শেয়ার বাজার

‘পাশের জমির মালিকের জমি নিয়ে বিরোধের জেরে’ সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, আটক ৩: পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘পাশের জমির মালিকের জমি নিয়ে বিরোধের জেরে’ সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, আটক ৩: পুলিশ

জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ইউটিউবার সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে অতর্কিত হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। নিউ গিনি প্রপার্টিজ লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পাশের এক জমির মালিকের দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এই সহিংসতার সূত্রপাত হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় স্টুডিওটির ভেতরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে আশেপাশের এলাকায়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিরোধপূর্ণ ওই জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে জটিলতা চলে আসছিল। ঘটনার দিন হঠাৎ করেই একদল লোক স্টুডিও চত্বরে চড়াও হয় এবং জোরপূর্বক ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। বাধা দিতে গেলে হামলাকারীরা স্টুডিওর বিভিন্ন আসবাবপত্র ও মূল্যবান যন্ত্রাংশ ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

খবর পেয়ে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশের তেজগাঁও অঞ্চলের সহকারী কমিশনার নাজমুল আলম সংবাদমাধ্যমকে জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরেই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।

এই আকস্মিক হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সালমান মুক্তাদিরসহ সংশ্লিষ্টরা। আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা। বর্তমানে ওই এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি শান্ত রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বেইলি রোডে আগুনের ঘটনায় শোক জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে মোদীর চিঠি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০২ মার্চ, ২০২৪

বেইলি রোডে আগুনের ঘটনায় শোক জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে মোদীর চিঠি

রাজধানীর বেইলি রোডে গ্রিন কোজি কটেজ ভবনে অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

শনিবার (২ মার্চ) ঢাকায় ভারতের হাইকমিশন এ তথ্য জানিয়েছে। এর আগে গতকাল শুক্রবার শোক জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিঠি পাঠান ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

চিঠিতে ২৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকার গ্রিন কোজি কটেজ ভবনে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনায় আন্তরিক শোক প্রকাশ করেছেন নরেন্দ্র মোদী। একই সঙ্গে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন তিনি।

নরেন্দ্র মোদী বলেন, এই দুঃসময়ে বাংলাদেশের পাশে রয়েছে ভারত। একই সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ চিন্তাভাবনা ও প্রার্থনা বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে থাকবে।


টঙ্গীতে কাভার্ড ভ্যানের চাপায় মা-ছেলের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

টঙ্গীতে কাভার্ড ভ্যানের চাপায় মা-ছেলের মৃত্যু

গাজীপুরের টঙ্গীতে দ্রুতগতির একটি কাভার্ড ভ্যানের চাপায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মা ও ছেলে নিহত হয়েছেন। সম্প্রতি ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী বিআরটি উড়ালসড়কের স্টেশন রোড এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। আকস্মিক এই প্রাণহানিতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনতা ঘাতক কাভার্ডভ্যানসহ এর চালককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে। পুলিশ গাড়িটি জব্দ করে চালককে হেফাজতে নিয়েছে।

নিহতরা হলেন ৪৫ বছর বয়সী আয়েশা খাতুন এবং তাঁর ২২ বছরের তরুণ ছেলে ইয়াছিন। তাঁদের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থানার বাদাম মাছিয়া গ্রামে এবং তাঁরা মো. চান মিয়ার স্ত্রী ও সন্তান। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহতরা গ্রামের বাড়িতে একটি পারিবারিক বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ করে আলম এশিয়া পরিবহনের একটি বাসে চড়ে টঙ্গীর নিমতলী এলাকার ভাড়া বাসায় ফিরছিলেন। বাস থেকে নেমে তাঁরা স্টেশন রোড এলাকায় উড়ালসড়কের পাশে ফুটপাতে অবস্থান করছিলেন।

ঠিক সেই মুহূর্তে গাজীপুর থেকে ঢাকাগামী একটি বেপরোয়া গতির কাভার্ডভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীদের ওপর তুলে দেয়। এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় আয়েশা খাতুন, ইয়াছিনসহ মোট তিনজন গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন ও পথচারীরা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে তাঁদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।

হাসপাতালে পৌঁছানোর পর জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মা আয়েশা খাতুন ও ছেলে ইয়াছিনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই দুর্ঘটনায় আহত অপর একজন নারী বর্তমানে ওই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাঁর চিকিৎসা চলছে। টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাকছুদুল আলম জানিয়েছেন যে পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করেছে এবং এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


ধর্ষণকাণ্ড: জাবিতে দ্বিতীয় দিনের মত প্রশাসনিক ভবন অবরোধ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

ধর্ষণকাণ্ড: জাবিতে দ্বিতীয় দিনের মত প্রশাসনিক ভবন অবরোধ

বার্তাবেলা ডেস্ক: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্ষক ও তার সহযোগীদের সর্বোচ্চ সাজাসহ পাঁচ দফা দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মত নতুন প্রশাসনিক ভবন ‘প্রতীকী অবরোধ’ করেছেন আন্দোলনকারীরা। 

মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম ‘নিপীড়নবিরোধী মঞ্চের’ ব্যানারে দুই ঘণ্টা ধরে এ অবরোধ করা হয়। পরে বেলা ১১টায় এই অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। 

অবরোধ চলাকালে প্রশাসনিক ভবনে কোনো কর্মকর্তাদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নূরুল আলমকেও দেখা যায়নি। 

এর আগে সোমবার সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত নতুন প্রশাসনিক ভবনে প্রতীকী অবরোধ করেছিল ‘নিপীড়নবিরোধী মঞ্চ'। 

‘নিপীড়নবিরোধী মঞ্চের’ পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- ধর্ষক ও তার সহায়তাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা; মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের হল থেকে বের করে গণরুম বিলুপ্তপূর্বক নিয়মিত শিক্ষার্থীদের আবাসন নিশ্চিত ও র‌্যাগিং সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনা; নিপীড়ক শিক্ষক মাহমুদুর রহমান জনির বিচার নিষ্পত্তি করাসহ ক্যাম্পাসে বিভিন্ন সময়ে নানাবিধ অপরাধে অভিযুক্তদের বিচারের আওতায় আনা; নিপীড়কদের সহায়তাকারী প্রক্টর ও মীর মশাররফ হোসেন হলের প্রাধ্যক্ষের অপরাধ তদন্ত ও সুষ্ঠু হওয়ার স্বার্থে তদন্ত চলাকালে তাদের প্রশাসনিক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া; মাদকের সিন্ডিকেট চিহ্নিত করে জড়িতদের ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক শামছুল আলম বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়কে মাদকমুক্ত করতে হবে, অছাত্রদের সরিয়ে দিতে হবে। প্রশাসন আমাদেরকে বলেছিল, পাঁচ কর্মদিবসে অছাত্রদের বের করে দিবে। কিন্তু তারা সেটা পারেনি। প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে ঢাকায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছে।“ 

তিনি বলেন, “সোমবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে প্রশাসন দেখা করেছে। এখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কী করবেন? তার কাছে গিয়েছিলেন নিশ্চয় ক্যাম্পাসে পুলিশের সহায়তা নিয়ে তল্লাশি করার জন্য। কিন্তু পুলিশ এখানে কী সহায়তা করবে, তারা কি বহিরাগত অছাত্রদের চেনে? এখানে হল প্রশাসন যদি কাজ করে তাহলে কিন্তু সমাধান হয়। কিন্তু তারা কেউ কাজ করছেন না।”

গত ১৫ বছরে প্রতিটা হল টর্চার সেলে পরিণত হয়েছে; রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে যে বিচারহীনতা চলছে তার প্রভাব এখানে পড়েছে বলে জানান এই অধ্যাপক।  

বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সমিতির সহসভাপতি ও প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সোহেল আহমেদ বলেন, “এক পৈশাচিক ঘটনা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকগুলো ব্যাধিকে জাতির সামনে তুলে ধরেছে। এই সংক্রামক ব্যাধিগুলো দূর করা যাবে না এটা এমনও না। এটা অবশ্যই দূর করার মত। কিন্তু এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকে যে দায়িত্বশীল হতে হবে। সেই দায়িত্ব আমরা দেখিনি। 

“বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবারকে যে ঘটনাগুলো কলুষিত করেছে, কলঙ্কিত করেছে, সম্মান ক্ষুণ্ন করেছে সেই সম্মান উদ্ধারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কোনো তৎপরতা আমরা দেখতে পাচ্ছি না।" 

তিনি বলেন, “এই বিশ্ববিদ্যালয়ে মাদক কীভাবে ছড়িয়ে গেছে, মাদক ব্যবসা, চোরা চালান, মাদক সেবন সামনে এসেছে। র‍্যাবের ব্রিফিং থেকে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে দিনের পর দিন যে পাশবিক ঘটনাগুলো ঘটছিল তা এই অছাত্ররা করছিল। এই প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে তারা দায় এড়াতে পারে না। শুধু এই প্রশাসন তা উপলব্ধি করতে পারছে না।" 

অবরোধ চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী কনোজ কান্তি রায় বলেন, "এই ক্যাম্পাসে একজন বৈধ শিক্ষার্থী থাকার জায়গা ও লেখাপড়ার জন্য চেয়ার-টেবিল পায় না। অন্যদিকে কিছু অবৈধ শিক্ষার্থী ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের ছত্রছায়ায় থেকে তাদের সঙ্গে লেজুড়বৃত্তি করে হলগুলোতে থাকছে।যার ফলে বৈধ শিক্ষার্থীরা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

“গণরুমে ওঠার পরে যারা ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে জড়িত হয় তাদেরকে আগে সিট দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার একটা প্রবণতা তৈরি হয়। আর গণরুম ও গেস্টরুমের কালচার এবং র‍্যাগিং শিক্ষার্থীদের মস্তিষ্ককে বিকৃত করে তোলে।” 

এ সময় সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জামাল উদ্দিন, ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক মাফরুহি সাত্তার ও সোহেল রানা, ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক পারভীন জলী, সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আমেনা ইসলাম, প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক বোরহান উদ্দিন, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক নূরুল ইসলাম।