শেয়ার বাজার

জন্মদিন পালনের আয়োজন করে কেক-মোটরসাইকেল ফেলে পালাল নিষিদ্ধ আ.লীগ নেতাকর্মীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জন্মদিন পালনের আয়োজন করে কেক-মোটরসাইকেল ফেলে পালাল নিষিদ্ধ আ.লীগ নেতাকর্মীরা

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মবার্ষিকী উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সম্প্রতি উপজেলার পালেরচর ইউনিয়নের দক্ষিণ দড়িকান্দি জোড়া ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। বড়কান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে একটি ফাঁকা সড়কে এই কেক কাটার আয়োজন করা হয়েছিল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে রওনা দেয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আয়োজক ও সেখানে জড়ো হওয়া ব্যক্তিরা দ্রুত পালিয়ে যান, ফলে কেক কাটার আগেই পুরো অনুষ্ঠান পণ্ড হয়ে যায়।

পুলিশ সূত্র জানায়, ওই স্থানে প্রায় ১০ থেকে ১৫ জন নেতাকর্মী জড়ো হয়ে কেক কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। জাজিরা থানা পুলিশের একটি নিয়মিত টহল দল সেখানে পৌঁছালে বিশৃঙ্খলা এড়াতে ও নিজেদের রক্ষায় তারা পালিয়ে যাওয়ার পথ বেছে নেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাউকে আটক করতে না পারলেও পড়ে থাকা বিভিন্ন আলামত জব্দ করে। এই আকস্মিক অভিযানে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের তৎপরতা সাময়িকভাবে প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছে স্থানীয় প্রশাসন।

ঘটনাস্থল তল্লাশি করে পুলিশ একটি আস্ত কেক এবং পাঁচটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে জব্দকৃত মোটরসাইকেলগুলোর প্রকৃত মালিক কে কিংবা ঘটনার সময় কারা সেগুলো ব্যবহার করছিলেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া যানগুলোর রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে মালিকদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় তদন্ত শুরু হয়েছে।

এ বিষয়ে নড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিউদ্দিন মিরাজ জানান, কেক কাটার প্রস্তুতির খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ সেখানে অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল থেকে একটি কেক ও পাঁচটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। এই পুরো ঘটনার বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে এবং জড়িতদের ধরতে পুলিশ সজাগ রয়েছে।

পুলিশ সেজে যাত্রীকে জরিমানা, অর্থ না পেয়ে চলন্ত ট্রেন থেকে ধাক্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

পুলিশ সেজে যাত্রীকে জরিমানা, অর্থ না পেয়ে চলন্ত ট্রেন থেকে ধাক্কা

ভারতের বিহারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে ট্রেনের যাত্রীদের জিম্মি করে অর্থ আদায়ের এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। ট্রেনের বিশেষ কামরায় উঠে সাধারণ ও শ্রমজীবী যাত্রীদের টার্গেট করে এই অপরাধ চালাত রোহিত তিওয়ারি নামের এক যুবক। নিজেকে কখনো পুলিশ, কখনো রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী বা এসটিএফের কর্মকর্তা দাবি করে সে বিভিন্ন অজুহাতে যাত্রীদের কাছ থেকে জরিমানা আদায় করত। কেউ তার এই অবৈধ দাবির প্রতিবাদ করলে তাকে শারীরিক লাঞ্ছনা ও মারধরের মুখোমুখি হতে হতো।

এই চক্রের শিকার হন ২১ বছর বয়সী এক তরুণ নিতিন কুমার, যিনি সম্প্রতি একটি বিশেষ ট্রেনে করে নিজের বাড়িতে ফিরছিলেন। গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে ট্রেন চলাকালীন সময়ে ধূমপানের মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাকে জোরপূর্বক ট্রেন থেকে নামিয়ে নেয় ওই প্রতারক। পরবর্তীতে বক্সার স্টেশনের কাছাকাছি এলাকা থেকে নিতিনের ফোন ব্যবহার করে তার পরিবারের কাছে ১০ হাজার রুপি মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে পাঁচ হাজার রুপি পাঠানো হলেও পরদিন আরও ২০ হাজার রুপি চাঁদা দাবি করা হলে তাদের সন্দেহ জাগে।

পরিবারের লোকজনের এমন অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় তারা দ্রুত বিষয়টি বক্সার রেলওয়ে থানাকে অবহিত করেন এবং পুলিশের সহায়তায় তদন্ত শুরু হয়। পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে রোহিত তিওয়ারিকে আটক করতে সক্ষম হয় এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। এই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ আরা ও জগজীবন হল্ট স্টেশনের মধ্যবর্তী রেললাইন এলাকা থেকে এক যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে নিহতের বাবা ঘটনাস্থলে এসে মরদেহটি নিখোঁজ নিতিনের বলে শনাক্ত করেন।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চাহিদামতো চাঁদার টাকা আদায় করতে না পেরে রোহিত ওই যুবককে চলন্ত ট্রেন থেকে বাইরে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছিলেন। গ্রেপ্তারকৃত রোহিতের বিরুদ্ধে এর আগেও নানা অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং তিনি প্রায় পঁচিশ মাস কারাভোগ করেছিলেন। সম্প্রতি জামিনে মুক্ত হয়ে আসার পর তিনি আবারও একই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। পুলিশ তার কাছ থেকে অন্য এক ব্যক্তির মানিব্যাগসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিও উদ্ধার করেছে।


