শেয়ার বাজার

এআই দিয়ে বার্তা পাঠিয়ে জালিয়াতি: ইতালির শীর্ষ ব্যাংক থেকে কোটি কোটি ইউরো গায়েব

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এআই দিয়ে বার্তা পাঠিয়ে জালিয়াতি: ইতালির শীর্ষ ব্যাংক থেকে কোটি কোটি ইউরো গায়েব

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে অভিনব কায়দায় ইতালির একটি শীর্ষস্থানীয় ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। ব্যাংকটির এক শীর্ষ নির্বাহীকে প্রতারকরা কৃত্রিমভাবে তৈরি করা কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে বার্তা পাঠিয়ে এই বিশাল অংকের অর্থ সরিয়ে নিয়েছে। প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের এই যুগে অপরাধীরা এখন অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও ধ্বংসাত্মক উপায়ে সাইবার হামলা চালাচ্ছে, যা ব্যাংকিং খাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য এক নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

তদন্তে জানা গেছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সংঘবদ্ধ চক্রটি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর কণ্ঠস্বর হুবহু অনুকরণ করতে এআই প্রযুক্তির সহায়তা নেয়। ওই আইনজীবীর পরিচয় ও কণ্ঠ নকল করে ব্যাংকের নির্বাহীর কাছে অত্যন্ত জরুরি ও গোপনীয় একটি বড় ধরনের অধিগ্রহণ চুক্তির কথা বলা হয়। স্বাভাবিকভাবেই ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তা এই বার্তাকে সম্পূর্ণ বিশ্বাসযোগ্য বলে ধরে নেন এবং কোনো রকম সন্দেহ পোষণ না করেই লেনদেন সম্পন্ন করার নির্দেশ প্রদান করেন।

প্রতারক চক্রটি ব্যাংকের ভেতরের কর্মপ্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পারস্পরিক যোগাযোগের ধরন সম্পর্কে আগে থেকেই বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেছিল। অত্যন্ত সুপরিকল্পিত এই হামলায় তারা এমন কিছু কৌশল অবলম্বন করে যা ব্যাংক কর্মকর্তাদের স্বাভাবিক যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়াকে পাশ কাটিয়ে যেতে সক্ষম হয়। ফলে মুহূর্তের মধ্যে কোটি কোটি ইউরো ব্যাংক থেকে অন্য হিসাবে স্থানান্তরিত হয়ে যায় এবং অপরাধীরা সহজেই ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যায়।

এই ঘটনার পর ইতালির ব্যাংকসহ গোটা আর্থিক খাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই প্রযুক্তির এমন অপব্যবহার রোধে ব্যাংকগুলোকে তাদের অভ্যন্তরীণ অনুমোদন প্রক্রিয়া আরও কঠোর করতে হবে এবং বায়োমেট্রিক বা বহুস্তরীয় যাচাইকরণ পদ্ধতি নিশ্চিত করা জরুরি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতিমধ্যে এই চক্রটিকে চিহ্নিত করতে এবং পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে জোরদার তদন্ত পরিচালনা করছে।

মাদ্রাসার ছাদে ‘বিদ্যুতায়িত হয়ে’ দগ্ধ ৫ শিক্ষার্থী হাসপাতালে, সবার অবস্থা গুরুতর

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মাদ্রাসার ছাদে ‘বিদ্যুতায়িত হয়ে’ দগ্ধ ৫ শিক্ষার্থী হাসপাতালে, সবার অবস্থা গুরুতর

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি আবাসিক মাদ্রাসার ছাদে খেলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পাঁচ শিশু শিক্ষার্থী মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছে। সম্প্রতি বিকেলে ফতুল্লার কাশিপুর হাজীপাড়া এলাকার মাহেলা খাতুন বালিকা মাদ্রাসায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। আহত শিশুদের দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীতে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তাঁরা সবাই জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

দগ্ধ হওয়া শিক্ষার্থীরা সবাই ওই মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্রী এবং বিভিন্ন শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। আহতরা হলো ষষ্ঠ শ্রেণির জিদনী, চতুর্থ শ্রেণির লামিয়া আক্তার শাপলা, সপ্তম শ্রেণির সুমাইয়া আক্তার, তৃতীয় শ্রেণির আসিয়া আক্তার আফরোজা এবং চতুর্থ শ্রেণির আতিয়া। ঘটনার দিন বিকেলে পড়াশোনার ফাঁকে তারা সবাই মিলে তিনতলা মাদ্রাসা ভবনের ছাদে খেলাধুলা করতে গিয়েছিল। হঠাৎ ছাদ থেকে কোনো একটা বিকট শব্দ শুনতে পেয়ে মাদ্রাসার লোকজন দ্রুত উপরে ছুটে যান।

মাদ্রাসার ক্যাশিয়ার মো. ইউসুফ আলী জানান, ছাদে গিয়ে তাঁরা দেখতে পান শিশুরা আগুনে ঝলসে যাওয়ার পর যন্ত্রণায় ছটফট করছে। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার তীব্রতা বিবেচনা করে তাদের দ্রুত জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। দগ্ধ শিশুদের ভাষ্যমতে, ছাদে খেলার সময় হঠাৎ করেই তাদের শরীরে আগুন ধরে যায়, তবে ঠিক কীভাবে এই ঘটনা ঘটল তা তারা স্পষ্ট করে বলতে পারেনি।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওই মাদ্রাসা ভবনের ছাদের ঠিক ওপর দিয়েই উচ্চক্ষমতার বৈদ্যুতিক তার চলে গেছে। মাদ্রাসার কর্তাব্যক্তিদের ধারণা, ছাদের ওপর থাকা ওই বিপজ্জনক বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে আসায় শিশুগুলো বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দগ্ধ হয়েছে। এদিকে, জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. সুলতান মাহমুদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে দগ্ধ হওয়া পাঁচ শিশুর অবস্থাই অত্যন্ত গুরুতর। চিকিৎসকরা তাঁদের জীবন বাঁচাতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং জরুরি বিভাগে নিবিড় পর্যবেক্ষণ রাখা হয়েছে।


হাজারীবাগে কিশোরী হত্যাকাণ্ড: মূল সন্দেহভাজন সিয়াম আটক

প্রকাশিত: ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

হাজারীবাগে কিশোরী হত্যাকাণ্ড: মূল সন্দেহভাজন সিয়াম আটক

রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকায় দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে স্কুলছাত্রী শাহরিয়ার শারমিন বিন্তি (১৪) হত্যার ঘটনায় মূল সন্দেহভাজন সিয়ামকে আটক করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর কলাবাগান থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

পুলিশ জানায়, বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে হায়দার হোটেলের গলিতে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় বিন্তিকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে রাত সাড়ে ১০টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত বিন্তি রায়েরবাজার হাই স্কুলের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাড়ি শরীয়তপুর জেলার সখিপুর থানাধীন কাছিকাটা গ্রামে। ঢাকায় সে পরিবারের সঙ্গে হাজারীবাগের হায়দার আলী হোটেলের পাশে একটি ভাড়া বাসায় থাকতো।

হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে প্রেমঘটিত বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার পরপরই তদন্ত শুরু করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে মূল সন্দেহভাজন সিয়ামকে আটক করা হয়েছে।

আটক সিয়ামকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে জানিয়ে ওসি বলেন, হত্যার পেছনের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


প্রতারণা মামলায় যুব-মহিলালীগ নেত্রী গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

প্রতারণা মামলায় যুব-মহিলালীগ নেত্রী গ্রেপ্তার

বার্তাবেলা ডেস্ক: সাম্প্রতিক সময়ে  যুবলীগ নেতা ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মনিরুজ্জামান বাবুর করা প্রতারনার মামলায় মিম খাতুন ওরফে আফসানা মিম(২৬)’ ও তার ৪র্থ স্বামী ওবায়দুল্লাহ’কে গ্রেফতার করেছে  গুলশান থানা পুলিশ ।

বুধবার এ ঘটনায় গুলশান থানা পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে।

অভিযোগের বিষয়ে ভিকটিম মনিরুজ্জামান বাবু বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে আমার সাথে পরিচয়। পরিচয়ের কয়েকদিন পর প্রতারক আফসানা মিম তার ৪র্থ স্বামী ওবায়াদু্ল্লাহকে তার দুলাভাই বলে আমার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। পরভর্তিতে বিভিন্ন তালবাহনা করে আমার কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে ব্যবসায়ের কথা বলে ১৩ লক্ষ টাকা ধার নেয় প্রতারক আফসানা মিম। পাওনা টাকা ফেরত চাইতে গেলে প্রশাসনের উর্ধ্বতর কর্মকর্তাদের কথা বলে আমাকে বিভিন্ন রকমের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে। উপায় না পেয়ে এক পর্যায়ে আমি গুলশান থানা পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে তার বিরুদ্ধে গুলশান থানায় মামলা দায়ের করি।

এই বিষয়ে যুবমহিলা লীগের সভানেত্রী ডেইজি সারোয়ার সাংবাদিকদের বলেন, আমার কাছে তার বিষয়ে কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ আসলে আমি সঙ্গে সঙ্গে পদ থেকে বহিস্কার করবো।

গুলশান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, প্রতারনার মামলায় আমরা তাকে গ্রেফতার করি। তিনি কোন দল করেন সেটা আমাদের দেখার বিষয় নয়। এজাহার ভুক্ত আসামী এটাই আমাদের বড় পরিচয়। আসামীর বিরুদ্ধে আইননানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।