শেয়ার বাজার

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হামলা বলছে পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হামলা বলছে পুলিশ

রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকায় জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। গত কিছুদিন আগে ঘটে যাওয়া এই আকস্মিক হামলায় স্টুডিওর ভেতরে থাকা বিভিন্ন আসবাবপত্র ও দামি সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় এলাকাবাসী ও ভক্তদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন হঠাৎ করে বেশ কয়েকটি পিকআপভর্তি একদল লোক ওই এলাকায় এসে তাণ্ডব চালায়। তারা শুধু সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওই নয়, বরং আশপাশের কয়েকটি বাড়ি ও অন্যান্য স্থাপনাও লক্ষ্য করে হামলা চালায়। হামলাকারীরা নির্বিচারে ভাঙচুর চালিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করে এবং একপর্যায়ে স্টুডিও থেকে মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

প্রাথমিক তদন্তের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, মূলত জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এই হামলার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ইতোমধ্যে তিনজনকে আটক করেছে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ।

আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই হামলার মূল হোতা এবং পেছনের উসকানিদাতাদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। বর্তমানে ওই এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষ থেকে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

শাসন করে চড় মেরেছিলেন ছেলেকে, ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল বাবার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

শাসন করে চড় মেরেছিলেন ছেলেকে, ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল বাবার

পরিবারের একটি ছোট বিষয় নিয়ে তৈরি হওয়া কথাকাটাকাটি শেষ পর্যন্ত মর্মান্তিক হত্যাকাૂণ্ডে রূপ নিয়েছে। সম্প্রতি একটি অনভিপ্রেত পারিবারিক ঝামেলার জেরে ছেলের আক্রোশের শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন এক বাবা। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই বিরোধ মুহূর্তের মধ্যে এমন এক হিংসাত্মক রূপ নেয়, যা পুরো এলাকাকুব্ধ করেছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনাটি ঘটেছে বাবা ও ছেলের মধ্যকার তাৎক্ষণিক উত্তেজনার জেরে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, মাহাবুর নামের এক ব্যক্তি তাঁর ছেলে হাসানুরকে নিজ শাশুড়িকে সঙ্গে নিয়ে একসঙ্গে খাবার খাওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু কোনো কারণে ছেলে সেই আহ্বানে রাজি হননি এবং বাবার কথা অমান্য করেন। এই অবাধ্যতায় ক্ষিপ্ত হয়ে বাবা মাহাবুর রাগের মাথায় ছেলেকে একটি চড় মেরে বসেন। সামান্য এই শাসন করার ঘটনাটিই সহ্য করতে পারেনি তরুণ হাসানুর এবং তার ভেতরে চরম ক্ষোভের জন্ম নেয়।

বাবার হাতের চড়ের প্রতিশোধ নিতে সঙ্গে সঙ্গেই চরম হিংস্র পথ বেছে নেয় ওই যুবক। ক্ষুব্ধ হয়ে হাসানুর ঘর থেকে একটি ধারালো ছুরি এনে সজোরে তাঁর বাবার বুকে আঘাত করেন। অতর্কিত এই প্রাণঘাতী আঘাতে মাহাবুর গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। পরিবারের অন্য সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি অনুধাবন করলেও ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে।

গুরুতর আহত অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তুচ্ছ একটি পারিবারিক বিষয়কে কেন্দ্র করে এমন একটি মর্মান্তিক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শোকে স্তব্ধ নিহত ব্যক্তির পরিবার ও প্রতিবেশীরা। ঘটনার পর থেকেই আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।


হরমুজে মার্কিন লেজার অস্ত্র, নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার হচ্ছে মাইক্রোসফটের এক্সবক্স

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

হরমুজে মার্কিন লেজার অস্ত্র, নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার হচ্ছে মাইক্রোসফটের এক্সবক্স

মধ্যপ্রাচ্যের অত্যন্ত কৌশলগত এবং সংবেদনশীল হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালীতে নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে একটি অত্যাধুনিক উচ্চক্ষমতার লেজার অস্ত্র মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মূলত আকাশপথে সম্ভাব্য ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি যেকোনো ধরনের সন্দেহজনক ড্রোন খুব সহজেই প্রতিহত করার উদ্দেশ্যে এই বিশেষ প্রযুক্তিটি মাঠে নামানো হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির সংশ্লিষ্ট সরকারি বিভাগ এই সামরিক পদক্ষেপের সত্যতা নিশ্চিত করেছে এবং এর কার্যকারিতা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। প্রচলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় যেসব ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়, তার তুলনায় লেজার প্রযুক্তির মাধ্যমে অত্যন্ত কম খরচে আকাশপথের এই হুমকিগুলো মোকাবিলা করা সম্ভব বলে দাবি করা হচ্ছে। দীর্ঘ প্রায় পাঁচ দশক ধরে নিরবচ্ছিন্ন গবেষণার মাধ্যমে এই প্রযুক্তি উন্নত করেছে মার্কিন গবেষকরা এবং বর্তমানে এর সক্ষমতা বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বেশ এগিয়ে রয়েছে।

