শেয়ার বাজার

‘ইসরাইলি নির্বাচনের চালিকাশক্তি হলো ফিলিস্তিনিদের রক্ত’

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘ইসরাইলি নির্বাচনের চালিকাশক্তি হলো ফিলিস্তিনিদের রক্ত’

ইসরাইলি রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনি প্রচারণায় ফিলিস্তিনিদের রক্ত ও অধিকারকে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। সম্প্রতি এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান খলিল আল-হাইয়া এই মন্তব্য করেন। তিনি অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে জানান যে, ইহুদিবাদী রাষ্ট্রটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে ফিলিস্তিনিদের ওপর চলা নির্যাতন ও রক্তপাতকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

সংবাদমাধ্যম আল-আরাবি টিভিকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে হামাস নেতা আরও স্পষ্ট করেন যে, ইসরাইলের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ফিলিস্তিনিদের মৌলিক অধিকার কীভাবে আরও বেশি হরণ করা যায় তা নিয়ে এক ধরনের অসুস্থ প্রতিযোগিতা চলছে। অথচ তাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত ছিল শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পথ খোঁজা এবং আন্তর্জাতিক মহলের সামনে নিজেদের একটি মানবিক শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করা। কিন্তু বাস্তবে এর সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে, যেখানে ফিলিস্তিনিদের ওপর দমনপীড়ন বাড়িয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা চলছে।

আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরাইলে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে এবং এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে খলিল আল-হাইয়া স্মরণ করিয়ে দেন যে, দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ইসরাইলের যেকোনো রাজনৈতিক দলের মাধ্যমেই ফিলিস্তিনিরা চরম ভোগান্তি ও নিপীড়নের শিকার হয়ে আসছে। বিগত ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ক্ষমতায় যাওয়ার লড়াইয়ে ফিলিস্তিনিদের রক্তের ওপর দিয়েই হেঁটেছে ইসরাইলের প্রায় প্রতিটি রাজনৈতিক শক্তি।

সাক্ষাৎকারের শেষ পর্যায়ে হামাসের এই শীর্ষ নেতা জোর দিয়ে বলেন যে, তাদের কাছে এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ফিলিস্তিনি জনগণের দীর্ঘদিনের ত্যাগের বিনিময়ে তাদের জাতীয় লক্ষ্য, আকাঙ্ক্ষা ও ন্যায্য অধিকার অর্জন করা। বিদেশি বা আঞ্চলিক কোনো রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রই ফিলিস্তিনিদের এই অধিকার আদায়ের সংগ্রামকে দমিয়ে রাখতে পারবে না বলেও তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। ফিলিস্তিনি জনগণের মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই প্রতিরোধ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়।

৪৪ বছর পর খুঁজে পাওয়া গেল কিশোরীর লুকিয়ে রাখা চিঠি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

৪৪ বছর পর খুঁজে পাওয়া গেল কিশোরীর লুকিয়ে রাখা চিঠি

যুক্তরাজ্যের এসেক্সের হকলি এলাকায় একটি বাড়ি সংস্কারের সময় প্রায় চার দশকেরও বেশি পুরনো একটি চিঠি উদ্ধার করা হয়েছে। বাড়ির সিঁড়ির ভেতরের একটি গোপন ও ফাঁকা স্থান থেকে চিঠিটি খুঁজে পান এক নির্মাণকর্মী। দীর্ঘ ৪৪ বছর ধরে সেখানে লুকিয়ে থাকা এই চিঠিটি ১০ বছর বয়সী এক কিশোরীর লেখা, যা সে ভবিষ্যতের কোনো মানুষের উদ্দেশ্যে রেখে গিয়েছিল। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই চমৎকার ঘটনাটি প্রকাশ পায়।

চিঠিটি হাতে পাওয়ার পর বর্তমান গৃহকর্ত্রী মিশেল হারউডের কৌতূহল বেড়ে যায় এবং তিনি এর আসল লেখককে খুঁজে বের করার সিদ্ধান্ত নেন। ৩৬ বছর বয়সী এই দাতব্যকর্মী দেখতে পান যে, একটি শিশুর বয়সের তুলনায় চিঠিটির হাতের লেখা অত্যন্ত পরিপাটি ও সুন্দর। এরপর তিনি স্থানীয় একটি ফেসবুক কমিউনিটি গ্রুপে চিঠিটির ছবিসহ একটি পোস্ট করেন এবং লেখককে শনাক্ত করার আহ্বান জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের শক্তির কারণে পোস্ট দেওয়ার মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে স্থানীয় লোকজন চিঠিটির আসল লেখককে খুঁজে বের করতে সক্ষম হন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৮২ সালের ১২ আগস্ট লেখা এই চিঠির লেখক হলেন র‍্যাচেল মাইলস, যিনি বর্তমানে ৫৪ বছর বয়সে বাকিংহামশায়ারের মিল্টন কেইন্সে শিক্ষকতা করছেন। আশির দশকে জনপ্রিয় ব্রিটিশ টেলিভিশন অনুষ্ঠান 'ব্লু পিটার'-এর প্রভাবে শিশুদের মধ্যে টাইম ক্যাপসুল তৈরির যে ঝোঁক ছিল, তারই অংশ হিসেবে তিনি এটি করেছিলেন। সেসময় বাড়ির সিঁড়ির পেছনের ফাঁকা জায়গাটি দেখতে পেয়ে ছোট্ট র‍্যাচেলের মনে ভবিষ্যতের কারও জন্য চিঠি লুকিয়ে রাখার অভিনব ধারণাটি আসে। চিঠিতে তিনি নিজের পরিবারের সদস্যদের পরিবর্তে কেবল তাঁর তৎকালীন পোষা বিড়াল 'কিজি'র কথা উল্লেখ করেছিলেন, যে কিনা সেসময় এলাকায় বেশ জনপ্রিয় ছিল।

চিঠিটি বর্তমান মালিক মিশেলের হাতে পৌঁছানোর পর এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়, কারণ চিঠিটি লেখার সময় তিনি পৃথিবীতেই আসেননি। পুরোনো স্মৃতি ফিরে পেয়ে শিক্ষক র‍্যাচেল মাইলসও অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছেন এবং এর সুবাদে অনেক পুরোনো মানুষের সঙ্গে তাঁর আবার যোগাযোগ হয়েছে। বর্তমান গৃহকর্ত্রী মিশেল ও চিঠিটির লেখক র‍্যাচেলের জীবনের মধ্যে অদ্ভুত কিছু মিলও রয়েছে, যার মধ্যে উভয়েরই বিড়াল পোষার বিষয়টি উল্লেখযোগ্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কীভাবে হারিয়ে যাওয়া স্মৃতি ও মানুষকে ফিরিয়ে আনতে পারে, এই ঘটনাটি তারই এক অনন্য উদাহরণ হয়ে রইল।


১০ শলাকার সিগারেটের প্যাকেট: সর্বনিম্নস্তরে ৬৫ ও সর্বোচ্চস্তরে ২১০ টাকার নতুন খুচরা মূল্য

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

১০ শলাকার সিগারেটের প্যাকেট: সর্বনিম্নস্তরে ৬৫ ও সর্বোচ্চস্তরে ২১০ টাকার নতুন খুচরা মূল্য

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ভ্যাট অনুবিভাগ তামাকজাত সিগারেটের নতুন খুচরা মূল্য নির্ধারণ করে একটি আনুষ্ঠানিক আদেশ জারি করেছে। সম্প্রতি এনবিআরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এই আদেশে বাজারে বিক্রi হওয়া ১০ শলাকার সিগারেটের বিভিন্ন স্তরের দাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। নতুন এই কাঠামোর আওতায় সর্বনিম্ন স্তরের প্রতি প্যাকেট সিগারেটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৫ টাকা এবং সর্বোচ্চ স্তরের জন্য এই মূল্য রাখা হয়েছে ২১০ টাকা। এছাড়া মধ্যবর্তী স্তরগুলোর জন্যও আলাদা দামের কথা বলা হয়েছে। আইনগত বিধান ও যথাযথ নিয়মনীতি মেনে এনবিআরের সদস্য মো. আজিজুর রহমানের স্বাক্ষরে এই আদেশ কার্যকর করা হয়েছে।

নতুন নির্ধারিত মূল্য কাঠামো অনুযায়ী, সিগারেটের চারটি স্তরের মধ্যে দ্বিতীয় স্তরে প্রতি ১০ শলাকার মূল্য ৭২ টাকা এবং তৃতীয় স্তরে তা ১৬০ টাকা করা হয়েছে। তবে লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, নতুন এই মূল্য বিন্যাসেও প্রতিটি স্তরে সম্পূরক শুল্কের হার অভিন্নভাবে ৬৭ শতাংশ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। গত কিছুদিন আগে প্রকাশিত বাংলাদেশ গেজেটের নির্দেশনার আলোকে স্থানীয় বাজারে সরবরাহের ক্ষেত্রে এইচএস কোডের এই তামাকপণ্যগুলোর নতুন দাম তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে। এর মাধ্যমে চলতি বছরের জুন মাসে জারীকৃত পূর্ববর্তী সাধারণ আদেশটি সম্পূর্ণভাবে বাতিল বলে গণ্য করা হবে।

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি মাথায় রেখে তামাকপণ্যের ব্যবহারে কিছু সুনির্দিষ্ট কড়াকড়ি আরোপ করেছে রাজস্ব কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে ফ্লেভারিং ক্যাপসুলযুক্ত সিগারেট তরুণ ও নতুন প্রজন্মের মধ্যে ধূমপানের আকর্ষণ বাড়িয়ে দেওয়ায়, স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে এ ধরনের পণ্য মধ্যম স্তরের নিচে অর্থাৎ প্রথম বা দ্বিতীয় নিম্ন স্তরে বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি, নির্দিষ্ট কোনো ব্র্যান্ডের সিগারেট বাজারে আগে থেকে যে দামে প্রচলিত ছিল, কোনো অবস্থাতেই তার চেয়ে কম মূল্যে তা বিক্রি করা যাবে না। প্রতিটি প্যাকেটের গায়ে শলাকার সঠিক সংখ্যা, নির্ধারিত খুচরা মূল্য এবং পণ্যের প্রকৃতি স্পষ্ট ও স্থায়ীভাবে ছাপানোর কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কারখানায় সঠিক শুল্ক আদায় ও রাজস্ব ফাঁকি রোধে কঠোর মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রতিটি সিগারেট উৎপাদনকারী কারখানায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভ্যাট কর্মকর্তা মোতায়েন করার জন্য সংশ্লিষ্ট মূসক কমিশনারদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আগের পুরোনো প্যাকেটের ওপর নতুন দামের সিল মেরে বাজারজাত করার সুযোগ রাখা হলেও ব্যান্ডরোলের জটিলতা এড়াতে দ্রুত নতুন মুদ্রিত মোড়ক ব্যবহারের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। কারখানার সমাপনী মজুদ এবং রাজস্ব হ্রাস-বৃদ্ধির তুলনামূলক হিসাব নির্দিষ্ট ছকে প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে নিয়মিতভাবে এনবিআরে পাঠাতে হবে।


‘বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত’

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

‘বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত’

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রাতরাশ বৈঠকে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্থানীয় সময় সকালে ম্যানহাটনে জেপি মর্গানের সদর দপ্তরে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে বিশ্বখ্যাত বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন যে বাংলাদেশ এখন ব্যবসার জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার সর্বাত্মক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। রাজনীতিতে আসার পূর্বের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি জানান যে আস্থার পরিবেশ এবং পূর্বানুমেয় নীতিই বিনিয়োগের প্রধান চালিকাশক্তি। আয়োজক প্রতিষ্ঠান জেপি মর্গান এবং উপস্থিত ব্যবসায়ীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে, উভয়ের লক্ষ্য ভিন্ন হলেও সাফল্যের মূলমন্ত্র মূলত একই সূত্রে গাঁথা।

দেশের বিশাল সম্ভাবনা তুলে ধরে সরকারপ্রধান জানান যে ১৮ কোটির বেশি জনসংখ্যার বাংলাদেশে একটি কর্মক্ষম তরুণ সমাজ এবং ক্রমবর্ধমান বাজার রয়েছে। ঐতিহ্যবাহী তৈরি পোশাক ও উৎপাদন খাতের বাইরেও জ্বালানি, অবকাঠামো, লজিস্টিকস, তথ্যপ্রযুক্তি, ডিজিটাল সেবা, জলবায়ু অর্থায়ন, কৃষি এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে বিনিয়োগের অপার ক্ষেত্র উন্মুক্ত রয়েছে। আগামী ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বর্তমান প্রশাসন। এই মহাযজ্ঞ বাস্তবায়নে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা সহজীকরণ, বিনিয়োগ সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ, কর প্রশাসন উন্নত করা এবং মুনাফা সহজে নিজ দেশে নেওয়ার মতো যুগান্তকারী পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে নতুন অংশীদারত্ব গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের আস্থাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে কোনো দেশ কেবল মুখের কথায় আকৃষ্ট হয় না, বরং বাস্তব নীতিমালা এবং তার কার্যকর প্রয়োগই মূল বিষয়। মূলধন স্থানান্তর থেকে শুরু করে মুনাফা ফেরতের সহজ প্রক্রিয়া এবং বিধিমালার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর বলে তিনি মন্তব্য করেন। স্বল্পমেয়াদি কোনো লক্ষ্য নয়, বরং উভয় পক্ষের দীর্ঘমেয়াদি সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার জন্য একটি শক্তিশালী অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে চায় বাংলাদেশ। ওয়াল স্ট্রিটের বৃহৎ প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে এসে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক বাজারে প্রবেশের আহ্বান জানান তিনি। সরকারের এই উদ্যোগগুলো সমন্বয় করার জন্য অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিশেষ সহকারী তানভীর গনি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী দেশটিতে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পুঁজি বিনিয়োগের আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে ব্যবসায়িক প্রতিবন্ধকতা দূর করতে এবং যেকোনো ধরনের গঠনমূলক পরামর্শ শুনতে তার প্রশাসন সবসময় প্রস্তুত রয়েছে। পরিশেষে, তিনি খুব শীঘ্রই যুক্তরাষ্ট্রের এই শীর্ষ ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের একটি প্রতিনিধিদলকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। বাংলাদেশের প্রথম সার্বভৌম বন্ড চালুর ক্ষেত্রে জেপি মর্গানের সহযোগিতার ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন যে এটি দেশের পুঁজিবাজারকে বৈশ্বিক কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই বৈঠকের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে বৈশ্বিক উৎপাদন ও সেবামূলক খাতের একটি শক্তিশালী কেন্দ্রে রূপান্তরের পথ আরও সুগম হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।