শেয়ার বাজার

ইরান-কিউবা ইস্যুতে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা চীনের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইরান-কিউবা ইস্যুতে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা চীনের

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এক উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে মার্কিন বিভিন্ন নীতির তীব্র সমালোচনা করেছে চীন। সম্প্রতি দেওয়া ভাষণে দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় বড় দেশগুলোকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে বৈশ্বিক নিয়মনীতি মেনে চলা এবং আইনের শাসন সমুন্নত রাখার ক্ষেত্রে পরাশক্তিগুলোর নেতৃত্ব দেওয়া উচিত। যদিও তিনি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের নাম উচ্চারণ করেননি, তবে তার বক্তব্যে ওয়াশিংটনের আন্তর্জাতিক নীতির প্রতি স্পষ্ট অসন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে চীনা এই শীর্ষ নেতা উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রতি গভীর সম্মান দেখানোর ওপর জোর দেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে কোনো ধরনের একতরফা সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের চেয়ে আলোচনার মাধ্যমেই সব বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান করা উচিত। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বলপ্রয়োগের নীতি পরিহার করে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সংলাপের টেবিলে বসার আহ্বান জানায় বেইজিং।

কিউবার ওপর দীর্ঘদিনের মার্কিন চাপ ও নিষেধাজ্ঞার কঠোর সমালোচনা করে হান ঝেং অবিলম্বে তা বন্ধের দাবি জানান। তিনি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতি কিউবার বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগের হুমকি অবিলম্বে বন্ধ করার এবং আরোপিত অবরোধ পুরোপুরি প্রত্যাহারের তাগিদ দেন। এর কিছু সময় পর রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভও কিউবার ওপর মার্কিন বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের জোরালো দাবি জানান এবং হাভানাকে সন্ত্রাসবাদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার আহ্বান জানান।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যকার বৈঠকের ঠিক পরপরই জাতিসংঘে বেইজিংয়ের এমন কঠোর অবস্থান বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ওয়াশিংটনে দুই নেতার শীর্ষ বৈঠকের সুনির্দিষ্ট কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনার রেশ কাটতে না কাটতেই জাতিসংঘে এই কূটনৈতিক দূরত্ব স্পষ্ট হলো। বিশেষ করে ইরান প্রসঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসন বেইজিংয়ের কাছ থেকে একধরনের আশ্বাস পাওয়ার দাবি করলেও, জাতিসংঘে চীনের উপসাগরীয় সার্বভৌমত্বের পক্ষে অবস্থান দুই দেশের ভিন্ন কৌশলই তুলে ধরে।

উন্নয়নশীল বিশ্বের অন্যতম বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে নিজেদের তুলে ধরে চীনা ভাইস প্রেসিডেন্ট বিশ্বমঞ্চে সমতার নীতির ওপর জোর দেন। তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ে বড় কিংবা ছোট—সব রাষ্ট্রই সমান মর্যাদার অধিকারী এবং বৈশ্বিক বিষয়গুলো পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমেই পরিচালিত হওয়া উচিত। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বেইজিং সব সময় বহুমেরুকরণ এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের পক্ষে অবস্থান নেবে বলেও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

ধর্ষণ ও সিইসি বিতর্কে দিল্লি উত্তাল, এর মধ্যেই ‘ভজন ক্লাবিং’-এ মোদি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ধর্ষণ ও সিইসি বিতর্কে দিল্লি উত্তাল, এর মধ্যেই ‘ভজন ক্লাবিং’-এ মোদি

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে যখন নারীদের নিরাপত্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে, ঠিক সেই সময়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম হয়েছে। সম্প্রতি দিল্লির দীনদয়াল উপাধ্যায় পার্কে ভারতীয় জনসংঘের নেতা দীনদয়াল উপাধ্যায়ের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে 'ভজন ক্লাবিং' নামক একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী তরুণ শিল্পীদের সঙ্গে খঞ্জনি বাজিয়ে এবং ভক্তিমূলক সংগীতের তালে তাল মিলিয়ে আনন্দ উপভোগ করেন, যার ভিডিও পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই 'ভজন ক্লাবিং' বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। প্রচলিত ভজনের সঙ্গে আধুনিক আলোর রোশনাই ও সমসাময়িক বাদ্যযন্ত্রের এই সংমিশ্রণকে আধ্যাত্মিকতা ও তরুণ সংস্কৃতির মিলন হিসেবে দেখছেন আয়োজকরা। ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে এটিকে ঐতিহ্য ও নতুন প্রজন্মের শক্তির চমৎকার মেলবন্ধন হিসেবে অভিহিত করেছে। দলটির নেতাদের মতে, আধুনিকতার ছোঁয়ায় তরুণদের মাঝে ভারতীয় সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিকতা ছড়িয়ে দেওয়ার এটি একটি অনন্য মাধ্যম।

তবে এই আয়োজনের সময় নির্বাচন ও নিরাপত্তা নিয়ে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিরোধীরা এর তীব্র সমালোচনা করেছেন। ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপসহ অনেকেই প্রধানমন্ত্রীর এই ব্যস্ততার টাইম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং দিল্লির একটি পার্কে ঘটে যাওয়া কিশোরী ধর্ষণের ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। সম্প্রতি দক্ষিণ দিল্লিতে এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার জেরে রাজধানীজুড়ে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে ব্যাপক বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সামাজিক উত্তেজনার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর এমন বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

একই সঙ্গে দেশের নির্বাচন কমিশনও বিরোধী দলগুলোর প্রবল চাপের মুখে রয়েছে। এসআইআর কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে কংগ্রেসসহ বিভিন্ন বিরোধী দল দেশজুড়ে আন্দোলন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছে। একদিকে নারী নিরাপত্তা এবং অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত রাজনৈতিক সংকটের এই যুগপৎ পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনার ঝড় বইছে।


ভৈরবে বগি লাইনচ্যুত, ঢাকা-সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ

প্রকাশিত: ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬

ভৈরবে বগি লাইনচ্যুত, ঢাকা-সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ

কিশোরগঞ্জের ভৈরব বাজার জংশনে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী ‘ঢাকা মেইল-২’ ট্রেনের একটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। এতে ঢাকা-সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে ভৈরব বাজার জংশন ছেড়ে কিছু দূর যাওয়ার পর এ দুর্ঘটনা ঘটে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকাল ৮টায় এ রিপোর্ট লেখো পর্যন্ত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এর ফলে আপ ও ডাউন উভয় লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় এই রুটের বিভিন্ন স্টেশনে একাধিক ট্রেন আটকা পড়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।

ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. ইউসুফ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনটি রাত ২টা ৫৫ মিনিটে ভৈরব বাজার জংশনে পৌঁছে কেবিন মাস্টারের কাছ থেকে সামনে অগ্রসর হওয়ার সংকেত পান। জংশন থেকে প্রায় ১৫০ মিটার অগ্রসর হওয়ার পর ইঞ্জিনের পরের চতুর্থ কোচটি লাইনচ্যুত হয়। এতে স্টেশনের আপ ও ডাউন উভয় লাইন বন্ধ হয়ে যায়।

দুর্ঘটনার পরপরই লাইন থেকে ট্রেন সরানোর কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। পরে আখাউড়া থেকে উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বর্তমানে উদ্ধার কাজ চলছে।


সাপের কামড়ে আইসিইউতে রাবি শিক্ষার্থী, প্রভোস্টের পদত্যাগ দাবিতে প্রশাসন ভবন ঘেরাও

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সাপের কামড়ে আইসিইউতে রাবি শিক্ষার্থী, প্রভোস্টের পদত্যাগ দাবিতে প্রশাসন ভবন ঘেরাও

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুজ্জোহা হলে ঘুমন্ত অবস্থায় এক শিক্ষার্থীকে কালাচ সাপে কাটার ঘটনা ঘটে। এই মারাত্মক দুর্ঘটনার পর হলের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে হল প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে সরব হন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবন ঘেরাও করে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং এর আগে হলের বিভিন্ন কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন। ক্যাম্পাসে এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে বলে আন্দোলনকারীরা অভিযোগ তোলেন। বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা হলের চারপাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কার ও কার্যকর স্নেক নেট স্থাপনের জোর দাবি জানান।

ঘটনার শিকার হওয়া ওই শিক্ষার্থীর নাম নুরনবী ইসলাম, যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী। ভোরের দিকে নিজের আবাসিক রুমের ভেতর ঘুমাচ্ছিলেন তিনি, ঠিক তখনই বিষাক্ত কালাচ সাপ তাঁকে দংশন করে। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে অ্যান্টিভেনম প্রদান করেন এবং পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে অর্থাৎ আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা চিকিৎসাধীন সহপাঠীর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা হলের নানা অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে পোস্টার ও লিফলেট প্রদর্শন করেন। তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে সিট বাণিজ্য বন্ধ, হলের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দূরীকরণ এবং খাবারের মান বাড়ানোর মতো বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়। হল সংসদের নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন যে, হলের ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও চারপাশের জঙ্গল পরিষ্কার রাখার জন্য বারবার তাগাদা দেওয়া হলেও প্রশাসন কোনো কর্ণপাত করেনি। অপর্যাপ্ত জনবল ও যন্ত্রপাতির অজুহাতে দীর্ঘদিন ধরে চলা এসব সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ না নেওয়ায় শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা মনে করছেন, প্রশাসনের এই উদাসীনতার কারণেই একজন শিক্ষার্থীকে মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। ছাত্র সংসদের নেতৃবৃন্দ মন্তব্য করেন যে, হলের মতো সুরক্ষিত জায়গায় যদি শিক্ষার্থীরা নিরাপদ না থাকে, তবে প্রশাসনের কার্যক্রম নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি হয়। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও ছাত্র উপদেষ্টা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালান। তবে সুনির্দিষ্ট ও স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস না পাওয়ায় শিক্ষার্থীরা তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অনড় অবস্থান ঘোষণা করেন।