শেয়ার বাজার

বনানীতে বহুতল ভবনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বনানীতে বহুতল ভবনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস

রাজধানীর অভিজাত এলাকা বনানীতে একটি বহুতল বাণিজ্যিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গত ২৬ সেপ্টেম্বর শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এফআর টাওয়ারের সংলগ্ন একটি ২৬ তলা ভবনে এই আগুন লাগার বিপত্তি ঘটে। হঠাৎ করেই ভবনটির একটি নির্দিষ্ট তলা থেকে ধোঁয়া ও শিখা বের হতে দেখলে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষকে অবহিত করা হয়।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, সেদিন বিকেল ৫টা ৩৬ মিনিটে তাদের কাছে আগুন লাগার এই খবর পৌঁছায়। ২৬ তলা ওই ভবনটির ২৩ তলায় আগুন সূত্রপাত হয়েছিল বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট ডিউটি অফিসার। ওই নির্দিষ্ট ফ্লোরে দুটি বায়িং হাউসের কার্যক্রম পরিচালিত হতো। অগ্নিকাণ্ডের তীব্রতায় সেখানকার গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু এয়ার কন্ডিশনার বা এসি এবং সার্ভার পুরোপুরি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার ও নির্বাপণ কাজ শুরু করে। দমকল বাহিনীর কর্মীদের পেশাদারিত্ব ও দ্রুত পদক্ষেপের কারণে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ পায়নি। দীর্ঘ প্রায় আধা ঘণ্টার প্রচেষ্টায় সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটের দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে সক্ষম হন ফায়ার কর্মীরা।

প্রাথমিকভাবে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ কিংবা ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেনি। তবে সৌভাগ্যবশত এই আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। জনবহুল এলাকায় এমন ঘটনায় তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত তৎপরতা বড় ধরনের বিপর্যয় এড়াতে সহায়তা করেছে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্টের মধ্যাহ্নভোজ বৈঠক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্টের মধ্যাহ্নভোজ বৈঠক

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্প্রতি এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বৈঠকে অংশ নেন। নিউইয়র্কের হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রালে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জায়েদ রা’য়াদ আল হুসেইন। মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব এ কে এম নাজমুল হকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই বৈঠকে মূলত বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বর্তমান বিশ্বে চলমান বিভিন্ন সংকট ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। এছাড়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বহুমুখী কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়েও উভয় পক্ষের মধ্যে ফলপ্রসূ মতবিনিময় হয়।

বৈঠকের অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল বাংলাদেশ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যকার অংশীদারিত্ব আরও সুদৃঢ় করা। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং দ্বিপক্ষীয় সংলাপের পথকে প্রশস্ত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন দুই শীর্ষ নেতা। বিশেষ করে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের ধারাবাহিক ভূমিকা এবং অবদানের কথা এই বৈঠকে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়।

এ ছাড়া বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘকেন্দ্রিক বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও বেশি কার্যকর এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক করার তাগিদ দেওয়া হয়। বিশ্ববাসীর সার্বিক কল্যাণে জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াগুলোকে আরও গতিশীল করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তাঁরা। এই বৈঠকটি বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক শান্তি সংস্থার মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ককে ভবিষ্যতে আরও এগিয়ে নেবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।


রাজশাহীতে মুদি দোকান পোড়ানোর পর দোকানিকে কুপিয়ে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

রাজশাহীতে মুদি দোকান পোড়ানোর পর দোকানিকে কুপিয়ে হত্যা

রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া থানার বাকির মোড় এলাকায় চাঞ্চল্যকর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। খুচরা টাকা ভাঙিয়ে দিতে অস্বীকার করার জেরে আবদুল বারী (৪০) নামের এক মুদি দোকানিকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এর আগে হামলাকারীরা পেট্রল বোমা নিক্ষেপ করে তার দোকানটি সম্পূর্ণ পুড়িয়ে দেয়। এই ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ও শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। নিহত আবদুল বারী ওই এলাকারই বাসিন্দা বদরুল সরকারের ছেলে ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে সততার সঙ্গে মুদি ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত হয় মূলত হত্যাকাণ্ডের দিন সন্ধ্যার পর। ওই সময় নগরীর চণ্ডিপুর এলাকা থেকে কিছু বখাটে যুবক বাকির মোড় এলাকায় মাদক সেবনের উদ্দেশ্যে আসে। তারা আবদুল বারীর দোকানে খুচরা টাকা ভাঙানোর জন্য গেলে তিনি তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এর জেরে দোকানির সঙ্গে যুবকদের কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা হলেও বখাটেরা প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করে এবং এর মারাত্মক পরিণতি হিসেবে গভীর রাতে এই হামলা চালানো হয়।

পূর্বপরিকল্পনার অংশ হিসেবে রাত পৌনে দুইটার দিকে অর্ধশতিকারও বেশি মানুষের একটি দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও পেট্রল বোমা নিয়ে আবদুল বারীর দোকানের সামনে জড়ো হয়। হামলাকারীরা প্রথমে বারীর বাড়ির সামনে অবস্থিত মুদি দোকানের শাটারের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর পেট্রল বোমা মেরে দোকানটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়, যা মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের লেলিহান শিখা ও শব্দ শুনে বারী ও তার পরিবারের সদস্যরা ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন এবং চিৎকার শুরু করেন।

পরিবারের সদস্যরা টের পাওয়ার পর হামলাকারীরা সরাসরি আবদুল বারীকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে রাজপাড়া থানা পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ বিষয়ে রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পুলিশ এই ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে এবং মামলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এজাহার দাখিলের পর অভিযুক্তদের গ্রেফতারে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হবে বলে এই পুলিশ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।


রিয়াদের দিকে হুথিদের ড্রোন, ভূপাতিত করল সৌদি জোট

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

রিয়াদের দিকে হুথিদের ড্রোন, ভূপাতিত করল সৌদি জোট

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে ছোড়া দুটি ড্রোন সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আকাশে সফলভাবে ভূপাতিত করেছে দেশটির সামরিক জোট। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ড্রোন দুটি রিয়াদের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল এবং তা আগে থেকেই শনাক্ত করে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে। এই সফল আটকের ফলে রাজধানী ও এর আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো বড় ধরনের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়েছে।

রাজধানী রিয়াদের পাশাপাশি সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় কৌশলগত শহর খামিস মুশাইতের দিকে ধেয়ে আসা একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও ধ্বংস করেছে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী। উল্লেখ্য, খামিস মুশাইত শহরে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বিমানঘাঁটি অবস্থিত রয়েছে, যা এই অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। এই অঞ্চলের আকাশসীমায় এ ধরনের হামলা প্রতিহত করার মাধ্যমে দেশটির সামরিক বাহিনী তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার শক্ত অবস্থান পুনরায় প্রমাণ করেছে।

ইয়েমেনের এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন আঞ্চলিক সংঘাতে জড়িত রয়েছে এবং অতীতেও সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে এ ধরনের আকাশপথে আক্রমণ চালিয়েছে। ইরান-সমর্থিত এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে এ ধরনের আগ্রাসী কার্যক্রম অব্যাহত থাকায় পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে এক ধরনের নিরাপত্তা উদ্বেগ বজায় রয়েছে। সৌদি জোটের সতর্ক অবস্থানের কারণে অবশ্য সাম্প্রতিক সময়ে বড় ধরনের কোনো হতাহতের ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

এদিকে সৌদি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে তাদের হামলা প্রতিহত করার পর হুথি রাজনৈতিক ব্যুরোর পক্ষ থেকে নতুন করে হুশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে। বিদ্রোহী গোষ্ঠীটির এক শীর্ষ নেতা দাবি করেছেন যে, তাদের এই সামরিক অভিযানের পরিধি ও শক্তি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ হলেও তারা এটিকে কেবল একটি সীমিত পরিসরের মহড়া হিসেবে বিবেচনা করছে। এর মাধ্যমে তারা ভবিষ্যতে আরও বড় ও শক্তিশালী আঘাত হানার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে প্রকাশ্যেই ঘোষণা দিয়েছে, যা বর্তমান পরিস্থিতির উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।