ওয়াশিংটনে ট্রাম্প–সির জমকালো বৈঠকে কোনো সমাধান কি এল?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ওয়াশিংটনে ট্রাম্প–সির জমকালো বৈঠকে কোনো সমাধান কি এল?

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের মধ্যে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিন দিনব্যাপী চলা এই বৈঠকে দুই দেশের শীর্ষ নেতারা বৈশ্বিক রাজনীতি এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন। বিশ্ব অর্থনীতির দুই পরাশক্তির শীর্ষ এই বৈঠকের দিকে দীর্ঘদিন ধরেই তাকিয়ে ছিল গোটা বিশ্ব। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্য বিরোধ নিরসনে এই আলোচনা নতুন মোড় নিতে পারে।

চলat বৈঠকে বৈশ্বিক বাণিজ্যের পাশাপাশি তাইওয়ান সংকটের মতো স্পর্শকাতর ভূরাজনৈতিক বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পেয়েছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার বিষয়টিও দুই নেতার আলোচনায় বিশেষ প্রাধান্য পায়। ভবিষ্যতের প্রযুক্তির গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতের নিয়ন্ত্রণ ও সহযোগিতা নিয়েও উভয় পক্ষ নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে। বিশ্বশান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এসব জটিল বিষয়ে পারস্পরিক বোঝাপড়ার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।

এই দীর্ঘ ও জাঁকজমকপূর্ণ আলোচনার মধ্য দিয়ে দুই দেশের শীর্ষ নেতারা কী অর্জন করতে পেরেছেন, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা বিশ্লেষণ চলছে। যদিও বৈঠকে বেশ কিছু বিতর্কিত ও অমীমাংসিত বিষয়ে মতপার্থক্য পুরোপুরি দূর হয়নি, তবে দুই নেতার এই মুখোমুখি বসা অবস্থাকে একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা। বিশেষ করে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে উভয় পক্ষই সম্পর্কের বরফ গলানোর ইঙ্গিত দিয়েছে।

আসন্ন দিনগুলোতে এই বৈঠকের ধারাবাহিকতায় দুই দেশের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়। বিশ্ববাণিজ্যের ওপর এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করছেন অর্থনীতিবিদরা। দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের এই যোগাযোগের ফলে বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।


হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের আহ্বান গ্র্যান্ড মুফতির, জরুরি বৈঠক করবে পাকিস্তান-তুরস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের আহ্বান গ্র্যান্ড মুফতির, জরুরি বৈঠক করবে পাকিস্তান-তুরস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের কূটনৈতিক ও সামরিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে আলোচনার অংশ হিসেবে পাকিস্তান ও তুরস্কের সামরিক বাহিনীর প্রধানদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মূলত আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার এবং সম্ভাব্য আক্রমণ মোকাবিলায় এই তিন দেশের যৌথ কৌশল নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলছে।

জাতিসংঘ সদরদপ্তরে সম্প্রতি সৌদি আরবের স্থায়ী মিশনে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই যৌথ উদ্যোগের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এবং সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান অংশ নেন। মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির কাঠামোর আওতায় এই জরুরি বৈঠক আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে, যেখানে একটি দেশের ওপর আক্রমণকে সবার ওপর আক্রমণ বলে গণ্য করা হয়।

বৈঠকে সৌদি আরবের পবিত্র স্থান মক্কা এবং দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনায় সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়। পাশাপাশি সৌদি সশস্ত্র বাহিনীর নেওয়া প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপগুলোর উচ্চ প্রশংসা করেন অংশ নেওয়া মন্ত্রীরা। সম্প্রতি সৌদির বিভিন্ন শহর লক্ষ্য করে হুতি বিদ্রোহীদের ছোড়া বেশ কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা সফলভাবে প্রতিহত করেছে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

এই সার্বিক উত্তেজনার মধ্যেই দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় কড়া বার্তা দিয়েছেন সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি শেখ সালেহ বিন ফাওজান। সীমান্তে মোতায়েন করা সেনাসদস্যদের সবসময় প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের ভূখণ্ড রক্ষা এবং যেকোনো আগ্রাসন প্রতিহত করা পবিত্র দায়িত্ব। অন্যদিকে, লোহিত সাগরের কৌশলগত বন্দর ইয়ানবুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি আরবে অতিরিক্ত সেনা, রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্স।