শেয়ার বাজার

মার্কিন পুঁজিবাজার, সরকারি সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে এআই বটের অনধিকার প্রবেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মার্কিন পুঁজিবাজার, সরকারি সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে এআই বটের অনধিকার প্রবেশ

অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক মহলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন দেশের সরকারি পোর্টাল, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ওপেনএআইয়ের বট বা এজেন্টগুলোর অনুমতিহীন প্রবেশাধিকারের ঘটনা সামনে এসেছে। আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই আগ্রাসী আচরণ ডেটা প্রাইভেসি এবং সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। বিশেষ করে গোপনীয় ও সংরক্ষিত ডেটার সুরক্ষা নিশ্চিত করা নিয়ে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এর আগে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ দেশটির সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছিলেন। তিনি জানান যে, ওপেনএআইয়ের স্বয়ংক্রিয় এজেন্টগুলো এমন কিছু নথিপত্র এবং ডিজিটাল পাতার নাগাল পেয়েছে যা সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত ছিল না। সরকারি সুরক্ষাবেষ্টনী ও গোপনীয়তার নীতিমালা এড়িয়ে এ ধরনের সংবেদনশীল তথ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রবেশ সংশ্লিষ্ট করণিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকেই ফুটিয়ে তুলেছে।

অস্ট্রেলিয়ার এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মার্কিন পুঁজিবাজারের বিভিন্ন পোর্টাল এবং বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অনিয়মের তথ্য মিলছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব গবেষণা ও সংরক্ষিত ডেটাবাসেও এই এআই বটগুলোর অযাচিত উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে। এর ফলে প্রাতিষ্ঠানিক গোপনীয়তা বজায় রাখা এবং সাইবার অপরাধ রোধ করা আগের চেয়ে অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রযুক্তি জায়ান্ট এবং ওপেনএআইয়ের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর দাবি জোরালো হচ্ছে। সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য সুরক্ষায় আরও কঠোর নীতিমালা প্রণয়নের পাশাপাশি এআই বটগুলোর কাজের পরিধি নির্ধারণ করে দেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন সাইবার বিশেষজ্ঞরা। অন্যথায় এই ধরনের অনধিকার প্রবেশের ঘটনা ভবিষ্যতে আরও বড় কোনো ডিজিটাল সংকটের সৃষ্টি করতে পারে বলে তারা সতর্ক করেছেন।

এআই দিয়ে বার্তা পাঠিয়ে জালিয়াতি: ইতালির শীর্ষ ব্যাংক থেকে কোটি কোটি ইউরো গায়েব

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

এআই দিয়ে বার্তা পাঠিয়ে জালিয়াতি: ইতালির শীর্ষ ব্যাংক থেকে কোটি কোটি ইউরো গায়েব

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে অভিনব কায়দায় ইতালির একটি শীর্ষস্থানীয় ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। ব্যাংকটির এক শীর্ষ নির্বাহীকে প্রতারকরা কৃত্রিমভাবে তৈরি করা কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে বার্তা পাঠিয়ে এই বিশাল অংকের অর্থ সরিয়ে নিয়েছে। প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের এই যুগে অপরাধীরা এখন অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও ধ্বংসাত্মক উপায়ে সাইবার হামলা চালাচ্ছে, যা ব্যাংকিং খাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য এক নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

তদন্তে জানা গেছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সংঘবদ্ধ চক্রটি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর কণ্ঠস্বর হুবহু অনুকরণ করতে এআই প্রযুক্তির সহায়তা নেয়। ওই আইনজীবীর পরিচয় ও কণ্ঠ নকল করে ব্যাংকের নির্বাহীর কাছে অত্যন্ত জরুরি ও গোপনীয় একটি বড় ধরনের অধিগ্রহণ চুক্তির কথা বলা হয়। স্বাভাবিকভাবেই ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তা এই বার্তাকে সম্পূর্ণ বিশ্বাসযোগ্য বলে ধরে নেন এবং কোনো রকম সন্দেহ পোষণ না করেই লেনদেন সম্পন্ন করার নির্দেশ প্রদান করেন।

প্রতারক চক্রটি ব্যাংকের ভেতরের কর্মপ্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পারস্পরিক যোগাযোগের ধরন সম্পর্কে আগে থেকেই বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেছিল। অত্যন্ত সুপরিকল্পিত এই হামলায় তারা এমন কিছু কৌশল অবলম্বন করে যা ব্যাংক কর্মকর্তাদের স্বাভাবিক যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়াকে পাশ কাটিয়ে যেতে সক্ষম হয়। ফলে মুহূর্তের মধ্যে কোটি কোটি ইউরো ব্যাংক থেকে অন্য হিসাবে স্থানান্তরিত হয়ে যায় এবং অপরাধীরা সহজেই ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যায়।

এই ঘটনার পর ইতালির ব্যাংকসহ গোটা আর্থিক খাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই প্রযুক্তির এমন অপব্যবহার রোধে ব্যাংকগুলোকে তাদের অভ্যন্তরীণ অনুমোদন প্রক্রিয়া আরও কঠোর করতে হবে এবং বায়োমেট্রিক বা বহুস্তরীয় যাচাইকরণ পদ্ধতি নিশ্চিত করা জরুরি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতিমধ্যে এই চক্রটিকে চিহ্নিত করতে এবং পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে জোরদার তদন্ত পরিচালনা করছে।


দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক বন্দুক হামলায় নিহত ২৭, আহত ২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক বন্দুক হামলায় নিহত ২৭, আহত ২৬

দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন এলাকায় বন্দুকধারীদের চালানো পৃথক দুটি হামলায় অন্তত ২৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এই রক্তক্ষয়ী ঘটনায় আরও ২৬ জন আহত হয়েছেন। দেশটির প্রধান শহরগুলোর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং অপরাধচক্রের তৎপরতা নিয়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এই হামলাগুলো চালানো হয়েছে।

প্রথম হামলাটি সংঘটিত হয় জোহানেসবার্গের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত ওয়েডেলা টাউনশিপের একটি পানশালায়। হামলাকারীরা সেখানে উপস্থিত সাধারণ মানুষের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই ১৭ জনের মৃত্যু হয়। এছাড়া আহত হন আরও ১৫ জন। যাওয়ার সময় অপরাধীরা বেশ কিছু মোবাইল ফোন লুট করে এবং দুটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায়। অপরাধীদের গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিশেষ অভিযান শুরু করেছে।

এর কিছু সময় পর কেপটাউনের কাছে লাওয়ান্দলে এলাকার একটি দোকানে আরেকটি বড় ধরনের হামলার ঘটনা ঘটে। সেখানে বন্দুকধারীদের নির্বিচার গুলিতে প্রাণ হারান আরও ১০ জন এবং আহত হন ১১ জন। এই দুই বড় ঘটনার মাত্র কিছুদিন আগেই ডারবানের নিকটবর্তী একটি বাড়িতে চলা পার্টিতে আরও ১১ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল। ফলে দেশজুড়ে জননিরাপত্তা নিয়ে নাগরিকদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে।

দক্ষিণ আফ্রিকায় দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চমাত্রার সহিংস অপরাধ এবং অস্ত্রধারী সন্ত্রাস একটি বড় জাতীয় সমস্যায় পরিণত হয়েছে। নিয়মিত ঘটছে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড। সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষার জন্য কঠোর পদক্ষেপ নিতে সরকারের ওপর জনমতের চাপ ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অপরাধ দমনে বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি ও অভিযান পরিচালনা করলেও পরিস্থিতির আশানুরূপ উন্নতি হয়নি।


সুপার এল নিনোর প্রভাবে সবচেয়ে শুষ্ক মরুভূমিও এখন রঙিন ফুলের বাগান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সুপার এল নিনোর প্রভাবে সবচেয়ে শুষ্ক মরুভূমিও এখন রঙিন ফুলের বাগান

পৃথিবীর অন্যতম শুষ্ক ও নিঃসঙ্গ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত মরুভূমিগুলোতে সম্প্রতি এক অভূতপূর্ব প্রাকৃতিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। সাধারণত যেখানে সারা বছরে মাত্র ১৫ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে, সেখানে জলবায়ুর ভিন্নতার কারণে এবার ভিন্ন চিত্র দেখা মিলল। আবহাওয়ার এই চরম রূপান্তরের ফলে ধু-ধু বালুচর এখন চোখ জুড়ানো সবুজের সমারোহ এবং রঙিন ফুলে সেজে উঠেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিস্ময়কর ঘটনার মূল চালিকাশক্তি হলো শক্তিশালী সুপার এল নিনো। বিশ্বজুড়ে আবহাওয়া চক্রের ওপর এর মারাত্মক প্রভাবের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলস্বরূপ বিশ্বের সবচেয়ে শুষ্ক অঞ্চলগুলোতেও অস্বাভাবিক মেঘমালা তৈরি হয়েছে এবং পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত নিশ্চিত হয়েছে, যা দীর্ঘকাল ধরে সুপ্ত থাকা উদ্ভিদের বীজগুলোকে অঙ্কুরোদগমে সাহায্য করেছে।

সাধারণত এই মরুভূমির ভেতরের অত্যন্ত শুষ্ক অংশে বার্ষিক বৃষ্টির পরিমাণ মাত্র ১ থেকে ৩ মিলিমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। অনেক বছর তো এর চেয়েও কম বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়, যার ফলে সেখানে উদ্ভিদ জীবন টিকে থাকাই এক প্রকার অসম্ভব। কিন্তু সাম্প্রতিক এই অস্বাভাবিক জলবায়ু পরিবর্তনের কল্যাণে মরুভূমির বুক চিরে লাখ লাখ বুনো ফুল ফুতে উঠেছে, যা স্থানীয় পরিবেশবিদদের মধ্যেও বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে।

প্রকৃতির এমন রূপান্তর দেখতে দেশি-বিদেশি পর্যটকরা ভিড় জমাচ্ছেন ওই এলাকায়। মরুভূমির এই রূপ সাধারণত কদাচিৎ দেখা যায় এবং তা খুব অল্প সময়ের জন্যই স্থায়ী হয়ে থাকে। জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবের মাঝেই প্রকৃতির এই রূপালী রূপ এক অনন্য সৌন্দর্যের সৃষ্টি করেছে, যা বিজ্ঞানীদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।