শেয়ার বাজার

ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধিতে দেশের কৃষকদের উৎপাদন খরচ ও দুশ্চিন্তা বৃদ্ধি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধিতে দেশের কৃষকদের উৎপাদন খরচ ও দুশ্চিন্তা বৃদ্ধি

সার ও বীজের চড়া দামের সংকটের মধ্যে সম্প্রতি একলাফে লিটারে ২০ টাকা ডিজেলের দাম বাড়ায় দেশের কৃষকদের কষ্ট আরও বেড়ে গেছে। আধুনিক ও যন্ত্রনির্ভর কৃষিতে জমি প্রস্তুত, সেচ দেওয়া, ফসল কাটা এবং মাড়াইয়ের মতো প্রায় সব কাজেই জ্বালানি হিসেবে ডিজেল অপরিহার্য। কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে মোট ৪৩ লাখ ৫০ হাজার টন ডিজেলের চাহিদার প্রায় ২৪ শতাংশ কৃষিকাজে ব্যবহৃত হয়। এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে কৃষকদের অতিরিক্ত প্রায় ২ হাজার ৮৮ কোটি টাকা ব্যয় বৃদ্ধি পাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশেষ করে বোরো মৌসুমে সেচ কার্যক্রমের ৮০ শতাংশই ডিজেলচালিত যন্ত্রের ওপর নির্ভরশীল থাকায় উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়ে যাবে। ধান উৎপাদনে খ্যাতিসম্পন্ন নওগাঁ, ঠাকুরগাঁও, জয়পুরহাটসহ বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষকেরা জানিয়েছেন যে ডিজেলের দাম বাড়ায় জমি চাষ, সেচ ও ফসল মাড়াইয়ের খরচ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। কোথাও কোথাও পাওয়ার টিলারের খরচ এবং সেচপাম্পের ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মালিকেরা। এর ফলে বিপ্রতি ফসল উৎপাদনে অতিরিক্ত দেড় থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তি খরচ হচ্ছে প্রান্তিক চাষিদের।

কৃষি অর্থনীতিবিদ জাহাঙ্গীর আলম খান মনে করেন, ডিজেলের দাম বাড়ার কারণে কৃষকদের উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যাবে এবং তাঁরা কঠিন সংকটের মুখে পড়বেন, যা পরবর্তীতে খাদ্যে মূল্যস্ফীতি বাড়াতে পারে। কৃষকদের রক্ষায় তিনি সরকারকে নগদ অর্থসহ প্রণোদনা দেওয়ার সুপারিশ করেছেন। একই সঙ্গে কৃষকদের দাবি, ফসলের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ধানের ন্যায্য দামও যেন সেই অনুপատ বাড়িয়ে দেওয়া হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুর রহিম জানিয়েছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব সবার মতো কৃষকদের ওপরও পড়ছে এবং কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি, কৃষিজমিতে ডিজেলনির্ভর সেচের ওপর চাপ কমাতে বিকল্প হিসেবে সৌরবিদ্যুচ্চালিত পাম্প বসানোর কাজও চলমান রয়েছে।

সর্বজনীন পেনশন স্কিমের টাকা পাওয়া কি সহজ হবে?- কর্তৃপক্ষ কী বলছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১ আগস্ট, ২০২৩

সর্বজনীন পেনশন স্কিমের টাকা পাওয়া কি সহজ হবে?- কর্তৃপক্ষ কী বলছে

বাংলাদেশে সর্বজনীন পেনশন স্কিম আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হবার পর এনিয়ে মানুষের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ যেমন দেখা যাচ্ছে, একইসাথে এটা কতটা কার্যকর এবং ঝামেলামুক্ত হবে সেই প্রশ্নও করছেন অনেকে।

নিয়মানুযায়ী কারও বয়স ১৮ বছর থেকে ৫০ বছরের মধ্যে হলে অনলাইনে এই স্কিমে নিবন্ধনের সুযোগ পাবেন। সুবিধাভোগীর বয়স ৬০ বছর বা তার বেশি হওয়ার পর আজীবন পেনশন সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।

এছাড়া ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সীরা ন্যূনতম ১০ বছর পর্যন্ত চাঁদা দেয়া সাপেক্ষে এই সুবিধা পেতে পারেন।

