শেয়ার বাজার

সরকারি চাকরিতে এখনো গোয়েন্দা দিয়ে যাচাই, প্রাথমিকে অনেকের নিয়োগ আটকে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সরকারি চাকরিতে এখনো গোয়েন্দা দিয়ে যাচাই, প্রাথমিকে অনেকের নিয়োগ আটকে

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পরও অনেক প্রার্থীর চাকরি ঝুলে রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিয়মতান্ত্রিকভাবে বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে আসার পর গোয়েন্দা সংস্থার নেতিবাচক বা বিলম্বিত প্রতিবেদনের কারণে এসব প্রার্থীর নিয়োগ আটকে দেওয়া হচ্ছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে পরীক্ষা ও প্রক্রিয়া শেষ করার পরও চাকরিপ্রার্থীরা চরম অনিশ্চয়তা ও মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

সাধারণত সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে পুলিশি যাচাই বা ব্যাকগ্রাউন্ড চেক একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে প্রাথমিক শিক্ষার মতো একটি বৃহৎ ক্ষেত্রে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে গোয়েন্দা সংস্থার এই ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা অন্য কোনো অদৃশ্য কারণে অনেক যোগ্য প্রার্থীর নাম এই যাচাই প্রক্রিয়ায় আটকে দেওয়া হচ্ছে, যা নিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী প্রার্থীরা অভিযোগ করেছেন যে, মেধার ভিত্তিতে চূড়ান্ত তালিকায় নাম আসার পরও শুধুমাত্র গোয়েন্দা প্রতিবেদনের মারপ্যাচে তাদের নিয়োগপত্র প্রদান করা হচ্ছে না। অথচ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে বা প্রাথমিক নিয়মে এই ধরনের জটিল ও দীর্ঘমেয়াদী যাচাই প্রক্রিয়ার বিষয়ে স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা থাকে না। এর ফলে হাজার হাজার সফল প্রার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে এবং অনেকেই এই বৈষম্যের প্রতিকার চেয়ে বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করছেন।

সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষক নিয়োগের মতো একটি জনগুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রিতা তৈরি হলে একদিকে যেমন বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকের ঘাটতি দেখা দেয়, অন্যদিকে মেধাবী তরুণদের প্রতি অবিচার করা হয়। তাই দ্রুত এই জট ছাড়িয়ে আটকে থাকা যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত প্রার্থীরা।

ধর্ষণের অভিযোগে পাঞ্জাবের বিশ্ববিদ্যালয়ে তীব্র আন্দোলন, যুদ্ধবিমান-ট্যাংকের পিঠে উঠে গেলেন শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ধর্ষণের অভিযোগে পাঞ্জাবের বিশ্ববিদ্যালয়ে তীব্র আন্দোলন, যুদ্ধবিমান-ট্যাংকের পিঠে উঠে গেলেন শিক্ষার্থীরা

ভারতের পাঞ্জাবের জলন্ধর জেলার লাভলি প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটিতে এক নারী শিক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। গত রোববার ভোরে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে শত শত শিক্ষার্থী অংশ নেন এবং ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় শিক্ষার্থীরা জলন্ধর-ফাগওয়ারা জাতীয় মহাসড়কের একটি অংশ অবরোধ করেন, যার ফলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এই আন্দোলন চলাকালীন ক্যাম্পাসের ভেতরে বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মতো অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটে।

বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গত ২৪ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের জি-থ্রি নামের মেয়েদের হোস্টেলে এক ছাত্রী বহিরাগত এক ব্যক্তির দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ওই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্লাম্বার বা নির্মাণকর্মী জড়িত ছিলেন বলে দাবি করেন তারা। শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেন যে, বিষয়টি তৎক্ষণাৎ হোস্টেল ওয়ার্ডেনকে জানানো হলেও কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের ভেতরে থাকা সামরিক প্রদর্শনীতে রাখা একটি যুদ্ধবিমান ও ট্যাংকের পিঠে চড়ে তীব্র স্লোগান দিতে থাকেন। এছাড়া জানালার কাচ ভাঙচুর এবং কয়েকটি দোকানেও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

এদিকে শিক্ষার্থীদের এই ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগ। জলন্ধর রেঞ্জের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ নবীন সিংলা জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে এবং এর ভিত্তিতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা না যাওয়ায় প্রাথমিকভাবে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়েছে। এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে ফাগওয়ারার পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সত্যতা উদ্ঘাটনে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ, ফোন কল রেকর্ড বিশ্লেষণ এবং ফরেনসিক পরীক্ষা চালানো হবে।

ধর্ষণের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে মেয়েদের হোস্টেলের নিরাপত্তা জোরদার এবং হোস্টেলের পুরো স্টাফ নারী কর্মী দিয়ে পরিচালনার দাবি জানানো হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে এসব দাবি পূরণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, লাভলি প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার মনিকা গুলাটি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ধর্ষণের সমস্ত অভিযোগকে সম্পূর্ণ গুজব ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, সমাজবিরোধী কিছু চক্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে ক্যাম্পাসের পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করছে এবং সবাইকে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।


বাংলাদেশ থেকে অস্কারে যাচ্ছে সুমনের ‘রইদ’

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বাংলাদেশ থেকে অস্কারে যাচ্ছে সুমনের ‘রইদ’

বিশ্ব চলচ্চিত্রের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আয়োজন একাডেমি অ্যাওয়ার্ডস বা অস্কারে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হয়েছে। আসন্ন অস্কারের ৯৯তম আসরে দেশের সিনেমা হিসেবে লড়াই করার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত হয়েছে মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত প্রশংসিত চলচ্চিত্র 'রইদ'। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলা সিনেমাকে পরিচিত করার ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা।

একাডেমি অ্যাওয়ার্ডসের নিয়মানুযায়ী এই সিনেমাটি আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। বিশ্বমঞ্চে প্রতিযোগিতার জন্য উপযুক্ত মনে করে বাংলাদেশ থেকে এই ছবিটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর আগেও মেজবাউর রহমান সুমনের নির্মাণশৈলী দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে এবং তার নতুন এই কাজটিও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চলচ্চিত্রবোদ্ধারা আশা প্রকাশ করছেন যে, আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম বিভাগে 'রইদ' সিনেমাটি বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব জোরালোভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হবে। অস্কারের মতো বড় আয়োজনে দেশের চলচ্চিত্র জমা পড়ার এই প্রক্রিয়াটি দীর্ঘদিন ধরে বাংলা সিনেমার আন্তর্জাতিক বাজার তৈরিতে ভূমিকা রেখে আসছে। বিশ্ব চলচ্চিত্রের বিভিন্ন দেশের সেরা কাজের সঙ্গে এই ছবিটি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

আগামীতে অস্কারের চূড়ান্ত মনোনয়ন পর্বের বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে সিনেমাটি আরও দূর এগিয়ে যাবে এমনটাই প্রত্যাশা দেশের চলচ্চিত্রপ্রেমীদের। নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন ও তার পুরো দল এই অর্জনে অত্যন্ত আনন্দিত এবং তারা বিশ্বাস করেন দেশের চলচ্চিত্রের এই জয়যাত্রা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।


এক সিনেমার পরেই অভিনয় ছাড়েন শাহরুখের নায়িকা, স্বামী ৪৮ হাজার কোটি রুপির মালিক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

এক সিনেমার পরেই অভিনয় ছাড়েন শাহরুখের নায়িকা, স্বামী ৪৮ হাজার কোটি রুপির মালিক

বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খানের বিপরীতে অভিনয় করে দারুণ পরিচিতি পেলেও মাত্র একটি চলচ্চিত্র দিয়েই রূপালী জগৎকে চিরতরে বিদায় জানান অভিনেত্রী গায়ত্রী জোশী। ২০০৪ সালে মুক্তি পাওয়া অত্যন্ত প্রশংসিত 'স্বদেশ' সিনেমায় তাঁর অভিনয় দর্শক ও সমালোচকদের নজর কাড়লেও তিনি অভিনয় পেশা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেননি। আশুতোষ গোয়ারিকর পরিচালিত এই ছবিটিতে মুখ্য নারী চরিত্রে অভিনয় করে রাতারাতি তারকাখ্যাতি অর্জন করা সত্ত্বেও তিনি পরবর্তীতে আর কোনো সিনেমায় কাজ করার প্রস্তাব গ্রহণ করেননি।

চলচ্চিত্র জগৎ থেকে চিরতরে দূরে সরে যাওয়ার পর গায়ত্রী জোশী সম্পূর্ণভাবে তার পারিবারিক জীবন ও কর্পোরেট দায়িত্ব পালনে মনোনিবেশ করেন। অভিনয়ের সুদিনেই তিনি ব্যবসায়ী বিকাশ ওবেরয়কে বিয়ে করেন এবং এরপর থেকেই তিনি মূলত একজন সফল উদ্যোক্তা পত্নী ও সমাজকর্মী হিসেবে নিজের জীবন অতিবাহিত করতে শুরু করেন। ওবেরয় গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকাশ ওবেরয় বিশাল সম্পত্তির অধিকারী, যা প্রায় ৪৮ হাজার কোটি টাকার সমান।

ব্যক্তিগত জীবনে এই সাবেক অভিনেত্রী অত্যন্ত বিলাসবহুল জীবনযাপন করলেও তিনি সাধারণ প্রচারের আলো থেকে বরাবরই নিজেকে দূরে রাখতে পছন্দ করেন। চলচ্চিত্রাঙ্গন ও গ্ল্যামার দুনিয়ার চাকচিক্য ছেড়ে তিনি নিজের সংসার ও ব্যবসায়িক বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেই ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছেন। গায়ত্রীর এই হঠাৎ অভিনয় ছাড়ার সিদ্ধান্ত এবং তার ব্যক্তিগত জীবনের এই বিশাল সাম্রাজ্য এখনও অনেক ভক্ত ও অনুসারীদের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনার জন্ম দেয়।