শেয়ার বাজার

চুরির অভিযোগে খুঁটিতে বাঁধা অনাহারী বাবা, রুটি-চা নিয়ে ছুটে এল শিশুকন্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চুরির অভিযোগে খুঁটিতে বাঁধা অনাহারী বাবা, রুটি-চা নিয়ে ছুটে এল শিশুকন্যা

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বামরাইল বাজারে চুরির চেষ্টার অভিযোগে অনিক সরদার নামের এক যুবককে আটক করে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখার একটি ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় দোকানগুলোতে চুরির অপবাদ দিয়ে ওই যুবককে সারারাত খুঁটির সঙ্গে আটকে রাখা হয়। এই অমানবিক দৃশ্যটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই এলাকায় নানা ধরনের চাঞ্চল্য ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।

খবর পেয়ে সকালে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে অনিকের ছোট্ট শিশুকন্যা, যার এই হৃদয়বিদারক দৃশ্য উপস্থিত সবার মন গলিয়ে দেয়। সারারাত না খেয়ে থাকা বাবার কষ্টের কথা চিন্তা করে শিশুটি বাজারের একটি দোকান থেকে নিজের সামান্য টাকায় রুটি ও চা কিনে আনে। এরপর সে নিজ হাতে সেই খাবার পরম মমতায় বাবার মুখে তুলে খাইয়ে দেয়, যা সেখানে উপস্থিত স্থানীয় লোকজনের চোখকেও ভিজিয়ে দেয়।

উপস্থিত এক ব্যক্তি পুরো ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করলে মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওটিতে বাবার প্রতি এক ছোট্ট মেয়ের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও আকুলতা দেখে নেটিজেনরা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। অনেকে চুরির অভিযোগের বিচার আইনের মাধ্যমে হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করলেও, সন্তানের এমন পিতৃভক্তি দেখে সবাই প্রশংসা করেন।

এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই স্থানীয় বাজার কমিটি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা তৎপর হন। পরে লিখিত মুচলেকা নিয়ে অভিযুক্ত অনিক সরদারকে তাঁর পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। উজিরপুর থানার পক্ষ থেকেও বিষয়টি নিশ্চিত করে জানানো হয়েছে যে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়রা মীমাংসা করে তাঁকে মুক্তি দেন।

বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, সাংবাদিকসহ আহত ৫০

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, সাংবাদিকসহ আহত ৫০

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলায় অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) দুটি পক্ষের মধ্যে তীব্র রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষের ফলে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে চলা এই সংঘর্ষে সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া একজন গণমাধ্যমকর্মীসহ উভয় পক্ষের অন্তত পঞ্চাশজন আহত হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা বিএনপি কমিটির মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়া এবং হাওরের বিভিন্ন জলমহাল ইজারা নেওয়াকে কেন্দ্র করে দলটির স্থানীয় নেতাদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এছাড়া দলীয় ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে তা নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছিল। তবে ঠিক কী কারণে হঠাৎ করে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

সংঘর্ষের তীব্রতায় উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর চড়াও হয়। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এক সাংবাদিকও আঘাতপ্রাপ্ত হন। সংঘাতের একপর্যায়ে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেক দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।

খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। অষ্টগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান জানিয়েছেন যে বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে এবং এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


হাব নির্বাচনে তসলিমের নেতৃত্বে ‘হাব সম্মিলিত ফোরামের' জয়

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০২ মার্চ, ২০২৪

হাব নির্বাচনে তসলিমের নেতৃত্বে ‘হাব সম্মিলিত ফোরামের' জয়

হজ এজেন্সিগুলোর সংগঠন হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) এর দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে বর্তমান সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিমের নেতৃত্বের ‘হাব সম্মিলিত ফোরাম’ পূর্ণ প্যানেলে জয়লাভ করেছে।

শনিবার (২ মার্চ) রাজধানীর শাহবাগে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতু্ন্নেসা মুজিব কনভেনশনে হাব নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন।

দুটি প্যানেল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। শাহাদাত হোসাইন তসলিমের নেতৃত্বে হাব সম্মিলিত ফোরাম ও জামাল উদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে ‘হাব গণতান্ত্রিক ঐক্য পরিষদ’। শাহাদাত হোসাইন তসলিমের প্রাপ্ত ভোট ৪০৪, অন্যদিকে জামাল উদ্দিন আহমদ ২২৭ ভোট পান। তসলিম ১৭৭ ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হন।

হাব কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের ২৭টি পদে হাব সম্মিলিত ফোরামের প্রার্থীরা জয়লাভ করেন। ঢাকা আঞ্চলিক পরিষদের ১৩টি ও চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের ৭টি পদেও ফোরামের প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে সিলেট আঞ্চলিক পরিষদের ৭ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

এছাড়া সিলেট ও চট্টগ্রামে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ করা হয়। নির্বাচনে পর্যবেক্ষক হিসেবে ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (বাণিজ্য সংগঠন) জিনাত রেহান, উপসচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ, এম এম মোস্তফা জামাল চৌধুরী ও মোহাম্মদ মশিউর রহমান।


মাদ্রাসার ছাদে ‘বিদ্যুতায়িত হয়ে’ দগ্ধ ৫ শিক্ষার্থী হাসপাতালে, সবার অবস্থা গুরুতর

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মাদ্রাসার ছাদে ‘বিদ্যুতায়িত হয়ে’ দগ্ধ ৫ শিক্ষার্থী হাসপাতালে, সবার অবস্থা গুরুতর

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি আবাসিক মাদ্রাসার ছাদে খেলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পাঁচ শিশু শিক্ষার্থী মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছে। সম্প্রতি বিকেলে ফতুল্লার কাশিপুর হাজীপাড়া এলাকার মাহেলা খাতুন বালিকা মাদ্রাসায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। আহত শিশুদের দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীতে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তাঁরা সবাই জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

দগ্ধ হওয়া শিক্ষার্থীরা সবাই ওই মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্রী এবং বিভিন্ন শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। আহতরা হলো ষষ্ঠ শ্রেণির জিদনী, চতুর্থ শ্রেণির লামিয়া আক্তার শাপলা, সপ্তম শ্রেণির সুমাইয়া আক্তার, তৃতীয় শ্রেণির আসিয়া আক্তার আফরোজা এবং চতুর্থ শ্রেণির আতিয়া। ঘটনার দিন বিকেলে পড়াশোনার ফাঁকে তারা সবাই মিলে তিনতলা মাদ্রাসা ভবনের ছাদে খেলাধুলা করতে গিয়েছিল। হঠাৎ ছাদ থেকে কোনো একটা বিকট শব্দ শুনতে পেয়ে মাদ্রাসার লোকজন দ্রুত উপরে ছুটে যান।

মাদ্রাসার ক্যাশিয়ার মো. ইউসুফ আলী জানান, ছাদে গিয়ে তাঁরা দেখতে পান শিশুরা আগুনে ঝলসে যাওয়ার পর যন্ত্রণায় ছটফট করছে। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার তীব্রতা বিবেচনা করে তাদের দ্রুত জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। দগ্ধ শিশুদের ভাষ্যমতে, ছাদে খেলার সময় হঠাৎ করেই তাদের শরীরে আগুন ধরে যায়, তবে ঠিক কীভাবে এই ঘটনা ঘটল তা তারা স্পষ্ট করে বলতে পারেনি।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওই মাদ্রাসা ভবনের ছাদের ঠিক ওপর দিয়েই উচ্চক্ষমতার বৈদ্যুতিক তার চলে গেছে। মাদ্রাসার কর্তাব্যক্তিদের ধারণা, ছাদের ওপর থাকা ওই বিপজ্জনক বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে আসায় শিশুগুলো বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দগ্ধ হয়েছে। এদিকে, জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. সুলতান মাহমুদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে দগ্ধ হওয়া পাঁচ শিশুর অবস্থাই অত্যন্ত গুরুতর। চিকিৎসকরা তাঁদের জীবন বাঁচাতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং জরুরি বিভাগে নিবিড় পর্যবেক্ষণ রাখা হয়েছে।