শেয়ার বাজার

নিরাপত্তা জোরদারে সামরিক সরঞ্জাম নিরাপদ স্থানে সরিয়েছে ইরান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিরাপত্তা জোরদারে সামরিক সরঞ্জাম নিরাপদ স্থানে সরিয়েছে ইরান

দেশের সামরিক সক্ষমতা এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা সরঞ্জামগুলোর সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি বড় পদক্ষেপ নিয়েছে তেহরান। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল এই সরঞ্জামগুলোর একটি বড় অংশ দেশটির সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলোতে স্থানান্তর করা হয়েছে। ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজা তালাই-নিক সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে যেকোনো সম্ভাব্য বাহ্যিক হুমকি থেকে সুরক্ষিত রাখতে এই কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালির ভূরাজনীতিতে তেহরানের কৌশলগত অবস্থান এবং বিশাল জ্বালানি সম্পদের ভাণ্ডারের কারণে অতীতেও দেশটি বিভিন্ন ধরনের আগ্রাসনের শিকার হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং নৌবাহিনীর শক্তি ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা চালানো হয়েছিল। তবে প্রতিপক্ষ এই আক্রমণগুলো চালালেও তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য পুরোপুরি অর্জন করতে পারেনি বলে দৃঢ় দাবি করেছেন ইরানি এই সামরিক কর্মকর্তা।

সামরিক শক্তি ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সুরক্ষিত রাখার অংশ হিসেবে গত কয়েক বছর ধরেই সুপরিকল্পিতভাবে এই ভূগর্ভস্থ অবকাঠামো নির্মাণের কাজ চালিয়েছে তেহরান। দেশের কৌশলগত প্রতিরক্ষা শক্তির একটি বড় অংশকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ফলে প্রতিপক্ষের সামরিক পরিকল্পনা বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। বিশেষ করে ইরানের অস্ত্র উৎপাদন এবং সামগ্রিক সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করার যে গোপন পরিকল্পনা শত্রুদেশগুলোর ছিল, তা এই পদক্ষেপে নস্যাৎ হয়ে গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নিজেদের নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শানিত করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য আগ্রাসন দৃঢ়ভাবে মোকাবিলা করতে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজা তালাই-নিক। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তেহরান তাদের সামরিক নীতিতে এ ধরনের পরিবর্তন ও আধুনিকায়ন অব্যাহত রাখবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বাগেরহাটে পলিথিনে মোড়ানো শিশুর গলাকাটা মরদেহ, গ্রেপ্তার ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বাগেরহাটে পলিথিনে মোড়ানো শিশুর গলাকাটা মরদেহ, গ্রেপ্তার ৩

বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলায় সাত বছরের এক শিশুকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার কোদালিয়া ইউনিয়নের কচুড়িয়া মধ্যপাড়া এলাকায় একটি মাছের ঘেরের পাড় থেকে ওই শিশুর পলিথিনে মোড়ানো গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত শিশুর নাম মুসলিমা, সে স্থানীয় বাসিন্দা ইসলাম শেখের মেয়ে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় সূত্র ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন বিকেলে বাড়ির আশপাশে সমবয়সী শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলা করছিল শিশু মুসলিমা। হঠাৎ করেই সে নিখোঁজ হয়ে গেলে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে তাকে খুঁজতে শুরু করেন। দীর্ঘ সময় ধরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে সন্ধ্যার পর স্থানীয় একটি মাছের ঘেরের পাড়ে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় শিশুটির মরদেহ দেখতে পান স্বজনেরা। পরে কাছে গিয়ে তার গলাকাটা মরদেহ শনাক্ত করা হয় যা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

প্রিয় সন্তানের এমন করুণ মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয় জনতা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁরা হত্যাকারী সন্দেহে স্থানীয় কয়েকটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেন বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছায়। পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেন এবং আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠান।

এই ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা ইসলাম শেখ বাদী হয়ে মোল্লাহাট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযানে নামে এবং এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর এবং তার দুই ছেলে রমজান ও আব্দুর রহমান। পুলিশ জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য এবং কারণ উদঘাটনের জন্য নিবিড় তদন্ত চলছে এবং এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।


ফেরাটা সুখের হলো না মানচিনির, বেলজিয়ামের কাছে হার ইতালির

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ফেরাটা সুখের হলো না মানচিনির, বেলজিয়ামের কাছে হার ইতালির

