শেয়ার বাজার

বান্দরবানের পাহাড়ে জুমের ধান কাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন জুমিয়ারা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বান্দরবানের পাহাড়ে জুমের ধান কাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন জুমিয়ারা

বান্দরবানের পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে এখন পেকে উঠেছে জুমের ধান। পাহাড়ের ঢালু জমিতে দলবদ্ধভাবে এই ফসল কাটার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় জুমিয়ারা। ঐতিহ্যবাহী এই চাষাবাদ ও ফসল তোলার উৎসবে তাঁদের সঙ্গে হাত লাগিয়েছেন স্বজন ও প্রতিবেশীরাও।

পাহাড়ের এই ঐতিহ্যবাহী চাষপদ্ধতির আওতায় কেবল ধানই ফলানো হয়নি, বরং একই জমিতে উৎপাদিত হয়েছে কলা, ভুট্টা, মারফা, চিনার ও তিলের মতো হরেক রকমের ফসল। সাধারণত সেপ্টেম্বর মাস থেকে শুরু করে অক্টোবর পর্যন্ত জুমের ধান কাটা, মাড়াই এবং তা রোদে শুকানোর কাজ চলে।

কৃষকরা পাহাড়ের অস্থায়ী জুমঘর থেকে ধান ভালোভাবে শুকিয়ে নেওয়ার পর তা নিজেদের মূল বাড়িতে নিয়ে যান। এরপর বছরের শেষ দিক থেকে শুরু করে শীতকাল পর্যন্ত পাহাড়ের প্রতিটি ঘরে ঘরে আনন্দঘন পরিবেশে পালিত হয় ঐতিহ্যবাহী জুম ধানের নবান্ন উৎসব।

সম্প্রতি বান্দরবান-থানচি সড়কের টংকাবতী ইউনিয়নের নতুন রমজুপাড়া এলাকায় এমন চিত্র ক্যামেরাবন্দী করা হয়েছে। পাহাড়ি জনপদের এই কৃষিকাজ ও উৎসব স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রার এক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

কুমিল্লার বুড়িচংয়ে গোমতীর চরে আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত কৃষকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কুমিল্লার বুড়িচংয়ে গোমতীর চরে আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত কৃষকরা

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ও গোমতী নদীর জেগে ওঠা চরে বর্তমানে আগাম শীতকালীন সবজি চাষের ধুম পড়েছে। উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের কৃষকরা বেশি লাভের আশায় জমি প্রস্তুত ও চারা রোপণে অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন। মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, কেউ নতুন চারা লাগাচ্ছেন আবার কেউ কেউ ছোট গাছের নিবিড় পরিচর্যা করছেন। বাজারে নতুন সবজির চাহিদা এবং ভালো দাম থাকায় কৃষকরা এই আগাম চাষাবাদে ঝুঁকেছেন।

চাষিরা তাদের জমিতে লালশাক, মুলা, ফুলকপি, পাতাকপি, ঢ্যাঁড়শ, ডাটা এবং পুঁইশাকের মতো বিভিন্ন সবজি আবাদ করছেন। এছাড়া টমেটো, লাউ ও মিষ্টিকুমড়াও চাষ করা হচ্ছে এই অঞ্চলে। ইতোমধ্যে অনেক কৃষক তাদের উৎপাদিত আগাম সবজি বাজারে বিক্রি করতে শুরু করেছেন এবং বেশ ভালো দামও পাচ্ছেন।

তবে কৃষকদের সবার পরিস্থিতি একরকম নয়, কারণ উৎপাদন খরচ নিয়ে রয়েছে কিছু দুশ্চিন্তা। স্থানীয় কৃষক হোসেন মিয়া জানান, সার, বীজ, কীটনাশক ও শ্রমিকের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে চাষাবাদ বেশ খরচবহুল হয়ে পড়েছে। আগের মতো বেশি লাভ না হওয়ায় তিনি এখন সীমিত পরিসরে জমি চাষ করছেন।

এ বিষয়ে বুড়িচং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আফরিনা আক্তার জানান, চলতি মৌসুমে আগাম সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা বেশ ভালো রয়েছে এবং কৃষকরা লাভজনক ফসল উৎপাদনে উৎসাহী হচ্ছেন। কৃষকরা যাতে সুষম সার ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে উৎপাদন বাড়াতে পারেন, সেজন্য কৃষি অফিস থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে থেকে কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা করছেন যাতে তারা ভালো লাভবান হতে পারেন।


দেশে উদারপন্থী গণতন্ত্র চাই: মির্জা ফখরুল

প্রকাশিত: ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬

দেশে উদারপন্থী গণতন্ত্র চাই: মির্জা ফখরুল
বিএনপি মহাসচিব বলেছেন- দেশে উদারপন্থী গণতন্ত্র চাই। নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারে যেতে চাই। আপনারা নির্ভয়ে ভোট দিতে যাবেন।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় সালন্দর ইউনিয়নে বরুনাগাঁও মাদরাসা মাঠে নির্বাচনী পথসভায় তিনি এ কথা বলেন।
এর আগে স্থানীয় ভোটারদের কাছে বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন মির্জা ফখরুল। ভোটাররা বিগত আমলে জুলুম নিপিড়ন ও জমি দখলের কথা জানান।
এর প্রেক্ষিতে মির্জা ফখরুল বলেন, আপনাদের জন্য এর আগেও পৌরসভার চেয়ারম্যান থাকাকালে কাজ করেছি। সংসদে গিয়েও কাজ করেছি। আমাকে আপনারা দীর্ঘদিন ধরে চেনেন। আমার নতুন করে পরিচয় দেবার কিছু নেই। আমার গোটা পরিবারকে আপনারা চেনেন। বাবা-দাদার জমি বিক্রি করে রাজনীতি করি, আপনাদের আমানতের খেয়ানত করবো না। আপনাদের সব সমস্যার স্থায়ী সমাধান করবো। আপনারা অভিযোগ করেছেন এখানে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের দুর্বৃত্তদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ এগুলো আর থাকবে না। আমার দলের কেউ দুর্বৃত্তায়নে জড়িত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেব।
তিনি আরও বলেন, দেশে উদারপন্থী গণতন্ত্র চাই, নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারে যেতে চাই। আপনারা নির্ভয়ে ভোট দিতে যাবেন। তারেক রহমান সঠিকভাবে দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে এগিয়ে নিতে পারবেন। যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য অতিতে আমরা কাজ করেছি, আগামিতেও করবো।।
মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে কৃষকরা সহজেই সার পাবে, সার সংকট থাকবে না। পরিবারের মা বোনরা ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। সে কার্ড দিয়ে তারা ন্যায্য মূল্যে নিত্যপণ্য কিনতে পারবেন এবং সে কার্ড দিয়ে চিকিৎসা সেবা পাবেন। এ কার্ড হবে মা বোনদের জন্য অস্ত্র।

রাষ্ট্রপতি থেকে হুইপ, আলোচনায় যারা

প্রকাশিত: ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

রাষ্ট্রপতি থেকে হুইপ, আলোচনায় যারা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করেছে তারেক রহমানের বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট। মন্ত্রিসভা গঠিত হলেও এখনও রাষ্ট্রপতি, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, সংসদ উপনেতা, চিফ হুইপ ও হুইপ পদে কারা বসছেন তা নিয়ে দলটির ভেতরে চলছে আলোচনা। রাষ্ট্রপতির আহ্বানে আগামী ১২ মার্চ বসছে সংসদ অধিবেশন। 

দলীয় একাধিক সূত্র বলছে, মন্ত্রিসভা গঠনের পর এবার সংসদীয় কাঠামো পুনর্বিন্যাসে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপি।

রাষ্ট্রপতি পদে চার শীর্ষ নেতার কথা উঠছে

রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির বেশ কয়েকজন শীর্ষ পর্যায়ের নেতা। তারা হলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান ও সেলিমা রহমান।

অনেকে বলছেন, রাজনীতিতে আরও চমক দেখাতে পারেন তারেক রহমান। সে ক্ষেত্রে দেশের প্রথম নারী রাষ্ট্রপতি হিসেবে সেলিমা রহমানের নাম সামনে আসতে পারে। নারী নেতৃত্বকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে বসিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতিবাচক বার্তা দেওয়ার কৌশল থাকতে পারে দলীয় প্রধানের।

তবে রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় রাজনীতির বাইরের কাউকে আনার সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে যাচ্ছে না। আলোচনায় রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এস এম এ ফায়েজ ও সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহর নামও। এছাড়া সাবেক সচিব বা অবসরপ্রাপ্ত কোনো সেনাপ্রধানের নামও আলোচনায় ঘুরপাক খাচ্ছে।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পরই তারেক রহমানকে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করেছে বিএনপি জোট।

সংবিধান অনুযায়ী, সরকারি ফলাফল প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে সংসদ অধিবেশন আহ্বানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে গেলো রোববার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আগামী ১২ মার্চ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। সেই অধিবেশনেই স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবেন। ওই অধিবেশনে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

সংবিধান ও জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী, পূর্ববর্তী সংসদের স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার কথা। বিগত সংসদদের স্পিকার-ডেপুটি স্পিকারের অবর্তমানে সংসদ অধিবেশন কিভাবে শুরু হবে বা প্রথম অধিবেশনে কে সভাপতিত্ব করবেন, সেটি নিয়েও নানা আলোচনা চলছে। তবে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যে কোনো জ্যেষ্ঠ নেতাও সভাপতিত্ব করতে পারেন।

এদিকে, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পদে আলোচনায় যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান এম ওসমান ফারুক ও ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন।

আর ডেপুটি স্পিকার পদে আলোচনায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ ও আশরাফ উদ্দিন নিজানের নাম শোনা যাচ্ছে।

বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে উপরাষ্ট্রপতি পদ সৃষ্টির প্রতিশ্রুতিও রয়েছে। পাশাপাশি দুই কক্ষবিশিষ্ট আইনসভায় সরকারদলীয় সদস্য ব্যতীত অন্য দল থেকেও একজন ডেপুটি স্পিকার মনোনয়নের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

সংসদ উপনেতা, চিফ হুইপ ও হুইপ হতে পারেন কারা?

সংসদ উপনেতা হিসেবে আলোচনায় রয়েছে স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের নাম। চিফ হুইপ পদে সম্ভাব্যদের তালিকায় রয়েছেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লা বুলু, ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবদীন ফারুক ও ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মনির নাম।

হুইপ পদে আলোচনায় আছেন নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু, সিলেট-৬ আসন থেকে নির্বাচিত এমরান আহমেদ চৌধুরী, সম্প্রতি বিএনপিতে যোগ দেওয়া ড. রেজা কিবরিয়া, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিম।

দলীয় একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, পর্যায়ক্রমে সংসদীয় কাঠামোতে গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের স্থান দেওয়া হবে।

বিএনপির প্রচার দলের সভাপতি মাহফুজ কবির মুক্তা বলেছেন, দল একেক করে সৎ, যোগ্য ও পরীক্ষিত ব্যক্তিদের মূল্যায়ন করবে। কেননা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মিছিলের শেষ মানুষটিও মূল্যায়িত হবে।

রাষ্ট্রপতি থেকে হুইপ পর্যন্ত বিভিন্ন পদে নিয়োগ নিয়ে দলীয় আলোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স জাগো নিউজকে বলেন, ‘এটি রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের বিষয়। এ ধরনের সিদ্ধান্ত দলের সর্বোচ্চ ফোরাম থেকেই নেওয়া হবে। বর্তমানে গণমাধ্যমে যে আলোচনা বা নাম ভেসে বেড়াচ্ছে, সেগুলো মূলত অনুমাননির্ভর। তবে জনগণের প্রত্যাশা আছে—অতীত অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার আলোকে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক। আমরা চাই, সেই জনপ্রত্যাশা যেন পূরণ হয়।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, ‘এই পদগুলো ঠিক করবেন জাতীয় সংসদের মাননীয় সংসদ নেতা। আর আমি বা আমরা জানতে পারলো আপনাদের জানাবো।’