শেয়ার বাজার

এফবিআইয়ের বিশাল তথ্যভাণ্ডার হ্যাক, নিরাপত্তার পাহারাদারই এখন নিরাপত্তাহীন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এফবিআইয়ের বিশাল তথ্যভাণ্ডার হ্যাক, নিরাপত্তার পাহারাদারই এখন নিরাপত্তাহীন

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা এফবিআইয়ের সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের আঘাত হানার ঘটনা ঘটেছে। শাইনি হান্টার্স নামের একটি সাইবার অপরাধী গোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্রের এই গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার সিস্টেমে অবৈধভাবে প্রবেশ করে বিপুল পরিমাণ স্পর্শকাতর তথ্য হাতিয়ে নিয়েছে। এই বিশাল নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনায় সংস্থাটির বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক এবং উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে যারা গোপন পরিচয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল দায়িত্ব পালন করেন, তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

হ্যাক হওয়া তথ্যের মধ্যে হাজার হাজার এজেন্টের পরিচয়, ব্যক্তিগত ঠিকানা, যোগাযোগের নম্বর এবং অত্যন্ত গোপনীয় চিকিৎসা সংক্রান্ত রেকর্ড রয়েছে। এমনকি সংস্থার বহু জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও বিশেষ এজেন্টের রক্ত পরীক্ষার ফলসহ নানা শারীরিক জটিলতার তথ্যও হ্যাকারদের কবলে পড়েছে বলে জানা গেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির পক্ষ থেকে এই তথ্যের কিছু নমুনা যাচাই করে সেগুলোর সত্যতা মিলেছে। সাইবার অপরাধীরা হুমকি দিয়েছে যে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাদের দাবি মানা না হলে এই সমস্ত গোপন নথি ও ডেটাবেস উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

চুরি যাওয়া এই ব্যক্তিগত তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে পড়লে শত্রুপক্ষের হ্যাকার ও অপরাধী চক্রগুলো তা অপব্যবহার করার সুযোগ পাবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর মাধ্যমে বিশ্বাসযোগ্য ফিশিং বার্তা তৈরি, প্রতারণা কিংবা এজেন্টদের সরাসরি লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে হয়রানি করার ঝুঁকি বহুলাংশে বেড়ে গেছে। এছাড়া অনলাইনে সক্রিয় বিভিন্ন অপরাধী চক্র ভুয়া তথ্য দিয়ে সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীকে কোনো এজেন্টের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়ার মতো সহিংস ঘটনাও ঘটাতে পারে। বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের প্রভাবিত বা নিয়োগ করার চেষ্টা করতে পারে বলেও জোরালো আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ এই আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার এমন নগ্ন নিরাপত্তা ত্রুটি নিয়ে অভ্যন্তরীণ মহলে ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অপরাধী গোষ্ঠীটি এবার কোনো আর্থিক দাবি না জানিয়ে মূলত এফবিআইয়ের প্রকাশিত একটি পরামর্শমূলক নোট প্রত্যাহারের দাবি তুলেছে। মার্কিন তদন্ত সংস্থাটি জানিয়েছে যে তারা পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং কীভাবে এই নিরাপত্তা বেষ্টনী ভাঙল তা উদ্ঘাটনে জোরালো তদন্ত চলছে। তবে এই আকস্মিক ও বড় ধরনের সাইবার হামলার ফলে সৃষ্ট দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি এবং জাতীয় নিরাপত্তার সংকট কীভাবে মোকাবিলা করা হবে, তা নিয়ে এখনও বড় ধরনের অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

৭ কোটি টাকার সেতু নির্মাণে রডের বদলে তার, দুই কর্মকর্তা সাসপেন্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

৭ কোটি টাকার সেতু নির্মাণে রডের বদলে তার, দুই কর্মকর্তা সাসপেন্ড

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় প্রায় সাত কোটি টাকা ব্যয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পে রডের পরিবর্তে জিআই তার এবং নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের সত্যতা মিলেছে। কাজ শুরুর পর থেকেই নানা অনিয়মের কথা জানিয়ে আসছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি এবং রাতের আঁধারে নিম্নমানের কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রবণতার কারণে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে। দিনের আলোতে ফুটপাতের স্ল্যাব ও রেলিংয়ের ওপর মানুষের পা পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেগুলো ভেঙে পড়তে শুরু করে। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে বারবার মৌখিক অভিযোগ দেওয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরার পরও কাজের মানে কোনো স্থায়ী পরিবর্তন আসেনি। সেতুটির নির্মাণকাজ নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং এর স্থায়ীত্ব নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দেয়।

প্রকল্পের তথ্যানুযায়ী, বেগমগঞ্জ উপজেলার জমিদারহাট এলাকায় ৪৯ দশমিক শূন্য ছয় মিটার দীর্ঘ এই আরসিসি সেতুর নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে। মেসার্স হক ট্রেডার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পেয়েছিল, যা মূলত সেনবাগ পৌর আওয়ামী লীগের এক নেতার লাইসেন্সে পরিচালিত হচ্ছিল। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ঠিকাদার সরাসরি কাজের মাঠে উপস্থিত না থেকে তার চাচাতো ভাইয়ের মাধ্যমে কাজটি করিয়ে আসছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, দিনের বেলা কাজ বন্ধ রেখে রাতের অন্ধকারে অত্যন্ত নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে স্ল্যাব ও রেলিংয়ের কাজ সম্পন্ন করা হতো। ফলে সামান্য চাপেই সেতুটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়তে শুরু করে এবং এর দুর্বল অবকাঠামো সবার নজরে আসে। স্থানীয়রা এই অনিয়মের প্রতিবাদ জানালে ঠিকাদারের লোকজন তা আমলে নেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার গুরুতরতা অনুধাবন করে এলজিইডির নোয়াখালী কার্যালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা সরেজমিনে সেতুটি পরিদর্শন করেন। নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ফুটপাত ও রেলিংয়ের কাজে ব্যাপক ত্রুটি এবং নকশা বহির্ভূত কার্যক্রম দেখতে পান। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতেই ত্রুটিপূর্ণ ও নিম্নমানের স্ল্যাবগুলো হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে অপসারণ করা হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে আগামী সাত দিনের মধ্যে নকশা ও স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী সমস্ত ত্রুটি সংশোধন করে লিখিতভাবে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুরো ঘটনার একটি নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে, যাদের তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

এই অনিয়মের দায়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। এলজিইডির এক প্রকৌশলীকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে উপসহকারী প্রকৌশলী এবং ওয়ার্ক অ্যাসিস্ট্যান্ট পদমর্যাদার ব্যক্তিরা রয়েছেন। অন্যদিকে, অভিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে কাজের কিছু ত্রুটি ধরা পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রকৌশলীদের উপস্থিতিতে তা সংশোধন বা ভেঙে ফেলা হয়েছে। তবে সরকারি অর্থে নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে এমন গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করা হচ্ছে।


রাজশাহীতে মুদি দোকান পোড়ানোর পর দোকানিকে কুপিয়ে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

রাজশাহীতে মুদি দোকান পোড়ানোর পর দোকানিকে কুপিয়ে হত্যা

রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া থানার বাকির মোড় এলাকায় চাঞ্চল্যকর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। খুচরা টাকা ভাঙিয়ে দিতে অস্বীকার করার জেরে আবদুল বারী (৪০) নামের এক মুদি দোকানিকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এর আগে হামলাকারীরা পেট্রল বোমা নিক্ষেপ করে তার দোকানটি সম্পূর্ণ পুড়িয়ে দেয়। এই ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ও শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। নিহত আবদুল বারী ওই এলাকারই বাসিন্দা বদরুল সরকারের ছেলে ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে সততার সঙ্গে মুদি ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত হয় মূলত হত্যাকাণ্ডের দিন সন্ধ্যার পর। ওই সময় নগরীর চণ্ডিপুর এলাকা থেকে কিছু বখাটে যুবক বাকির মোড় এলাকায় মাদক সেবনের উদ্দেশ্যে আসে। তারা আবদুল বারীর দোকানে খুচরা টাকা ভাঙানোর জন্য গেলে তিনি তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এর জেরে দোকানির সঙ্গে যুবকদের কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা হলেও বখাটেরা প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করে এবং এর মারাত্মক পরিণতি হিসেবে গভীর রাতে এই হামলা চালানো হয়।

পূর্বপরিকল্পনার অংশ হিসেবে রাত পৌনে দুইটার দিকে অর্ধশতিকারও বেশি মানুষের একটি দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও পেট্রল বোমা নিয়ে আবদুল বারীর দোকানের সামনে জড়ো হয়। হামলাকারীরা প্রথমে বারীর বাড়ির সামনে অবস্থিত মুদি দোকানের শাটারের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর পেট্রল বোমা মেরে দোকানটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়, যা মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের লেলিহান শিখা ও শব্দ শুনে বারী ও তার পরিবারের সদস্যরা ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন এবং চিৎকার শুরু করেন।

পরিবারের সদস্যরা টের পাওয়ার পর হামলাকারীরা সরাসরি আবদুল বারীকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে রাজপাড়া থানা পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ বিষয়ে রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পুলিশ এই ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে এবং মামলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এজাহার দাখিলের পর অভিযুক্তদের গ্রেফতারে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হবে বলে এই পুলিশ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।


সড়কে রহস্যময় ঘটনা, ‘ভূত-জ্বীন’ থেকে বাঁচতে মিলাদ মাহফিল

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সড়কে রহস্যময় ঘটনা, ‘ভূত-জ্বীন’ থেকে বাঁচতে মিলাদ মাহফিল

পাবনার চাটমোহর উপজেলার কাটেঙ্গা ভাঙ্গা মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় সম্প্রতি বেশ কিছু অদ্ভুত ও রহস্যজনক ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গত কিছুদিন ধরে ওই তিন মাথার মোড়ে রাতেরবেলা নানা ধরনের অস্বাভাবিক দৃশ্য চোখে পড়ছে। কখনো সাপ বা বিড়াল আকস্মিক সামনে চলে আসার পর মুহূর্তে তা মিলিয়ে যাচ্ছে, আবার কখনো অদ্ভুত কোনো শব্দ শোনা যাচ্ছে। এমন সব আকস্মিক ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা গুঞ্জন শুরু হয়।

এই রহস্যের সূত্রপাত হয় যখন রাতে এক ব্যক্তিকে রাতের অন্ধকারে কোনো অজানা বস্তু পাশের একটি পুকুরে ফেলে দেয়। ওই ব্যক্তির আর্তচিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে পুকুরের পানি থেকে জীবিত উদ্ধার করেন। এরপর থেকেই মূলত এলাকাবাসীর মনে ভূতুড়ে বা জ্বীনের আছর থাকার বিশ্বাস জোরালো হয়। সাধারণ মানুষের চলাচলও ওই সড়কে রাতেরবেলা কমে যায়, কারণ অজানা এই আতঙ্কে অনেকেই ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছিলেন।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এবং গ্রামবাসীর ভয় দূর করতে শেষ পর্যন্ত উদ্যোগী হন স্থানীয় মুরব্বিরা। এলাকার মানুষের কাছ থেকে চাল ও ডাল সংগ্রহ করে শনিবার রাতে একটি বিশেষ মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। সেখানে প্রায় ছয়শতাধিক নারী, পুরুষ ও শিশু স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। মাহফিল শেষে উপস্থিত সকলের মাঝে খিচুড়ি তবারক বিতরণ করা হয় এবং সবাই নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যান।

স্থানীয় বাসিন্দা ইসমাইল জানান, ভূত বা এ জাতীয় অবাস্তব কিছুতে বিশ্বাস না থাকলেও জ্বীনের অস্তিত্ব থাকতে পারে বলে তারা মনে করেন। তাই ইসলামী শরিয়তের বিধান অনুযায়ী মিলাদ ও দোয়া মাহফিল করে আল্লাহর দরবারে এই বিপদ থেকে মুক্তির আকুতি জানানো হয়েছে। এদিকে স্থানীয়দের এই কর্মকাণ্ড নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই হাস্যরস ও ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও তৈরি করায় বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নতুন করে আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে ইসলামী চিন্তাবিদ মুফতি মোহাম্মদ মফিজ উদ্দিন স্পষ্ট করে জানান যে, সমাজে প্রচলিত ভূতের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। তবে পবিত্র কোরআনের আলোকে বদজ্বীনের প্রভাব বা আছর থাকার বিষয়টি অস্বীকার করা যায় না। তিনি উল্লেখ করেন যে, এ ধরনের অদৃশ্য ভয় বা বদজ্বীন থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য পবিত্র কোরআনে সুনির্দিষ্ট দোয়া ও সুরক্ষার বিধান রয়েছে যা পাঠ করলে মানুষ নিরাপদ থাকতে পারে।