেকে ৯০০ মিটার উঁচু জমিতেও কাগজি লেবু সাফল্যজনকভাবে জন্মানো যায়। আর্দ্র এলাকায়, যেখানে ১২৫ সেন্টিমিটারের অধিক বৃষ্টিপাত হয় সেখানে তা ক্যাঙ্কার রোগ দ্বারা আক্রান্ত হয় এবং গাছ স্বল্পায়ু বিশিষ্ট হয়। কাগজি লেবু তুষারপাতের প্রতি বেশ সংবেদনশীল। যৌন ও অযৌন পদ্ধতিতে সব লেবুজাতীয় ফলের বংশবিস্তার করা যায়। অযৌন পদ্ধতির মধ্যে কুঁজি সংযোজন হলো সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি। আমাদের দেশে শাখা কলম, গুটি কলম, কুঁড়ি সংযোজন ও বীজের মাধ্যমে বংশবিস্তার করা হয়ে থাকে। সাইট্রন ও বাতাবি লেবু ব্যতীয় সব লেবুর বীজে বহুভ্রƒণিতা বিদ্যমান। এজন্য একটি বীজ থেকে একাধিক গাছ পাওয়া যায়। এর মধ্যে একটি যৌন, বাকিগুলো অযৌন। অযৌন চারাগুলো অপেক্ষাকৃত সবল ও একই ধরনের হয়। ৮ ফুট দূরে দূরে চারা রোপণ করতে হয়। চারা রোপণের পর ও খরার সময় বা শুষ্ক  মৌসুমে নিয়মিত সেচ ও বর্ষায় ভালো নিস্কাশনের বন্দোবস্ত করতে হবে। গাছের গোড়ায় আগাছা দেখলে তা মুক্ত করতে হবে। মরা ও রোগাক্রান্ত ডাল কেটে দেওয়াসহ হালকা ছাঁটাই করা ভালো। কাগজি লেবুর রসে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি থাকে। অনেক রোগের উপশমে এটি ব্যবহৃত হয়। প্রতি গাছ থেকে ৩০০ থেকে ১ হাজারটি লেবু পাওয়া সম্ভব।


রাজধানীর বাজারে আটা ময়দা ও ডিমসহ নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

রাজধানীর বাজারে আটা ময়দা ও ডিমসহ নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী

রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে নিত্যপণ্যের বাড়তি দামের চাপে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচ অব্যাহতভাবে বাড়ছে। সম্প্রতি নয়াবাজার, কারওয়ান বাজার ও কেরাণীগঞ্জের বউবাজার ঘুরে দেখা গেছে যে আটা, ময়দা, ডিম ও মাছের দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। ছুটির দিনে চাহিদা বেশি থাকায় প্রায় সব ধরনের সবজির দামও কেজিতে কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সীমিত আয়ের মানুষের জন্য বাজার খরচ সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

বাজারে প্রতি কেজি খোলা আটা ৫০ টাকা এবং ময়দা ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে যা এক মাস আগে কম ছিল। পাইকারিতে ৫০ কেজির ময়দার বস্তার দাম বেড়ে যাওয়ায় এর প্রভাব বনরুটি ও বেকারি পণ্যে পড়ার উপক্রম হয়েছিল। এছাড়া প্রতি ডজন ডিম ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে যা ছয় মাস আগের তুলনায় বেশ খানিকটা বেশি। ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দামও গত দেড় মাসের তুলনায় কেজিতে বৃদ্ধি পেয়েছে।

সবজি বাজারে কাঁচামরিচ, পটোল, বেগুন, করলা এবং শিম চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে কারওয়ান বাজারের বিক্রেতা শাহানাজ বেগম জানান যে বৃষ্টির কারণে সবজি সরবরাহে ঘাটতি থাকায় দাম বাড়তির দিকে রয়েছে। অন্যদিকে মাছের বাজারে রুই, কাতলা, পাবদা ও চিংড়ির দাম বেশি থাকলেও সরবরাহ বাড়ার কারণে ইলিশের দাম কিছুটা কমেছে। গরুর মাংস এবং খাসির মাংসের দাম অবশ্য অপরিবর্তিত রয়েছে।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে বহু নিত্যপণ্যে কর কমানো হলেও খুচরা বাজারে তার সুফল পুরোপুরি পৌঁছাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ভোক্তারা। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের প্রতিনিধি নাজের হোসাইন জানান যে কর কমানোর পরও দাম না কমায় বিষয়টি সরকারের গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। বাজারে পণ্যের দাম না কমায় সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসছে না।