তবে কোটি কোটি মানুষের নামে পৃথক হিসাব খোলা, সেটি স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালনা করা হবে কিনা, ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত কিস্তি দিয়ে কোন ঝামেলা ছাড়াই পেনশন পাওয়া যাবে কি না সেই সংশয়ে আছেন অনেক গ্রাহক।

সেইসাথে বাংলাদেশের সরকারি প্রতিষ্ঠানে সেবা পাওয়ার বিষয়ে এখনও নেতিবাচক মনোভাব তো আছেই। বিশেষ করে সরকারি চাকরিজীবীদের পেনশনের টাকা নিয়ে হয়রানির নজির কম নয়।

নতুন পেনশন স্কিমে সেই দুর্ভোগের পুনরাবৃত্তি হয় কিনা, সেই চিন্তায় আছেন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা জাহানারা বেগম। এ কারণে, ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও এখনো নিজের নামে স্কিমটি চালু করার সাহস করছেন না তিনি।

তিনি বলেন, “এক সময় দেখা যাবে কোটি কোটি লোক স্কিম খুলছে। আমি আজকে স্কিম খুললে মিনিমাম দশ বছর পরে পেনশন পাবো। বাংলাদেশের কোন সরকারি অফিসে গেলে তো ভোগান্তি হয়ই, টাকার পয়সার বিষয় হলে আরও হবে। তখন দেখা যাবে পেনশনের জন্য সরকারি অফিসে ছুটতে ছুটতে, টাকা দিতে দিতে আমার আসল টাকাটাই থাকছে না।”

তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, ভোগান্তি যাতে না হয় সেই ব্যবস্থা তারা করেছেন।

সেবা পাওয়ার দুর্ভোগ কাটবে?

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সদস্য গোলাম মোস্তফা বলেন, পেনশন পেতে দীর্ঘসূত্রিতা বা হয়রানির কোন সুযোগ নেই, কারণ সব গ্রাহকদের থেকে কিস্তি সংগ্রহ এবং পেনশন দেয়ার সম্পূর্ণ লেনদেন অনলাইনে সম্পন্ন হবে। সেটাও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে।

কিস্তি দাতার বয়স ৬০ বছর হওয়ার পর তার ব্যাংক হিসাবে অথবা মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে মাসিক পেনশন পৌঁছে যাবে বলে জানিয়েছে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ।

মি. মোস্তফা বলেন, “পেনশনের আর্থিক লেনদেন সব কিছুই হবে অনলাইনে। গ্রাহকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আমাদের কাছে আছে, তার অ্যাকাউন্টটি পেনশন দেয়ার উপযুক্ত হলে সেই অ্যাকাউন্টে পেনশনের টাকা অটোমেটিক চলে যাবে। কোন ব্যক্তির সাথে কথা বলা লাগবে না। ”

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইটে গ্রাহক তার ইউনিক পেনশন আইডি দিয়ে প্রবেশ করে বছর শেষে মুনাফাসহ জমা হওয়া টাকার পরিমাণ জানতে পারবেন।

এছাড়া পেনশন তহবিলে সুবিধাভোগীদের যে অর্থ জমা হবে, সেখান থেকে কোন অর্থ সরানো হবে না, এমনকি জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের যাবতীয় পরিচালন ব্যয় সরকারের আলাদা বরাদ্দ থেকে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এর আগে সরকারি পেনশন পেতে হয়রানি দূর করতে ‘পেনশন সহজীকরণ নীতিমালা-২০২০’ জারি করা হয়েছিল। ওই নীতিমালা অনুযায়ী লেনদেনের সব কাজ বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে করতে হয়।

মি. মোস্তফা বলেন, “পেনশন নিতে এক সময় দুর্ভোগ ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এমন কোন অভিযোগ শুনবেন না। কেননা আমরা এবং এই টাকার লেনদেন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন হতে হয়। অ্যাকাউন্টসে একটি পেনশনের ফাইল ১০ দিনের বেশি রাখার নিয়ম নেই।”

অর্থ বিভাগের আওতায় জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ নামে আলাদা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন এ সর্বজনীন পেনশন স্কিমটি পরিচালিত হচ্ছে।

এই স্কিমটি মূলত প্রবাসী বাংলাদেশি, বেসরকারি চাকুরীজীবী, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এবং স্বল্প আয়ের বিশাল জনগোষ্ঠীকে আর্থিক নিরাপত্তা দিতে চালু করেছে সরকার।

সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার কর্মীরা এই কর্মসূচির বাইরে থাকবেন। কারণ তাঁরা এরই মধ্যে পেনশন সুবিধা পাচ্ছেন।

আগ্রহীরা অনলাইনে নিবন্ধন করলেই পেনশন স্কিমে চালু করতে পারবেন, এজন্য কোন সরকারি অফিসে কাগজপত্র জমা দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। শুধু অনলাইনে নিবন্ধন করে অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে মাসিক টাকা জমা দিলেই হবে।

পেনশন তহবিলের টাকা বিনিয়োগ হবে কোথায়

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, স্কিমটি চালু হওয়ার তিন দিনের মাথায় অর্থাৎ ১৯শে অগাস্টের মধ্যে এতে যুক্ত হয়েছেন ৪৩৯০ জন। আবেদন জমা পড়েছে ৪০ হাজারের মতো।

তবে সুবিধাভোগীরা কিস্তি বাবদ যে অর্থ দেবে সেটার তহবিল ব্যবস্থাপনা কেমন হবে, কীভাবে এবং কোথায় পেনশন তহবিল বিনিয়োগ হবে, লভ্যাংশ কীভাবে বণ্টন করা হবে, সেগুলো নিয়ে অস্পষ্টতার মধ্যে থাকার কথা জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।

এ বিষয়ে আলাদা একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ বিধিমালা তৈরির কথা জানিয়েছেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সদস্য গোলাম মোস্তফা।

তিনি বলেন, “প্রাথমিকভাবে, এই তহবিল সরকারি বন্ড বা ট্রেজারি বিলে বিনিয়োগের কথা রয়েছে। যেসব বিনিয়োগে ঝুঁকি কম সেদিকেই যাবো। যদি ফান্ড আরও বড় হয় তাহলে উন্নয়ন প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হতে পারে। এটা সময়ের পরিক্রমায় হবে। এ নিয়ে সুনির্দিষ্ট বিধিমালা তৈরি হচ্ছে, সেই মোতাবেক সব হবে।”

বিধিমালাটি প্রক্রিয়াধীন আছে বলে তিনি জানান।

তবে এই পেনশন তহবিলের অর্থ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সব ধরণের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন অর্থনীতিবিদ খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

অতীতে সরকারি বা আধা সরকারি প্রতিষ্ঠানের তহবিলের অর্থ অব্যবস্থাপনার নজির রয়েছে তাই যারা সুবিধাভোগীর টাকা বিনিয়োগ করবেন, তাদের স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করতে হবে বলে তিনি জানান।

মি. মোয়াজ্জেম বলেন, বিনিয়োগগুলো এমন জায়গায় করতে হবে যেখানে ঝুঁকি কম কিন্তু ভালো রিটার্ন আসবে। এক্ষেত্রে পুঁজি-বাজারে কোন অবস্থাতেই বিনিয়োগ করা যাবে না। তারচেয়ে বন্ডে বিনিয়োগ অনেকটাই নিরাপদ। এতে নির্দিষ্ট সময়ে রিটার্নের টাকা পাওয়া যাবে, যা দিয়ে মানুষের পেনশন পরিশোধ করা যাবে।

তবে কম ঝুঁকি-সম্পন্ন খাত-গুলোয় রিটার্ন কম হয়। সেক্ষেত্রে গ্রাহকদের বাড়তি যে অর্থ দেয়ার প্রতিশ্রুতি সরকার করেছে সেটা রাজস্ব থেকে পরিশোধ করতে হতে পারে, যা সরকারের ওপর বাড়তি চাপ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এক্ষেত্রে একটি ব্যবস্থাপনা দল গঠন করার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। এই পেনশন স্কিমে শুধুমাত্র সরকারি কর্মকর্তা কেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাঁড় না করিয়ে এখানে বেসরকারি খাতের দক্ষ কর্মকর্তাদেরও যুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

বিশেষ করে যারা বিনিয়োগ ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখেন।

“বিনিয়োগে মনোযোগী হতে হবে। যাতে ঘাটতি পুষিয়ে নেয়া যায়। না হলে যে পরিমাণ রিটার্ন আসার কথা তেমনটা আসবে না। নাহলে সরকারের জন্য এই পেনশন স্কিম আরেকটি বোঝা হয়ে আবির্ভূত হতে পারে। সঠিকভাবে বিনিয়োগ করতে পারলে এ পেনশন তহবিল থেকে যা আয় হবে তা দিয়েই মাসিক পেনশন দেওয়া সম্ভব। তার জন্য প্রয়োজন সতর্কতা এবং সুশাসন।” তিনি বলেন।

মূল্যস্ফীতির সাথে সমন্বয় হবে কীভাবে

উচ্চ মূল্যস্ফীতি যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে পেনশনে প্রাপ্ত অর্থ পরবর্তীতে জীবনযাত্রার খরচের সাথে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে প্রশ্ন আছে সে নিয়েও।

এক্ষেত্রে গ্রহীতাদের প্রাথমিকভাবে এই স্কিমকে কোন লাভজনক বিনিয়োগের খাত না ভেবে বরং সামাজিক সুরক্ষার জায়গা থেকে ভাবার পরামর্শ দিয়েছেন ড. গোলাম মোয়াজ্জেম।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ একটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান হওয়ায় সরকারই জমা টাকার গ্যারান্টর। সরকার নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় এখানে অর্থ বুঝে পেতে কোন সমস্যা হবে না বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

আর্থিক লেনদেনে সরকারের এই নিরাপত্তার বিষয়গুলো প্রচারের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দিয়েছেন অর্থনীতিবিদ খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

তিনি জানান, সরকার আগে থেকেই জানিয়ে দিয়েছে পেনশনটি কবে, কি পরিমাণে দেয়া হবে, অর্থাৎ ফিক্সড রেট প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে গ্রাহকদের কোন ঝুঁকি নেই। এ নিয়ে আরও স্পষ্ট তথ্য প্রচার হওয়া প্রয়োজন।

তার মতে, সরকার মূলত ব্যাংক রেট এবং সঞ্চয়পত্র রেট এই দুটার মাঝামাঝি রেট ধরে এই হিসাবটি করেছেন।

বর্তমান মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতি একটি অস্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে যে মূল্যস্ফীতি থাকে অর্থাৎ পাঁচ শতাংশের আশেপাশে। সেক্ষেত্রে আশা করা যায় যে, পেনশন রেট এর চাইতে বেশি অন্তত ৭ থেকে ৮ শতাংশের মধ্যে থাকবে।

এ ব্যাপারে পেনশন কর্তৃপক্ষের সদস্য গোলাম মোস্তফা বলেন পেনশনের ক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতি সমন্বয়ের হিসাব গতানুগতিক নিয়ম ধরে নয় বরং একটি সম্ভাব্য সংখ্যা ধরে হবে বলে তিনি জানান।

যেমন বেসরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রগতি স্কিমে মাসিক দুই হাজার টাকা কিস্তি দিলে সর্বনিম্ন ১০ কিস্তি দিলে প্রতি মাসে ৩০৬০ টাকা পেনশন পাওয়া যাবে। এখানে পেনশন বাবদ যে হিসাব দেয়া হয়েছে এটি সম্ভাব্য প্রাপ্য অর্থ বলে জানিয়েছেন তিনি। যা কম-বেশি হতে পারে।

“সম্ভাব্য এই দামটি দেখানোর সময় লাভ ও ডিসকাউন্ট দুটো রেট ধরে করা হয়। প্রতি মাসে সম্ভাব্য এই টাকা গ্রাহক পেতে পারে। আজকে ২০০০ টাকা জমা দিয়ে ২০ বছর পর গ্রাহক প্রতিমাসে ঠিক কতো পাবেন সেটা শতভাগ নিশ্চিত হয়ে বলা যাবে না।” তিনি বলেন।

নতুন এই পেনশন স্কিমে এখন পর্যন্ত শুধুমাত্র সোনালী ব্যাংককে লেনদেনের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে গ্রাহকরা যেন নিজ নিজ ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলে অর্থনীতিবিদ খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

তার মতে, সব ব্যাংক অন্তর্ভুক্ত হলে গ্রাহকদের হিসাব চালাতে যেমন সুবিধা হবে। তেমনি এতে একক কোন ব্যাংক নির্ভরতা এবং একটি ব্যাংকের আধিপত্য তৈরি হবে না। ওই ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তার অনৈতিক সুবিধা নেয়ার সুযোগ বন্ধ হবে। পেনশনারদের কোন বাধ্যবাধকতায় পড়তে হবে না।


বেশি করে গরম পানি দিয়ে পান কাগজি লেবুরস

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৯ জুন, ২০২৬

বেশি করে গরম পানি দিয়ে পান কাগজি লেবুরস

বেশি করে গরম পানি দিয়ে পান কাগজি লেবুরস

# মেোশারফ হোসেন, সিংগাইর থেকে #

 

গাছ ছোট ও ঝোপালো, তীক্ষ  কাঁটাযুক্ত। কাঁটা অসংখ্য, আকারে ছোট। পাতা ছোট, পত্রকৃত ডিম্বাকার, সরু পাকাযুক্ত। ফুল ছোট, পত্রকক্ষে একসঙ্গে ৩ থেকে ১০টি ফুল উৎপন্ন হয়। ফল ছোট, গোলাকার থেকে ডিম্বাকার, কোসা পাতলা, রস বেশ টক। বীজ সর্বদাই বহুভ্রƒণী। এসব বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতেই লেবু জাতীয় ফলগুলো থেকে কাগজি লেবুকে আলাদা করা যায়। ফলটির ইংরেজি নাম খরসব এবং বৈজ্ঞানিক নাম ঈরঃৎবং ধঁৎধহঃরভড়ষরধ যা জঁঃধপবধব পরিবারের অন্তর্গত। কাগজি লেবুসহ সব লেবু জাহতীয় ফলের উৎপত্তি স্থল হিসেবে হিমালয় পর্বতের পাদদেশকে ধরা হয়। কোনো কোনো প্রজাতির উৎপন্নস্থল ভারত। বাংলাদেশের মৌলভীবাজার, সিলেট, কাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, চট্টগ্রাম, রংপুর, পাবনা, রাজশাহী ও পিরোজপুরসহ প্রায় পুরো দেশেই লেবু ভালো জন্মে। আমাদের দেশে লেবু বলতে কাগজি ও এলাচি লেবুকেই বুঝানো হয়। দেশে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে ১৩ হাজার মেট্রিক টন লেবু উৎপন্ন হয়। উন্নত জাতের আধুনিক লেবুগুলোর মধ্যে বারি লেবু-১, বারি লেবু-২ ও বারি লেবু-৩ উল্লেখযোগ্য। এছাড়া কাগজি লেবুর জাতের মধ্যে রয়েছে কাগজি ওভাল, কাগজি রাউন্ড, কালামুন্সি, তাহিতি, মেক্সিকান প্রভৃতি। কাগজি লেবুর জন্য উষ্ণমণ্ডলীয় জলবায়ু দরকার। উষ্ণু, মাঝারি আর্দ্র এবং প্রবল বাতাস ও তুষারমুক্ত জমি কাগজি লেবু চাষের জন্য উপযোগী। আর্দ্রতা বেশি না হলে সমুদ্র সমতল থেকে ৯০০ মিটার উঁচু জমিতেও কাগজি লেবু সাফল্যজনকভাবে জন্মানো যায়। আর্দ্র এলাকায়, যেখানে ১২৫ সেন্টিমিটারের অধিক বৃষ্টিপাত হয় সেখানে তা ক্যাঙ্কার রোগ দ্বারা আক্রান্ত হয় এবং গাছ স্বল্পায়ু বিশিষ্ট হয়। কাগজি লেবু তুষারপাতের প্রতি বেশ সংবেদনশীল। যৌন ও অযৌন পদ্ধতিতে সব লেবুজাতীয় ফলের বংশবিস্তার করা যায়। অযৌন পদ্ধতির মধ্যে কুঁজি সংযোজন হলো সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি। আমাদের দেশে শাখা কলম, গুটি কলম, কুঁড়ি সংযোজন ও বীজের মাধ্যমে বংশবিস্তার করা হয়ে থাকে। সাইট্রন ও বাতাবি লেবু ব্যতীয় সব লেবুর বীজে বহুভ্রƒণিতা বিদ্যমান। এজন্য একটি বীজ থেকে একাধিক গাছ পাওয়া যায়। এর মধ্যে একটি যৌন, বাকিগুলো অযৌন। অযৌন চারাগুলো অপেক্ষাকৃত সবল ও একই ধরনের হয়। ৮ ফুট দূরে দূরে চারা রোপণ করতে হয়। চারা রোপণের পর ও খরার সময় বা শুষ্ক  মৌসুমে নিয়মিত সেচ ও বর্ষায় ভালো নিস্কাশনের বন্দোবস্ত করতে হবে। গাছের গোড়ায় আগাছা দেখলে তা মুক্ত করতে হবে। মরা ও রোগাক্রান্ত ডাল কেটে দেওয়াসহ হালকা ছাঁটাই করা ভালো। কাগজি লেবুর রসে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি থাকে। অনেক রোগের উপশমে এটি ব্যবহৃত হয়। প্রতি গাছ থেকে ৩০০ থেকে ১ হাজারটি লেবু পাওয়া সম্ভব।


নতুন ইতিহাস সৃষ্টির পরপরই বড় পতনে সোনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৯ ডিসেম্বর, ২০২৩

নতুন ইতিহাস সৃষ্টির পরপরই বড় পতনে সোনা

বার্তাবেলা: বিশ্ববাজারে প্রথমবারের মতো এক আউন্স সোনার দাম দুই হাজার ১০০ ডলার স্পর্শ করে সপ্তাহে। সোনার দামে নতুন ইতিহাস সৃষ্টির পর অবশ্য সেই দাম ধরে রাখতে পারেনি এ ধাতুটি। রেকর্ড সৃষ্টির পর বড় পতনের মধ্যে পড়েছে সোনা। ফলে সপ্তাহের ব্যবধানে ধাতুটির দাম প্রায় ৭০ ডলার কমেছে।

বিশ্ববাজারের মতো দেশের বাজারেও সোনার দামে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা গেছে। ফলে দেশের বাজারেও সোনার দামে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে। অবশ্য কয়েক দফা দাম বাড়ার পর গত সপ্তাহে দেশের বাজারে সোনার দাম কিছুটা কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। তবে, বিশ্ববাজারে যে হারে দাম কমেছে দেশের বাজারে দাম কমার হার সেই তুলনায় কম।

বিশ্ববাজারের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত সপ্তাহের লেনদেন শুরু হওয়ার আগে প্রতি আউন্স সোনার দাম ছিল ২ হাজার ৭১ দশমিক ৯৭ ডলার। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস ৪ ডিসেম্বর লেনদেন শুরু হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে প্রতি আউন্স সোনার দাম রেকর্ড ২ হাজার ১২৪ দশমিক ৭৩ ডলারে ওঠে। সোনার এত দাম আর আগে বিশ্ববাসী দেখেনি।

অবশ্য এ রেকর্ড দাম হওয়ার পরপরই পতনের মধ্যে পড়ে সোনা। ওই দিনই প্রতি আউন্স সোনার দাম কমে ২ হাজার ২১ ডলারে চলে আসে। অর্থাৎ একদিনেই সোনার দাম ১০০ ডলারের ওপর কমে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। একদিনের মধ্যে সোনার দামে এমন উত্থান-পতনও আগে কখনো দেখা যায়নি।

সোনার দামের এমন উত্থান-পতন বিস্মিত করেছে এ খাত সংশ্লিষ্টদের। তারা বলছেন, দাম বাড়বে এবং কমবে এটা স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু একদিনের মধ্যে এক আউন্স সোনার দাম প্রায় ১০০ ডলার বেড়ে যাওয়া এবং কমে যাওয়ার ঘটনা আগে দেখা যায়নি। সাধারণত দাম বাড়া বা কমার পেছনে কোনো না কোনো ঘটনা থাকে। কিন্তু এবার কি কারণে এমন দাম বাড়লো এবং কি কারণেই দরপতন হলো তার কোনো কারণ খুঁছে পাওয়া যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের চেয়ারম্যান এম এ হান্নান আজাদ জাগো নিউজকে বলেন, গত সপ্তাহে বিশ্ববাজারে লেনদেন শুরু হওয়ার পরপরই এক আউন্স সোনার দাম ২ হাজার ১২৪ ডলারে ওঠে। সোনার এত দাম আগে কখনো হয়নি। কিন্তু এ রেকর্ড দামের পরই আমরা আবার বড় দরপতন দেখতে পাই। একদিনের মধ্যে প্রতি আউন্স সোনার দাম ১০০ ডলার কমে যায়। সোনার দামে এমন অস্থিরতা আগে দেখা যায়নি। এতে আমরা বিস্মিত হয়েছি।

তিনি বলেন, অতীতে আমরা দেখেছি যখন সোনার দাম বেড়েছে বা কমেছে তার পেছনে কোনো না কোনো কারণ আছে। কিন্তু এবার কেন সোনার এত দাম বাড়লো, আবার কেনই বা কমলো তার কোনো কারণ জানতে পারেনি। এটা শুধু আমাদের বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের নয়, অন্য দেশের বিনিয়োগকারীদেরও বিস্মিত করেছে।

এদিকে একদিনে বড় উত্থান পতনের পর গত সপ্তাহের বাকি চার কর্যদিবসেও সোনার দাম কিছুটা অস্থিরতা দেখা গেছে। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস শুক্রবার লেনদেনের একপর্যায়ে প্রতি আউন্স সোনার দাম কমে ১ হাজার ৯৯৫ ডলারে চলে আসে। তবে শেষদিকে কিছুটা দাম বেড়ে ২ হাজার ৩ দশমিক ৯৪ ডলারে থিতু হয়েছে সোনা।

এতে এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি আউন্স সোনার দাম কমেছে ৬৮ দশমিক শূন্য ৩ ডলার বা ৩ দশমিক ২১ শতাংশ। এর মধ্যে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসেই কমেছে ২৪ ডলার বা ১ দশমিক ১৮ শতাংশ।

বিশ্ববাজারে অস্বাভাবিক দাম বাড়ার পর বড় পতন হওয়ায় দেশের বাজারে গত সপ্তাহের সোনার দাম কিছুটা কমিয়েছে বাজুস। বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং গত ৬ ডিসেম্বর বৈঠক করে ৭ ডিসেম্বর থেকে দেশের বাজারে সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করে।

ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৭৫০ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৮ হাজার ১২৫ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৬৩৩ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৩ হাজার ২২৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৪৫৮ টাকা কমিয়ে ৮৮ হাজার ৪৭১ এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনার দাম ১ হাজার ২২৫ টাকা কমিয়ে ৭৩ হাজার ৭১৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে দেশের বাজারে এ দামেই সোনা বিক্রি হচ্ছে।

অবশ্য সোনার গহনা কিনতে ক্রেতাদের এর থেকে বেশি অর্থ গুনতে হচ্ছে। কারণ বাজুস নির্ধারণ করা দামের ওপর ৫ শতাংশ ভ্যাট যোগ করে সোনার গহনা বিক্রি করা হয়। সেইসঙ্গে ভরিপ্রতি মজুরি ধরা হয় ন্যূনতম ৩ হাজার ৪৯৯ টাকা। ফলে আগামীকাল থেকে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনা কিনতে ক্রেতাদের ১ লাখ ১৭ হাজার ৩০ টাকা গুনতে হতো।

এ দাম কমানোর আগে ৩০, ২৭, ১৯ ও ৬ নভেম্বর এবং ২৭ অক্টোবর সোনার দাম বাড়ানো হয়। অর্থাৎ টানা পাঁচ দফা দাম বাড়ানোর ঘটনা ঘটে। এতে দেশের বাজারে সোনার দামে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হয়। ৩০ নভেম্বর সব থেকে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার ১ হাজার ৭৫০ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৯ হাজার ৮৭৫ টাকা।

এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৬৩৩ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৪ হাজার ৮৫৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৪৫৮ টাকা বাড়িয়ে ৮৯ হাজার ৯২৯ এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনার দাম ১ হাজার ২২৫ টাকা বাড়িয়ে ৭৪ হাজার ৯৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়। দেশের বাজারে এর থেকে বেশি দামে আর সোনা বিক্রি হয়নি।

বিশ্ববাজারে সোনার দাম বড় পতন হওয়ায় এখন দেশের বাজারে কি ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে জানতে চাইলে এমএ হান্নান আজাদ বলেন, সর্বশেষ আমরা যখন দাম সমন্বয় করেছি সে সময় স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার যে দাম ছিল এখনো প্রায় তাই রয়েছে। আমরা আন্তর্জাতিক বাজার ও স্থানীয় বাজারের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছি। আমরা সোমবার বিশ্ববাজারের পরিস্থিতি দেখবো। যদি দাম সমন্বয়ের মতো হয়, তাহলে দাম সমন্বয় করা হবে।