স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান জানিয়েছেন যে হেলথ কার্ড ও কৃষি কার্ডের মতো বিভিন্ন জনহিতকর উদ্যোগের সুফল পর্যায়ক্রমে দেশের মানুষ পেতে শুরু করেছে। সম্প্রতি পলাশ উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন। সীমিত সম্পদকে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। দরিদ্র মানুষের কল্যাণে সরকারের এই ধরনের বিশেষ উদ্যোগগুলো সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
অনুষ্ঠানের মূল অংশে স্থানীয় দরিদ্র মানুষের মাঝে নগদ অর্থ, সেলাই মেশিন এবং শিক্ষার্থীদের হাতে স্কুল ব্যাগ বিতরণ করা হয়। পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইশতিয়াক আহমেদের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা ও বিতরণ কার্যক্রম শেষে অতিথিরা এলাকার একটি বিলে পোনা মাছ অবমুক্ত করেন। এই ধরনের সামাজিক কার্যক্রম প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়াতে স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টারই বহিঃপ্রকাশ।
বক্তব্যের অন্য একটি অংশে মন্ত্রী গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলেন এবং এর অপব্যবহার রোধে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে একটি নির্দিষ্ট চক্র সংবাদমাধ্যম ও ফেসবুকের স্বাধীনতার সুযোগ নিয়ে অসত্য তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তাই সত্যের পরিবর্তে যাতে কেউ মিথ্যা প্রচার চালাতে না পারে, সেদিকে সকলের সজাগ দৃষ্টি রাখা জরুরি। গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে সঠিক তথ্যের প্রচার এবং সুস্থ ধারার গণমাধ্যম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মনে করেন।
বিগত সরকারের কঠোর সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন যে অতীতে বিভিন্ন ত্রুটিপূর্ণ ও কারচুপির মাধ্যমে সরকার গঠিত হয়েছিল। অথচ বর্তমান সরকার জনগণের সরাসরি ভোট, কোটি মানুষের সমর্থন এবং দুই-তৃতীয়াংশ ভোট পেয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতায় এসেছে। কারো দয়া বা কারচুপির মাধ্যমে নয়, বরং সঠিক ও নিরপেক্ষ ভোটের মাধ্যমেই একটি জবাবদিহিমূলক সরকার গঠিত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের অধিকারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বর্তমান প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সরকারের এই জনকল্যাণমূলক কাজগুলো সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য তিনি সকলের নিকট সময় ও সুযোগ প্রত্যাশা করেন। জনগণের প্রকৃত ভোটে নির্বাচিত এই সরকারের মূল লক্ষ্য হলো দেশের প্রতিটি কোণায় উন্নয়ন পৌঁছে দেওয়া এবং সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা। দেশের সীমিত সম্পদকে সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করে একটি স্বাবলম্বী জাতি গঠনে বর্তমান প্রশাসন বদ্ধপরিকর। পরিশেষে, জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতায় দেশ আরও উন্নতির পথে এগিয়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।








