শেয়ার বাজার

জার্মানিতে তথ্যপ্রযুক্তিতে চাকরি: বিদেশি প্রার্থীদের যে যে শর্ত মানতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জার্মানিতে তথ্যপ্রযুক্তিতে চাকরি: বিদেশি প্রার্থীদের যে যে শর্ত মানতে হবে

ইউরোপের অন্যতম শীর্ষ অর্থনৈতিক দেশ জার্মানিতে তথ্যপ্রযুক্তি বা আইটি খাতের পেশাজীবীদের জন্য কাজের সুযোগ দিন দিন বাড়ছে। তবে দেশটির শ্রমবাজারে এই গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে প্রবেশ করতে চাইলে বিদেশি নাগরিকদের কিছু নির্দিষ্ট শর্ত ও মানদণ্ড পূরণ করতে হয়। কাজের ধরনের ওপর ভিত্তি করে এসব যোগ্যতার শর্তে কিছুটা ভিন্নতা দেখা যায়, যা প্রবাসীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জার্মান প্রতিষ্ঠানে চাকরির আবেদন করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় শর্ত হলো আবেদনকারীর উপযুক্ত পেশাগত যোগ্যতা এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের বাস্তব অভিজ্ঞতা। অনেক পদের জন্য স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি অথবা সমমানের উচ্চশিক্ষার সনদ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতা বা প্রফেশনাল পোর্টফোলিও থাক académico ডিগ্রির বাধ্যবাধকতা শিথিল করা হতে পারে।

পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি ভাষাগত যোগ্যতার বিষয়টিও জার্মানির কর্মক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হয়। আন্তর্জাতিক মানের কিছু প্রতিষ্ঠানে শুধুমাত্র ইংরেজি ভাষার মাধ্যমে কাজ পরিচালনা করা গেলেও, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে জার্মান ভাষার প্রাথমিক বা মধ্যম মানের দখল বাড়তি সুবিধা দেয়। এছাড়া দেশটির ভিসা নীতি ও ওয়ার্ক পারমিট পাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট বেতনের সীমা এবং স্বাস্থ্যবীমার মতো আইনি প্রক্রিয়াগুলোও সম্পন্ন করতে হয়।

সব মিলিয়ে জার্মানিতে আইটি ক্যারিয়ার গড়তে ইচ্ছুক পেশাজীবীদের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি কাঠামোগত ও সুনির্দিষ্ট। সঠিক কাগজপত্র, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত দক্ষতা এবং প্রয়োজনীয় শর্তগুলো সঠিকভাবে মেনে আবেদন করলে বিদেশি প্রার্থীরা এই উন্নত বাজারে সফল হওয়ার ভালো সুযোগ পেয়ে থাকেন।

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হামলা বলছে পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হামলা বলছে পুলিশ

রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকায় জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। গত কিছুদিন আগে ঘটে যাওয়া এই আকস্মিক হামলায় স্টুডিওর ভেতরে থাকা বিভিন্ন আসবাবপত্র ও দামি সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় এলাকাবাসী ও ভক্তদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন হঠাৎ করে বেশ কয়েকটি পিকআপভর্তি একদল লোক ওই এলাকায় এসে তাণ্ডব চালায়। তারা শুধু সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওই নয়, বরং আশপাশের কয়েকটি বাড়ি ও অন্যান্য স্থাপনাও লক্ষ্য করে হামলা চালায়। হামলাকারীরা নির্বিচারে ভাঙচুর চালিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করে এবং একপর্যায়ে স্টুডিও থেকে মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

প্রাথমিক তদন্তের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, মূলত জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এই হামলার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ইতোমধ্যে তিনজনকে আটক করেছে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ।

আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই হামলার মূল হোতা এবং পেছনের উসকানিদাতাদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। বর্তমানে ওই এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষ থেকে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।


রাজশাহীতে মুদি দোকান পোড়ানোর পর দোকানিকে কুপিয়ে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

রাজশাহীতে মুদি দোকান পোড়ানোর পর দোকানিকে কুপিয়ে হত্যা

রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া থানার বাকির মোড় এলাকায় চাঞ্চল্যকর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। খুচরা টাকা ভাঙিয়ে দিতে অস্বীকার করার জেরে আবদুল বারী (৪০) নামের এক মুদি দোকানিকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এর আগে হামলাকারীরা পেট্রল বোমা নিক্ষেপ করে তার দোকানটি সম্পূর্ণ পুড়িয়ে দেয়। এই ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ও শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। নিহত আবদুল বারী ওই এলাকারই বাসিন্দা বদরুল সরকারের ছেলে ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে সততার সঙ্গে মুদি ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত হয় মূলত হত্যাকাণ্ডের দিন সন্ধ্যার পর। ওই সময় নগরীর চণ্ডিপুর এলাকা থেকে কিছু বখাটে যুবক বাকির মোড় এলাকায় মাদক সেবনের উদ্দেশ্যে আসে। তারা আবদুল বারীর দোকানে খুচরা টাকা ভাঙানোর জন্য গেলে তিনি তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এর জেরে দোকানির সঙ্গে যুবকদের কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা হলেও বখাটেরা প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করে এবং এর মারাত্মক পরিণতি হিসেবে গভীর রাতে এই হামলা চালানো হয়।

পূর্বপরিকল্পনার অংশ হিসেবে রাত পৌনে দুইটার দিকে অর্ধশতিকারও বেশি মানুষের একটি দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও পেট্রল বোমা নিয়ে আবদুল বারীর দোকানের সামনে জড়ো হয়। হামলাকারীরা প্রথমে বারীর বাড়ির সামনে অবস্থিত মুদি দোকানের শাটারের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর পেট্রল বোমা মেরে দোকানটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়, যা মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের লেলিহান শিখা ও শব্দ শুনে বারী ও তার পরিবারের সদস্যরা ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন এবং চিৎকার শুরু করেন।

পরিবারের সদস্যরা টের পাওয়ার পর হামলাকারীরা সরাসরি আবদুল বারীকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে রাজপাড়া থানা পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ বিষয়ে রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পুলিশ এই ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে এবং মামলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এজাহার দাখিলের পর অভিযুক্তদের গ্রেফতারে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হবে বলে এই পুলিশ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।


হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের আহ্বান গ্র্যান্ড মুফতির, জরুরি বৈঠক করবে পাকিস্তান-তুরস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের আহ্বান গ্র্যান্ড মুফতির, জরুরি বৈঠক করবে পাকিস্তান-তুরস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের কূটনৈতিক ও সামরিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে আলোচনার অংশ হিসেবে পাকিস্তান ও তুরস্কের সামরিক বাহিনীর প্রধানদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মূলত আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার এবং সম্ভাব্য আক্রমণ মোকাবিলায় এই তিন দেশের যৌথ কৌশল নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলছে।

জাতিসংঘ সদরদপ্তরে সম্প্রতি সৌদি আরবের স্থায়ী মিশনে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই যৌথ উদ্যোগের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এবং সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান অংশ নেন। মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির কাঠামোর আওতায় এই জরুরি বৈঠক আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে, যেখানে একটি দেশের ওপর আক্রমণকে সবার ওপর আক্রমণ বলে গণ্য করা হয়।

বৈঠকে সৌদি আরবের পবিত্র স্থান মক্কা এবং দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনায় সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়। পাশাপাশি সৌদি সশস্ত্র বাহিনীর নেওয়া প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপগুলোর উচ্চ প্রশংসা করেন অংশ নেওয়া মন্ত্রীরা। সম্প্রতি সৌদির বিভিন্ন শহর লক্ষ্য করে হুতি বিদ্রোহীদের ছোড়া বেশ কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা সফলভাবে প্রতিহত করেছে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

এই সার্বিক উত্তেজনার মধ্যেই দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় কড়া বার্তা দিয়েছেন সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি শেখ সালেহ বিন ফাওজান। সীমান্তে মোতায়েন করা সেনাসদস্যদের সবসময় প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের ভূখণ্ড রক্ষা এবং যেকোনো আগ্রাসন প্রতিহত করা পবিত্র দায়িত্ব। অন্যদিকে, লোহিত সাগরের কৌশলগত বন্দর ইয়ানবুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি আরবে অতিরিক্ত সেনা, রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্স।