শেয়ার বাজার

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে যা ঘটেছে, মেনে নেওয়ার মতো নয়: সাদিয়া আয়মান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে যা ঘটেছে, মেনে নেওয়ার মতো নয়: সাদিয়া আয়মান

জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে সম্প্রতি হামলার ঘটনা ঘটে। চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে এই ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন উদীয়মান অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান। তার এই প্রতিবাদ ইতোমধ্যে ভার্চুয়াল দুনিয়ায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে সাদিয়া আয়মান উল্লেখ করেন, সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওর ভেতরে যা ঘটেছে তা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক এবং কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। শিল্পীদের কাজের জায়গায় এ ধরনের সহিংসতা ও আক্রমণ সংস্কৃতির জন্য হুমকিস্বরূপ। তিনি আরও জানান, অন্যের উপার্জনের ওপর এ ধরনের হামলা ও জোরপূর্বক অর্থ আদায়ের অপচেষ্টা সমাজকে ভুল বার্তা দিচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে সৃজনশীল অঙ্গনের বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর এমন অনভিপ্রেত হামলার ঘটনা বাড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। শিল্পীরা নিজেদের কর্মক্ষেত্রে সবসময় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে মনে করছেন অনেকে। সালমানের স্টুডিওর ভাঙচুরের পর পুরো বিনোদন জগতে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে এবং সহকর্মীরা এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করছেন।

এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন শোবিজ অঙ্গনের অনেকেই। সামাজিক মাধ্যমে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

বৃহস্পতিবার রাজশাহী যাচ্ছেন তারেক রহমান

প্রকাশিত: ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬

বৃহস্পতিবার রাজশাহী যাচ্ছেন তারেক রহমান

দীর্ঘ ২২ বছর পর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাজশাহীতে নির্বাচনি প্রচারণায় আসছেন। ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন তিনি।

দীর্ঘ ২২ বছর পর দলীয় প্রধানের আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে নগরীতে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। তিন জেলার ১৩টি সংসদীয় আসনের নেতাকর্মীরাসহ সাধারণ জনগণ এই সমাবেশে অংশগ্রহণ করবেন। সমাবেশে তিন লক্ষাধিক জনসমাগমের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা।

রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ মামুন জানান, ২৯ জানুয়ারি বেলা ১১টার দিকে বিমানযোগে তারেক রহমান রাজশাহীতে পৌঁছাবেন এবং সরাসরি মাদরাসা মাঠে সমাবেশে যোগ দেবেন। একইদিন সন্ধ্যায় নওগাঁ বাইপাসে এবং রাতে বগুড়ায় নির্বাচনি সমাবেশে ভাষণ দেবেন। বগুড়ায় রাত্রিযাপন করার সম্ভাবনাও রয়েছে।

রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, তারেক রহমানের আগমনে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলোতে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। আমরা কয়েক লাখ মানুষের সমাগম নিশ্চিত করতে পূর্ণ প্রস্তুতি নিচ্ছি।

জানা যায়, গত শনিবার দিবাগত রাতে নগরীর পদ্মা আবাসিক এলাকায় বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিনুর বাসভবনে রাজশাহী, নাটোর ও চাঁপাইনবাজগঞ্জ আসনের দলীয় প্রার্থী, মহানগর ও বিএনপি নেতাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল সভায় অংশ নেন তারেক রহমান। সভায় তিনি রাজশাহীতে তিন জেলার নির্বাচনি সমাবেশ সফল করার জন্য সমন্বয়ের নির্দেশনা দেন। ভার্চুয়াল সভায় রাজশাহী বিভাগের ১৩ আসনের প্রার্থীদেরও এ সমাবেশ সম্পর্কে অবহিত করার কথা বলেন তিনি। সভায় রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত, নাটোর-২ আসনের প্রার্থী অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু এবং মহানগর বিএনপির নেতারা অংশগ্রহণ করেন।

এরপর রোববার সকাল থেকেই ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে মঞ্চ তৈরির কাজ শুরু হয়। এরই মধ্যে রাজশাহী মহানগর বিএনপি ও সংশ্লিষ্ট অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন। মঞ্চ প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে স্থানীয় প্রশাসনকেও অনুরোধ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

রাজশাহী-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনু জানান, তারেক রহমান ২৯ জানুয়ারি বিমানে দুপুর সোয়া ১২টায় রাজশাহীতে নামবেন এবং সরাসরি মাদরাসা মাঠে পৌঁছে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন। রাজশাহীসহ আশপাশের তিন জেলার ১৩টি সংসদীয় আসনের প্রার্থী ও সাধারণ মানুষ এই জনসভায় উপস্থিত থাকবেন। রাজশাহী বিএনপির প্রাণকেন্দ্র, এখানকার মানুষ ‘ধানের শীষ’ ছাড়া কিছু ভাবেই না। আমরা বিজয়ের দৃঢ় প্রত্যয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছি।

এদিকে দীর্ঘ সময় পর রাজশাহীতে তারেক রহমানের আগমন বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উৎসাহ ও উদ্দীপনা তৈরি করেছে। দলীয় নেতারা মনে করেন, এই সমাবেশ রাজশাহী ও আশপাশের তিন জেলায় বিএনপির নির্বাচনি শক্তিকে ব্যাপকভাবে উজ্জীবিত করবে এবং ভোটারদের মধ্যে দলীয় মনোবল বাড়াবে। এর ফলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে ব্যাপক সুবিধা সৃষ্টি হবে।

