শেয়ার বাজার

ফরজ গোসলের সঠিক নিয়ম

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফরজ গোসলের সঠিক নিয়ম

একজন মুমিনের ইবাদত কবুল হওয়ার জন্য শারীরিক পবিত্রতা অর্জন করা অত্যন্ত জরুরি একটি শর্ত। দৈনন্দিন জীবনে নানা কারণে ফরজ গোসলের প্রয়োজন হতে পারে, তবে অনেকেই এর সঠিক নিয়ম সম্পর্কে পুরোপুরি জানেন না। নিয়ম অনুযায়ী গোসল না করলে নামাজসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত আদায় হয় না এবং ব্যক্তি অপবিত্রই থেকে যান। ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী ফরজ গোসল সম্পন্ন করার জন্য কয়েকটি সুনির্দিষ্ট নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলা আবশ্যক।

ফরজ গোসল শুদ্ধ হওয়ার জন্য অপরিহার্য তিনটি কাজ রয়েছে যা কোনোভাবেই বাদ দেওয়া যাবে না। প্রথমে ভালোভাবে মুখ ভরে পানি নিয়ে গড়গড়া সহকারে কুলি করতে হবে, যাতে মুখের ভেতরে কোনো অংশ অপবিত্র না থাকে। এরপর নাকের নরম হাড় পর্যন্ত পানি পৌঁছানো ফরজ। সবশেষে মাথার চুল থেকে পায়ের তলা পর্যন্ত সম্পূর্ণ দেহের প্রতিটি অংশে পর্যাপ্ত পানি ভালোভাবে পৌঁছে দিতে হবে। এই তিনটি কাজের যেকোনো একটি বাদ পড়লে গোসল শুদ্ধ হবে না।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শ পদ্ধতি অনুসরণ করেই সবচেয়ে উত্তম উপায়ে ফরজ গোসল সম্পন্ন করা যায়। হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রথমে দুই হাত ধুয়ে নেওয়ার পর প্রয়োজনবোধে প্রস্রাব করে বীর্য বা অন্য কোনো অপবিত্রতা পুরোপুরি পরিষ্কার করে নিতে হবে। এরপর শরীরের গোপন অঙ্গ ধুয়ে নিয়ে নামাজের অজুর মতো একটি পূর্ণাঙ্গ অজু সম্পন্ন করতে হয়। তবে গোসলের স্থানে যদি পানি জমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তবে পা ধোয়ার কাজটি সবার শেষে করার নিয়ম রয়েছে।

অজু শেষ করার পর মাথায় তিনবার পানি ঢালতে হবে এবং শরীরের ডান অংশে ও পরে বাঁ অংশে পানি ঢেলে পুরো শরীর ভালোভাবে ধৌত করতে হবে। গোসলের সময় নাভির ভেতর, কানের ছিদ্র, বগল এবং আঙুলের ফাঁকে হাত দিয়ে ঘষে পানি পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে। পুরুষদের ক্ষেত্রে দাড়ি, গোঁফ ও চুলের গোড়ায় এবং নারীদের ক্ষেত্রে চুল খোলা থাকলে তা ভিজিয়ে নেওয়া ফরজ। এছাড়া শরীরে ব্যবহৃত আংটি, ঘড়ি বা নেইল পলিশ থাকলে তা সরিয়ে বা সরিয়ে পানি পৌঁছানো বাধ্যতামূলক। শরীরের একচুল পরিমাণ জায়গাও যদি শুকনো থেকে যায়, তবে গোসল অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।

যুক্তরাষ্ট্র রাজি হলেই শুরু হবে হরমুজ খোলার সাত দিনের পরিকল্পনা: আরাগচি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র রাজি হলেই শুরু হবে হরমুজ খোলার সাত দিনের পরিকল্পনা: আরাগচি

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়ে নিজেদের প্রস্তাবিত রূপরেখা নিয়ে মুখ খুলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথ সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে এবং ওয়াশিংটন এতে সায় দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার কাছে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন।

পরিকল্পনার সময়সীমা ও কার্যকারিতা নিয়ে বলতে গিয়ে আরাগচি জানান, যুক্তরাষ্ট্র যদি আগামীকালই এই প্রস্তাব মেনে নেয়, তবে ঠিক সেদিন থেকেই সাত দিনের ক্ষণগণনা শুরু হবে। এই এক সপ্তাহের সময়সীমার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে নির্দিষ্ট কিছু প্রাথমিক শর্ত বা পদক্ষেপ পূরণ করতে হবে, যা সম্পন্ন করতে বড়জোর চার থেকে পাঁচ দিন সময় লাগতে পারে বলে মনে করছে তেহরান।

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, এই শর্তগুলো সম্পূর্ণ নতুন কোনো বিষয় নয়, বরং উভয় পক্ষের মধ্যে আগে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের মধ্যেই এগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে এসব নিয়ম বাস্তবায়ন নিয়ে তেহরানের তরফ থেকে কোনো ধরনের জটিলতা বা আপত্তি থাকার প্রশ্নই ওঠে না। নির্ধারিত এই প্রাথমিক প্রক্রিয়া সফলভাবে শেষ হওয়ার পর, অর্থাৎ ষষ্ঠ দিনে প্রণালিটি চলাচলের জন্য পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে।

পরিকল্পনাটির শেষ বা সপ্তম দিনে দুই দেশের মধ্যে পরবর্তী রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক আলোচনা বসার কথা রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সদিচ্ছা এবং সমঝোতায় পৌঁছানোর আন্তরিকতা থাকলে এই সংকট দ্রুত সমাধান করা সম্ভব বলে মনে করেন ইরানের শীর্ষ এই কূটনীতিক।


