শেয়ার বাজার

ধর্ষণ ও সিইসি বিতর্কে দিল্লি উত্তাল, এর মধ্যেই ‘ভজন ক্লাবিং’-এ মোদি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ধর্ষণ ও সিইসি বিতর্কে দিল্লি উত্তাল, এর মধ্যেই ‘ভজন ক্লাবিং’-এ মোদি

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে যখন নারীদের নিরাপত্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে, ঠিক সেই সময়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম হয়েছে। সম্প্রতি দিল্লির দীনদয়াল উপাধ্যায় পার্কে ভারতীয় জনসংঘের নেতা দীনদয়াল উপাধ্যায়ের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে 'ভজন ক্লাবিং' নামক একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী তরুণ শিল্পীদের সঙ্গে খঞ্জনি বাজিয়ে এবং ভক্তিমূলক সংগীতের তালে তাল মিলিয়ে আনন্দ উপভোগ করেন, যার ভিডিও পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই 'ভজন ক্লাবিং' বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। প্রচলিত ভজনের সঙ্গে আধুনিক আলোর রোশনাই ও সমসাময়িক বাদ্যযন্ত্রের এই সংমিশ্রণকে আধ্যাত্মিকতা ও তরুণ সংস্কৃতির মিলন হিসেবে দেখছেন আয়োজকরা। ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে এটিকে ঐতিহ্য ও নতুন প্রজন্মের শক্তির চমৎকার মেলবন্ধন হিসেবে অভিহিত করেছে। দলটির নেতাদের মতে, আধুনিকতার ছোঁয়ায় তরুণদের মাঝে ভারতীয় সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিকতা ছড়িয়ে দেওয়ার এটি একটি অনন্য মাধ্যম।

তবে এই আয়োজনের সময় নির্বাচন ও নিরাপত্তা নিয়ে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিরোধীরা এর তীব্র সমালোচনা করেছেন। ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপসহ অনেকেই প্রধানমন্ত্রীর এই ব্যস্ততার টাইম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং দিল্লির একটি পার্কে ঘটে যাওয়া কিশোরী ধর্ষণের ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। সম্প্রতি দক্ষিণ দিল্লিতে এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার জেরে রাজধানীজুড়ে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে ব্যাপক বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সামাজিক উত্তেজনার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর এমন বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

একই সঙ্গে দেশের নির্বাচন কমিশনও বিরোধী দলগুলোর প্রবল চাপের মুখে রয়েছে। এসআইআর কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে কংগ্রেসসহ বিভিন্ন বিরোধী দল দেশজুড়ে আন্দোলন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছে। একদিকে নারী নিরাপত্তা এবং অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত রাজনৈতিক সংকটের এই যুগপৎ পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনার ঝড় বইছে।

নানা সংকটে মুখ থুবড়ে পড়েছে প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নানা সংকটে মুখ থুবড়ে পড়েছে প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা

মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয়, দৌলতপুর ও হরিরামপুর উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে বহুমুখী সংকট বিরাজ করছে। শিক্ষক সংকট, নদীভাঙন, অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং মোবাইল নেটওয়ার্কের চরম দুরবস্থার কারণে এসব এলাকার শিক্ষা কার্যক্রম একপ্রকার থমকে গেছে। উত্তাল নদী পেরিয়ে স্কুলে যাতায়াত করতে গিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়কেই প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অথচ এতসব সমস্যা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদী কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় চরাঞ্চলের সামগ্রিক প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই তিন উপজেলায় মোট ৫৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও সুতালড়ি রামচন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির কার্যক্রম বর্তমানে সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। বাকি বিদ্যালয়গুলোতেও প্রয়োজনের তুলনায় শিক্ষক সংখ্যা অত্যন্ত অপ্রতুল এবং প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে অনেক প্রতিষ্ঠানের পাঠদান কার্যক্রম। এর মধ্যে শিবালয়ে ৫টি, হরিরামপুরে ১৩টি এবং দৌলতপুরে ৩৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে, যেগুলোতে কর্মরত মোট ২৩৫ জন শিক্ষককে নানা প্রতিকূলতার মাঝে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানেই একাধিক সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য পড়ে থাকায় স্বাভাবিক পাঠদান পরিচালনা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চরাঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে যাতায়াতের বেহাল দশাকে দায়ী করা হচ্ছে। পদ্মা নদীর ভাঙন এবং নৌযাননির্ভর যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে বর্ষা মৌসুমে যাতায়াত পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে। অনেক শিক্ষককে প্রতিদিন মূল ভূখণ্ড থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় নদী পার হয়ে বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে হয়, যার ফলে তাদের ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়। নৌযানের সংকট, অতিরিক্ত ভাড়া এবং মাঝেমধ্যে মালিকদের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে শিক্ষকদের যাতায়াত বাবদ অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় হয়। এনায়েতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আরমান আলী জানান, যাতায়াতেই প্রতিদিন প্রায় দুই ঘণ্টা সময় ও তিনশ টাকার মতো খরচ হয়, অথচ দুর্গম এলাকায় কাজের জন্য তাদের কোনো বিশেষ ভাতা দেওয়া হয় না। মাস শেষে বেতনের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ কেবল যাতায়াত খরচেই শেষ হয়ে যাওয়ায় শিক্ষকদের ওপর মারাত্মক আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে। তাছাড়া দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে কর্মস্থলে পৌঁছাতে গিয়ে শিক্ষকরা শারীরিকভাবেও ক্লান্ত হয়ে পড়েন, যা তাদের পাঠদানের মানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি চরাঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার অত্যন্ত কম হওয়ায় শিক্ষার মান নিম্নমুখী হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা মূলত কৃষিকাজ ও দিনমজুরির সঙ্গে যুক্ত থাকায় পরিবারের আয়ের প্রয়োজনে অনেক শিশুই পড়াশোনার পাশাপাশি কাজে জড়িয়ে পড়ে। ফলে অভিভাবকদের অনেকেই সন্তানদের নিয়মিত স্কুলে পাঠানোর চেয়ে পারিবারিক ও কৃষিকাজকে বেশি প্রাধান্য দেন। এদিকে চর এলাকায় শিক্ষকদের জন্য কোনো ধরনের আবাসন ব্যবস্থা না থাকায় দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিন যাতায়াত করতে হয়, যা নারী শিক্ষকদের জন্য আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ও সমস্যার সৃষ্টি করে। এর ওপর মোবাইল নেটওয়ার্কের চরম দুর্বলতার কারণে শিক্ষক ও তাদের পরিবারের মধ্যে জরুরি যোগাযোগ অনেক সময় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া, বন্যা বা নদীভাঙনের সময় যোগাযোগের এই মাধ্যমগুলো সম্পূর্ণ অকার্যকর হয়ে পড়ায় শিক্ষক ও তাদের পরিবার চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটায়। আবহাওয়া প্রতিকূল থাকলে অনেক সময় শিক্ষকরা নির্ধারিত সময়ে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হতে পারেন না, যার ফলে তাদের নানা ধরনের প্রশাসনিক জটিলতার মুখোমুখিও হতে হয়।

চরাঞ্চলের শিক্ষাব্যবস্থার এই বেহাল দশা থেকে উত্তরণে দ্রুত সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। শূন্যপদগুলোতে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষকদের জন্য আবাসন সুবিধা চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়াতে এবং অভিভাবকদের মধ্যে শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করতে স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগের যৌথ উদ্যোগ প্রয়োজন। মানিকগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গকুল চন্দ্র দেবনাথ জানিয়েছেন যে, এই সংকট নিরসনে একটি পরিকল্পনা তৈরির কাজ চলছে এবং তা সম্পন্ন হলে অনুমোদনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। এছাড়া জেলা প্রশাসক নাজমুন সুলতানা আশা প্রকাশ করেছেন যে, কর্মস্থলে শিক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে চরাঞ্চলে আবাসন সুবিধা চালুর বিষয়টি নিয়ে তারা গুরুত্বের সাথে কাজ করছেন। একটি সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমেই কেবল চরাঞ্চলের এই অবহেলিত শিক্ষাব্যবস্থাকে সংকটমুক্ত করা সম্ভব বলে মনে করছেন সচেতন মহল।


যুক্তরাষ্ট্র সব প্রস্তাব মানলেও পারমাণবিক কর্মসূচিতে ছাড় দেবে না ইরান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র সব প্রস্তাব মানলেও পারমাণবিক কর্মসূচিতে ছাড় দেবে না ইরান

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পক্ষ থেকে উত্থাপিত সব শর্ত ও দাবি মেনে নিলেও নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে পিছু হটবে না তেহরান। সম্প্রতি দেশটির পক্ষ থেকে এমন কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। মূলত দেশের পরমাণু প্রকল্পের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস না করার নীতিতে অটল রয়েছে বর্তমান ইরানি প্রশাসন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরানের এক উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, ওয়াশিংটন তেহরানের সব শর্ত ও দাবি পূরণ না করা পর্যন্ত কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের এই জলপথটি ঘিরে দুই দেশের মধ্যকার চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।

পারমাণবিক সমঝোতা পুনরুজ্জীবনের প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলছে। তবে দুই দেশের পারস্পরিক আস্থার সংকট এবং কঠোর শর্তের বেড়াজালে মূল চুক্তি বাস্তবায়ন বারবার হোঁচট খাচ্ছে। তেহরান শুরু থেকেই তাদের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক গবেষণা চালিয়ে যাওয়ার অধিকারের ওপর জোর দিয়ে আসছে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার মতো কঠোর হুশিয়ারি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকটময় পরিস্থিতি নিরসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদ্বেগ প্রকাশ করলেও দুই পক্ষই নিজেদের দাবিতে অনড় রয়েছে। ফলে নিকট ভবিষ্যতে এই বিরোধ মীমাংসার কোনো সহজ পথ দেখা যাচ্ছে না।


খামেনি হত্যার ঘটনায় জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের তীব্র সমালোচনায় রাশিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

খামেনি হত্যার ঘটনায় জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের তীব্র সমালোচনায় রাশিয়া

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ইরান ও ভেনেজুয়েলা সংকটের জেরে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের তীব্র সমালোচনা করেছে মস্কো। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে জানান যে, বর্তমান বিশ্বে কোনো একটি মাত্র পরাশক্তির একাধিপত্য বজায় থাকা সমগ্র মানবজাতির জন্যই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তিনি বর্তমান আন্তর্জাতিক রাজনীতির সমীকরণ পরিবর্তন করে বিশ্ব ব্যবস্থাকে আরও বেশি ভারসাম্যপূর্ণ করার ওপর জোর দেন।

রুশ এই শীর্ষ কূটনীতিকের মতে, বর্তমান বিশ্বের দক্ষিণ ও পূর্ব গোলার্ধের উদীয়মান দেশগুলো নিজেদের একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী সার্বভৌম উন্নয়নকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করছে। তাদের এই স্বনির্ভরতার কারণেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি অধিকতর ন্যায়ানুগ ও বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা গড়ে ওঠার পথ সুগম হচ্ছে। একক আধিপত্যের ধারণা বাদ দিয়ে পারস্পরিক সমতার ভিত্তিতে বৈশ্বিক সম্পর্ক পরিচালনার সময় এসেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বক্তব্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, তার পরিবার এবং দেশটির শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক কর্মকর্তাদের টার্গেট করে হত্যার তীব্র নিন্দা জানান লাভরভ। তিনি এই ধরণের সামরিক পদক্ষেপকে বিশ্বজুড়ে পশ্চিমা শক্তির জবরদস্তিমূলক ও অগ্রহণযোগ্য একনায়কতন্ত্রের বহিঃপ্রকাশ বলে অভিহিত করেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ব্যাপক সামরিক অভিযানের সময় ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানো হয়, যা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার নিরাপত্তাব্যবস্থাকে মারাত্মক হুমকিতে ফেলেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

ইউরোপীয় দেশগুলোর ভূমিকার সমালোচনা করে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সেখানকার সরকারগুলো একদিকে ইউক্রেনে অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে এবং অন্যদিকে সাধারণ মানুষের ওপর হামলায় মদদ দিয়ে শান্তি প্রক্রিয়াকে নস্যাৎ করছে। তবে এর মধ্যেই ওয়াশিংটনের ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনসহ বেশ কিছু পক্ষ চলমান সংকট নিরসনে কূটনৈতিক আলোচনায় আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ঐতিহাসিক নুরেমবার্গ বিচারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন যে, ইউরোপের বর্তমান সরকারগুলো ইউক্রেনীয় উগ্রপন্থা সহ্য করছে এবং রুশ ভাষার ওপর নানা ধরনের অন্যায্য বিধিনিষেধ আরোপ করে চলেছে।