শেয়ার বাজার

চুরির অভিযোগে খুঁটির সঙ্গে বাঁধা বাবা, মুখে রুটি তুলে দিচ্ছিল ছোট্ট মেয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চুরির অভিযোগে খুঁটির সঙ্গে বাঁধা বাবা, মুখে রুটি তুলে দিচ্ছিল ছোট্ট মেয়ে

বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় চুরির মিথ্যা অভিযোগে এক বাবাকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখার চরম অমানবিক ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার একটি ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, অসহায় ওই বাবার মুখ দিয়ে খাওয়ার মতো পরিস্থিতি না থাকায় তাঁর ছোট্ট শিশু মেয়েটি পরম যত্নে নিজ হাতে মুখে রুটি তুলে খাওয়াচ্ছে। এমন মর্মান্তিক দৃশ্য দেখে সাধারণ মানুষ হতবাক ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি উজিরপুর এলাকায় দিনমজুর ওই ব্যক্তিকে কোনো ধরনের আইনি প্রক্রিয়ায় না গিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা চুরির অপবাদ দেন। এরপর তাকে একটি গাছের বা ঘরের খুঁটির সঙ্গে প্রকাশ্য দিবালোকে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। বিচারের নামে এই ধরনের অমানবিক নির্যাতন চালানোর সময় উৎসুক জনতা ভিড় করলেও কেউ তাকে উদ্ধারে এগিয়ে আসেননি। বরং এই দৃশ্য ভিডিও করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর সেই দৃশ্যটি দেখে বিবেকবান মানুষের হৃদয়ে গভীর রক্তক্ষরণ হয়েছে, যেখানে একজন অবুঝ শিশু তার নির্যাতিত বাবার মুখে খাবার তুলে দিচ্ছে। অপরাধ প্রমাণ হওয়ার আগেই প্রকাশ্য রাজপথে এভাবে একজন মানুষকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে হেনস্তা করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন মানবাধিকারকর্মীরা। আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে এমন বর্বরোচিত আচরণ করার অধিকার কারো নেই বলে মন্তব্য করেছেন সচেতন নাগরিকরা।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে বলে জানা গেছে। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে এবং ঘটনার নেপথ্যে থাকা দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এই অমানবিক ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন।

তিন জেলায় কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

তিন জেলায় কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

দেশের তিন গুরুত্বপূর্ণ জেলা কুমিল্লা, টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জে সম্প্রতি জিপিএ-৫ প্রাপ্ত মেধাবী শিক্ষার্থীদের নিয়ে এক বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা উৎসবের আয়োজন করা হয়। 'স্বপ্ন দেখো জীবন গড়ো' এই মূল স্লোগানকে সামনে রেখে এই উৎসবের আয়োজন করে দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিক প্রথম আলো। তরুণ প্রজন্মের মেধা বিকাশ ও তাদের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার উৎসাহ জোগাতে এই আয়োজনের পৃষ্ঠপোষকতা করেছে জনপ্রিয় ডিজিটাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিখো। আয়োজকরা জানিয়েছেন, দেশের প্রতিটি জেলার মেধাবী শিক্ষার্থীদের এই উদযাপনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানগুলোকে কেন্দ্র করে প্রতিটি ভেন্যুতে তরুণ শিক্ষার্থীদের ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। সকালের দিকে শিক্ষার্থীরা সারিবদ্ধভাবে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করেন এবং নিজেদের আনন্দ ক্যামেরা বন্দি করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কুমিল্লা জেলা স্কুল প্রাঙ্গণসহ অন্যান্য ভেন্যুগুলোতে আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়, যেখানে শিক্ষার্থীরা একে অপরের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেন। শুধু সংবর্ধনা গ্রহণই নয়, বরং দিনভর নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও আয়োজনে মেতে উঠেছিল পুরো প্রাঙ্গণ।

অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণের পাশাপাশি বিভিন্ন আনন্দদায়ক খেলার আয়োজন করা হয়, যা শিক্ষার্থীদের মনে বাড়তি আনন্দের খোরাক জোগায়। মজার এসব খেলায় শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং বিজয়ী ও কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়াদের হাতে আকর্ষণীয় পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। এছাড়া সিরাজগঞ্জে অনুষ্ঠিত আয়োজনে বন্ধুসভার পক্ষ থেকে জাদু প্রদর্শন করা হয়, যা উপস্থিত সবাইকে দারুণ বিনোদন দেয়। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা তাদের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

দিনব্যাপী এই আয়োজনে কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও প্রথম আলো পত্রিকা তুলে দেওয়া হয়, যা তাদের ভবিষ্যৎ চলার পথে অনুপ্রেরণা জোগাবে। সিরাজগঞ্জের জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে মনোজ্ঞ নৃত্য পরিবেশন ও জাদু প্রদর্শনের মাধ্যমে পুরো অনুষ্ঠানটি এক ভিন্ন মাত্রা লাভ করে। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য জেলাগুলোতেও এই কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা উৎসবের আয়োজন করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।


নরসিংদীতে ট্রাক্টর-মোটরসাইকেল সংঘর্ষ, নিহত ১

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

নরসিংদীতে ট্রাক্টর-মোটরসাইকেল সংঘর্ষ, নিহত ১

বার্তাবেলা (নরসিংদী) প্রতিনিধি: নরসিংদীর রায়পুরায় মোটরসাইকেল ও ট্রাক্টরের সংঘর্ষে মো: মাহবুব মিয়া নামে এক মোটরসাইকেল চালক নিহত হয়েছে। এসময় গুরুতর আহত হয়েছে  মোটরসাইকেলের অপর আরোহী ইব্রাহিম।

রোববার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে উপজেলার মহেষপুর ইউনিয়নের নীলকুঠি-আলগী আঞ্চলিক সড়কে মানিকনগর গ্রামের মান্নান মাস্টারের বাড়ির সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

রায়পুরা থানার উপপরিদর্শক নিতাই চন্দ্র দাস ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

নিহত মো: মাহবুব মিয়া উপজেলার মহেষপুর ইউনিয়নের মানিকনগর গ্রামের ছাত্তার মিয়ার ছেলে। অপরদিকে আহত ইব্রাহিম মিয়া কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর ভাগলপুর জহিরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। 

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, দুই বন্ধু মোটরসাইকেল যুগে আলগী থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। এসময় তারা মানিকনগর এলাকায় পৌছলে বিপরীত দিক থেকে ছেড়ে আসা দ্রুতগতির ট্রাক্টরের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে মোটরসাইকেলের চালক রাস্তায় ছিটকে পড়ে ট্রাক্টরের সামনের চাকার চাপায় গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাঁদের হাসপাতালে নেওয়ার পথে মো: মাহবুব মিয়ার মারা যায় এবং মোটরসাইকেলের অপর আরোহী ইব্রাহিম মিয়াকে গুরুতর আহত অবস্থায় কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর ভাগলপুর জহিরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

রায়পুরা থানার উপপরিদর্শক নিতাই চন্দ্র দাস বলেন, মরদেহ  উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর ট্রাক্টর ফেলে চালক পালিয়ে গেছে ট্রাক্টরটি জব্দ করা হয়েছ। এখনো পর্যন্ত কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। ময়না তদন্তের পর তদন্ত সাপেক্ষে  আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



জার্মানজুড়ে ৪৫ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর গণবিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জার্মানজুড়ে ৪৫ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর গণবিক্ষোভ

জার্মানিতে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা চালুর সরকারি উদ্যোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন দেশের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সম্প্রতি দেশটির শতাধিক শহরে ক্লাস বর্জন করে রাজপথে নেমে আসেন ৪৫ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী। 'স্কুল স্ট্রাইক অ্যাগেইনস্ট কনস্ক্রিপশন' নামক একটি উদ্যোগের ব্যানারে এই ব্যাপক বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। মূলত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ১৮ বছর বয়সী তরুণদের সামরিক বাহিনীতে যোগদানের উপযোগিতা যাচাইয়ের জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তলব করা শুরু করলে এই ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে।

বিক্ষোভকারী তরুণদের প্রধান অভিযোগ হলো, সামরিক বাহিনীতে যোগদানে বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই এমন শত শত শিক্ষার্থীকেও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নোটিশ পাঠানো হয়েছে। কিল শহরের ১৮ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী গোলো কির্শ জানান, তাদের জানানো হয়েছিল চিকিৎসা সংক্রান্ত পরীক্ষা আগামী বছর থেকে শুরু হবে এবং এটি একটি স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম হবে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের এক বছর আগেই তার মেইলবক্সে তলবপত্র চলে আসে এবং সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয় যে এই বাধ্যবাধকতা এখনই কার্যকর করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে তারা জোরপূর্বক কোনো স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অংশ নেবেন না এবং ব্যারাকেও যাবেন না।

চলতি দশকের শুরুর দিকে প্রণীত জার্মানির নতুন সামরিক সেবা আইনের আওতায় ১৮ বছর বয়সী সব পুরুষকে একটি নির্দিষ্ট প্রশ্নপত্র পূরণ করতে হয়। এর মাধ্যমে তাদের শারীরিক সক্ষমতা, বিভিন্ন দক্ষতা এবং সশস্ত্র বাহিনীতে যোগদানের মানসিকতা যাচাই করা হয়। যদিও বর্তমান সরকার সামরিক সেবা ব্যবস্থাকে স্বেচ্ছামূলক বলে দাবি করছে, তবুও শিক্ষার্থীদের আশঙ্কা সরকার ধীরে ধীরে বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ ফিরিয়ে আনার গোপন কৌশল বাস্তবায়ন করছে। ২০০৮ সালের পরে জন্ম নেওয়া তরুণদের জন্য এই স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হলেও সীমিত সক্ষমতার কারণে তা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

মূলত জার্মান সশস্ত্র বাহিনীতে দীর্ঘদিনের তীব্র জনবল সংকট দূর করতেই সরকার এই নতুন সামরিক সেবা নীতি গ্রহণ করেছে। বর্তমানে দেশটির সক্রিয় সেনাসদস্যের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৮৬ হাজার ৪০০ হলেও, আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক সংকট এবং ন্যাটোর নির্ধারিত প্রতিরক্ষা লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ২০৩৫ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ২ লাখ ৬০ হাজারে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য অর্জনে প্রতিবছর প্রায় ২০ হাজার নতুন সদস্য প্রয়োজন। তবে বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, শুধু স্বেচ্ছাসেবী পদ্ধতির ওপর নির্ভর করে এই লক্ষ্য অর্জন করা অত্যন্ত দুরূহ হবে, যার ফলে ভবিষ্যতে পূর্ণাঙ্গ বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা ফিরিয়ে আনার প্রসঙ্গটি আবারও সামনে আসতে পারে।