শেয়ার বাজার

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ

রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকায় জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের নিজস্ব স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে দশটার দিকে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে বলে জানা গেছে। স্টুডিওর মালিক ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, মোটা অঙ্কের চাঁদা দেওয়ার দাবি অস্বীকার করায় ক্ষিপ্ত হয়ে এই হামলা চালানো হয়। ঘটনার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে অনলাইন এবং সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের দাবি অনুযায়ী, বিএনপি পরিচয়ে একটি পক্ষ তার কাছে চাঁদা দাবি করেছিল। তিনি সেই অবৈধ চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় প্রতিশোধ হিসেবে তার কর্মস্থলে এই ভাঙচুর চালানো হয়। ঘটনার পরপরই মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন এই কনটেন্ট ক্রিয়েটর। ওই ভিডিওর শুরুতে তিনি বিষয়টি সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টিগোচর করার চেষ্টা করেন এবং সমগ্র ঘটনার বিবরণ দিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ উত্থাপন করেন।

স্টুডিওর দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তার বর্ণনা মতে, ঘটনার রাতে হঠাৎ করেই প্রায় একশ থেকে দেড় শ মানুষের একটি দল অতর্কিতভাবে কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করে। হামলাকারীদের অনেকের হাতেই ধারালো অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। প্রাণভয়ে আতঙ্কিত কর্মীরা যখন শৌচাগারে গিয়ে নিজেদের লুকিয়ে ফেলেন, তখন হামলাকারীরা সেখানেও প্রবেশ করে। অস্ত্র দেখিয়ে তাদের জিম্মি করে মোবাইল ফোন এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

পরে প্রকাশিত বিভিন্ন দৃশ্যে দেখা যায়, স্টুডিওর ভেতরে থাকা দামি ক্যামেরা, বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম এবং মূল্যবান আসবাবপত্র সম্পূর্ণ ভাঙচুর করা হয়েছে। কার্যালয় থেকে অনেক জিনিসপত্র লুটপাট করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এদিকে এই ঘটনার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্য কিছুটা ভিন্ন। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মূলত জায়গা দখলকে কেন্দ্র করে ইসিবি চত্বরের ওই কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

এ বিষয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন গণমাধ্যমকে জানান, জায়গা দখলের বিরোধকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় একটি অফিসে হামলার সংবাদ পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে একটি ছোরাসহ দুজনকে আটক করা হয়েছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পক্ষের পক্ষ থেকে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সড়কে রহস্যময় ঘটনা, ‘ভূত-জ্বীন’ থেকে বাঁচতে মিলাদ মাহফিল

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সড়কে রহস্যময় ঘটনা, ‘ভূত-জ্বীন’ থেকে বাঁচতে মিলাদ মাহফিল

পাবনার চাটমোহর উপজেলার কাটেঙ্গা ভাঙ্গা মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় সম্প্রতি বেশ কিছু অদ্ভুত ও রহস্যজনক ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গত কিছুদিন ধরে ওই তিন মাথার মোড়ে রাতেরবেলা নানা ধরনের অস্বাভাবিক দৃশ্য চোখে পড়ছে। কখনো সাপ বা বিড়াল আকস্মিক সামনে চলে আসার পর মুহূর্তে তা মিলিয়ে যাচ্ছে, আবার কখনো অদ্ভুত কোনো শব্দ শোনা যাচ্ছে। এমন সব আকস্মিক ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা গুঞ্জন শুরু হয়।

এই রহস্যের সূত্রপাত হয় যখন রাতে এক ব্যক্তিকে রাতের অন্ধকারে কোনো অজানা বস্তু পাশের একটি পুকুরে ফেলে দেয়। ওই ব্যক্তির আর্তচিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে পুকুরের পানি থেকে জীবিত উদ্ধার করেন। এরপর থেকেই মূলত এলাকাবাসীর মনে ভূতুড়ে বা জ্বীনের আছর থাকার বিশ্বাস জোরালো হয়। সাধারণ মানুষের চলাচলও ওই সড়কে রাতেরবেলা কমে যায়, কারণ অজানা এই আতঙ্কে অনেকেই ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছিলেন।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এবং গ্রামবাসীর ভয় দূর করতে শেষ পর্যন্ত উদ্যোগী হন স্থানীয় মুরব্বিরা। এলাকার মানুষের কাছ থেকে চাল ও ডাল সংগ্রহ করে শনিবার রাতে একটি বিশেষ মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। সেখানে প্রায় ছয়শতাধিক নারী, পুরুষ ও শিশু স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। মাহফিল শেষে উপস্থিত সকলের মাঝে খিচুড়ি তবারক বিতরণ করা হয় এবং সবাই নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যান।

স্থানীয় বাসিন্দা ইসমাইল জানান, ভূত বা এ জাতীয় অবাস্তব কিছুতে বিশ্বাস না থাকলেও জ্বীনের অস্তিত্ব থাকতে পারে বলে তারা মনে করেন। তাই ইসলামী শরিয়তের বিধান অনুযায়ী মিলাদ ও দোয়া মাহফিল করে আল্লাহর দরবারে এই বিপদ থেকে মুক্তির আকুতি জানানো হয়েছে। এদিকে স্থানীয়দের এই কর্মকাণ্ড নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই হাস্যরস ও ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও তৈরি করায় বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নতুন করে আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে ইসলামী চিন্তাবিদ মুফতি মোহাম্মদ মফিজ উদ্দিন স্পষ্ট করে জানান যে, সমাজে প্রচলিত ভূতের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। তবে পবিত্র কোরআনের আলোকে বদজ্বীনের প্রভাব বা আছর থাকার বিষয়টি অস্বীকার করা যায় না। তিনি উল্লেখ করেন যে, এ ধরনের অদৃশ্য ভয় বা বদজ্বীন থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য পবিত্র কোরআনে সুনির্দিষ্ট দোয়া ও সুরক্ষার বিধান রয়েছে যা পাঠ করলে মানুষ নিরাপদ থাকতে পারে।


যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের ভাবমূর্তি ‘নজিরবিহীন তলানিতে’ নামিয়েছেন নেতানিয়াহু

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের ভাবমূর্তি ‘নজিরবিহীন তলানিতে’ নামিয়েছেন নেতানিয়াহু

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কর্মকাণ্ডের ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দেশটির অবস্থান ও কৌশলগত ভাবমূর্তি রেকর্ড পরিমাণে নিচে নেমে গেছে। দেশটির প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম হারেৎজ প্রকাশিত এক সম্পাদকীয়তে এমন মন্তব্য করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে দুই দেশের সম্পর্কে সম্ভাব্য সংকট নিয়ে যেসব সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল, নেতানিয়াহু তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। মার্কিন রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা দ্বিপক্ষীয় ঐকমত্য ক্ষুণ্ণ করার ক্ষেত্রেও বর্তমান ইসরাইলি সরকারের ভূমিকা রয়েছে বলে পত্রিকাটি মনে করে।

সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, মার্কিন রাজনীতিতে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রিপাবলিকান পার্টির পক্ষে নেতানিয়াহুর অতিমাত্রায় ও প্রকাশ্য পক্ষপাতিত্ব ডেমোক্র্যাট শিবিরের কাছে ইসরাইলকে কোণঠাসা করে তুলেছে। তবে এই অবনতি কেবল ডেমোক্র্যাটদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি বলে জানিয়েছে হারেৎজ। বিগত দুই বছরে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ছাড়াও ইতামার বেন-গভির ও বেজালেল স্মোটরিচের নেতৃত্বাধীন সরকারের নীতিগুলো রিপাবলিকান মহলের মধ্যেও ইসরাইল সম্পর্কে বিরূপ ধারণার জন্ম দিয়েছে।

বর্তমান ইসরাইলি প্রশাসনের বেশ কিছু বিতর্কিত নীতি ও পদক্ষেপ দুই দেশের সম্পর্কে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এর মধ্যে রয়েছে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে উগ্র বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বৃদ্ধি এবং গাজা, পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে বসবাসকারী খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ওপর বিভিন্ন ধরনের হামলা। এছাড়া সম্প্রতি ইরান সংঘাতের জেরে জ্বালানি মূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সৃষ্ট ভূরাজনৈতিক চাপ ইসরাইলের ঐতিহ্যগত মিত্রদেরও নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। এমনকি ইসরাইলের সবচেয়ে কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিরাও এখন দেশটির নজিরবিহীন সমালোচনা করতে শুরু করেছেন।

মার্কিন জনমত জরিপের সাম্প্রতিক তথ্য তুলে ধরে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মাঝে ইসরাইলবিরোধী মনোভাব তীব্র আকার ধারণ করেছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে নেতানিয়াহুর কোনো ধরনের জোরালো বা আড়ম্বরপূর্ণ বক্তব্য এই রূঢ় ও কঠিন বাস্তবতাকে ঢাকতে পারবে না। মার্কিন জনগণের দৃষ্টিভঙ্গিতে ইসরাইলের মর্যাদা কতটা নিচে নেমে গেছে এবং এর সুদূরপ্রসারী পরিণতি ভবিষ্যতে দুই দেশের মিত্রতায় কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, তা প্রতিটি ইসরাইলি নাগরিকের উপলব্ধি করা প্রয়োজন বলে সম্পাদকীয়তে সতর্ক করা হয়েছে।


সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলতে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলতে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের প্রস্তাব

যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়ায় কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছিল তেহরান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ওই সামরিক অভিযানের পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ওপর। এর জবাবে ইসরায়েল ছাড়াও উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং যুক্তরাষ্ট্রের আরব মিত্রদের লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণ চালায় ইরান।

এই সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটায় সংকট নিরসনের নানা কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়। এই প্রেক্ষাপটেই বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ খুঁজতে মার্কিন প্রশাসনের কাছে একটি নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। তাদের এই পদক্ষেপে আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে কিছুটা নমনীয়তার আভাস মিলছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষকরা।

প্রস্তাব অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ সাপেক্ষে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে হরমুজ প্রণালির নৌপথ পুনরায় উন্মুক্ত করতে রাজি রয়েছে ইরান। বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং চলমান সামরিক সংঘাতের মাত্রা কমাতে এই জলপথ সচল হওয়া অত্যন্ত জরুরি। তবে ওয়াশিংটন এই প্রস্তাবে কীভাবে সাড়া দেবে এবং তাদের পক্ষ থেকে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া আসবে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা দীর্ঘমেয়াদে কোনো পক্ষের জন্যই কল্যাণকর নয়। ফলে যুক্তরাষ্ট্র যদি এই সংকট সমাধানে ইরানি প্রস্তাবের ইতিবাচক মূল্যায়ন করে, তবে চলমান উত্তেজনার পারদ কিছুটা নামতে পারে। তবে এই সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে কী ধরনের পরিবর্তন আসবে, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বিশ্ব সম্প্রদায়।