শেয়ার বাজার

পঞ্চম দিনেও অচল চুয়েট, নতুন ভিসিকে শিক্ষার্থীদের লাল কার্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পঞ্চম দিনেও অচল চুয়েট, নতুন ভিসিকে শিক্ষার্থীদের লাল কার্ড

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগের প্রতিবাদে চলমান ছাত্র-শিক্ষক আন্দোলন পাঁচ দিন ধরে অব্যাহত রয়েছে। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে স্বপদে বহাল রাখার দাবিতে ক্যাম্পাসে সব ধরনের ক্লাস এবং পরীক্ষা বর্জন করা হয়েছে। এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে অচলাবস্থা বিরাজ করছে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।

আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ক্যাম্পাসে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয় এবং সেখানে নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। শিক্ষার্থীরা লাল কার্ড প্রদর্শন করে নতুন এই নিয়োগকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেন। সাধারণ শিক্ষার্থীদের এই যৌক্তিক দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও পূর্ণ কর্মবিরতি পালন শুরু করেছেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নতুন উপাচার্য তাদের এই স্বতঃস্ফূর্ত গণআন্দোলনকে খাটো করে দেখছেন এবং একে মাত্র গুটিকয়েক শিক্ষার্থীর আন্দোলন বলে মন্তব্য করেছেন। তার এই বক্তব্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের চরমভাবে ক্ষুব্ধ করেছে এবং অনলাইনে তার যোগদান করার প্রক্রিয়াটিও তারা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছেন। আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা কোনোভাবেই নতুন উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে মেনে নেবেন না।

উল্লেখ্য, এর আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে পূর্বের উপাচার্যকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর থেকেই ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে এবং শিক্ষার্থীরা শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নতুন উপাচার্য জানিয়েছেন যে তিনি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং দ্রুত পরিবেশ শান্ত করে স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরতে চান।

‘ওজন কমালে তোমার সঙ্গে কাজ করব’

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

‘ওজন কমালে তোমার সঙ্গে কাজ করব’

বলিউড ইন্ডাষ্ট্রিতে কাজ পাওয়া এবং নিজের জায়গা পাকাপোক্ত করা সবসময়ই বেশ কঠিন একটি লড়াই। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই অতীতের সংগ্রামময় দিনগুলোর কথা স্মরণ করেছেন জনপ্রিয় এক অভিনেত্রী। কেরিয়ারের শুরুর দিকে কীভাবে তাকে নানা শর্তের মুখোমুখি হতে হয়েছিল, সেই অভিজ্ঞতাই তিনি ভাগ করে নিয়েছেন ভক্তদের সঙ্গে।

পরিচালক ও কোরিওগ্রাফার ফারাহ খানের জনপ্রিয় ইউটিউব শোতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান ওই অভিনেত্রী। তিনি জানান যে, সে সময় ইন্ডাস্ট্রির এক প্রভাবশালী ব্যক্তি সরাসরি তার ওজনের সমালোচনা করেছিলেন। তাকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে, ওজন না কমালে কেউ তার সঙ্গে কাজ করতে রাজি হবে না।

এমন অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্য শোনার পর স্বাভাবিকভাবেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। তরুণ বয়সে এ ধরনের শরীর নিয়ে কটূক্তি তাকে গভীরভাবে আঘাত করেছিল। তবে দমে না গিয়ে তিনি সেই চ্যালেঞ্জকে নিজের মতো করে মোকাবিলা করার সিদ্ধান্ত নেন এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেকে প্রস্তুত করতে শুরু করেন।

চলচ্চিত্র জগতে নিজের বহুমুখী অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি পরবর্তী সময়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। অতীত জীবনের সেই কঠিন লড়াই ও অপমানজনক অভিজ্ঞতার কথা আজ তিনি প্রকাশ করেছেন এক অন্যরকম আত্মবিশ্বাস থেকে। তার এই খোলামেলা স্বীকারোক্তি ইন্ডাস্ট্রির সৌন্দর্য প্রথার বিরুদ্ধে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


ম্যানচেস্টার সিটি ১১৫টি অভিযোগের 'অনেকগুলোতেই দোষী সাব্যস্ত'

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ম্যানচেস্টার সিটি ১১৫টি অভিযোগের 'অনেকগুলোতেই দোষী সাব্যস্ত'

যুক্তরাজ্যের শীর্ষস্থানীয় ফুটবল ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে আনীত আর্থিক বিধি লঙ্ঘনের দীর্ঘমেয়াদী অভিযোগের তদন্তে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে। ক্লাবটির বিরুদ্ধে আনা মোট ১১৫টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের একটি বড় অংশ প্রমাণিত হয়েছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। বিবিসি স্পোর্টের কাছে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র।

দীর্ঘদিন ধরে প্রিমিয়ার লিগের এই ক্লাবটির আর্থিক লেনদেন এবং স্বচ্ছতা নিয়ে নানা গুঞ্জন ও তদন্ত চলছিল। অবশেষে সেই তদন্তের প্রাথমিক ফলাফলে ক্লাবটি একাধিক গুরুতর অনিয়মে জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। এই রায়ের ফলে বিশ্বফুটবলের অন্যতম প্রভাবশালী এই ক্লাবের সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের নিয়ম অনুযায়ী ক্লাবগুলোকে কঠোর আর্থিক শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে চলতে হয়, যা এফএফপি বা ফাইন্যান্সিয়াল ফেয়ার প্লে নামে পরিচিত। ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে এই বিধিমালা বারবার লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছিল। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া এবং তথ্য বিশ্লেষণের পর কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে ক্লাবটি নিয়ম ভেঙে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছে।

এই রায়ের পর ম্যানচেস্টার সিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে ফুটবল বিশ্বে গভীর শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে। প্রমাণিত অভিযোগগুলোর কারণে ক্লাবটির বিরুদ্ধে পয়েন্ট কাটা থেকে শুরু করে বড় ধরনের আর্থিক জরিমানা কিংবা টুর্নামেন্ট থেকে নিষিদ্ধ করার মতো কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। আগামী দিনে এই পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেয় ক্লাব কর্তৃপক্ষ, সেদিকেই এখন সবার নজর রয়েছে।


তারেক রহমান-নেতানিয়াহুর করমর্দনের ছবিটি এআই নির্মিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

তারেক রহমান-নেতানিয়াহুর করমর্দনের ছবিটি এআই নির্মিত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি একটি ছবি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে যেখানে দাবি করা হয় যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর করমর্দন হয়েছে। 'Tarek Hasan Biplob' নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ছবিটি শেয়ার করে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক মন্তব্য জুড়ে দেওয়া হয়। ওই পোস্টে দাবি করা হয় যে, সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কের মতো মুসলিমপ্রধান দেশগুলো ইসরায়েলকে গোপনে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং বাংলাদেশকেই আমেরিকা দিয়ে এই আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ানো হচ্ছে। একই সঙ্গে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে গিয়ে নেতানিয়াহুর সঙ্গে হাত মেলানোর অভিযোগে তারেক রহমানের তীব্র সমালোচনা করা হয়।

তবে এই দাবির সত্যতা যাচাই করতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কোনো গণমাধ্যমের শরণাপন্ন হয়ে এ ধরনের কোনো বৈঠকের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। অনুসন্ধানে দেখা যায়, নির্ভরযোগ্য কোনো সংবাদমাধ্যমে বাংলাদেশ বা এর সরকারপ্রধানের সঙ্গে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের কোনো তথ্য প্রকাশিত হয়নি। পরবর্তীতে ছবিটি নিয়ে গভীর তদন্ত করলে মূলধারার সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত অন্য একটি ছবির সঙ্গে এর দৃশ্যগত মিল খুঁজে পাওয়া যায়। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফের একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

জাতিসংঘের সদর দপ্তরের সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিংয়ে ওই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় এবং এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য ও ছবি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজেও প্রকাশ করা হয়েছিল। মূলত সেই বৈঠকটির আসল ছবিটিকে বিকৃত করেই বর্তমানের আলোচিত ছবিটি তৈরি করা হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের ওই দৃশ্যটিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সহায়তায় পরিবর্তন করে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর মুখাবয়ব বসিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়।

ছড়িয়ে পড়া ছবিটির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য জনপ্রিয় এআই কনটেন্ট শনাক্তকারী টুল 'হাইভ মডারেশন'-এর সহায়তা নেওয়া হয়। টুলটির বিস্তারিত বিশ্লেষণে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ওই ছবিটি ডিজিটাল কারসাজির মাধ্যমে তৈরি এবং এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা নির্মিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ। সব মিলিয়ে প্রমাণিত হয় যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর করমর্দনের দাবিটি সম্পূর্ণ ভুয়া এবং এটি মূলত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের আসল ছবিকে সম্পাদনা করে ছড়ানো হয়েছে।