শেয়ার বাজার

সড়কে রহস্যময় ঘটনা, ‘ভূত-জ্বীন’ থেকে বাঁচতে মিলাদ মাহফিল

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সড়কে রহস্যময় ঘটনা, ‘ভূত-জ্বীন’ থেকে বাঁচতে মিলাদ মাহফিল

পাবনার চাটমোহর উপজেলার কাটেঙ্গা ভাঙ্গা মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় সম্প্রতি বেশ কিছু অদ্ভুত ও রহস্যজনক ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গত কিছুদিন ধরে ওই তিন মাথার মোড়ে রাতেরবেলা নানা ধরনের অস্বাভাবিক দৃশ্য চোখে পড়ছে। কখনো সাপ বা বিড়াল আকস্মিক সামনে চলে আসার পর মুহূর্তে তা মিলিয়ে যাচ্ছে, আবার কখনো অদ্ভুত কোনো শব্দ শোনা যাচ্ছে। এমন সব আকস্মিক ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা গুঞ্জন শুরু হয়।

এই রহস্যের সূত্রপাত হয় যখন রাতে এক ব্যক্তিকে রাতের অন্ধকারে কোনো অজানা বস্তু পাশের একটি পুকুরে ফেলে দেয়। ওই ব্যক্তির আর্তচিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে পুকুরের পানি থেকে জীবিত উদ্ধার করেন। এরপর থেকেই মূলত এলাকাবাসীর মনে ভূতুড়ে বা জ্বীনের আছর থাকার বিশ্বাস জোরালো হয়। সাধারণ মানুষের চলাচলও ওই সড়কে রাতেরবেলা কমে যায়, কারণ অজানা এই আতঙ্কে অনেকেই ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছিলেন।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এবং গ্রামবাসীর ভয় দূর করতে শেষ পর্যন্ত উদ্যোগী হন স্থানীয় মুরব্বিরা। এলাকার মানুষের কাছ থেকে চাল ও ডাল সংগ্রহ করে শনিবার রাতে একটি বিশেষ মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। সেখানে প্রায় ছয়শতাধিক নারী, পুরুষ ও শিশু স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। মাহফিল শেষে উপস্থিত সকলের মাঝে খিচুড়ি তবারক বিতরণ করা হয় এবং সবাই নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যান।

স্থানীয় বাসিন্দা ইসমাইল জানান, ভূত বা এ জাতীয় অবাস্তব কিছুতে বিশ্বাস না থাকলেও জ্বীনের অস্তিত্ব থাকতে পারে বলে তারা মনে করেন। তাই ইসলামী শরিয়তের বিধান অনুযায়ী মিলাদ ও দোয়া মাহফিল করে আল্লাহর দরবারে এই বিপদ থেকে মুক্তির আকুতি জানানো হয়েছে। এদিকে স্থানীয়দের এই কর্মকাণ্ড নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই হাস্যরস ও ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও তৈরি করায় বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নতুন করে আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে ইসলামী চিন্তাবিদ মুফতি মোহাম্মদ মফিজ উদ্দিন স্পষ্ট করে জানান যে, সমাজে প্রচলিত ভূতের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। তবে পবিত্র কোরআনের আলোকে বদজ্বীনের প্রভাব বা আছর থাকার বিষয়টি অস্বীকার করা যায় না। তিনি উল্লেখ করেন যে, এ ধরনের অদৃশ্য ভয় বা বদজ্বীন থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য পবিত্র কোরআনে সুনির্দিষ্ট দোয়া ও সুরক্ষার বিধান রয়েছে যা পাঠ করলে মানুষ নিরাপদ থাকতে পারে।

তদবির শিখতে ইনস্টিটিউট খোলার কথা বললেন এমপি শাহাজাদা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

তদবির শিখতে ইনস্টিটিউট খোলার কথা বললেন এমপি শাহাজাদা

বার্তাবেলা ডেস্ক: রাস্তাঘাটসহ এলাকার উন্নয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর কাছে ডিও লেটার (আধা সরকারি পত্র) দিয়ে এবং সংসদে বক্তব্য দিয়েও কোনো লাভ হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন পটুয়াখালী-৩ আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য এসএম শাহাজাদা। এমন অভিযোগ করে তিনি তদবির শিখতে ইনস্টিটিউট খোলার কথা বলেছেন।

সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ সম্পর্কে আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

স্পিকারকে উদ্দেশ করে শাহাজাদা বলেন, আমরা সংসদে কথা বলি। আমাকে ৭ মিনিট সময় দিয়েছেন। এজন্য লাখ টাকার বেশি ব্যয় হয়েছে। আমরা কথা বলি, কথাগুলোর বাস্তবায়ন হওয়ার প্রয়োজন। তা না হলে শুধু কথা বলবো এলাকার লোকজন ফেসবুকে দেখবেন এটা তো! আমরা যে কথাগুলো বলি এটার যদি প্রয়োজনীয়তা থাকে তাহলে তা বাস্তবায়ন হওয়া দরকার। বাস্তবায়নে আমরা মন্ত্রণালয়ে ডিও দেই। সংসদে কথা বলি। এছাড়া তো বাকি কোনো জায়গা নেই।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমরা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কিছু বৈষম্য দেখি। আমরা দেখি কোনো না কোনো আসনে বিস্তর কাজ হয়। অনেক রাস্তা যায়। সেখানকার জনগণ ভোট দেয়। সেখানকার জনগণের ভোট একটি, আমার এলাকার জনগণেরও ভোট একটি। এরপরও আমরা অনেক সময় বৈষম্যের শিকার হই। এই বৈষম্য থেকে আমার নির্বাচনী এলাকা মুক্তি পাবে এই প্রার্থনা করি। না হলে জানতে চাই- ডিও লেটার দিয়ে কীভাবে তদবির করতে হয়। এই তদবির করার জন্য কোনো ইনস্টিটিউট খুলতে হবে। সেখানে গিয়ে আমরা তদবির শিখবো এবং তদবির করে কাজ নেবো।

শাহাজাদার এ বক্তব্যের সময় সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে সমর্থন জানান। তিনি আরও বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকা গলাচিপার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ছাদ থেকে রোগীর গায়ে পলেস্তারা খসে খসে পড়ে। ফ্যান খুলে চিকিৎসকরা আহত হন।


জন্মদিন পালনের আয়োজন করে কেক-মোটরসাইকেল ফেলে পালাল নিষিদ্ধ আ.লীগ নেতাকর্মীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জন্মদিন পালনের আয়োজন করে কেক-মোটরসাইকেল ফেলে পালাল নিষিদ্ধ আ.লীগ নেতাকর্মীরা

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মবার্ষিকী উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সম্প্রতি উপজেলার পালেরচর ইউনিয়নের দক্ষিণ দড়িকান্দি জোড়া ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। বড়কান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে একটি ফাঁকা সড়কে এই কেক কাটার আয়োজন করা হয়েছিল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে রওনা দেয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আয়োজক ও সেখানে জড়ো হওয়া ব্যক্তিরা দ্রুত পালিয়ে যান, ফলে কেক কাটার আগেই পুরো অনুষ্ঠান পণ্ড হয়ে যায়।

পুলিশ সূত্র জানায়, ওই স্থানে প্রায় ১০ থেকে ১৫ জন নেতাকর্মী জড়ো হয়ে কেক কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। জাজিরা থানা পুলিশের একটি নিয়মিত টহল দল সেখানে পৌঁছালে বিশৃঙ্খলা এড়াতে ও নিজেদের রক্ষায় তারা পালিয়ে যাওয়ার পথ বেছে নেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাউকে আটক করতে না পারলেও পড়ে থাকা বিভিন্ন আলামত জব্দ করে। এই আকস্মিক অভিযানে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের তৎপরতা সাময়িকভাবে প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছে স্থানীয় প্রশাসন।

ঘটনাস্থল তল্লাশি করে পুলিশ একটি আস্ত কেক এবং পাঁচটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে জব্দকৃত মোটরসাইকেলগুলোর প্রকৃত মালিক কে কিংবা ঘটনার সময় কারা সেগুলো ব্যবহার করছিলেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া যানগুলোর রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে মালিকদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় তদন্ত শুরু হয়েছে।

এ বিষয়ে নড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিউদ্দিন মিরাজ জানান, কেক কাটার প্রস্তুতির খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ সেখানে অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল থেকে একটি কেক ও পাঁচটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। এই পুরো ঘটনার বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে এবং জড়িতদের ধরতে পুলিশ সজাগ রয়েছে।


নারায়ণগঞ্জে ট্রলারডুবিতে নিখোঁজ তিন ভাই-বোনের মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নারায়ণগঞ্জে ট্রলারডুবিতে নিখোঁজ তিন ভাই-বোনের মরদেহ উদ্ধার

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ থাকা তিন ভাইবোনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সম্প্রতি কুমিল্লার একটি গ্রাম থেকে আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ট্রলারে করে ওই এলাকায় আসেন তারা। নদীপথে যাত্রার সময় হঠাৎ দুর্ঘটনায় ট্রলারটি ডুবে যায় এবং এই মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

নিহত শিশুদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে কুমিল্লার শ্রীমদ্দি গ্রাম থেকে ১৩ জন যাত্রী নিয়ে একটি ট্রলার সোনারগাঁয়ের সোনাময়ী গ্রামের দিকে রওনা হয়েছিল। বিয়ের আনন্দ উদযাপনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা এই যাত্রীদের আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে রূপ নেয়। মাঝনদীতে পৌঁছানোর পর আকস্মিক ঝোড়ো বাতাস ও ঢেউয়ের কবলে পড়ে যাত্রীবাহী ট্রলারটি ডুবে যায়।

দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। প্রাথমিক উদ্ধার অভিযানে কয়েকজন সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও শিশুসহ বেশ কয়েকজন নিখোঁজ ছিলেন। পরে তল্লাশি চালিয়ে নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে ওই তিন ভাইবোনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

একসঙ্গে তিন সন্তানের আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ধরনের নৌযান চলাচলে আরও সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের বেদনাদায়ক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হয়।