উল্লেখ্য, রাজশাহী বিভাগের ১৩টি আসনে এই বৃহৎ সমাবেশ দলটির জন্য ঐতিহাসিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ সর্বশেষ ২০০৫ সালে দলীয় কর্মশালা ও প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে তারেক রহমান রাজশাহীতে এসেছিলেন। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে এই প্রথম ভোটের প্রচারে সরাসরি মহানগরীতে আসার ফলে দল ও ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। রাজশাহী, নাটোর ও চাঁপাইনবাজগঞ্জের প্রার্থীদের জন্য একযোগে এই মহাসমাবেশ বিএনপির ঐক্য ও শক্তির প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। সমাবেশ সফল করতে দল ও অঙ্গসংগঠন সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানা গেছে।


দিনাজপুরে স্ত্রী পরিচয় দিয়ে নারীকে দীর্ঘদিন ‘ধর্ষণ’, আ.লীগ নেতা আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬ মার্চ, ২০২৪

দিনাজপুরে স্ত্রী পরিচয় দিয়ে নারীকে দীর্ঘদিন ‘ধর্ষণ’, আ.লীগ নেতা আটক

দিনাজপুর হিলি প্রতিনিধি: দিনাজপুরের হিলিতে বিয়ের নাটক সাজিয়ে স্ত্রী পরিচয়ে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণ ও পরবর্তীতে ধর্ষণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানোর ঘটনায় হিলি মুন্না মটরস এর মালিক মুশফিকুর রহমান মুন্না (৪২)কে আটক করেছে থানা পুলিশ।

আজ শনিবার (১৬ মার্চ) ভোররাতে উপজেলার বোয়ালদাড় গ্রাম থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। সে ওই গ্রামের মৃত সাদেক আলীর ছেলে।

হাকিমপুর থানা অফিসার ইনচার্জ দুলাল হোসেন বলেন, কৌশলে বিয়ের নাটক সাজিয়ে স্ত্রী পরিচয়ে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণ ও পরবর্তীতে ধর্ষণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানোর ঘটনায় আসামি, হিলি মুন্না মটরস এর মালিক মুশফিকুর রহমান মুন্না (৪২) কে আজ শনিবার ভোররাতে তার নিজ বাড়ি বোয়ালদাড় থেকে আটক করা হয়েছে। এ সময় ভিকটিমের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আসামির বিরুদ্ধে হাকিমপুর থানার মামলা নং ১৫ তারিখ-১৬/০৩/২০২৪ খ্রিঃ ধারা-নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০২০ এর ৯(১) তৎসহ পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২ এর ৮(১) ও ৮(৩) ধারা রুজ্জু করিয়া আসামিকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।


ইমরানের মুক্তির দাবিতে রাজধানীমুখী মিছিল, ইসলামাবাদে লকডাউন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ইমরানের মুক্তির দাবিতে রাজধানীমুখী মিছিল, ইসলামাবাদে লকডাউন

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কারাবন্দি অবস্থার প্রতিবাদ ও তার মুক্তির দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। ২০২৩ সাল থেকে কারাগারে থাকা এই নেতার সঙ্গে প্রশাসনের আচরণ এবং তার বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছে দলটি। পিটিআইয়ের এই পূর্বঘোষিত কর্মসূচি সফল করতে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার সমর্থক দলবেঁধে ইসলামাবাদের দিকে যাত্রা শুরু করেছেন। সরকারের তরফ থেকে নানা বাধা ও ধরপাকড় উপেক্ষা করেই রাজপথে নেমেছেন তারা, যা বর্তমান প্রশাসনের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

বিক্ষোভ কর্মসূচি প্রতিহত করতে ইসলামাবাদজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বর্তমান সরকার। রাজধানী শহরে জনসমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির পাশাপাশি প্রায় ২২ হাজার পুলিশ ও অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। নিরাপত্তার অজুহাতে খাইবার পাখতুনখোয়ার সঙ্গে সংযোগকারী প্রধান মহাসড়কগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং বিভিন্ন পয়েন্টে এক হাজারের বেশি কনটেইনার ও কাঁটাতারের প্রতিবন্ধক বসানো হয়েছে। এছাড়া পিটিআইয়ের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা ও মন্ত্রীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে এবং খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদিও এই আইনি পদক্ষেপের মুখে পড়েছেন।

সরকারের এমন কঠোর অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করে পিটিআই নেতৃত্ব জানিয়েছে, ইমরান খানের কারাবাসের পরিস্থিতির উন্নতি এবং তার মামলার ন্যায়সংগত শুনানি নিশ্চিত না করা পর্যন্ত তারা আন্দোলন থামাবে না। মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি অভিযোগ করেছেন যে সরকার আতঙ্কিত হয়ে রাজধানী অবরুদ্ধ করেছে এবং তাদের মন্ত্রীদের জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাচ্ছে। তবে দলটির পক্ষ থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে বিপুল পরিমাণ নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমর্থকদের সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে ফয়সাল করিম কুন্দি দাবি করেছেন যে পিটিআইয়ের এই মার্চ দেশে সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা তৈরির পাঁয়তারা ছাড়া আর কিছু নয়।

এই ব্যাপক লকডাউন ও নিরাপত্তার কড়াকড়ির কারণে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন ইসলামাবাদের সাধারণ বাসিন্দারা। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় এবং প্রধান সড়কগুলো বন্ধ থাকায় জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করছেন, দেশের চলমান অর্থনৈতিক সংকট ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ জমে আছে, তা এই আন্দোলনের ফলে বড় কোনো বিস্ফোরণে রূপ নিতে পারে। নানা দমন-পীড়ন সত্ত্বেও পাকিস্তানের রাজনীতিতে ইমরান খানের জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েনি এবং তার মুক্তির এই আন্দোলন দেশটির বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণকে পুরোপুরি বদলে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।