প্রযুক্তির দিক থেকে লেজার অস্ত্র পরিচালনার পদ্ধতিটি বেশ অভিনব এবং ব্যয় সাশ্রয়ী। প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মতো প্রতিটি আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য আলাদাভাবে কোনো ভৌত ক্ষেপণাস্ত্র বা ইন্টারসেপ্টর ছুড়তে হয় না, ফলে সামগ্রিক খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। এই অস্ত্রটি জেনারেটর কিংবা শক্তিশালী ব্যাটারি থেকে সরাসরি বিদ্যুৎ সংগ্রহ করে সেটিকে অতি তীব্র আলোকরশ্মিতে রূপান্তর করে থাকে। পরবর্তীতে অত্যন্ত ঘনীভূত সেই রশ্মি নিখুঁতভাবে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর ওপর নিক্ষেপ করা হয়, যার ফলে মুহূর্তের মধ্যে যেকোনো ড্রোন বা আকাশযানের সংবেদনশীল অংশ অতিরিক্ত উত্তপ্ত হয়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে যায়। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডিরেক্টেড এনার্জি কনসালট্যান্টসের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে, এই ব্যবস্থা ড্রোনের গতিপথ অত্যন্ত নিখুঁতভাবে অনুসরণ করে এর সেন্সর অকার্যকর করতে বা সম্পূর্ণ যানটি গুঁড়িয়ে দিতে দারুণভাবে সক্ষম।

এই লেজার ব্যবস্থার অন্যতম একটি আকর্ষণীয় ও চমকপ্রদ দিক হলো, এটি পরিচালনার জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনী কোনো জটিল নতুন যন্ত্রপাতি তৈরি না করে বরং পুনর্গঠিত এক্সবক্স কন্ট্রোলার ব্যবহার করছে। সামরিক বাহিনীর যুক্তি হলো, লক্ষ্যবস্তু নিখুঁতভাবে নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজনীয় অত্যাধুনিক প্রযুক্তি আগে থেকেই ভিডিও গেম শিল্পে সফলভাবে তৈরি রয়েছে, তাই নতুন করে কন্ট্রোল সিস্টেম উদ্ভাবনের পেছনে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করার কোনো প্রয়োজন নেই। মার্কিন যুদ্ধজাহাজে এই প্রযুক্তির সফল প্রয়োগের পাশাপাশি মেক্সিকোর মাদক কার্টেলবিরোধী অভিযানেও এর ব্যবহারের নজির রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত মানবদেহের বিরুদ্ধে সরাসরি এই অস্ত্র প্রয়োগ করা হয়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে এটি অত্যন্ত শক্তিশালী প্রতিরক্ষা বলয় গড়ে তুলতে পারে এবং এর ফলে সেনাদের অতিরিক্ত গোলাবারুদ মজুত করার প্রয়োজনীয়তা অনেক কমে যাবে।

তবে এত সব সুবিধার পরেও এই প্রযুক্তির কিছু দৃশ্যমান সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। বর্তমানের লেজার সিস্টেমগুলোর আকার ও ওজন বেশ ভারী হওয়ার কারণে এগুলো সৈন্যদের ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহারের উপযোগী নয় এবং বড় যুদ্ধজাহাজেই কেবল স্থাপন করতে হয়। তা ছাড়া, লেজার রশ্মি কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য সাধারণত পরিষ্কার আকাশের প্রয়োজন পড়ে এবং একসঙ্গে যদি বিপুলসংখ্যক ড্রোন ঝাঁক বেঁধে আক্রমণ চালায়, তবে একটি একক লেজার ব্যবস্থা সব লক্ষ্যবস্তুকে একই সময়ে মোকাবিলা করতে হিমশিম খেতে পারে। ফলে সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তির আরও ব্যাপক উন্নতি সাধিত হলেও প্রচলিত ও বহুমুখী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার শতভাগ বিকল্প হিসেবে লেজার একা যথেষ্ট হবে কি না, তা নিয়ে এখনও যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।


জাতিসংঘেও কালো সানগ্লাস পরে ভাষণ দিলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী, কিন্তু কেন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জাতিসংঘেও কালো সানগ্লাস পরে ভাষণ দিলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী, কিন্তু কেন

