শেয়ার বাজার

ভয়াবহ বন্যায় থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকককে দুর্যোগকবলিত ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভয়াবহ বন্যায় থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকককে দুর্যোগকবলিত ঘোষণা

টানা ও ভারী বর্ষণের ফলে সৃষ্ট মারাত্মক জলাবদ্ধতার কারণে থাইল্যান্ডের প্রধান শহর ব্যাংকককে আনুষ্ঠানিকভাবে দুর্যোগকবলিত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে চলা অবিরাম বৃষ্টির কারণে শহরের বিভিন্ন প্রধান সড়ক ও জনপদ পানির নিচে তলিয়ে গেছে, যা সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত করে তুলেছে। কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

প্রবল বর্ষণের ফলে সৃষ্ট এই আকস্মিক বন্যায় ব্যাংককের বিস্তীর্ণ নিচু এলাকাগুলো চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা অতিরিক্ত বৃষ্টির চাপ সামলাতে না পারায় প্রধান সড়কগুলোতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে এবং অনেক ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। এতে নগরবাসীর দৈনন্দিন কাজকর্ম প্রায় থমকে গেছে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ যৌথভাবে দুর্গত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করেছে। আটকা পড়া সাধারণ মানুষকে উদ্ধারের জন্য বিশেষ নৌকা ও উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি, ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী বিতরণের কাজ নিরবচ্ছিন্নভাবে চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে ব্যাংককের প্রশাসন নাগরিকদের অপ্রয়োজনে ঘরের বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে। সরকারের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পানি অপসারণ করে জনজীবন স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়।

শতকোটি টাকা বিনিয়োগেও কার্যত অচল কেরু চিনিকল

প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারি, ২০২৬

শতকোটি টাকা বিনিয়োগেও কার্যত অচল কেরু চিনিকল

শতকোটি টাকার বিনিয়োগ সত্ত্বেও দেশের ঐতিহ্যবাহী কেরু অ্যান্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেডে স্বস্তি ফিরছে না। আধুনিকায়নের নামে স্থাপিত নতুন যন্ত্রপাতিতে বারবার যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিচ্ছে। ফলে চলতি ২০২৫-২৬ আখ মাড়াই মৌসুমে মিলের কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন আখচাষিরা।

মিল সূত্র জানায়, মাত্র চার দিনের (৯৬ ঘণ্টা) কার্যক্রমে ৫৩ ঘণ্টাই আখ মাড়াই বন্ধ রাখতে হয়েছে। একের পর এক যান্ত্রিক সমস্যায় মিল থেমে যাওয়ায় উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও কুষ্টিয়া জেলার হাজারো আখচাষির ওপর।

নির্ধারিত সময়ে আখ মাড়াই না হওয়ায় মাঠ ও মিল চত্বরে পড়ে থাকা আখ রোদে শুকিয়ে যাচ্ছে। এতে আখের ওজন ও গুণগত মান কমে যাচ্ছে। পাশাপাশি চিনি আহরণের হার কমে যাওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন আখচাষিরা।

গত ৫ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৫-২৬ মৌসুমের আখ মাড়াই কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। আধুনিক নতুন ইউনিটে মাড়াই শুরুর পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত পুরোনো কারখানায় কার্যক্রম শুরু হয়। ৩০ ডিসেম্বর প্রথম দফার ক্রাশিং শেষ হওয়ার পর ১ জানুয়ারি নতুন ইউনিট চালু করা হলে শুরু হয় যান্ত্রিক বিপর্যয়। মিল হাউস, বয়লার ও টারবাইনসহ গুরুত্বপূর্ণ অংশে ত্রুটির কারণে একের পর এক বন্ধ থাকে মিলের কার্যক্রম।

মিলের অভ্যন্তরীণ তথ্য অনুযায়ী, ৩১ ডিসেম্বর ৬ ঘণ্টা, ১ জানুয়ারি টানা ২৩ ঘণ্টা, ২ জানুয়ারি ৬ ঘণ্টা, ৩ জানুয়ারি ১৫ ঘণ্টা এবং ৪ জানুয়ারি প্রায় তিন ঘণ্টা আখ মাড়াই বন্ধ ছিল।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জায়গা সংকটে ওজন শেষে পাওয়ার ট্রলিতে আনা আখ মাটিতে ফেলে রাখতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা। আবার মিলের নিজস্ব ট্রাক্টরে আনা আখ দীর্ঘ সময় গাড়িতেই পড়ে থাকছে। এতে আখ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি কৃষকদের লোকসানের ঝুঁকি বহুগুণে বেড়েছে।

কেরু কর্তৃপক্ষ সুত্রে জানা যায়, ১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত কেরু চিনিকলের আধুনিকায়ন করতে ২০১২ সালের জুলাইয়ে শুরু হয় ব্যালেন্সিং মর্ডানাইজেশন রেনোভেশন অ্যান্ড এক্সপেনশন (বিএমআরই) প্রকল্পের কাজ। ২০১২ সালে শিল্প মন্ত্রণালয় প্রথমে ৪৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। পরবর্তীতে সংশোধনের মাধ্যমে প্রকল্প ব্যয় বাড়িয়ে ১০২ কোটি ২১ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়। আর প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি। তবে সাব-কন্ট্রাক্ট নেয় ভারতের একটি সুগার ইকুইপমেন্ট কোম্পানি, যারা মাঝপথে কাজ ফেলে চলে যায়। পরে দায়িত্ব পায় উত্তম এনার্জি লিমিটেড। নির্ধারিত দুই বছরের প্রকল্প সাত দফা সময় বাড়িয়েও ১৩ বছরে শেষ করা সম্ভব হয়নি। প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি দেখানো হয়েছে মাত্র ৭৮ দশমিক ৩২ শতাংশ।

সম্প্রতি একনেক প্রকল্পটির মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে। আইএমইডির সুপারিশ অনুযায়ী, এর বাইরে আর সময় বা ব্যয় বাড়ানোর সুযোগ নেই।

এদিকে ট্রায়াল রানের সময় মিল থেকে বিকট শব্দ ও অপরিশোধিত বর্জ্যপানির কারণে দর্শনাবাসী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বাতাসে ছাই উড়ে মারাত্মক পরিবেশ দূষণ সৃষ্টি হচ্ছে। এতে চিনিকলের আশপাশের হাজারো মানুষ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রাব্বিক হাসান জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে নতুন ইউনিটে আখ মাড়াই চালুর চেষ্টা চলছে। যান্ত্রিক সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে কেরুর বিএমআরই প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) ফিদা হাসান বাদশার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


সুপার এল নিনোর প্রভাবে সবচেয়ে শুষ্ক মরুভূমিও এখন রঙিন ফুলের বাগান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সুপার এল নিনোর প্রভাবে সবচেয়ে শুষ্ক মরুভূমিও এখন রঙিন ফুলের বাগান

পৃথিবীর অন্যতম শুষ্ক ও নিঃসঙ্গ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত মরুভূমিগুলোতে সম্প্রতি এক অভূতপূর্ব প্রাকৃতিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। সাধারণত যেখানে সারা বছরে মাত্র ১৫ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে, সেখানে জলবায়ুর ভিন্নতার কারণে এবার ভিন্ন চিত্র দেখা মিলল। আবহাওয়ার এই চরম রূপান্তরের ফলে ধু-ধু বালুচর এখন চোখ জুড়ানো সবুজের সমারোহ এবং রঙিন ফুলে সেজে উঠেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিস্ময়কর ঘটনার মূল চালিকাশক্তি হলো শক্তিশালী সুপার এল নিনো। বিশ্বজুড়ে আবহাওয়া চক্রের ওপর এর মারাত্মক প্রভাবের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলস্বরূপ বিশ্বের সবচেয়ে শুষ্ক অঞ্চলগুলোতেও অস্বাভাবিক মেঘমালা তৈরি হয়েছে এবং পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত নিশ্চিত হয়েছে, যা দীর্ঘকাল ধরে সুপ্ত থাকা উদ্ভিদের বীজগুলোকে অঙ্কুরোদগমে সাহায্য করেছে।

সাধারণত এই মরুভূমির ভেতরের অত্যন্ত শুষ্ক অংশে বার্ষিক বৃষ্টির পরিমাণ মাত্র ১ থেকে ৩ মিলিমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। অনেক বছর তো এর চেয়েও কম বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়, যার ফলে সেখানে উদ্ভিদ জীবন টিকে থাকাই এক প্রকার অসম্ভব। কিন্তু সাম্প্রতিক এই অস্বাভাবিক জলবায়ু পরিবর্তনের কল্যাণে মরুভূমির বুক চিরে লাখ লাখ বুনো ফুল ফুতে উঠেছে, যা স্থানীয় পরিবেশবিদদের মধ্যেও বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে।

প্রকৃতির এমন রূপান্তর দেখতে দেশি-বিদেশি পর্যটকরা ভিড় জমাচ্ছেন ওই এলাকায়। মরুভূমির এই রূপ সাধারণত কদাচিৎ দেখা যায় এবং তা খুব অল্প সময়ের জন্যই স্থায়ী হয়ে থাকে। জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবের মাঝেই প্রকৃতির এই রূপালী রূপ এক অনন্য সৌন্দর্যের সৃষ্টি করেছে, যা বিজ্ঞানীদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।


মার্কিন চাপে ইরানের সঙ্গে বিমান চলাচল বন্ধ করল ইরাক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মার্কিন চাপে ইরানের সঙ্গে বিমান চলাচল বন্ধ করল ইরাক

ওয়াশিংটনের কঠোর নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কায় ইরানের সঙ্গে বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে বড় ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ইরাক। দেশটির প্রধান তিনটি বিমানবন্দরে ইরানি এয়ারলাইনসগুলোর গ্রাউন্ড সার্ভিস বা বিমানজমি সংক্রান্ত সব ধরনের সেবা কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বাগদাদ প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার দীর্ঘমেয়াদী ভূরাজনৈতিক দ্বন্দ্বে নতুন করে বড় ধরনের কূটনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে।

ইরাকের সংসদের প্রভাবশালী ইরানপন্থি রাজনীতিবিদ ও গোষ্ঠীগুলো সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিল যেন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার হুমকি আমলে নেওয়া না হয়। তা সত্ত্বেও বাগদাদ কর্তৃপক্ষ ওয়াশিংটনের নির্দেশনা বাস্তবায়নের পথ বেছে নেয় এবং স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের সেই আহ্বান সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—উভয় দেশের সঙ্গেই বাগদাদের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক থাকায় এই দুই পরাশক্তির বিরোধের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা দেশটির জন্য অত্যন্ত দুরূহ হয়ে উঠেছে।

ইরাক ঐতিহাসিকভাবে বাণিজ্য ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পণ্য আমদানির জন্য ইরানের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, যার মধ্যে প্রধান হলো জ্বালানি গ্যাস। দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি বিরাট অংশ এই ইরানি গ্যাসের ওপর সরাসরি নির্ভর করে থাকে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের এই নির্দেশ বাস্তবায়নের জেরে তেহরান কোনো পাল্টা অর্থনৈতিক বা বাণিজ্যিক পদক্ষেপ গ্রহণ করলে তা ইরাকের ভঙ্গুর অর্থনীতিতে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের কারণে বহুমুখী সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে ইরাক, যার প্রধান আয়ের উৎস হলো অপরিশোধিত পেট্রোলিয়াম। কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে চলমান অবরোধ ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে নানা বাধার কারণে দেশটির প্রধান এই তেল রপ্তানি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সব মিলিয়ে বিশ্ব পরাশক্তিগুলোর এই বৈরী সম্পর্কের জেরে অর্থনৈতিক মারপ্যাঁচে পড়ে চরম অনিশ্চয়তার দিকে ধাবিত হচ্ছে ইরাকি পরিস্থিতি।