শেয়ার বাজার

এআই শিক্ষার নতুন পাঠ চীনা স্কুলে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এআই শিক্ষার নতুন পাঠ চীনা স্কুলে

প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে তাল মেলাতে চীনের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই বিষয়ের পাঠদান শুরু হয়েছে। সম্প্রতি শুরু হওয়া শরৎকালীন শিক্ষাবর্ষ থেকেই দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই আধুনিক প্রযুক্তির পাঠ্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ভবিষ্যতের পড়ালেখা ও কর্মক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে তুলতে এই উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির শিক্ষা প্রশাসন। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কেবল এআই প্রযুক্তির ব্যবহারই শেখানো হচ্ছে না, বরং এই প্রযুক্তির দেওয়া তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং সঠিক প্রশ্ন করার কৌশলও শেখানো হচ্ছে।

নতুন এই পাঠ্যক্রমের অংশ হিসেবে ব্যবহারিক ক্লাসে শিক্ষার্থীরা নিজেরাই ছোটখাটো প্রোগ্রাম তৈরি এবং ছবি শনাক্তকরণের মতো কাজ হাতে-কলমে শিখছে। পূর্ব চীনের চিয়াংসু প্রদেশের নানচিং কেলিহুয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এমন একটি ক্লাসে শিক্ষার্থীদের ট্যাবলেট ব্যবহার করে বুদ্ধিমান বিক্রয়যন্ত্রের কার্যপ্রণালি তৈরি করতে দেখা গেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পেছনের কার্যক্রম ও বিপুল পরিমাণ প্রশিক্ষণ তথ্যের ধারণা শিক্ষার্থীদের মাঝে পরিষ্কার করতে এই ধরনের বাস্তবমুখী কার্যক্রম বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখছে। বারবার ভুল সংশোধন করার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তিগত কাজের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করছে।

শুধু তথ্যপ্রযুক্তির ক্লাস নয়, বরং ভাষা ও ভূগোলের মতো নিয়মিত পাঠ্যকালেও এআই প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে। বেইজিং ন্যাশনাল ডে স্কুলের বিভিন্ন ক্লাসে শিক্ষার্থীরা প্রাচীন সেতু সম্পর্কে তথ্য খোঁজা কিংবা সম্পদনির্ভর শহরের অর্থনৈতিক পরিবর্তন বিশ্লেষণে এআইয়ের সহায়তা নিচ্ছে। তবে প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে, যাতে শিক্ষার্থীরা অন্ধভাবে প্রযুক্তির ওপর নির্ভর না করে প্রথমে নিজেরা চিন্তা করতে পারে। চীনের বিভিন্ন প্রাদেশিক অঞ্চল ইতোমধ্যে নিজস্ব পাঠ্যক্রম নির্দেশিকা তৈরি করেছে এবং চিয়াংসু প্রদেশে এটি পুরোপুরি চালু হয়েছে।

পড়াশোনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অন্তর্ভুক্তি দেশের শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। শানতোং প্রদেশে বাধ্যতামূলক শিক্ষার অংশ হিসেবে প্রথম শ্রেণি থেকেই নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্লাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত ঐচ্ছিক বিষয় হিসেবেও চালুর সুযোগ রাখছে। দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আগামী দিনে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের সামগ্রিক পাঠ্যক্রমের সঙ্গে এআই শিক্ষাকে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করা হবে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও অনুন্নত অঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতে এআই শিক্ষা কেন্দ্রগুলোকে শক্তিশালী করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।

বাকৃবির ১০ তলা হলে এক বছরেও চালু হয়নি লিফট, চরম ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বাকৃবির ১০ তলা হলে এক বছরেও চালু হয়নি লিফট, চরম ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

আবাসন সংকট সমাধানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মিত দশতলা বেগম খালেদা জিয়া হলের কার্যক্রম চালুর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো লিফট সচল করা হয়নি। তিন শতাধিক ছাত্রী নিয়ে এই হলের যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে সেখানে পাঁচ শতাধিক আবাসিক শিক্ষার্থী বসবাস করছেন। ফলে প্রতিদিন দশতলা ভবনের সিঁড়ি বেয়ে ওঠানামা করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে ক্লাসের ফাঁকে রুমে ফেরা, খাবার সংগ্রহ করা এবং অসুস্থ শিক্ষার্থীকে জরুরিভিত্তিতে নিচে নামানোর মতো প্রয়োজনীয় কাজগুলোতে মারাত্মক জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ভবনটির উদ্বোধন হওয়ার পর গত বছর এবং চলতি বছরের বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থীদের সেখানে আবাসন বরাদ্দ দেওয়া হয়। বর্তমানে মোট পাঁচ শতাধিক ছাত্রী এই হলের বিভিন্ন তলায় অবস্থান করছেন। কিন্তু লিফট না থাকায় প্রতিদিনের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় তাদের বড় ধরনের বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। ক্লাসের ফাঁকে পর্যাপ্ত বিরতি থাকলেও দশতলা থেকে নিচে নামার ঝক্কির কারণে অনেক শিক্ষার্থী রুমে ফিরতে পারেন না। এছাড়া তত্ত্বীয় ও ব্যবহারিক ক্লাসের সময় ভিন্ন হলে দিনে একাধিকবার সিঁড়ি বেয়ে ওঠানামা করতে হয়, যা তাদের শারীরিক ক্লান্তি আরও বাড়িয়ে দেয়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দশতলা ভবনে লিফটের ব্যবস্থা না থাকায় তাদের প্রতিদিনের রুটিন বেশ দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এমনকি নিচতলার ক্যান্টিন থেকে খাবার সংগ্রহ করা কিংবা জরুরি পরিস্থিতিতে রান্নার কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় তাদের নানা ধরনের খাদ্য সংকটের মুখোমুখি হতে হয়। হলটিতে ছুটির দিনগুলোতে খাবার সংগ্রহ করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। কোনো শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সিঁড়ি দিয়ে নামিয়ে হাসপাতালে নেওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়ায় বলে তারা জানান।

শিক্ষার্থীদের এই চরম ভোগান্তির বিষয়ে হল কর্র্তৃপক্ষ ও প্রশাসন অবগত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। হলের প্রভোস্ট জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের কষ্টের বিষয়টি তারা অনুধাবন করতে পারছেন এবং উপাচার্যের নির্দেশনায় দ্রুত সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের সাথে একাধিক বৈঠক করা হয়েছে এবং লিফট চালুর কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। খুব শীঘ্রই অন্তত একটি লিফট চালু করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী অফিস জানিয়েছে, জাপানি প্রযুক্তির লিফট স্থাপনের মূল কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে এবং বর্তমানে তা পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করে খুব শীঘ্রই পুরোপুরি সচল করা হবে এই লিফট। কর্তৃপক্ষের এমন আশ্বাসের পর শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ থেকে দ্রুত মুক্তি পাওয়ার প্রতীক্ষায় রয়েছেন।


জাতিসংঘেও কালো সানগ্লাস পরে ভাষণ দিলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী, কিন্তু কেন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জাতিসংঘেও কালো সানগ্লাস পরে ভাষণ দিলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী, কিন্তু কেন

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত বৈশ্বিক সংকট নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। তবে তাঁর নাতিদীর্ঘ এই ভাষণের মূল বিষয়বস্তুর পাশাপাশি বিশ্বমঞ্চে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয় তাঁর চোখে থাকা একটি কালো সানগ্লাস। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সাধারণত কমাণ্ডিং ও আনুষ্ঠানিক পোশাকের রীতি থাকলেও, নেপালের এই শীর্ষ নেতা তাঁর চিরচেনা স্টাইল বজায় রেখে কালো স্যুট এবং ঐতিহ্যবাহী নেপালি টুপির সঙ্গে কালো চশমা পরেই পোডিয়ামে দাঁড়িয়েছিলেন। জনসমক্ষে তাকে খুব কম সময়ই এই চশমা ছাড়া দেখা যায় এবং নিউইয়র্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মঞ্চেও তিনি এই পরিচিত রূপটিই ধরে রাখেন।

জাতিসংঘের সেই সাধারণ অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে বালেন্দ্র শাহ বিশ্বনেতাদের সামনে জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাব তুলে ধরে জোরালো বক্তব্য রাখেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে জলবায়ু সংকট কোনো ভৌগোলিক সীমান্ত মেনে চলে না এবং এর বিরূপ প্রভাব উন্নয়নশীল দেশগুলোকে অসমভাবে ও নির্মমভাবে সহ্য করতে হচ্ছে। সম্প্রতি নেপালে ঘটে যাওয়া হিমবাহ ধসের ফলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যার প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান যে এই মর্মান্তিক বিপর্যয় কেবল একটি দেশের একক সমস্যা নয়, বরং এটি সমগ্র পৃথিবীর জন্যই এক স্পষ্ট সতর্কবার্তা। এরপর তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি কড়া বার্তা দিয়ে জলবায়ুজনিত দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত স্বল্পোন্নত দেশগুলোর পুনর্বাসন ও পুনরুদ্ধারে জরুরি ভিত্তিতে পর্যাপ্ত অর্থায়নের জোরালো দাবি জানান।

নেপালের প্রভাবশালী গণমাধ্যম দ্য কাঠমান্ডু পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, বালেন্দ্র শাহ অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে জনসম্মুখে এই স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিচিতি ও ইমেজ গড়ে তুলেছেন। বিদেশি কূটনীতিক ও রাষ্ট্রদূতোদের সঙ্গে বৈঠক কিংবা আনুষ্ঠানিক কোনো রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে তিনি নিয়মিতই এই সানগ্লাস পরে উপস্থিত হন। তবে মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক কিংবা ঘরোয়া ব্যক্তিগত আলোচনায় তিনি এই চশমা খুলে রাখেন বলে জানা গেছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবেশ করার আগে তিনি একজন জনপ্রিয় র‍্যাপার এবং পরবর্তীতে কাঠমান্ডু মহানগরের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সেই সময় থেকেই জনসম্মুখে তাঁর এই সানগ্লাস পরিধানের অভ্যাস তরুণ প্রজন্ম ও সাধারণ মানুষের মাঝে তাঁর প্রথা ভাঙার স্বাধীন চেতনার প্রতীক হিসেবে খ্যাতি লাভ করে।

রাজনীতির মাঠে এই সানগ্লাস পরা নিয়ে এর আগে নেপালের জাতীয় সংসদেও বেশ ভালো রকমের বিতর্ক ও সমালোচনা তৈরি হয়েছিল। রাজনৈতিক বিরোধীরা তাঁর এই আচরণকে ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও শিষ্টাচারবহির্ভূত বলে আখ্যায়িত করলে তিনি চিকিৎসকের ছাড়পত্র ও মেডিকেল রিপোর্ট স্পিকারের দপ্তরে জমা দেন। চিকিৎসকদের মতে, চোখের একটি বিশেষ চিকিৎসাজনিত সমস্যার কারণে তাঁকে সব সময় এই সানগ্লাস পরে থাকতে হয় এবং এ বিষয়ে তাঁর আনুষ্ঠানিক অনুমোদনও রয়েছে। মূলত রাজনৈতিক ইমেজের পাশাপাশি এই শারীরিক বাধ্যবাধকতার কারণেই তিনি বিশ্বমঞ্চ থেকে শুরু করে সব ধরনের কূটনৈতিক বৈঠকে সানগ্লাসটি ব্যবহার করে আসছেন।

নেপালের এই নেতার সংবাদ সম্মেলন বা টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে কথা বলার প্রবণতা খুবই কম, তিনি মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমেই সরাসরি জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। ফলে তাঁর এই কালো সানগ্লাসটি ধীরে ধীরে তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ব্র্যান্ডের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। এমনকি দেশটির জনপ্রিয় অনলাইন মার্কেটপ্লেসে তাঁর ব্যবহারের আদলে তৈরি বিশেষ মডেলের সানগ্লাসও বিক্রি হয়, যা তরুণ প্রজন্মের কাছে দারুণ ফ্যাশন আইটেম হিসেবে সমাদৃত। এই সমস্ত ভিন্নধর্মী বৈশিষ্ট্য মিলিয়ে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এক অন্যতম আলোচিত ও কৌতূহলোদ্দীপক ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছেন।


সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ

রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকায় জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের নিজস্ব স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে দশটার দিকে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে বলে জানা গেছে। স্টুডিওর মালিক ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, মোটা অঙ্কের চাঁদা দেওয়ার দাবি অস্বীকার করায় ক্ষিপ্ত হয়ে এই হামলা চালানো হয়। ঘটনার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে অনলাইন এবং সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের দাবি অনুযায়ী, বিএনপি পরিচয়ে একটি পক্ষ তার কাছে চাঁদা দাবি করেছিল। তিনি সেই অবৈধ চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় প্রতিশোধ হিসেবে তার কর্মস্থলে এই ভাঙচুর চালানো হয়। ঘটনার পরপরই মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন এই কনটেন্ট ক্রিয়েটর। ওই ভিডিওর শুরুতে তিনি বিষয়টি সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টিগোচর করার চেষ্টা করেন এবং সমগ্র ঘটনার বিবরণ দিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ উত্থাপন করেন।

স্টুডিওর দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তার বর্ণনা মতে, ঘটনার রাতে হঠাৎ করেই প্রায় একশ থেকে দেড় শ মানুষের একটি দল অতর্কিতভাবে কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করে। হামলাকারীদের অনেকের হাতেই ধারালো অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। প্রাণভয়ে আতঙ্কিত কর্মীরা যখন শৌচাগারে গিয়ে নিজেদের লুকিয়ে ফেলেন, তখন হামলাকারীরা সেখানেও প্রবেশ করে। অস্ত্র দেখিয়ে তাদের জিম্মি করে মোবাইল ফোন এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

পরে প্রকাশিত বিভিন্ন দৃশ্যে দেখা যায়, স্টুডিওর ভেতরে থাকা দামি ক্যামেরা, বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম এবং মূল্যবান আসবাবপত্র সম্পূর্ণ ভাঙচুর করা হয়েছে। কার্যালয় থেকে অনেক জিনিসপত্র লুটপাট করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এদিকে এই ঘটনার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্য কিছুটা ভিন্ন। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মূলত জায়গা দখলকে কেন্দ্র করে ইসিবি চত্বরের ওই কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

এ বিষয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন গণমাধ্যমকে জানান, জায়গা দখলের বিরোধকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় একটি অফিসে হামলার সংবাদ পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে একটি ছোরাসহ দুজনকে আটক করা হয়েছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পক্ষের পক্ষ থেকে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।