শহীদ দিবসে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রশাসনের আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

শহীদ দিবসে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রশাসনের আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ

বার্তাবেলা ডেস্ক: ২১ ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন উপলক্ষে চট্টগ্রামের  রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত।

বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলা সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা স্বজন কুমার তালুকদার। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রায়হান মেহেবুব। 

বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মারজান হোসাইন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দেব প্রসাদ চক্রবর্তী, রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ওসি চন্দন কুমার চক্রবর্তী, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হিন্দুল বারী, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসান, রাঙ্গুনিয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি জিগারুল ইসলাম জিগার, সাবেক সভাপতি আকাশ আহমেদ, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মাসুদ নাসির, অর্থ ও দপ্তর সম্পাদক জগলুল হুদা, আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা শামিমা আক্তার, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার সুমন শর্মা প্রমুখ। সঞ্চালনা করেন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নিজাম উদ্দিন। পরে উপজেলার বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।


আতঙ্কে কয়েক হাজার মানুষ
দোয়ারাবাজারে সুরমার গ্রাসে মানচিত্র থেকে মুছে যাচ্ছে ইদনপুর-আজমপুর

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৬ মে, ২০২৬

দোয়ারাবাজারে সুরমার গ্রাসে মানচিত্র থেকে মুছে যাচ্ছে ইদনপুর-আজমপুর

মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ হেলালী

​সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা নদীর দক্ষিণ পাড়ে শুরু হয়েছে প্রকৃতির ভয়াবহ তাণ্ডব। রাক্ষুসী সুরমার করাল গ্রাসে মানচিত্র থেকে ক্রমশ বিলীন হতে চলেছে ইদনপুর ও আজমপুর সহ কয়েকটি গ্রাম। প্রতিদিন নদীর পেটে যাচ্ছে ফসলি জমি, ভিটেমাটি আর স্মৃতিবিজড়িত ঘরবাড়ি।

একদিকে সুরমার ভাঙন, অন্যদিকে নোয়াগাঁও খালের তীব্র ভাঙন— এই দুইয়ের সাঁড়াশি আক্রমণে এখন দিশেহারা কয়েক হাজার মানুষ। আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তায় নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর।

​সরেজমিনে দেখা যায়, সুরমা নদীর পাড়জুড়ে শুধু দীর্ঘশ্বাস। চোখের পলকেই নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে কৃষকের সারা জীবনের সম্বল। আবাদি জমি নদী গিলে ফেলায় প্রান্তিক কৃষকরা এখন ভূমিহীন হওয়ার পথে। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছর বর্ষা আসার আগেই ভাঙন তীব্র হয়, কিন্তু স্থায়ী কোনো সমাধান আজও মেলেনি।

​ইদনপুর গ্রামের মাস্টার নজির উদ্দিন ভাঙনের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে বলেন, 'আমাদের চোখের সামনে দুটি গ্রাম ছোট হয়ে আসছে। এভাবে চলতে থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ইদনপুর ও আজমপুর গ্রামের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে না। '

​একই আর্তনাদ শোনা গেল আজমপুর গ্রামের সিরাজ মিয়ার কণ্ঠে। তিনি বলেন, 'নদী তো শুধু মাটি নেয় না, আমাদের স্বপ্নগুলোও নিয়ে যাচ্ছে। বাড়িঘর সরিয়ে নেওয়ার মতো জায়গাও এখন আর অবশিষ্ট নেই।'

​শুধু সুরমা নদী নয়, মরার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে নোয়াগাঁও খালের ভাঙন। এই খালের ভাঙনে ইদনপুরসহ দক্ষিণ পাড়ের বাসিন্দারা চরম আতঙ্কে রয়েছেন। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে ড্রেজার দিয়ে এই খালে মাটি ভরাট করা এবং সুরমা নদীর পাড় রক্ষায় পরিকল্পিত ও টেকসই বাঁধ নির্মাণ করা এখন সময়ের দাবি।

​ইদনপুরের বাসিন্দা এখলাছুর রহমান রাজু ক্ষোভ ও আর্তি নিয়ে জানান নোয়াগাঁও খালের ভাঙন আমাদের আরও বেশি অসহায় করে তুলেছে। নদী আর খালের মাঝখানে আমরা যেন এক চিলতে দ্বীপে বন্দি হয়ে আছি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পুরো এলাকা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।' 

​এলাকাবাসী তাদের এই মানবিক বিপর্যয় থেকে বাঁচতে ছাতক-দোয়ারাবাজার আসনের সংসদ সদস্য ও জননেতা কলিমউদ্দিন আহমেদ মিলনের দ্রুত সুদৃষ্টি ও ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একইসাথে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের জরুরি পদক্ষেপ দাবি করেছেন তারা।

​এ বিষয়ে জানতে চাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (এসও) সাদ্দাম হোসেন জানান,

​'আমরা ভাঙনের তীব্রতা সম্পর্কে অবগত আছি। ইদনপুর ও আজমপুর এলাকার বর্তমান পরিস্থিতি এবং নদী ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। বরাদ্দ ও নির্দেশনা পেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।'

​তবে সরকারি প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা কাটিয়ে দ্রুত কাজ শুরু না হলে, নদীপাড়ের এই প্রাচীন জনপদগুলো কেবল ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই নেবে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল। দোয়ারাবাজারের এই বিপন্ন মানুষের এখন একটাই চাওয়া— ভিটেমাটি আঁকড়ে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা।