শেয়ার বাজার

ওয়াশিংটনে ট্রাম্প–সির জমকালো বৈঠকে কোনো সমাধান কি এল?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ওয়াশিংটনে ট্রাম্প–সির জমকালো বৈঠকে কোনো সমাধান কি এল?

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের মধ্যে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিন দিনব্যাপী চলা এই বৈঠকে দুই দেশের শীর্ষ নেতারা বৈশ্বিক রাজনীতি এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন। বিশ্ব অর্থনীতির দুই পরাশক্তির শীর্ষ এই বৈঠকের দিকে দীর্ঘদিন ধরেই তাকিয়ে ছিল গোটা বিশ্ব। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্য বিরোধ নিরসনে এই আলোচনা নতুন মোড় নিতে পারে।

চলat বৈঠকে বৈশ্বিক বাণিজ্যের পাশাপাশি তাইওয়ান সংকটের মতো স্পর্শকাতর ভূরাজনৈতিক বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পেয়েছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার বিষয়টিও দুই নেতার আলোচনায় বিশেষ প্রাধান্য পায়। ভবিষ্যতের প্রযুক্তির গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতের নিয়ন্ত্রণ ও সহযোগিতা নিয়েও উভয় পক্ষ নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে। বিশ্বশান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এসব জটিল বিষয়ে পারস্পরিক বোঝাপড়ার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।

এই দীর্ঘ ও জাঁকজমকপূর্ণ আলোচনার মধ্য দিয়ে দুই দেশের শীর্ষ নেতারা কী অর্জন করতে পেরেছেন, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা বিশ্লেষণ চলছে। যদিও বৈঠকে বেশ কিছু বিতর্কিত ও অমীমাংসিত বিষয়ে মতপার্থক্য পুরোপুরি দূর হয়নি, তবে দুই নেতার এই মুখোমুখি বসা অবস্থাকে একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা। বিশেষ করে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে উভয় পক্ষই সম্পর্কের বরফ গলানোর ইঙ্গিত দিয়েছে।

আসন্ন দিনগুলোতে এই বৈঠকের ধারাবাহিকতায় দুই দেশের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়। বিশ্ববাণিজ্যের ওপর এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করছেন অর্থনীতিবিদরা। দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের এই যোগাযোগের ফলে বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

অক্টোবরে টানা ৭ দিন ছুটির সুযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

অক্টোবরে টানা ৭ দিন ছুটির সুযোগ

আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আগামী অক্টোবর মাসে টানা কয়েকদিন ছুটি উপভোগ করার দারুণ একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে। সরকারি ছুটির সঙ্গে সাপ্তাহিক এবং ঐচ্ছিক ছুটি মিলিয়ে নির্দিষ্ট কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী এই দীর্ঘ ছুটির সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। তবে ছুটির এই বিশেষ সুযোগ সকল সরকারি কর্মচারীর জন্য একযোগে প্রযোজ্য হবে না, বরং এর কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে।

সরকারি নির্ধারিত ছুটির তালিকা অনুযায়ী, আগামী ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার মহানবমী উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে বিশেষ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর ঠিক পরের দিন ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমী উপলক্ষে সাধারণ ছুটি থাকবে। ফলে সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সাধারণ মানুষের জন্য পূজার মূল সরকারি ছুটি দাঁড়াচ্ছে মোট দুই দিন।

অন্যদিকে, সনাতন ধর্মাবলম্বী সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য রয়েছে অতিরিক্ত দুই দিনের ঐচ্ছিক ছুটি নেওয়ার বিধান। ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ১৮ অক্টোবর রবিবার মহাসপ্তমী এবং ১৯ অক্টোবর সোমবার মহাষ্টমী উপলক্ষে তারা চাইলে এই ঐচ্ছিক ছুটি ভোগ করতে পারবেন। এর ফলে এই বিশেষ সম্প্রদায়ের কর্মীরা ঐচ্ছিক ও সরকারি ছুটি মিলিয়ে খুব সহজেই একটানা চার দিনের ছুটি পেয়ে যাবেন।

এই চার দিনের ছুটির সঙ্গে আগামী ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার মাত্র একদিনের সাধারণ ছুটি বা নৈমিত্তিক ছুটি যোগ করলে ছুটির পরিধি আরও বেড়ে যাবে। কারণ এর পরেই রয়েছে শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলো। সব মিলিয়ে বিচক্ষণতার সঙ্গে ছুটি ম্যানেজ করতে পারলে সনাতন ধর্মাবলম্বী সরকারি কর্মচারীরা সব মিলিয়ে টানা সাত দিনের একটি বড় অবকাশ যাপনের সুযোগ পাবেন।


একজন শিক্ষকের চোখে বাংলাদেশের সেরা ১০ পর্যটন স্পট

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

একজন শিক্ষকের চোখে বাংলাদেশের সেরা ১০ পর্যটন স্পট

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর বাংলাদেশে রয়েছে অসংখ্য দর্শনীয় স্থান, যা দেশি-বিদেশি ভ্রমণপিপাসুদের সবসময় আকর্ষণ করে। সম্প্রতি এক নিবন্ধে দেশের শীর্ষস্থানীয় দশটি পর্যটন স্পটের তালিকা তুলে ধরেছেন শিক্ষক ও পরিবেশকর্মী সাধন সরকার। এই স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে সুদীর্ঘ সমুদ্রসৈকত, বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন, পাহাড়ি উপত্যকা এবং প্রবাল দ্বীপ। ভৌগোলিক বৈচিত্র্যময় এই দেশটিতে ভ্রমণের জন্য রয়েছে দারুণ সব সুযোগ।

তালিকায় প্রথমে রয়েছে ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত, যা পৃথিবীর দীর্ঘতম প্রাকৃতিক ও অখণ্ডিত সৈকত হিসেবে পরিচিত। এর পাশাপাশি খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জুড়ে বিস্তৃত বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন এবং একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। এছাড়া রাঙামাটির সাজেক ভ্যালি মেঘ ও পাহাড়ের মিতালির জন্য এবং কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত একই স্থান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার অনন্য সুযোগের জন্য বিখ্যাত।

প্রাকৃতিক জলাশয় ও সবুজের সমারোহের মধ্যে সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর এবং মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল চা-বাগান ভ্রমণপ্রেমীদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান দখল করে আছে। অন্যদিকে, ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত জাতীয় চিড়িয়াখানা এবং সিলেটের জাফলং, বিছনাকান্দি ও রাতারগুলের মতো দৃষ্টিনন্দন স্থানগুলো দর্শনার্থীদের সবসময় মুখরিত রাখে। পাহাড়প্রেমীদের জন্য বান্দরবানের নীলাচল, বগা লেক ও কেওক্রাডংয়ের মতো রোমাঞ্চকর স্থানগুলো শীর্ষ পছন্দের তালিকায় রয়েছে।

পর্যটন খাত বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের এই আকর্ষণীয় স্থানগুলোর সঠিক পরিচর্যা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা গেলে ভ্রমণপিপাসুদের সংখ্যা আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। এতে একদিকে যেমন স্থানীয় অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে, অন্যদিকে দেশের পর্যটনশিল্প বিশ্বমঞ্চে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারবে।


চুরির অভিযোগ: তবুও বাবার প্রতি সন্তানের ভালোবাসার দৃশ্য মানুষকে কাঁদিয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

চুরির অভিযোগ: তবুও বাবার প্রতি সন্তানের ভালোবাসার দৃশ্য মানুষকে কাঁদিয়েছে

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বামরাইল বাজারে এক ব্যক্তিকে চুরির অভিযোগে আটক করে মারধর করার ঘটনা ঘটেছে। ভোরের আলো ফোটার আগেই স্থানীয় লোকজন অনিক হাওলাদার নামের ওই ব্যক্তিকে একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে শারীরিক নির্যাতন চালান। এই পরিস্থিতিতে চারপাশের উত্তেজনাকর পরিবেশ এবং মানুষের ভিড় উপেক্ষা করে সেখানে উপস্থিত হয় তার নয় বছরের একটি ছোট মেয়ে। বাবার ওপর চলা এই নির্যাতন দেখে শিশুটির কান্নার রোল চারপাশের থমথমে পরিস্থিতিকে আরও বেশি আবেগঘন করে তোলে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, অনিক হাওলাদার এর আগেও বেশ কয়েকবার চুরির অভিযোগে ধরা পড়েছিলেন এবং স্থানীয়ভাবে সেসব ঘটনার মীমাংসা করা হয়েছিল। তবে বারবার এমন অভিযোগ ওঠার কারণেই স্থানীয়দের একাংশ উত্তেজিত হয়ে তাকে ধরে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে ফেলেন। ঘটনার সময় উৎসুক জনতার ভিড় বাড়তে থাকে এবং চারদিকে নানা গুঞ্জন ও চিৎকার শুরু হয়, যা পুরো বাজার এলাকায় এক ধরনের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।

বাবার ওপর চলা এমন নির্মম মারধরের দৃশ্য সহ্য করতে না পেরে ছোট্ট মেয়েটি ভিড় ঠেলে সামনে এগিয়ে আসে এবং হাত জোড় করে উপস্থিত লোকজনকে বাবাকে না মারার মিনতি জানায়। এরপর সে বাড়ি থেকে একটি কাপে চা এবং কিছু রুটি নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। বাবার মুখে চায়ের মধ্যে ভেজানো রুটি নিজ হাতে তুলে দিতে দিতে মেয়েটি বলতে থাকে, দেখো বাবা, তোমার কিচ্ছু হবে না। পাশাপাশি বাবার শরীরের ব্যথার স্থানে সে তার ছোট হাত বুলিয়ে সান্ত্বনা দিতে থাকে এবং জানতে চায় তার বেশি ব্যথা লেগেছে কি না।

উপস্থিত লোকজনের সামনে ঘটে যাওয়া এই করুণ ও স্নেহময় দৃশ্য সেখানে উপস্থিত অনেক মানুষকে আবেগপ্রবণ করে তোলে এবং তাদের চোখে পানি এনে দেয়। পরবর্তীতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় একটি সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে মানবিক দিক বিবেচনা করে অনিক হাওলাদারকে ছেড়ে দেওয়া হয়। উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রকিবুল ইসলাম জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনার ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছিল। তবে স্থানীয়রা নিজেদের মধ্যে বিষয়টি মীমাংসা করায় এ ব্যাপারে থানায় কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি।