শেয়ার বাজার

নড়াইলে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় কৃষককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নড়াইলে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় কৃষককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ

নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় মাদক সেবনের প্রতিবাদ করায় মানসুর মোল্যা নামের এক কৃষককে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। কদমতলা গ্রামে রাতের বেলা ঘটে যাওয়া এই সহিংস ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত মানসুর মোল্যা ওই গ্রামের হাবি মোল্যার ছেলে এবং তিনি পেশায় একজন কৃষক ছিলেন। এই হামলায় নূর ইসলাম নামের আরও একজন ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন, যিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে জানা যায়, এলাকার একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর সঙ্গে মাদক সেবন নিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য কাসেদ মোল্যার বিরোধ চলছিল। এর আগে পেড়লী ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার কাসেদ মোল্যার সঙ্গে হাসিব মোল্যার মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে বাগ্‌বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছিল। অভিযুক্ত হাসিব দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় বিভিন্ন ধরনের মাদকাসক্ত কার্যকলাপে লিপ্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পূর্বের ওই বিরোধ এবং হাতাহাতির জেরে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডে পুরো এলাকাবাসী আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

ঘটনার রাতে কদমতলা ত্রি-মোহনার মোড়ে অভিযুক্ত হাসিবকে দেখতে পেয়ে মানসুর মোল্যা ও নূর ইসলাম আগের দিনের মারধরের কারণ জানতে চান। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে হাসিব ক্ষিপ্ত হয়ে তার কাছে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের উভয়ের ওপর হামলা চালান। তিনি অত্যন্ত নির্মমভাবে তাদের এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলেও পথেই মানসুরের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য কাসেদ মোল্যা গণমাধ্যমকে জানান, অভিযুক্ত হাসিব একজন বেপরোয়া মাদকসেবী এবং তাকে নিষেধ করার কারণেই সে অতীতে তাকেও লাঞ্ছিত করেছিল। সেই ঘটনার প্রতিবাদ করতে গিয়েই আজ নিরীহ কৃষক মানসুরকে নিজের জীবন হারাতে হলো। নিহতের স্বজনরা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইদ্রিস আলী জানান, খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত হাসিবকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের জোরালো অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

শাসন করে চড় মেরেছিলেন ছেলেকে, ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল বাবার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

শাসন করে চড় মেরেছিলেন ছেলেকে, ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল বাবার

পরিবারের একটি ছোট বিষয় নিয়ে তৈরি হওয়া কথাকাটাকাটি শেষ পর্যন্ত মর্মান্তিক হত্যাকাૂণ্ডে রূপ নিয়েছে। সম্প্রতি একটি অনভিপ্রেত পারিবারিক ঝামেলার জেরে ছেলের আক্রোশের শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন এক বাবা। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই বিরোধ মুহূর্তের মধ্যে এমন এক হিংসাত্মক রূপ নেয়, যা পুরো এলাকাকুব্ধ করেছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনাটি ঘটেছে বাবা ও ছেলের মধ্যকার তাৎক্ষণিক উত্তেজনার জেরে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, মাহাবুর নামের এক ব্যক্তি তাঁর ছেলে হাসানুরকে নিজ শাশুড়িকে সঙ্গে নিয়ে একসঙ্গে খাবার খাওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু কোনো কারণে ছেলে সেই আহ্বানে রাজি হননি এবং বাবার কথা অমান্য করেন। এই অবাধ্যতায় ক্ষিপ্ত হয়ে বাবা মাহাবুর রাগের মাথায় ছেলেকে একটি চড় মেরে বসেন। সামান্য এই শাসন করার ঘটনাটিই সহ্য করতে পারেনি তরুণ হাসানুর এবং তার ভেতরে চরম ক্ষোভের জন্ম নেয়।

বাবার হাতের চড়ের প্রতিশোধ নিতে সঙ্গে সঙ্গেই চরম হিংস্র পথ বেছে নেয় ওই যুবক। ক্ষুব্ধ হয়ে হাসানুর ঘর থেকে একটি ধারালো ছুরি এনে সজোরে তাঁর বাবার বুকে আঘাত করেন। অতর্কিত এই প্রাণঘাতী আঘাতে মাহাবুর গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। পরিবারের অন্য সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি অনুধাবন করলেও ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে।

গুরুতর আহত অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তুচ্ছ একটি পারিবারিক বিষয়কে কেন্দ্র করে এমন একটি মর্মান্তিক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শোকে স্তব্ধ নিহত ব্যক্তির পরিবার ও প্রতিবেশীরা। ঘটনার পর থেকেই আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।


১১৫ অভিযোগের ১১৪টিতেই দোষী ম্যানচেস্টার সিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

১১৫ অভিযোগের ১১৪টিতেই দোষী ম্যানচেস্টার সিটি

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেস্টার সিটি ক্লাবটির বিরুদ্ধে আনীত অসংখ্য আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের বড় একটি অংশে ফেঁসে গেছে। ক্লাবটির বিরুদ্ধে মোট ১১৫টি সুনির্দিষ্ট আর্থিক নিয়মভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছিল, যার মধ্যে ১১৪টি অভিযোগেই তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। এই রায়ের ফলে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সফল এই ক্লাবের সুনাম এবং ভবিষ্যৎ পরিচালনা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

তদন্ত কমিটি ও সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে এই চাঞ্চল্যকর রায় ঘোষণা করা হয়েছে। তবে ক্লাবটির বিরুদ্ধে এই বড় ধরণের দোষ প্রমাণিত হলেও এখনো তাদের চূড়ান্ত কোনো শাস্তি বা জরিমানা নির্ধারণ করা হয়নি। বর্তমানে শাস্তির মাত্রা নির্ধারণের আইনি প্রক্রিয়াটি চলমান রয়েছে এবং সব পক্ষের শুনানির পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে জানা গেছে।

এদিকে ক্লাবের কতৃপক্ষ এই রায়ের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে আপিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ম্যানচেস্টার সিটির আইনি দল রায়ের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে এবং উচ্চতর আদালতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে। যদি আপিল প্রক্রিয়ায় রায় বহাল থাকে, তবে ক্লাবটিকে পয়েন্ট কাটা থেকে শুরু করে বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানা কিংবা অন্যান্য কঠোর নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হতে হতে পারে।

ফুটবল বিশ্বে ক্লাবটির এই বিশাল পরিমাণ অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ঘটনাটি প্রচণ্ড আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক স্বচ্ছতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে এই রায়কে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগামী দিনে এই মামলার চূড়ান্ত পরিণতি কী হয় এবং এর ফলে ক্লাবটির ওপর কী ধরনের নিষেধাজ্ঞা আসে, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে পুরো ফুটবল বিশ্বের।


ফেরাটা সুখের হলো না মানচিনির, বেলজিয়ামের কাছে হার ইতালির

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ফেরাটা সুখের হলো না মানচিনির, বেলজিয়ামের কাছে হার ইতালির

ইতালির জাতীয় ফুটবল দলের ডাগআউটে রবার্তো মানচিনির প্রত্যাবর্তনটি একেবারেই সুখের হয়নি। উয়েফা নেশনস লিগে নিজেদের মাঠে বেলজিয়ামের বিপক্ষে দুই গোলের ব্যবধানে পরাজিত হয়ে নতুন অধ্যায় শুরু করেছে আজ্জুরিরা। মিকা গোডটস ও দোদি লুকেবাকিওর গোলের সুবাদে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে সফরকারী বেলজিয়াম। ২০২৩ সালে দায়িত্ব ছাড়ার পর মানচিনি পুনরায় কোচের দায়িত্ব গ্রহণ করলেও প্রথম ম্যাচেই বড় পরীক্ষার মুখে পড়তে হলো তাকে।

ম্যাচটিতে ইতালি দলকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ছাড়াই মাঠে নামতে হয়েছিল। নিষেধাজ্ঞা এবং ইনজুরির কারণে দলের মূল একাদশের বেশ কয়েকজন নিয়মিত ফুটবলার অনুপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে সুইজারল্যান্ডের পরিবর্তে ইতালির হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া আলেসান্দ্রো রোমানোর এই ম্যাচে অভিষেক ঘটে। অন্যদিকে, বেলজিয়াম দলেও নতুন কোচ মার্ক ফন বোমেলের অধীনে কয়েকজন তারকা খেলোয়াড় ইনজুরির কারণে অনুপস্থিত ছিলেন।

খেলার শুরু থেকেই উভয় দল আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার চেষ্টা চালায়। ম্যাচের প্রথম ভাগে গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মার নৈপুণ্যে বেশ কয়েকবার বিপদ থেকে রক্ষা পায় ইতালি। তবে ম্যাচের একটি পর্যায়ে রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে ডে ব্রুইনার পাস থেকে বল পেয়ে মিকা গোডটস বেলজিয়ামকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। গোল হজম করার পর ইতালি সমতা ফেরানোর জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে এবং বেশ কয়েকটি আক্রমণ চালায়।

দ্বিতীয় অর্ধে খেলায় ফেরার সুযোগ পেলেও ইতালীয় ফরোয়ার্ডরা তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন। উলটো ম্যাচের নির্ধারিত সময়ের শেষের দিকে দোদি লুকেবাকিও দূরপাল্লার এক চমৎকার শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর বদলি খেলোয়াড়রা মাঠে নামলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের পক্ষে আনতে পারেনি স্বাগতিকরা। শেষ মুহূর্তে ইতালির খেলোয়াড়দের কয়েকটি প্রচেষ্টা ক্রসবারে লেগে ফিরে আসলে গোলশূন্য থেকেই মাঠ ছাড়তে হয় তাদের।

ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার পরেও দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা বজায় থাকে। ইতালীয় গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা এবং রোমেলু লুকাকুর মধ্যে কথা কাটাকাটি ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। রেফারি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উভয়কেই হলুদ কার্ড প্রদর্শন করেন। এই হারের ফলে নেশনস লিগের গ্রুপ পর্বে মানচিনির দল শুরুতেই বেশ কঠিন পরিস্থিতিতে পড়ে গেল।