শেয়ার বাজার

আগামী দুই মাসে প্রধানমন্ত্রীর তিন দেশ সফরের প্রস্তুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আগামী দুই মাসে প্রধানমন্ত্রীর তিন দেশ সফরের প্রস্তুতি

আসন্ন অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি দেশ সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর অংশ হিসেবে তিনি জাপান ও সৌদি আরবে দ্বিপক্ষীয় সফর করবেন এবং তুরস্কে অনুষ্ঠেয় বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দেবেন। টোকিও, রিয়াদ ও আঙ্কারার কূটনৈতিক সূত্রগুলো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ইতোমধ্যে এসব সফর সফল করতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ ও প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে তিন থেকে চার দিনের সফরে জাপানে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে এই সফরে দুই দেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় করার ওপর জোর দেওয়া হবে। বিশেষ করে বিগত সফরগুলোর ধারাবাহিকতায় বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি খাত ও জনশক্তি রপ্তানির অগ্রগতি পর্যালোচনা এই সফরের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা হতে পারে।

জাপান সফর শেষ করে নভেম্বরের প্রথমার্ধে তুরস্কে যাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশটির আনাতোলিয়ায় আয়োজিত জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক সম্মেলনে যোগ দেবেন তিনি। জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য এই আন্তর্জাতিক ফোরাম অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সম্মেলনে জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিতকরণ এবং পূর্বে গৃহীত লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নের বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরতে পারে ঢাকা।

এরপর নভেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে সৌদি আরবের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের আমন্ত্রণে রিয়াদ সফর করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। ঐতিহ্যগত শ্রমবাজারের গণ্ডি পেরিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি ও নবায়নযোগ্য শক্তির মতো খাতে বিস্তৃত হচ্ছে। আসন্ন এই উচ্চপর্যায়ের সফরে বিনিয়োগ চুক্তি, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং রোহিঙ্গা সংকটের মতো গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

পানিতে ডুবে গেছে ব্যাংকক, দুর্যোগকবলিত এলাকা ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

পানিতে ডুবে গেছে ব্যাংকক, দুর্যোগকবলিত এলাকা ঘোষণা
{"title": "ভারী বর্ষণে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে চরম জলাবদ্ধতা", "category": আন্তর্জাতিক, "content": "

প্রবল বর্ষণের ফলে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের বিস্তীর্ণ জনপদ মারাত্মকভাবে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। গত কয়েক দিন ধরে চলা এই টানা বৃষ্টির কারণে শহরটির প্রধান সড়কগুলোসহ বহু আবাসিক এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ফলে রাজধানীজুড়ে তীব্র যানজট ও জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ার মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ব্যাংকক মেট্রোপলিটন প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলোকে আনুষ্ঠানিক দুর্যোগকবলিত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। শহরের নিকাশি ব্যবস্থা অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন করতে না পারায় এই জলাবদ্ধতা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন এবং অনেকে ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন।

দুর্গত এলাকাগুলোতে পানি দ্রুত অপসারণের জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা জরুরি ভিত্তিতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তলিয়ে যাওয়া সড়কগুলো থেকে অতিরিক্ত পানি সরাতে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করতে একাধিক শক্তিশালী পাম্প ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় উদ্ধার ও নিষ্কাশন কার্যক্রমে কিছুটা বিঘ্ন ঘটছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন আবহাওয়া এমন থাকতে পারে এবং আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, প্রশাসন পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখছে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি জোরদার করেছে।

"}

চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-ছেলের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-ছেলের মৃত্যু

ছেলের চিকিৎসা ও ব্যবসার কাজে ঢাকায় যাওয়ার পথে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা ও ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার কাঁকড়াবুনিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা আবু জাফর মৃধা এবং তার নবম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলে অনিক মৃধা এই করুণ পরিণতির শিকার হন। আবু জাফর পেশায় একজন ব্যবসায়ী ছিলেন এবং মির্জাগঞ্জ উপজেলা সদরের নান্নু শপিং কমপ্লেক্সে তার একটি পোশাকের দোকান ছিল। অন্যদিকে, তার ছেলে অনিক স্থানীয় মির্জাগঞ্জ আইডিয়াল স্কুলের শিক্ষার্থী হিসেবে পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছিল। পরিবারের এই দুই সদস্যের আকস্মিক মৃত্যুতে তাদের গ্রামের বাড়িতে শোকের মাতম চলছে এবং এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি মাদারীপুর জেলার শিবপুর উপজেলার বাখরেকান্দি পুনর্বাসন কেন্দ্রসংলগ্ন মাদবরের কান্দি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা পালকি পরিবহনের একটি বাসের চাকা হঠাৎ পাংচার হয়ে যাওয়ায় চালক ও হেলপার সেটি মেরামতের কাজ করছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই বরগুনা থেকে ঢাকাগামী হানিফ পরিবহনের অপর একটি দ্রুতগতির বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা বাসটিকে পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এই সংঘর্ষের ফলে বাস দুটির সামনের ও পেছনের অংশ সম্পূর্ণ দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন। এছাড়া এই সংঘর্ষের ঘটনায় আরও অন্তত পনেরো থেকে কুড়ি জন যাত্রী গুরুতর আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

দুর্ঘটনার খবর নিশ্চিত করে মাদারীপুরের শিবচর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাকিল আহম্মেদ জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্ত শেষে দ্রুত পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। অন্যদিকে, মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান জানিয়েছেন যে তারা শিবচর হাইওয়ে থানা পুলিশের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর মরদেহগুলো পটুয়াখালীতে তাদের নিজ বাড়িতে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।


নিরাপত্তা জোরদারে সামরিক সরঞ্জাম নিরাপদ স্থানে সরিয়েছে ইরান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নিরাপত্তা জোরদারে সামরিক সরঞ্জাম নিরাপদ স্থানে সরিয়েছে ইরান

দেশের সামরিক সক্ষমতা এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা সরঞ্জামগুলোর সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি বড় পদক্ষেপ নিয়েছে তেহরান। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল এই সরঞ্জামগুলোর একটি বড় অংশ দেশটির সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলোতে স্থানান্তর করা হয়েছে। ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজা তালাই-নিক সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে যেকোনো সম্ভাব্য বাহ্যিক হুমকি থেকে সুরক্ষিত রাখতে এই কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালির ভূরাজনীতিতে তেহরানের কৌশলগত অবস্থান এবং বিশাল জ্বালানি সম্পদের ভাণ্ডারের কারণে অতীতেও দেশটি বিভিন্ন ধরনের আগ্রাসনের শিকার হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং নৌবাহিনীর শক্তি ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা চালানো হয়েছিল। তবে প্রতিপক্ষ এই আক্রমণগুলো চালালেও তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য পুরোপুরি অর্জন করতে পারেনি বলে দৃঢ় দাবি করেছেন ইরানি এই সামরিক কর্মকর্তা।

সামরিক শক্তি ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সুরক্ষিত রাখার অংশ হিসেবে গত কয়েক বছর ধরেই সুপরিকল্পিতভাবে এই ভূগর্ভস্থ অবকাঠামো নির্মাণের কাজ চালিয়েছে তেহরান। দেশের কৌশলগত প্রতিরক্ষা শক্তির একটি বড় অংশকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ফলে প্রতিপক্ষের সামরিক পরিকল্পনা বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। বিশেষ করে ইরানের অস্ত্র উৎপাদন এবং সামগ্রিক সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করার যে গোপন পরিকল্পনা শত্রুদেশগুলোর ছিল, তা এই পদক্ষেপে নস্যাৎ হয়ে গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নিজেদের নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শানিত করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য আগ্রাসন দৃঢ়ভাবে মোকাবিলা করতে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজা তালাই-নিক। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তেহরান তাদের সামরিক নীতিতে এ ধরনের পরিবর্তন ও আধুনিকায়ন অব্যাহত রাখবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।