শেয়ার বাজার

ঢাকা কলেজ ও আইডিয়াল কলেজ শিক্ষার্থীদের মধ্য সংঘর্ষ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঢাকা কলেজ ও আইডিয়াল কলেজ শিক্ষার্থীদের মধ্য সংঘর্ষ

রাজধানীর সাইন্সল্যাব মোড়সংলগ্ন গ্রিন রোডের মুখে ঢাকা কলেজ এবং আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। অতি তুচ্ছ একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রদের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা পরবর্তীতে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। এই আকস্মিক সংঘর্ষের ফলে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।

সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের শিক্ষার্থীরা একে অপরকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এর ফলে ওই এলাকার বেশ কয়েকটি দোকানপাট দ্রুত বন্ধ হয়ে যায় এবং ভয়ে পথচারীরা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি শুরু করেন। এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির কারণে সাইন্সল্যাব মোড় ও এর সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, যা সাধারণ যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে ফেলে।

এদিকে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে নতুন উপাচার্য নিয়োগের বিরোধিতাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের আরেকটি কর্মসূচি থাকায় আগেই ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে কড়া অবস্থান নেন এবং জলকামান প্রস্তুত রাখেন। পুলিশের তৎপরতার কারণে সংঘাত আরও বড় আকার ধারণ করার আগেই পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।

ঘটনার বিষয়ে নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আইয়ুব গণমাধ্যমকে জানান, সাইন্সল্যাব এলাকায় ঢাকা কলেজ ও আইডিয়াল কলেজের ছাত্রদের মধ্যে কিছু বিষয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ আগে থেকেই ওই এলাকায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মেজর জাহিদের স্ত্রীকে আয়নাঘরে নিপীড়নের বিভীষিকা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মেজর জাহিদের স্ত্রীকে আয়নাঘরে নিপীড়নের বিভীষিকা

পিলখানা সেনা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য সত্য জেনে ফেলায় ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার শাসনামলে নৃশংসভাবে খুন হন সেনা কর্মকর্তা মেজর জাহিদুল ইসলাম। পরবর্তীতে মরণোত্তর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হিসেবে পদোন্নতিপ্রাপ্ত এই কর্মকর্তার জীবনের ওপর অন্ধকার নেমে আসে ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বিডিআর সদরদপ্তরে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ঘটনার পর। পিলখানা থেকে তার এক কোর্সমেট ও বন্ধু তাকে ফোন করে অফিসারদের হত্যার খবর জানান, যা তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছিলেন। এরপর থেকেই তাকে গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয় এবং নিয়মিত নামাজ পড়া ও দাঁড়ি রাখার কারণে নানা ধরনের মানসিক নির্যাতন ও হেনস্তার শিকার হতে হয়। চরম এই পরিস্থিতিতে তিনি স্বেচ্ছায় চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন এবং পরবর্তী সময়ে সাজানো বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

হত্যা নিশ্চিত করার পর তার মৃতদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর না করে দীর্ঘ আড়াই বছর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ফেলে রাখা হয় এবং পরবর্তীতে জুরাইন কবরস্থানে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর এই হত্যাকাণ্ডের আসল চিত্র প্রকাশ্যে আসে, যেখানে দেখা যায় রূপনগরের যে ফ্ল্যাটে বন্দুকযুদ্ধের দাবি করা হয়েছিল সেখানে তেমন কোনো ঘটনাই ঘটেনি। মেজর জাহিদের হাত পেছনে মুচড়ে ভেঙে ফেলার পাশাপাশি অত্যন্ত কাছ থেকে গুলি করে তার বুক ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয়েছিল। পরিবারের সদস্যরা চোখের সামনে থেকেও দীর্ঘদিন জানতে পারেননি তার এই নিষ্ঠুর পরিণতির কথা এবং কোথায় রয়েছে তার শেষ ঠিকানা।

স্বামীর মর্মান্তিক মৃত্যুর ওই রাতেই মেজর জাহিদের স্ত্রী জেবুন্নাহার শিলাকে তার কোলের দুগ্ধপোষ্য শিশুসহ ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি সেলে তুলে নেওয়া হয়। ডিবির ওই বন্দিশালায় চার মাস সাতদিন তাদের গুম করে রাখা হয়, যার মধ্যে একটি নোংরা ও পোকায় ভরা কক্ষে ছোট বাচ্চাকে কোলে নিয়ে টানা দুই দিন ও দুই রাত চেয়ারেই বসে কাটাতে বাধ্য করা হয়েছিল তাকে। রিমান্ডের সময় তাকে হোলি আর্টিজান হামলার সঙ্গে স্বামীর সম্পৃক্ততা নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং চরম মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হয়। বন্দী অবস্থায় তিনি পর্দা করে নামাজ পড়তে চাইলে ডিবির লোকজন সেই চাদর টেনে ফেলে দিত এবং বিভিন্নভাবে উপহাস ও তাচ্ছিল্য করত। এমনকি স্বামীকে জঙ্গি হিসেবে স্বীকার না করলে তাকে ও তার অবুঝ দুই সন্তানকেও একই পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে লাগাতার হুমকি দেওয়া হতো।

গুমের ঘটনার এক সপ্তাহ পর তার ছয় বছরের শিশুকন্যাকে নানু-দাদু দেখতে চাওয়ার নাম করে জোরপূর্বক কেড়ে নেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে আজিমপুরে একটি জঙ্গি নাটক সাজিয়ে তাকেও সেই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে ফেলা হয়। এতটুকু একটি অবুঝ শিশুকে ক্যামেরার সামনে দাঁড় করিয়ে সংবাদ সম্মেলন করার কারণে আজও গণমাধ্যম দেখলেই সন্তানরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। এরপর ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে আশকোনার একটি বাসা থেকে তাকে ও তার আট মাসের শিশুকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে প্রথমে রিমান্ড এবং পরে দীর্ঘ ছয় বছরের বিভীষিকাময় কারাজীবন চাপিয়ে দেওয়া হয়। কারাগারে বন্দি থাকাকালীন ছোট বাচ্চার জন্য একটি মশারি পর্যন্ত ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি, বরং মশার কামড় থেকে রক্ষা পাওয়ার ওড়না দিয়ে তৈরি improvised মশারিও কর্তৃপক্ষ কেড়ে নিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছিল। দীর্ঘ এই সংগ্রাম ও নির্যাতনের শিকার হয়ে এই পরিবারটি আজ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত, যা তৎকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চরম অমানবিকতার এক জীবন্ত দলিল।


শাশুড়িকে সম্মান না করায় বাবার চড়, ক্ষুব্ধ ছেলের ছুরিকাঘাতে মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

শাশুড়িকে সম্মান না করায় বাবার চড়, ক্ষুব্ধ ছেলের ছুরিকাঘাতে মৃত্যু

রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় পারিবারিক এক তুচ্ছ ঘটনার জেরে মর্মান্তিক এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শাশুড়ির সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করার প্রতিবাদ করায় বাবাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে হাসানুর রহমান নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। নিহত মহুবার রহমানের বয়স হয়েছিল ৫৫ বছর এবং অভিযুক্ত হাসানুর তার ২২ বছর বয়সী সন্তান। সম্প্রতি রাতে উপজেলার তাম্বুলপুর ইউনিয়নের চর তাম্বুলপুর মাস্টারপাড়া এলাকায় এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। এই আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, বেশ কিছুদিন ধরেই হাসানুরের সঙ্গে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সম্পর্কের অবনতি চলছিল। সম্প্রতি তার শাশুড়িসহ কিছু আত্মীয় বাড়িতে এলেও হাসানুর তাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করেননি এবং যথোচিত সম্মান প্রদর্শন বা আপ্যায়ন করেননি। বিষয়টি নিয়ে পরিবারে অস্বস্তি ও বিরোধ তৈরি হলে বাবা মহুবার রহমান ছেলেকে বুঝিয়ে বলেন এবং শাশুড়িকে সম্মান দেখিয়ে কথা বলতে ও খাবার দিতে বলেন। কিন্তু বাবার এই সাধারণ উপদেশ ও শাসন একেবারেই মেনে নিতে পারেননি ক্ষিপ্ত হাসানুর।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, বাবার কথা অমান্য করায় একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে মহুবার রহমান ছেলেকে একটি থাপ্পড় দেন। এতে চরমভাবে উত্তেজিত হয়ে হাসানুর ঘরে থাকা একটি ধারালো ছুরি তুলে নেন এবং সরাসরি বাবার পেটে আঘাত করেন। ছুরিকাঘাতের ফলে মহুবার রহমানের শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হয়। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও পথেই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

তাম্বুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বজলুর রশিদ মুকুল জানান, প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এর আগেও অভিযুক্ত হাসানুর বিভিন্ন সময়ে তার বাবার গায়ে হাত তুলেছিলেন বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে। শুধু তাই নয়, হাসানুরের বিরুদ্ধে মাদকাসক্তির গুরুতর অভিযোগও রয়েছে। এদিকে পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক জানিয়েছেন, ঘটনার পর পরই পুলিশ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে এবং অভিযুক্ত হাসানুরকে গ্রেফতারে জোরালো অভিযান অব্যাহত রয়েছে।