শেয়ার বাজার

রিসোর্ট ভাড়া নিয়ে ‘ডিজে পার্টি’, আড়ালে চলে মাদক কেনাবেচা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

রিসোর্ট ভাড়া নিয়ে ‘ডিজে পার্টি’, আড়ালে চলে মাদক কেনাবেচা

গাজীপুর জেলার একটি নিভৃত রিসোর্টে সম্প্রতি চোখ ধাঁধানো এক ডিজে পার্টির আয়োজন করা হয়। বাহ্যিক দিক থেকে এটি সাধারণ তরুণ-তরুণীদের একটি বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান বলে মনে হলেও এর পেছনে ভিন্ন এক উদ্দেশ্য কাজ করছিল। মূলত আনন্দ-উল্লাসের এই আসরকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে সেখানে জমজমাট মাদক কেনাবেচা চলছিল বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে বেশ সুকৌশলে এই গোপন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছিল।

অনুষ্ঠানটিতে অংশগ্রহণের জন্য আয়োজকদের পক্ষ থেকে টিকিটের চড়া মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই ডিজে পার্টিতে যোগ দিতে ইচ্ছুক অতিথিদের জনপ্রতি ছয় থেকে বারো হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হয়েছে। টিকিটের এই চড়া দামের কারণে সমাজের একটি নির্দিষ্ট ও বিত্তশালী শ্রেণির তরুণ-তরুণীরাই মূলত এই আয়োজনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল। অতিরিক্ত মুনাফার লোভে আয়োজকরা টিকিটের ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে নানা ধরনের অনৈতিক কার্যক্রমের প্রসার ঘটাচ্ছিল।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই আয়োজনের পেছনের রমরমা অবৈধ বাণিজ্যের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মহলের নজরে আসে। সাধারণত এ ধরনের রিসোর্টভিত্তিক গোপন পার্টিগুলোতে মাদকের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপের আসর বসে থাকে। প্রশাসনের কড়া নজরদারি এড়িয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলের রিসোর্টগুলোকে এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের নিরাপদ রুট বা আখড়া হিসেবে বেছে নিচ্ছে একটি চক্র। রিসোর্টের মালিকপক্ষ বা স্থানীয় প্রভাবশালী কোনো মহলের যোগসাজশ ছাড়া এমন বড় আয়োজন করা সম্ভব কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এ ধরনের ঘটনাগুলো বর্তমান তরুণ সমাজের নৈতিক অবক্ষয়ের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির ইঙ্গিত দেয়। এই ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রিসোর্ট কেন্দ্রিক এ ধরনের অবৈধ ডিজে পার্টি এবং মাদক ব্যবসার উৎস উদঘাটনে তৎপরতা শুরু করেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড রোধে রিসোর্টগুলোর ওপর কঠোর নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।


হরিপুরে বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস-২০২৪  অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫ মার্চ, ২০২৪

হরিপুরে বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস-২০২৪  অনুষ্ঠিত

হরিপুর প্রতিনিধিঃ স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ি ভোক্তার স্বার্থে কৃত্রিম বৃদ্ধিমত্তা ব্যবহার করি।

হরিপুর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে শুক্রবার-১৫ মার্চ সকাল ১১:০০ ঘটিকায়  উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন- ২০০৯, বাস্তবায়নে সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ফয়েজ মোহাম্মদ জামান সহকারি শিক্ষক, হরিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

ভোক্তা অধিকার দিবসে রাসায়নিক সার, কীটনাশক, মেডিসিন,কসমেটিকপণ্যের  বাজার, কৃষি পণ্যের বাজার, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও সংকট নিরসন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা  হয়। 

উক্ত অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসার পক্ষে ডাঃ সূবর্ণা রানী বলেন,উপজেলায় গত সপ্তাহে  বিভিন্ন হাটবাজারে ভোক্তা অধিকার আইনে অর্থ দন্ড করা হয়েছে । বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের সীমাহীন মূল্য বৃদ্ধি কারণে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠে গেছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করতে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

তিনি আরো বলেন,নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধিতে  সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ও বিভিন্ন অভিযোগ করছেন । এই ভাবে চলতে থাকলে সাধারণ মানুষ আরো ক্ষতিগ্রস্ত হবে।


৬০৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ: সালমান এফ রহমানসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলার অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

৬০৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ: সালমান এফ রহমানসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলার অনুমোদন

কাগুজে ও নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান দেখিয়ে বিশাল অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বেক্সিমকো গ্রুপের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সালমান ফজলুর রহমানসহ মোট ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সম্প্রতি দুদক সচিব সাইদুর রহমান খান সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেন। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, কোনো ধরনের বাস্তব অস্তিত্ব ছাড়াই ব্যাংক থেকে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে, যা রাষ্ট্রীয় আর্থিক খাতের জন্য একটি বড় ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির দৃষ্টান্ত।

দুদক সূত্রে জানা যায়, স্কাইমার্ক ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড নামের একটি অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠান তৈরি করে পর্যাপ্ত জামানত বা সঠিক মূল্যায়ন ছাড়াই ভুয়া ঋণ অনুমোদন ও তার পরিমাণ বাড়ানো হয়। কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই না করেই ওই প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ৫৩৮ কোটি টাকার বেশি ঋণ বিতরণ করা হয় এবং পরবর্তীতে তা নগদে উত্তোলন করা হয়। ব্যাংকটির সংশ্লিষ্ট নীতিমালা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর নির্দেশনা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেই এই অর্থ আত্মসাতের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দুদক।

তদন্তে আরও বেরিয়ে এসেছে যে, সুদাসলে এই ঋণের আর্থিক পরিমাণ বর্তমানে ৬০৪ কোটি টাকারও বেশি দাঁড়িয়েছে যা সরাসরি আইএফআইসি ব্যাংকের মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়েছে। আত্মসাৎ করা এই অর্থের উৎস, অবস্থান এবং গন্তব্য সম্পূর্ণ গোপণ করার উদ্দেশ্যে তা নানা অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর, রূপান্তর ও মানিলন্ডারিংয়ের মাধ্যমে পাচার করা হয়। ব্যাংকের তৎকালীন শীর্ষ মহলের যোগসাজশেই এই অবৈধ আর্থিক লেনদেন সম্ভব হয়েছিল বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তারা।

এই পুরো দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় সালমান এফ রহমান ছাড়াও তাঁর ছেলে আহমেদ সায়ান ফজলুর রহমানসহ মোট ২৫ ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারা ছাড়াও ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং ২০১২ সালের মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। দুদকের এই কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে ব্যাংক খাতের অনিয়ম ও জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালী ব্যক্তিদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার প্রক্রিয়া আরও বেগবান হবে বলে মনে করা হচ্ছে।