শেয়ার বাজার

আসছে টানা ৭ দিন ছুটির সুযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আসছে টানা ৭ দিন ছুটির সুযোগ

আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য টানা কয়েক দিন ছুটি কাটানোর দারুণ সুযোগ তৈরি হয়েছে। সরকারি ছুটির সঙ্গে সাপ্তাহিক ও ঐচ্ছিক ছুটি মিলিয়ে নির্দিষ্ট কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী এই দীর্ঘ ছুটির সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। তবে সাধারণ সব কর্মচারীর জন্য এই বর্ধিত ছুটির সুযোগ থাকছে না, যা কেবল নির্দিষ্ট একটি সম্প্রদায়ের জন্য প্রযোজ্য হবে।

সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, আগামী অক্টোবর মাসের ২০ তারিখ মঙ্গলবার মহানবমী উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে বিশেষ ছুটি নির্ধারিত রয়েছে। এর পরের দিন ২১ তারিখ বুধবার বিজয়া দশমী উপলক্ষে সাধারণ ছুটি উপভোগ করবেন সরকারি চাকরিজীবীরা। ফলে দুর্গাপূজার মূল পর্বে এবার দুই দিনের সরকারি ছুটি পাওয়া যাচ্ছে।

এদিকে সনাতন ধর্মাবলম্বী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য অতিরিক্ত দুই দিনের ঐচ্ছিক ছুটি নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ১৮ অক্টোবর রোববার মহাসপ্তমী এবং ১৯ অক্টোবর সোমবার মহাষ্টমী উপলক্ষে তারা এই ঐচ্ছিক ছুটি ভোগ করতে পারবেন। ফলে মূল সরকারি ছুটির সঙ্গে এই দুই দিন যুক্ত হয়ে তাদের মোট ছুটির মেয়াদ চার দিনে গিয়ে ঠেকবে।

এই চার দিনের ছুটির সঙ্গে বাড়তি সুবিধা হিসেবে ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার মাত্র এক দিনের সাধারণ ছুটি নিলে এর সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটিও যুক্ত হয়ে যাবে। সব মিলিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বী চাকরিজীবীরা অনায়াসেই টানা সাত দিনের একটি লম্বা অবকাশ যাপনের সুযোগ পেতে পারেন। তবে অন্যান্য ধর্মের সরকারি কর্মচারীদের জন্য এই ঐচ্ছিক ছুটির বিধান প্রযোজ্য না হওয়ায় তারা এই দীর্ঘ ছুটির সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকবেন।

রাজশাহীতে ১২০০ রানারের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত ‘রান ফর সিল্ক সিটি’

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

রাজশাহীতে ১২০০ রানারের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত ‘রান ফর সিল্ক সিটি’

ঐতিহ্যবাহী রেশমশিল্পের গৌরব নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচিত করার উদ্দেশ্যে রাজশাহীতে একটি জমজমাট ম্যারাথন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সিল্ক সিটি রানার্স কমিউনিটির উদ্যোগে আয়োজিত এই ১০ কিলোমিটার চ্যালেঞ্জ ম্যারাথনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ক্রীড়াপ্রেমীরা ছুটে আসেন। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রতিযোগিতায় প্রায় ১ হাজার ২০০ জন দৌড়বিদ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। সকালের মিষ্টি রোদে আয়োজিত এই ম্যারাথনকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছিল।

নির্ধারিত দিন সকাল ছয়টার দিকে বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান ফটকের সামনে থেকে এই ম্যারাথনের সূচনা হয়। এরপর অংশগ্রহণকারী দৌড়বিদরা শহরের গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত কিছু সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। রুটটি ভদ্রা মোড়, তালাইমারী এবং সাহেব বাজার অতিক্রম করে হজরত শাহ মখদুম কেন্দ্রীয় ঈদগাহের সামনে গিয়ে শেষ হয়। দীর্ঘ এই পথ পাড়ি দেওয়ার সময় দৌড়বিদদের উৎসাহ দিতে রাস্তার দুপাশে স্থানীয় অনেক মানুষ জড়ো হয়েছিলেন।

প্রতিযোগিতা শুরুর প্রাক্কালে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং ফিতা কেটে ম্যারাথনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই ম্যারাথনের শুভ সূচনা করেন। উদ্বোধনী মুহূর্তের পর থেকেই প্রতিযোগীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।

এই প্রতিযোগিতায় সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়, যেখানে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ সব বয়সের মানুষ অংশ নেন। ম্যারাথন শেষে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বলেন, সিল্ক সিটি হিসেবে পরিচিত রাজশাহীর সুপ্রাচীন ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি নতুন প্রজন্মের হৃদয়ে ধারণ করাতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও সময়োপযোগী ভূমিকা পালন করে।


রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন অর রশীদের দাফন সম্পন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১ মার্চ, ২০২৪

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন অর রশীদের দাফন সম্পন্ন

ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার মেগচামী খান বাড়ীর বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মেগচামী স্কুল এন্ড কলেজের প্রাক্তন সহকারী শিক্ষক হারুন অর রশিদ (৮২) ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। 

বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) যোহর বাদ মেগচামী খান বাড়ী জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামনুন আহমেদ অনিকের নেতৃত্বে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে গার্ড অফ অনার প্রদান করা হয়। এসময় মধুখালী উপজেলা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা খুরশীদ আলম সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। 

এরপর জানাজার নামাজ শেষে তাকে খান বাড়ী পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। পারিবারিক সূত্র জানায়, মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকার মীরপুরস্থ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে যান। তাঁর একমাত্র সন্তান যুবরাজ খান বর্তমানে আমেরিকা প্রবাসী মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনার জন্য সকলের নিকট দোয়া চেয়েছেন। 



বোমা আশ্রয়কেন্দ্র থেকে নিউইয়র্ক—সুযোগ কাজে লাগাচ্ছেন ইরানের নেতারা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বোমা আশ্রয়কেন্দ্র থেকে নিউইয়র্ক—সুযোগ কাজে লাগাচ্ছেন ইরানের নেতারা

যুদ্ধের দীর্ঘ সাত মাস পেরিয়ে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নিহত হওয়ার ঘটনার মধ্য দিয়ে এই অঞ্চলে বড় ধরনের সংঘাতের সূচনা হয়েছিল। বর্তমান যুদ্ধাবস্থার মধ্যে এই উচ্চপর্যায়ের সফরকে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নিজেদের অবস্থান শক্ত করা এবং অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে তেহরান। গত কয়েকদিন ধরে মার্কিন ও পশ্চিমা প্রতিনিধিদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে তেহরান তাদের কূটনৈতিক তৎপরতা নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে।

সম্প্রতি নিউইয়র্কে এক বিরল কূটনৈতিক পদক্ষেপে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে মিলিত হন। পাশাপাশি তিনি ইউরোপের দশটিরও বেশি দেশের প্রতিনিধি এবং জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেন। বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে, চলমান সংঘাতে ইরানের সামরিক অভিযানের মুখে পড়া দেশগুলোর মধ্যে জর্ডান অন্যতম হওয়া সত্ত্বেও এই বৈঠকটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এদিকে জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে তেহরান কখনোই বিদেশি শক্তির কাছে নতিস্বীকার করবে না। তাঁর এই কঠোর অবস্থান দেশের ভেতরকার কট্টরপন্থী রাজনৈতিক মহলে ইতিবাচক সাড়া ফেললেও, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের কারণে রক্ষণশীল আইনপ্রণেতাদের একাংশের সমালোচনার মুখেও পড়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে মার্কিন প্রশাসনের কাছে নতুন একটি সমঝোতার প্রস্তাব পাঠিয়েছে তেহরান। এই প্রস্তাব অনুযায়ী, ইরানের ওপর থেকে সমস্ত অর্থনৈতিক অবরোধ প্রত্যাহার করা হলে তারা কৌশলগত হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনায় বসার পথ উন্মুক্ত করবে। ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন যে এই শর্ত বাস্তবায়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে সাত দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে, যদিও শর্তগুলোর সুনির্দিষ্ট বিবরণ এখনো জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। আঞ্চলিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে যে তেল বিক্রির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং সাম্প্রতিক সময়ে আরোপিত অন্যান্য অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বাতিল করাই তেহরানের প্রধান দাবি।

ওয়াশিংটনের সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির জ্যেষ্ঠ ফেলো সিনা তৌসি উল্লেখ করেছেন যে নতুন এই প্রস্তাবের মূল বিষয়বস্তু অতীতের চুক্তির সঙ্গে মিল থাকলেও এবার শর্ত পূরণের ক্রম বা কৌশল পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন বিন্যাস অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রকে প্রথমে কিছু বাস্তব ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে এবং তার পরই কেবল ইরান হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের কৌশলগত চাপ হ্রাস করবে। এর আগে গত জুনে হওয়া একটি সমঝোতায় যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ইরানের পুনর্গঠনে বড় অঙ্কের তহবিল প্রদান এবং হরমুজ ব্যবস্থাপনায় ইরানের ভূমিকা মেনে নিতে রাজি হয়েছিল। তবে দুই পক্ষের পারস্পরিক অনাস্থা ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের কারণে সেই সমঝোতা শেষ পর্যন্ত টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান ও ওমানের মধ্যে হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলাদাভাবে আলোচনা চলমান রয়েছে। তবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের গভীর অবিশ্বাস এবং জটিল শর্তের বেড়াজালে শেষ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক আলোচনায় ফেরা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে এখনো যথেষ্ট অনিশ্চয়তা রয়েছে। এদিকে নিউইয়র্কে ইরানের এই জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতার ঠিক বিপরীতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জাতিসংঘ ভাষণের সময় বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদলের তীব্র প্রতিবাদ এবং ওয়াকআউটের ঘটনা ঘটে। সব মিলিয়ে, চলমান সংঘাতের মধ্যেও তেহরান আলোচনার দরজা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়নি বরং কূটনৈতিক উপায়ে সংকট সমাধানের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।