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত বৈশ্বিক সংকট নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। তবে তাঁর নাতিদীর্ঘ এই ভাষণের মূল বিষয়বস্তুর পাশাপাশি বিশ্বমঞ্চে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয় তাঁর চোখে থাকা একটি কালো সানগ্লাস। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সাধারণত কমাণ্ডিং ও আনুষ্ঠানিক পোশাকের রীতি থাকলেও, নেপালের এই শীর্ষ নেতা তাঁর চিরচেনা স্টাইল বজায় রেখে কালো স্যুট এবং ঐতিহ্যবাহী নেপালি টুপির সঙ্গে কালো চশমা পরেই পোডিয়ামে দাঁড়িয়েছিলেন। জনসমক্ষে তাকে খুব কম সময়ই এই চশমা ছাড়া দেখা যায় এবং নিউইয়র্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মঞ্চেও তিনি এই পরিচিত রূপটিই ধরে রাখেন।

জাতিসংঘের সেই সাধারণ অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে বালেন্দ্র শাহ বিশ্বনেতাদের সামনে জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাব তুলে ধরে জোরালো বক্তব্য রাখেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে জলবায়ু সংকট কোনো ভৌগোলিক সীমান্ত মেনে চলে না এবং এর বিরূপ প্রভাব উন্নয়নশীল দেশগুলোকে অসমভাবে ও নির্মমভাবে সহ্য করতে হচ্ছে। সম্প্রতি নেপালে ঘটে যাওয়া হিমবাহ ধসের ফলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যার প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান যে এই মর্মান্তিক বিপর্যয় কেবল একটি দেশের একক সমস্যা নয়, বরং এটি সমগ্র পৃথিবীর জন্যই এক স্পষ্ট সতর্কবার্তা। এরপর তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি কড়া বার্তা দিয়ে জলবায়ুজনিত দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত স্বল্পোন্নত দেশগুলোর পুনর্বাসন ও পুনরুদ্ধারে জরুরি ভিত্তিতে পর্যাপ্ত অর্থায়নের জোরালো দাবি জানান।

নেপালের প্রভাবশালী গণমাধ্যম দ্য কাঠমান্ডু পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, বালেন্দ্র শাহ অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে জনসম্মুখে এই স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিচিতি ও ইমেজ গড়ে তুলেছেন। বিদেশি কূটনীতিক ও রাষ্ট্রদূতোদের সঙ্গে বৈঠক কিংবা আনুষ্ঠানিক কোনো রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে তিনি নিয়মিতই এই সানগ্লাস পরে উপস্থিত হন। তবে মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক কিংবা ঘরোয়া ব্যক্তিগত আলোচনায় তিনি এই চশমা খুলে রাখেন বলে জানা গেছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবেশ করার আগে তিনি একজন জনপ্রিয় র‍্যাপার এবং পরবর্তীতে কাঠমান্ডু মহানগরের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সেই সময় থেকেই জনসম্মুখে তাঁর এই সানগ্লাস পরিধানের অভ্যাস তরুণ প্রজন্ম ও সাধারণ মানুষের মাঝে তাঁর প্রথা ভাঙার স্বাধীন চেতনার প্রতীক হিসেবে খ্যাতি লাভ করে।

রাজনীতির মাঠে এই সানগ্লাস পরা নিয়ে এর আগে নেপালের জাতীয় সংসদেও বেশ ভালো রকমের বিতর্ক ও সমালোচনা তৈরি হয়েছিল। রাজনৈতিক বিরোধীরা তাঁর এই আচরণকে ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও শিষ্টাচারবহির্ভূত বলে আখ্যায়িত করলে তিনি চিকিৎসকের ছাড়পত্র ও মেডিকেল রিপোর্ট স্পিকারের দপ্তরে জমা দেন। চিকিৎসকদের মতে, চোখের একটি বিশেষ চিকিৎসাজনিত সমস্যার কারণে তাঁকে সব সময় এই সানগ্লাস পরে থাকতে হয় এবং এ বিষয়ে তাঁর আনুষ্ঠানিক অনুমোদনও রয়েছে। মূলত রাজনৈতিক ইমেজের পাশাপাশি এই শারীরিক বাধ্যবাধকতার কারণেই তিনি বিশ্বমঞ্চ থেকে শুরু করে সব ধরনের কূটনৈতিক বৈঠকে সানগ্লাসটি ব্যবহার করে আসছেন।

নেপালের এই নেতার সংবাদ সম্মেলন বা টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে কথা বলার প্রবণতা খুবই কম, তিনি মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমেই সরাসরি জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। ফলে তাঁর এই কালো সানগ্লাসটি ধীরে ধীরে তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ব্র্যান্ডের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। এমনকি দেশটির জনপ্রিয় অনলাইন মার্কেটপ্লেসে তাঁর ব্যবহারের আদলে তৈরি বিশেষ মডেলের সানগ্লাসও বিক্রি হয়, যা তরুণ প্রজন্মের কাছে দারুণ ফ্যাশন আইটেম হিসেবে সমাদৃত। এই সমস্ত ভিন্নধর্মী বৈশিষ্ট্য মিলিয়ে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এক অন্যতম আলোচিত ও কৌতূহলোদ্দীপক ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছেন।