শেয়ার বাজার

দক্ষিণ আফ্রিকায় বন্দুক হামলায় নিহত ১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দক্ষিণ আফ্রিকায় বন্দুক হামলায় নিহত ১৭

দক্ষিণ আফ্রিকার একটি এলাকায় সম্প্রতি সংঘটিত এক নৃশংস বন্দুক হামলায় ১৭ জন সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন। দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, হঠাৎ করে ঘটে যাওয়া এই রক্তক্ষয়ী সহিংসতায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতা কাজ করছে এবং তারা দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আক্রমণকারীরা হঠাৎ করেই একটি নির্দিষ্ট স্থানে অতর্কিত হামলা চালায় এবং নির্বিচারে গুলি ছুড়তে শুরু করে। এতে ঘটনাস্থলেই বহু মানুষের মৃত্যু হয় এবং আহত হন আরও অনেকে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন এবং আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করান।

পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগ এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল কারণ উদঘাটনে এবং অপরাধীদের ধরতে যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করছে। এখন পর্যন্ত এই হামলার সুনির্দিষ্ট কোনো মোটিভ বা উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া না গেলেও, পূর্ব শত্রুতা কিংবা গ্যাং সহিংসতার জেরে এটি ঘটে থাকতে পারে বলে অনুমান করছেন তদন্তকারীরা। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজনদের আইনের আওতায় আনতে দেশজুড়ে তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

এই মর্মান্তিক ঘটনার পর দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন মহল থেকে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে এবং দেশটিতে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জোরালো হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অপরাধীদের কঠোর শাস্তির পাশাপাশি সীমান্তবর্তী বা অপরাধপ্রবণ অঞ্চলগুলোতে পুলিশের টহল বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে বলে জানানো হয়েছে।

রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ, আটক ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ, আটক ৪

রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ব্যানারে একটি হঠাৎ মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানিয়েছে, সম্প্রতি দুপুর ১২টার দিকে ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়কে এই আকস্মিক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়। ব্যস্ততম এই এলাকায় হঠাৎ ককটেল বিস্ফোরণের শব্দে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সদস্যসচিব তারেকুজ্জামানের নেতৃত্বে সাতমসজিদ রোড এলাকা থেকে এই মিছিলটি শুরু হয়েছিল। মিছিলকারীরা ধানমন্ডির ইবনে সিনা হাসপাতালের সামনে দিয়ে অগ্রসর হয়ে বাটা শোরুমের কাছাকাছি এসে সংক্ষিপ্ত জমায়েত শেষ করে। এই সংক্ষিপ্ত পথ পরিক্রমার সময় তারা বেশ কয়েকটি ককটেল ফাটিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করার চেষ্টা করে।

ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত তৎপরতা শুরু করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিশৃঙ্খলা শেষে ঘটনাস্থল বা আশপাশের এলাকা থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ চারজনকে আটক করতে সক্ষম হয়। ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুর থানা-পুলিশ যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে এবং তাদের হেফাজতে নেয়।

ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম তৈয়ব গণমাধ্যমকে জানান, নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মীরা হঠাৎ মিছিল বের করে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় এবং পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক করা হয় এবং তাদের ব্যবহৃত একটি ব্যানারও জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল হালিম জানান, পালানোর সময় ওই এলাকা থেকে আরও একজনকে আটক করা হয়েছে।


ধর্ষণকাণ্ড: জাবিতে দ্বিতীয় দিনের মত প্রশাসনিক ভবন অবরোধ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

ধর্ষণকাণ্ড: জাবিতে দ্বিতীয় দিনের মত প্রশাসনিক ভবন অবরোধ

বার্তাবেলা ডেস্ক: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্ষক ও তার সহযোগীদের সর্বোচ্চ সাজাসহ পাঁচ দফা দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মত নতুন প্রশাসনিক ভবন ‘প্রতীকী অবরোধ’ করেছেন আন্দোলনকারীরা। 

মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম ‘নিপীড়নবিরোধী মঞ্চের’ ব্যানারে দুই ঘণ্টা ধরে এ অবরোধ করা হয়। পরে বেলা ১১টায় এই অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। 

অবরোধ চলাকালে প্রশাসনিক ভবনে কোনো কর্মকর্তাদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নূরুল আলমকেও দেখা যায়নি। 

এর আগে সোমবার সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত নতুন প্রশাসনিক ভবনে প্রতীকী অবরোধ করেছিল ‘নিপীড়নবিরোধী মঞ্চ'। 

‘নিপীড়নবিরোধী মঞ্চের’ পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- ধর্ষক ও তার সহায়তাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা; মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের হল থেকে বের করে গণরুম বিলুপ্তপূর্বক নিয়মিত শিক্ষার্থীদের আবাসন নিশ্চিত ও র‌্যাগিং সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনা; নিপীড়ক শিক্ষক মাহমুদুর রহমান জনির বিচার নিষ্পত্তি করাসহ ক্যাম্পাসে বিভিন্ন সময়ে নানাবিধ অপরাধে অভিযুক্তদের বিচারের আওতায় আনা; নিপীড়কদের সহায়তাকারী প্রক্টর ও মীর মশাররফ হোসেন হলের প্রাধ্যক্ষের অপরাধ তদন্ত ও সুষ্ঠু হওয়ার স্বার্থে তদন্ত চলাকালে তাদের প্রশাসনিক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া; মাদকের সিন্ডিকেট চিহ্নিত করে জড়িতদের ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক শামছুল আলম বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়কে মাদকমুক্ত করতে হবে, অছাত্রদের সরিয়ে দিতে হবে। প্রশাসন আমাদেরকে বলেছিল, পাঁচ কর্মদিবসে অছাত্রদের বের করে দিবে। কিন্তু তারা সেটা পারেনি। প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে ঢাকায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছে।“ 

তিনি বলেন, “সোমবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে প্রশাসন দেখা করেছে। এখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কী করবেন? তার কাছে গিয়েছিলেন নিশ্চয় ক্যাম্পাসে পুলিশের সহায়তা নিয়ে তল্লাশি করার জন্য। কিন্তু পুলিশ এখানে কী সহায়তা করবে, তারা কি বহিরাগত অছাত্রদের চেনে? এখানে হল প্রশাসন যদি কাজ করে তাহলে কিন্তু সমাধান হয়। কিন্তু তারা কেউ কাজ করছেন না।”

গত ১৫ বছরে প্রতিটা হল টর্চার সেলে পরিণত হয়েছে; রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে যে বিচারহীনতা চলছে তার প্রভাব এখানে পড়েছে বলে জানান এই অধ্যাপক।  

বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সমিতির সহসভাপতি ও প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সোহেল আহমেদ বলেন, “এক পৈশাচিক ঘটনা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকগুলো ব্যাধিকে জাতির সামনে তুলে ধরেছে। এই সংক্রামক ব্যাধিগুলো দূর করা যাবে না এটা এমনও না। এটা অবশ্যই দূর করার মত। কিন্তু এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকে যে দায়িত্বশীল হতে হবে। সেই দায়িত্ব আমরা দেখিনি। 

“বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবারকে যে ঘটনাগুলো কলুষিত করেছে, কলঙ্কিত করেছে, সম্মান ক্ষুণ্ন করেছে সেই সম্মান উদ্ধারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কোনো তৎপরতা আমরা দেখতে পাচ্ছি না।" 

তিনি বলেন, “এই বিশ্ববিদ্যালয়ে মাদক কীভাবে ছড়িয়ে গেছে, মাদক ব্যবসা, চোরা চালান, মাদক সেবন সামনে এসেছে। র‍্যাবের ব্রিফিং থেকে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে দিনের পর দিন যে পাশবিক ঘটনাগুলো ঘটছিল তা এই অছাত্ররা করছিল। এই প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে তারা দায় এড়াতে পারে না। শুধু এই প্রশাসন তা উপলব্ধি করতে পারছে না।" 

অবরোধ চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী কনোজ কান্তি রায় বলেন, "এই ক্যাম্পাসে একজন বৈধ শিক্ষার্থী থাকার জায়গা ও লেখাপড়ার জন্য চেয়ার-টেবিল পায় না। অন্যদিকে কিছু অবৈধ শিক্ষার্থী ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের ছত্রছায়ায় থেকে তাদের সঙ্গে লেজুড়বৃত্তি করে হলগুলোতে থাকছে।যার ফলে বৈধ শিক্ষার্থীরা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

“গণরুমে ওঠার পরে যারা ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে জড়িত হয় তাদেরকে আগে সিট দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার একটা প্রবণতা তৈরি হয়। আর গণরুম ও গেস্টরুমের কালচার এবং র‍্যাগিং শিক্ষার্থীদের মস্তিষ্ককে বিকৃত করে তোলে।” 

এ সময় সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জামাল উদ্দিন, ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক মাফরুহি সাত্তার ও সোহেল রানা, ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক পারভীন জলী, সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আমেনা ইসলাম, প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক বোরহান উদ্দিন, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক নূরুল ইসলাম।


রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন অর রশীদের দাফন সম্পন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১ মার্চ, ২০২৪

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন অর রশীদের দাফন সম্পন্ন

ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার মেগচামী খান বাড়ীর বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মেগচামী স্কুল এন্ড কলেজের প্রাক্তন সহকারী শিক্ষক হারুন অর রশিদ (৮২) ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। 

বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) যোহর বাদ মেগচামী খান বাড়ী জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামনুন আহমেদ অনিকের নেতৃত্বে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে গার্ড অফ অনার প্রদান করা হয়। এসময় মধুখালী উপজেলা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা খুরশীদ আলম সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। 

এরপর জানাজার নামাজ শেষে তাকে খান বাড়ী পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। পারিবারিক সূত্র জানায়, মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকার মীরপুরস্থ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে যান। তাঁর একমাত্র সন্তান যুবরাজ খান বর্তমানে আমেরিকা প্রবাসী মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনার জন্য সকলের নিকট দোয়া চেয়েছেন।