শেয়ার বাজার

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের ভাবমূর্তি ‘নজিরবিহীন তলানিতে’ নামিয়েছেন নেতানিয়াহু

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের ভাবমূর্তি ‘নজিরবিহীন তলানিতে’ নামিয়েছেন নেতানিয়াহু

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কর্মকাণ্ডের ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দেশটির অবস্থান ও কৌশলগত ভাবমূর্তি রেকর্ড পরিমাণে নিচে নেমে গেছে। দেশটির প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম হারেৎজ প্রকাশিত এক সম্পাদকীয়তে এমন মন্তব্য করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে দুই দেশের সম্পর্কে সম্ভাব্য সংকট নিয়ে যেসব সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল, নেতানিয়াহু তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। মার্কিন রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা দ্বিপক্ষীয় ঐকমত্য ক্ষুণ্ণ করার ক্ষেত্রেও বর্তমান ইসরাইলি সরকারের ভূমিকা রয়েছে বলে পত্রিকাটি মনে করে।

সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, মার্কিন রাজনীতিতে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রিপাবলিকান পার্টির পক্ষে নেতানিয়াহুর অতিমাত্রায় ও প্রকাশ্য পক্ষপাতিত্ব ডেমোক্র্যাট শিবিরের কাছে ইসরাইলকে কোণঠাসা করে তুলেছে। তবে এই অবনতি কেবল ডেমোক্র্যাটদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি বলে জানিয়েছে হারেৎজ। বিগত দুই বছরে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ছাড়াও ইতামার বেন-গভির ও বেজালেল স্মোটরিচের নেতৃত্বাধীন সরকারের নীতিগুলো রিপাবলিকান মহলের মধ্যেও ইসরাইল সম্পর্কে বিরূপ ধারণার জন্ম দিয়েছে।

বর্তমান ইসরাইলি প্রশাসনের বেশ কিছু বিতর্কিত নীতি ও পদক্ষেপ দুই দেশের সম্পর্কে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এর মধ্যে রয়েছে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে উগ্র বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বৃদ্ধি এবং গাজা, পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে বসবাসকারী খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ওপর বিভিন্ন ধরনের হামলা। এছাড়া সম্প্রতি ইরান সংঘাতের জেরে জ্বালানি মূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সৃষ্ট ভূরাজনৈতিক চাপ ইসরাইলের ঐতিহ্যগত মিত্রদেরও নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। এমনকি ইসরাইলের সবচেয়ে কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিরাও এখন দেশটির নজিরবিহীন সমালোচনা করতে শুরু করেছেন।

মার্কিন জনমত জরিপের সাম্প্রতিক তথ্য তুলে ধরে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মাঝে ইসরাইলবিরোধী মনোভাব তীব্র আকার ধারণ করেছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে নেতানিয়াহুর কোনো ধরনের জোরালো বা আড়ম্বরপূর্ণ বক্তব্য এই রূঢ় ও কঠিন বাস্তবতাকে ঢাকতে পারবে না। মার্কিন জনগণের দৃষ্টিভঙ্গিতে ইসরাইলের মর্যাদা কতটা নিচে নেমে গেছে এবং এর সুদূরপ্রসারী পরিণতি ভবিষ্যতে দুই দেশের মিত্রতায় কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, তা প্রতিটি ইসরাইলি নাগরিকের উপলব্ধি করা প্রয়োজন বলে সম্পাদকীয়তে সতর্ক করা হয়েছে।

জাতিসংঘ সফর শেষে দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জাতিসংঘ সফর শেষে দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের একষট্টিতম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগদান শেষে দেশের পথে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার উদ্দেশ্যে তাঁর এই পাঁচ দিনের যুক্তরাষ্ট্র সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। এই সফরে তাঁর সঙ্গী ছিলেন সরকারের উচ্চপর্যায়ের বেশ কজন কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিদলের সদস্যবৃন্দ। সফরসূচি অনুযায়ী সকল কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করার পর তিনি এখন ঢাকার উদ্দেশ্যে আকাশপথ অতিক্রম করছেন।

নিউইয়র্কে অবস্থানকালে জাতিসংঘের মূল অধিবেশনের পাশাপাশি বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও পার্শ্বসৈনিক কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে দেশের সমসাময়িক অর্জন, গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা এবং বৈশ্বিক নানা সংকট মোকাবিলারে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন তিনি। বিশেষ করে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তাঁর বাংলায় দেওয়া ভাষণ প্রবাসী বাঙালি ও দেশের জনগণের মধ্যে দারুণ উদ্দীপনার সৃষ্টি করে।

এই সফরে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ওইসব বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়াদি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব জোরদার করার বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। বিশ্বনেতাদের সঙ্গে এই ধরনের কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও সুদৃঢ় হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নিউইয়র্কের ব্যস্ত কর্মসূচি ও কূটনৈতিক ব্যস্ততা সফলভাবে শেষ করে প্রধানমন্ত্রীর বহনকারী বিমানটি নির্ধারিত সময়েই ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা রয়েছে। তাঁর এই প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ করা গেছে। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি সরকারি বাসভবনে ফিরে তিনি দেশের চলমান প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক বিষয়গুলো নিয়ে পুনরায় কাজ শুরু করবেন বলে জানা গেছে।


আইভরি ব্রাইড লুকে ভিকির সঙ্গে কেমিস্ট্রি ঝালিয়ে নিলেন আলিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আইভরি ব্রাইড লুকে ভিকির সঙ্গে কেমিস্ট্রি ঝালিয়ে নিলেন আলিয়া

