শেয়ার বাজার

যুক্তরাষ্ট্র সব প্রস্তাব মানলেও পারমাণবিক কর্মসূচিতে ছাড় দেবে না ইরান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র সব প্রস্তাব মানলেও পারমাণবিক কর্মসূচিতে ছাড় দেবে না ইরান

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পক্ষ থেকে উত্থাপিত সব শর্ত ও দাবি মেনে নিলেও নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে পিছু হটবে না তেহরান। সম্প্রতি দেশটির পক্ষ থেকে এমন কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। মূলত দেশের পরমাণু প্রকল্পের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস না করার নীতিতে অটল রয়েছে বর্তমান ইরানি প্রশাসন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরানের এক উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, ওয়াশিংটন তেহরানের সব শর্ত ও দাবি পূরণ না করা পর্যন্ত কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের এই জলপথটি ঘিরে দুই দেশের মধ্যকার চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।

পারমাণবিক সমঝোতা পুনরুজ্জীবনের প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলছে। তবে দুই দেশের পারস্পরিক আস্থার সংকট এবং কঠোর শর্তের বেড়াজালে মূল চুক্তি বাস্তবায়ন বারবার হোঁচট খাচ্ছে। তেহরান শুরু থেকেই তাদের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক গবেষণা চালিয়ে যাওয়ার অধিকারের ওপর জোর দিয়ে আসছে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার মতো কঠোর হুশিয়ারি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকটময় পরিস্থিতি নিরসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদ্বেগ প্রকাশ করলেও দুই পক্ষই নিজেদের দাবিতে অনড় রয়েছে। ফলে নিকট ভবিষ্যতে এই বিরোধ মীমাংসার কোনো সহজ পথ দেখা যাচ্ছে না।

সৈকতে ডিম পেড়ে সামুদ্রিক কচ্ছপের বাসা বানানোর বিরল দৃশ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সৈকতে ডিম পেড়ে সামুদ্রিক কচ্ছপের বাসা বানানোর বিরল দৃশ্য

প্রকৃতির এক বিস্ময়কর ও বিরল ঘটনার সাক্ষী হয়েছে একটি সামুদ্রিক সৈকত। সেখানে গভীর রাতে বালু খুঁড়ে একটি কচ্ছপ ডিম পাড়ার পর নিখুঁতভাবে বাসা তৈরি করেছে, যা ওই অঞ্চলের জন্য সম্পূর্ণ নতুন একটি অভিজ্ঞতা। স্থানীয় পরিবেশকর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা এই দুর্লভ দৃশ্য দেখে দারুণভাবে বিমোহিত হয়েছেন।

সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য গবেষকদের মতে, এই ধরনের সামুদ্রিক কচ্ছপ সাধারণত নিরাপদ ও উপযুক্ত পরিবেশ পেলে নির্দিষ্ট কিছু সৈকতেই ডিম পাড়ার জন্য আসে। তবে বর্তমান সৈকতটিতে এর আগে কচ্ছপের বাসা বাঁধার কোনো রেকর্ড ছিল না। এটি প্রমাণ করে যে ওই এলাকার উপকূলীয় পরিবেশ সামুদ্রিক প্রাণীদের প্রজননের জন্য ধীরে ধীরে উপযোগী হয়ে উঠছে।

সামুদ্রিক কচ্ছপের এই সফল প্রজনন প্রচেষ্টাকে স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। কচ্ছপটি যাতে নিরাপদে ডিমগুলো ফুটিয়ে সাগরে ফিরে যেতে পারে, সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী দলগুলো এরই মধ্যে বিশেষ নজরদারি শুরু করেছে। ডিমগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বালুর চারপাশে সতর্কতামূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।

পরিবেশবিদদের ধারণা, এই ঘটনা উপকূলীয় অঞ্চলে সামুদ্রিক প্রাণীর বিচরণ ও প্রজনন সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াবে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে সামুদ্রিক কচ্ছপ রক্ষায় আরও বড় পরিসরে গবেষণা ও সংরক্ষণমূলক উদ্যোগ গ্রহণের পথ উন্মুক্ত করবে এই বিরল ঘটনা।


বসতভিটা বাঁচাতে গ্রামবাসীই আটক করলেন ড্রেজার, পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বসতভিটা বাঁচাতে গ্রামবাসীই আটক করলেন ড্রেজার, পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার বালাসীঘাট সংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নদীভাঙন থেকে নিজেদের বসতভিটা ও ফসলি জমি রক্ষার্থে কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের পূর্ব খোলাবাড়ী গ্রামের সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই সাহসী পদক্ষেপ নেন। সম্প্রতি দুপুরে নদীর তীরবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত একটি ড্রেজার ও একটি নৌকা আটক করেন ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই অবৈধ কার্যক্রমের কারণে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করায় তারা নিজেরাই মাঠে নামতে বাধ্য হন।

স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের অভিযোগ অনুযায়ী, বালাসীঘাটের নিকটবর্তী খোলাবাড়ী গ্রামের উজান অংশে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে নিয়মবহির্ভূতভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। নদীর একেবারে কাছ থেকে বালু তোলার ফলে এর আশেপাশের অঞ্চলে মারাত্মক ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে পূর্ব খোলাবাড়ী এবং উত্তর উড়িয়া গ্রামের অসংখ্য বসতবাড়ি, উর্বর ফসলি জমি ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এলাকাবাসী জানান, এর আগেও তারা এই অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবিতে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তરે অভিযোগ এবং মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছিলেন, কিন্তু তাতে কোনো সুফল মেলেনি।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসী জানান, ভিটেমাটি হারানোর আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না দেখায় তারা নিজেরাই নদীতে গিয়ে ড্রেজারগুলো আটক করেন। স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হোসেন ও আব্দুর রশিদ বলেন, নদী ভাঙতে ভাঙতে তাদের শেষ সম্বলটুকু কেড়ে নেওয়ার উপক্রম করেছে, তাই ঘরবাড়ি বাঁচাতে তারা বাধ্য হয়ে এই প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন। অপর এক বাসিন্দা ওমর আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এভাবে বালু উত্তোলন চলতে থাকলে তাদের পথে বসা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না, তাই স্থায়ীভাবে এই ভাঙন রোধ করা জরুরি।

পরিস্থিতি বেগবান হওয়ায় স্থানীয় কঞ্চিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহেল রানা শালুও বিষয়টি দ্রুত প্রশাসনের নজরে আনেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দেন। পরবর্তীতে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে। ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে ড্রেজার মালিক মিলন মিয়া এবং নৌকা মালিক হেলোয়ার হোসেনকে মোট দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। সেই সঙ্গে ভবিষ্যতে নদীতীর থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করবেন না মর্মে তাঁদের কাছ থেকে মুচলেকাও আদায় করা হয়েছে।


‘যুদ্ধাপরাধীদের জায়গা আদালতে, জাতিসংঘের মঞ্চে নয়’Ñনেতানিয়াহুকে এরদোয়ান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

‘যুদ্ধাপরাধীদের জায়গা আদালতে, জাতিসংঘের মঞ্চে নয়’Ñনেতানিয়াহুকে এরদোয়ান

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ান অত্যন্ত কঠোর ভাষায় মন্তব্য করেছেন যে, যুদ্ধাপরাধীদের স্থান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের মতো মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চে হতে পারে না। ইস্তাম্বুলে আয়োজিত ২৯তম আন্তর্জাতিক বিজনেস ফোরামের সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই প্রসঙ্গটি উত্থাপন করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন যে, রক্তপাতের সঙ্গে জড়িতদের আন্তর্জাতিক আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। মূলত ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া হিসেবেই তিনি এই মন্তব্য করেন।

তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির পরিবেশিত তথ্য অনুযায়ী, ফিলিস্তিন সংকটের বিষয়ে দেশটির অনড় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন এরদোয়ান। তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন যে, যারা প্রকাশ্যে গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে তাদের যদি দ্রুত উপযুক্ত বিচার ও ইতিহাসের মুখোমুখি করা না হয়, তবে এই ধরনের নৃশংসতা আবারও ঘটার আশঙ্কা থেকে যায়। ফিলিস্তিনি জনগণ কখনই একা নয় এবং গাজাবাসীর ন্যায্য অধিকার আদায়ের এই লড়াইয়ে তুরস্ক সব সময় তাদের পাশে থাকবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বক্তব্যের একপর্যায়ে ফিলিস্তিনি ভাই-বোনদের সান্ত্বনা দিয়ে তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, তারা কোনো অবস্থাতেই একা বা বিশ্ববাসীর দ্বারা পরিত্যক্ত নন। গাজায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য যারা রক্তক্ষয়ী ও দীর্ঘ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন, তুরস্ক তাদের কোনোভাবেই পরিত্যাগ করবে না। বিশ্ববিবেককে জাগ্রত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী মানুষের প্রতি আঙ্কারার এই নৈতিক ও রাজনৈতিক সমর্থন ভবিষ্যতেও নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত থাকবে।

বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে রজব তাইয়েব এরদোয়ান আরও বলেন যে, মধ্যপ্রাচ্যসহ সমগ্র অঞ্চল বর্তমানে এক ভয়ানক সংকটের পূর্ণাঙ্গ ঝড়ের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। তুরস্ককে কেন্দ্র করে ভূ-রাজনীতিতে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সংঘাত বন্ধ এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অবিলম্বে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।