ইতালির জাতীয় ফুটবল দলের ডাগআউটে রবার্তো মানচিনির প্রত্যাবর্তনটি একেবারেই সুখের হয়নি। উয়েফা নেশনস লিগে নিজেদের মাঠে বেলজিয়ামের বিপক্ষে দুই গোলের ব্যবধানে পরাজিত হয়ে নতুন অধ্যায় শুরু করেছে আজ্জুরিরা। মিকা গোডটস ও দোদি লুকেবাকিওর গোলের সুবাদে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে সফরকারী বেলজিয়াম। ২০২৩ সালে দায়িত্ব ছাড়ার পর মানচিনি পুনরায় কোচের দায়িত্ব গ্রহণ করলেও প্রথম ম্যাচেই বড় পরীক্ষার মুখে পড়তে হলো তাকে।

ম্যাচটিতে ইতালি দলকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ছাড়াই মাঠে নামতে হয়েছিল। নিষেধাজ্ঞা এবং ইনজুরির কারণে দলের মূল একাদশের বেশ কয়েকজন নিয়মিত ফুটবলার অনুপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে সুইজারল্যান্ডের পরিবর্তে ইতালির হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া আলেসান্দ্রো রোমানোর এই ম্যাচে অভিষেক ঘটে। অন্যদিকে, বেলজিয়াম দলেও নতুন কোচ মার্ক ফন বোমেলের অধীনে কয়েকজন তারকা খেলোয়াড় ইনজুরির কারণে অনুপস্থিত ছিলেন।

খেলার শুরু থেকেই উভয় দল আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার চেষ্টা চালায়। ম্যাচের প্রথম ভাগে গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মার নৈপুণ্যে বেশ কয়েকবার বিপদ থেকে রক্ষা পায় ইতালি। তবে ম্যাচের একটি পর্যায়ে রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে ডে ব্রুইনার পাস থেকে বল পেয়ে মিকা গোডটস বেলজিয়ামকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। গোল হজম করার পর ইতালি সমতা ফেরানোর জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে এবং বেশ কয়েকটি আক্রমণ চালায়।

দ্বিতীয় অর্ধে খেলায় ফেরার সুযোগ পেলেও ইতালীয় ফরোয়ার্ডরা তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন। উলটো ম্যাচের নির্ধারিত সময়ের শেষের দিকে দোদি লুকেবাকিও দূরপাল্লার এক চমৎকার শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর বদলি খেলোয়াড়রা মাঠে নামলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের পক্ষে আনতে পারেনি স্বাগতিকরা। শেষ মুহূর্তে ইতালির খেলোয়াড়দের কয়েকটি প্রচেষ্টা ক্রসবারে লেগে ফিরে আসলে গোলশূন্য থেকেই মাঠ ছাড়তে হয় তাদের।

ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার পরেও দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা বজায় থাকে। ইতালীয় গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা এবং রোমেলু লুকাকুর মধ্যে কথা কাটাকাটি ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। রেফারি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উভয়কেই হলুদ কার্ড প্রদর্শন করেন। এই হারের ফলে নেশনস লিগের গ্রুপ পর্বে মানচিনির দল শুরুতেই বেশ কঠিন পরিস্থিতিতে পড়ে গেল।


কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুর

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুর

দেশের অন্যতম পরিচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের মতো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। রাজধানীর একটি এলাকায় অবস্থিত তার এই কর্মস্থলে সম্প্রতি একদল দুর্বৃত্ত চড়াও হয় এবং ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। মূলত চাঁদাবাজির দাবি পূরণ না হওয়ার কারণেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার আকস্মিকতায় ওই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সৃষ্টি হয় চাঞ্চল্য।

প্রাথমিক তথ্যে জানা যায়, গত ২৬ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা স্টুডিওর ভেতরে প্রবেশ করে বিভিন্ন দামি যন্ত্রপাতি এবং আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। দীর্ঘদিন ধরে একটি নির্দিষ্ট মহলের পক্ষ থেকে চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সেই অনৈতিক দাবি না মানায় ক্ষিপ্ত হয়ে এই ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদির এবং তার কর্মীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারা এই ন্যক্কারজনক হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন। সৃজনশীল কাজের এমন একটি প্রতিষ্ঠানে এই ধরনের সন্ত্রাসী হামলা দেশের সংস্কৃতি ও গণমাধ্যম অঙ্গনের জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতোমধ্যে এই ঘটনার বিষয়ে খোঁজখবর নিতে শুরু করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্টুডিওর পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং পুলিশ জানিয়েছে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।