বলিউডের জনপ্রিয় তারকা ভিকি কৌশল ও আলিয়া ভাট সম্প্রতি এক ফ্যাশন শোয়ের মঞ্চে একসঙ্গে হেঁটেছেন। তাঁদের এই র‍্যাম্পে হাঁটা এবং নজরকাড়া উপস্থিতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দারুণ শোরগোল ফেলে দিয়েছে। ঐতিহ্যবাহী পোশাকে এই দুই তারকার আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিমা উপস্থিত দর্শকদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে।

ফ্যাশন শোয়ের মঞ্চে আইভরি বা হাতির দাঁতের রঙের মার্জিত পোশাকে সেজেছিলেন এই জুটি। তাঁদের এই রাজকীয় সাজের প্রশংসা করছেন ফ্যাশন সমালোচকরাও। পোশাকের সঙ্গে মানানসই গয়না এবং দুই তারকার শারীরিক ভাষার সাবলীলতা পুরো পরিবেশটিকে আরও বেশি আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, র‍্যাম্পে এই জুটির অনবদ্য রসায়ন তাঁদের আসন্ন কোনো যৌথ চলচ্চিত্রের প্রচারণার অংশ হতে পারে। পর্দায় একসঙ্গে কাজ করার আগে এই ধরনের উপস্থিতি দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তাঁদের এই জুটি বড় পর্দায় কেমন ম্যাজিক দেখাবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জল্পনা শুরু হয়েছে ভক্তমহলে।

বলিউডে ভিকি কৌশল ও আলিয়া ভাট দুজনেই নিজেদের চমৎকার অভিনয় দক্ষতার জন্য পরিচিত। এর আগেও তাঁরা ভিন্নধর্মী চরিত্রে নিজেদের মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন। ফ্যাশন মঞ্চের এই সফল কেমিস্ট্রি তাঁদের পেশাগত জীবনের আরেকটি আকর্ষণীয় অধ্যায় হিসেবে যুক্ত হলো।


প্রায় দুই মাসের বদলে মাত্র দুই ঘণ্টায় শনাক্ত হবে মস্তিষ্কের টিউমার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

প্রায় দুই মাসের বদলে মাত্র দুই ঘণ্টায় শনাক্ত হবে মস্তিষ্কের টিউমার

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস বা এনএইচএস মস্তিষ্কের টিউমার দ্রুত শনাক্ত করার জন্য একটি যুগান্তকারী জিনগত পরীক্ষার ব্যবস্থা চালু করেছে। এর ফলে রোগীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে, কারণ যেখানে আগে টিউমারের সুনির্দিষ্ট ধরন জানতে আট সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো, সেখানে এখন মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যেই পরীক্ষার ফল পাওয়া সম্ভব হচ্ছে। এই প্রযুক্তির সফল ব্যবহারের মাধ্যমে রোগীরা চরম অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপ থেকে মুক্ত হয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যকর চিকিৎসা শুরু করতে পারবেন।

নতুন এই প্রক্রিয়ায় মস্তিষ্কের টিউমার থেকে সংগৃহীত টিস্যুর নমুনা একটি বিশেষ সিকোয়েন্সিং যন্ত্রের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়। অক্সফোর্ড ন্যানোপোরের তৈরি জুতার বাক্সের আকৃতির এই যন্ত্রটি ডিএনএ অণুকে একটি ক্ষুদ্র ছিদ্রের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত করে টিউমারের স্বতন্ত্র জিনগত বৈশিষ্ট্যগুলো নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করে। এর সঙ্গে নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের তৈরি বিশেষ সফটওয়্যার যুক্ত থাকায় প্রচলিত মাইক্রোস্কোপিক পদ্ধতির চেয়ে অনেক বেশি গভীর ও বিস্তারিত আণবিক শ্রেণিবিন্যাস পাওয়া যায়।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এই পদ্ধতির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো অস্ত্রোপচার চলাকালীনই টিউমারের প্রকৃতি ও ধরন সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। এর ফলে সার্জনরা অপারেশন চলাকালেই বুঝতে পারেন টিউমার অপসারণের সঠিক কৌশল ও পরিধি কী হওয়া উচিত। সম্প্রতি নটিংহামের এক রোগীর ওপর এই প্রযুক্তির সফল প্রয়োগ করা হয়েছে, যেখানে অস্ত্রোপচারের সময় পরীক্ষার প্রাথমিক ফল পাওয়ায় রোগীর দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তা দ্রুত দূর হয়েছে।

যুক্তরাজ্যে প্রতি বছর ১২ হাজারের বেশি মানুষের দেহে প্রাথমিক মস্তিষ্কের টিউমার ধরা পড়ে এবং শিশু ও তরুণদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ এটি। এই বাস্তবতায় এনএইচএস ইংল্যান্ড প্রাথমিক পর্যায়ে নটিংহাম, বার্মিংহাম, লন্ডন ও নিউক্যাসলের পাঁচটি বিশেষায়িত কেন্দ্রে এই আধুনিক পরীক্ষাটি চালু করেছে। পরবর্তীতে ব্রিস্টল, অক্সফোর্ড, লিডস ও ম্যানচেস্টারের মতো প্রধান শহরগুলোতেও এই চিকিৎসা সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসার ঘটলে এটি দেশের নিয়মিত চিকিৎসাব্যবস্থার একটি অপরিহার্য অংশে পরিণত হবে। দ্রুত রোগ নির্ণয়ের পাশাপাশি এটি রোগীদের জন্য ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিকিৎসা, নতুন ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল এবং উন্নত সেবা গ্রহণের পথ প্রশস্ত করবে। এনএইচএসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই উদ্ভাবন ক্যানসার চিকিৎসায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে এবং বহু রোগীর জীবন বাঁচাতে এটি অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে।