শেয়ার বাজার

উদ্বোধন হলো ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৪

উদ্বোধন হলো ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা

বার্তাবেলা ডেস্ক: ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার (ডিআইটিএফ) পর্দা উঠলো। রোববার (২১ জানুয়ারি) দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে মাসব্যাপী এ মেলার ২৮তম আসরের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রপ্তানি বাণিজ্য উন্নয়নের অন্যতম প্রধান কৌশল হচ্ছে পণ্য উন্নয়ন ও পণ্যের বহুমুখী বাজার সৃষ্টিকরণ। আর পণ্যের বাজার সৃষ্টিকরণের অন্যতম প্রধান কৌশল হচ্ছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা আয়োজন ও মেলায় অংশগ্রহণ। দেশীয় পণ্যের প্রচার, প্রসার, বিপণন ও উৎপাদনে সহায়তার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর যৌথ উদ্যোগে ১৯৯৫ সাল থেকে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা আয়োজন করা হচ্ছে।

মেলার ২৫টি পর্ব আয়োজিত হয়েছে শের-ই-বাংলা নগরের উন্মুক্ত মাঠে। প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় বাণিজ্যমেলার জন্য নির্মিত স্থায়ী ভেন্যু বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী এক্সিবিশন সেন্টারে (বিবিসিএফইসি) ডিআইটিএফ-২০২২ আয়োজনের মধ্য দিয়ে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে যুক্ত হয়েছে এক নতুন মাত্রা। এই স্থায়ী মেলা কমপ্লেক্সে তৃতীয়বারের মতো হচ্ছে ২৮তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা-২০২৪। চীনের অর্থায়নে পূর্বাচলে স্থায়ী বাণিজ্যমেলা কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে। এখন থেকে প্রতি বছর এখানেই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার আসর বসবে।

ইপিবি জানিয়েছে, এবারের বাণিজ্যমেলায় দেশীয় পণ্যের পাশাপাশি ভারত, পাকিস্তান, তুরস্ক, ইরান, হংকং, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশ অংশ নেবে। মেলায় এসব দেশের বস্ত্র, মেশিনারিজ, কার্পেট, কসমেটিকস অ্যান্ড বিউটি এইডস, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস, ফার্নিচার, পাট ও পাটজাত পণ্য, গৃহসামগ্রী, চামড়া/আর্টিফিসিয়াল চামড়া ও জুতাসহ চামড়াজাত পণ্য, স্পোর্টস গুডস, স্যানিটারি ওয়্যার, খেলনা, স্টেশনারি, ক্রোকারিজ, প্লাস্টিক, মেলামাইন পলিমার, হারবাল ও টয়লেট্রিজ, ইমিটেশন জুয়েলারি, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ফাস্টফুড, হস্তশিল্পজাত পণ্য, হোম ডেকর ইত্যাদি পণ্য মেলায় প্রদর্শিত হবে। পণ্য প্রদর্শনের পাশাপাশি দেশীয় পণ্য রপ্তানির বড় বাজার খোঁজার লক্ষ্য রয়েছে। আগের মতো মেলাটি মাসব্যাপী সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে। আর সাপ্তাহিক ছুটির দিন চলবে রাত ১০টা পর্যন্ত।

এবার মেলায় যাতায়াতের সুবিধার জন্য মেট্রোরেল ও এলিভেটেট এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে সংযুক্ত করতে ফার্মগেট থেকে বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাতে উত্তরা বা মতিঝিল থেকে যারা মেলায় আসবেন তারা মেট্রোরেল এসে ফার্মগেট থেকে বাসে এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে সোজা মেলায় চলে আসতে পারেন সেই সুবিধা রাখা হয়েছে। এছাড়াও সাধারণ দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে কুড়িল বিশ্বরোড থেকে মেলা পর্যন্ত বিআরটিসি ও কয়েকটি যাত্রীবাহী বাসের ডেডিকেটেড সার্ভিসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মেলা চলাকালীন এ বাস সার্ভিস চালু থাকবে। এবারের বাণিজ্যমেলার লে-আউট প্ল্যান (সংশোধিত) অনুযায়ী বিভিন্ন ক্যাটাগরির প্যাভিলিয়ন, রেস্টুরেন্ট ও স্টলের মোট সংখ্যা ৩৫১টি।

মেলার সার্বিক নিরাপত্তা এবং আগত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণার্থে মেলাপ্রাঙ্গণে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ও র্যাব নিয়োজিত থাকবে। এছাড়া সার্ভিস গেট ও ভিআইপি গেটের শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য প্রাইভেট সিকিউরিটি গার্ড নিয়োগ করা হয়েছে। নিরাপত্তা অগ্রাধিকার বিবেচনায় মেলাপ্রাঙ্গণের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান, প্রবেশপথ, পার্কিং এরিয়া এবং সংশ্লিষ্ট সব এলাকায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক সিসিটিভি স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া মেলার প্রবেশপথে প্রয়োজনীয় সংখ্যক আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। একইভাবে যে কোনো ধরনের অগ্নিদুর্ঘটনা প্রতিরোধে মেলায় সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকবে ফায়ার ব্রিগেড।

মেলার সার্বিক কার্যক্রম মনিটরিংয়ের জন্য মেলায় স্থাপন করা হয়েছে একটি অস্থায়ী সচিবালয়। দর্শনার্থীদের সব প্রকার তথ্য প্রদানের জন্য রয়েছে একটি তথ্যকেন্দ্র। ব্যাংকিং সার্ভিসের জন্য মেলায় থাকছে ডাচ্-বাংলা ও ইসলামী ব্যাংকের একাধিক বুথ। এছাড়া মেলায় থাকছে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকের সার্ভিস বুথ। মেলায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়েছে। মা ও শিশুদের কথা বিবেচনা করে মেলায় স্থাপন করা হয়েছে দুটি মা ও শিশুকেন্দ্র। অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবার মধ্যে রক্ত সংগ্রহ কেন্দ্র, মসজিদ, নিউট্রিশন অ্যান্ড অটিজম সেবা, দর্শনার্থীদের বিশ্রামের জন্য আরামদায়ক ও শোভন চেয়ার বেঞ্চ ইত্যাদির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর জীবন ও আদর্শ, স্বাধীনতা সংগ্রাম, উন্নত শিল্প সমৃদ্ধ-সোনার বাংলা বিনির্মাণে তার অবদান ও ভাবনা, দেশের উন্নয়ন ইত্যাদিকে প্রক্ষেপণ করে এবারের বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়ন অধিকতর নান্দনিক, ভাবগাম্ভীর্য ও অর্থপূর্ণভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। যেখানে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, স্বাধিকার আন্দোলন ও স্বাধীনতা সংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর অবদান, বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন ও আদর্শের বিভিন্ন দিক ছাড়াও যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে উন্নয়নের ধারায় এগিয়ে নেওয়ার প্রকৃত ইতিহাস সবার কাছে বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরারও প্রয়াস নেওয়া হয়েছে। এছাড়া বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়নের ভেতরে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মভিত্তিক বিভিন্ন আলোকচিত্র প্রদর্শন ছাড়াও সম্পর্কিত বই এবং তার জীবন ও কর্মভিত্তিক ডকুমেন্টারি প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বেশি করে গরম পানি দিয়ে পান কাগজি লেবুরস

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৯ জুন, ২০২৬

বেশি করে গরম পানি দিয়ে পান কাগজি লেবুরস

বেশি করে গরম পানি দিয়ে পান কাগজি লেবুরস

# মেোশারফ হোসেন, সিংগাইর থেকে #

 

গাছ ছোট ও ঝোপালো, তীক্ষ  কাঁটাযুক্ত। কাঁটা অসংখ্য, আকারে ছোট। পাতা ছোট, পত্রকৃত ডিম্বাকার, সরু পাকাযুক্ত। ফুল ছোট, পত্রকক্ষে একসঙ্গে ৩ থেকে ১০টি ফুল উৎপন্ন হয়। ফল ছোট, গোলাকার থেকে ডিম্বাকার, কোসা পাতলা, রস বেশ টক। বীজ সর্বদাই বহুভ্রƒণী। এসব বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতেই লেবু জাতীয় ফলগুলো থেকে কাগজি লেবুকে আলাদা করা যায়। ফলটির ইংরেজি নাম খরসব এবং বৈজ্ঞানিক নাম ঈরঃৎবং ধঁৎধহঃরভড়ষরধ যা জঁঃধপবধব পরিবারের অন্তর্গত। কাগজি লেবুসহ সব লেবু জাহতীয় ফলের উৎপত্তি স্থল হিসেবে হিমালয় পর্বতের পাদদেশকে ধরা হয়। কোনো কোনো প্রজাতির উৎপন্নস্থল ভারত। বাংলাদেশের মৌলভীবাজার, সিলেট, কাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, চট্টগ্রাম, রংপুর, পাবনা, রাজশাহী ও পিরোজপুরসহ প্রায় পুরো দেশেই লেবু ভালো জন্মে। আমাদের দেশে লেবু বলতে কাগজি ও এলাচি লেবুকেই বুঝানো হয়। দেশে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে ১৩ হাজার মেট্রিক টন লেবু উৎপন্ন হয়। উন্নত জাতের আধুনিক লেবুগুলোর মধ্যে বারি লেবু-১, বারি লেবু-২ ও বারি লেবু-৩ উল্লেখযোগ্য। এছাড়া কাগজি লেবুর জাতের মধ্যে রয়েছে কাগজি ওভাল, কাগজি রাউন্ড, কালামুন্সি, তাহিতি, মেক্সিকান প্রভৃতি। কাগজি লেবুর জন্য উষ্ণমণ্ডলীয় জলবায়ু দরকার। উষ্ণু, মাঝারি আর্দ্র এবং প্রবল বাতাস ও তুষারমুক্ত জমি কাগজি লেবু চাষের জন্য উপযোগী। আর্দ্রতা বেশি না হলে সমুদ্র সমতল থেকে ৯০০ মিটার উঁচু জমিতেও কাগজি লেবু সাফল্যজনকভাবে জন্মানো যায়। আর্দ্র এলাকায়, যেখানে ১২৫ সেন্টিমিটারের অধিক বৃষ্টিপাত হয় সেখানে তা ক্যাঙ্কার রোগ দ্বারা আক্রান্ত হয় এবং গাছ স্বল্পায়ু বিশিষ্ট হয়। কাগজি লেবু তুষারপাতের প্রতি বেশ সংবেদনশীল। যৌন ও অযৌন পদ্ধতিতে সব লেবুজাতীয় ফলের বংশবিস্তার করা যায়। অযৌন পদ্ধতির মধ্যে কুঁজি সংযোজন হলো সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি। আমাদের দেশে শাখা কলম, গুটি কলম, কুঁড়ি সংযোজন ও বীজের মাধ্যমে বংশবিস্তার করা হয়ে থাকে। সাইট্রন ও বাতাবি লেবু ব্যতীয় সব লেবুর বীজে বহুভ্রƒণিতা বিদ্যমান। এজন্য একটি বীজ থেকে একাধিক গাছ পাওয়া যায়। এর মধ্যে একটি যৌন, বাকিগুলো অযৌন। অযৌন চারাগুলো অপেক্ষাকৃত সবল ও একই ধরনের হয়। ৮ ফুট দূরে দূরে চারা রোপণ করতে হয়। চারা রোপণের পর ও খরার সময় বা শুষ্ক  মৌসুমে নিয়মিত সেচ ও বর্ষায় ভালো নিস্কাশনের বন্দোবস্ত করতে হবে। গাছের গোড়ায় আগাছা দেখলে তা মুক্ত করতে হবে। মরা ও রোগাক্রান্ত ডাল কেটে দেওয়াসহ হালকা ছাঁটাই করা ভালো। কাগজি লেবুর রসে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি থাকে। অনেক রোগের উপশমে এটি ব্যবহৃত হয়। প্রতি গাছ থেকে ৩০০ থেকে ১ হাজারটি লেবু পাওয়া সম্ভব।


নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সিলেটে বিএডিসির মেগা প্রকল্প: অনাবাদী মাঠে ফসলের হাসি, বদলাচ্ছে ১৭ হাজার হেক্টরের কৃষি ও হাওরের অর্থনীতি

​আশিকুল ইসলাম হানিফ:

হাওর, নদী, খাল আর পাহাড়ি ছড়ায় ঘেরা প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের জনপদ সিলেট বিভাগ। পানি প্রাচুর্য ও উর্বর কৃষিজমি থাকা সত্ত্বেও ভৌগোলিক প্রতিকূলতা ও সেচ সুবিধার অভাবে এ অঞ্চলে কৃষির সম্ভাবনা দীর্ঘদিন পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে সেচের অভাবে বছরের পর বছর অনাবাদী থেকে যায় প্রায় ৩ লক্ষ হেক্টর জমি। অন্যদিকে বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢল, জলাবদ্ধতা ও আগাম বন্যা কৃষকের কষ্টের ফসলকে করে তোলে চরম ঝুঁকিপূর্ণ।  

​এই অবস্থা থেকে উত্তরণে এবং সিলেটের কৃষি অর্থনীতিতে এক নতুন বিপ্লব ঘটাতে কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)। সংস্থাতার বাস্তবায়নাধীন ‘সিলেট বিভাগে ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবস্থাপনা ও ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্প’-এর আওতায় বিস্তৃত পরিসরে খাল-ছড়া পুনঃখনন, পরিবেশবান্ধব সেচ অবকাঠামো নির্মাণ ও আধুনিক সেচ প্রযুক্তি প্রসারের মাধ্যমে ১৭,০১৯ হেক্টর অনাবাদী ও পতিত জমিতে সেচ সুবিধা সম্প্রসারণের কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে।  

​শুষ্ক মৌসুমে সেচ ও বর্ষায় পানি নিষ্কাশন: এক প্রকল্পে জোড়া সমাধান

​প্রকল্পটির মূল কৌশল হলো ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে খাল, নালা ও পাহাড়ি ছড়া পুনঃখনন ও সংস্কারের মাধ্যমে বর্ষার পানি সংরক্ষণ করা।

১. বর্ষার পানি সংরক্ষণ ও জলাবদ্ধতা নিরসন: খাল/নালা/পাহাড়ি ছড়া খননের মাধ্যমে বর্ষার অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশন এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচের জন্য পানি সংরক্ষণ করা হচ্ছে।

২. ভূ-গর্ভস্থ সেচনালা (Buried Pipe Line): উন্মুক্ত নালার বদলে মাটির নিচে পাইপলাইন (ব্যারিড পাইপ লাইন) দিয়ে সরাসরি কৃষকের জমিতে পানি পৌঁছানো হচ্ছে। এতে পানির অপচয় কমার পাশাপাশি সেচ দক্ষতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

৩. আগাম বন্যা থেকে ফসল রক্ষা: খালের নাব্যতা বৃদ্ধি পাওয়ায় চৈত্র-বৈশাখ মাসের আগাম পাহাড়ি ঢলের হাত থেকে কৃষকের বোরো ফসল রক্ষা পাচ্ছে।  

​২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাস্তব অগ্রগতি ও সাফল্য

​প্রকল্প কার্যালয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, অতি সম্প্রতি সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মাঠপর্যায়ে সেচ অবকাঠামো ও কৃষি উৎপাদনে অভাবনীয় সাফল্য অর্জিত হয়েছে:

​১৪৫ কিমি খাল ও ছড়া খনন: নদী ও হাওরের নাব্যতা ফেরাতে ১৪৫ কিলোমিটার খাল ও পাহাড়ি ছড়া পুনঃখনন ও সংস্কার করা হয়েছে। এর ফলে সরাসরি ১,৪৫০ হেক্টর জমিতে সেচ প্রদান করা সম্ভব হয়েছে এবং ৪,২৮০ হেক্টর জমির দীর্ঘমেয়াদী জলাবদ্ধতা নিরসন হয়েছে।  

​নৌচলাচল ও মৎস্য অভয়ারণ্য: খাল খননের মাধ্যমে নাব্যতা বৃদ্ধি পাওয়ায় হাওরাঞ্চলে নৌচলাচল সহজ হয়েছে এবং কৃষকগণ সহজে নৌকার মাধ্যমে ফসল পরিবহন করতে পারছেন। পাশাপাশি এসব পুনঃখননকৃত জলাশয়ে দেশীয় মাছের অভয়ারণ্য গড়ে উঠেছে।  

​২৭৭.৬ কিমি ভূ-গর্ভস্থ পাইপলাইন ও সেচযন্ত্র: ৬৯টি আধুনিক সেচযন্ত্র সরবরাহ এবং ২৭৭.৬ কিলোমিটার ভূ-গর্ভস্থ সেচনালা নির্মাণের ফলে ২,৯৫৫ হেক্টর অনাবাদী জমি সেচের আওতায় এসেছে। এতে সেচের পানির অপচয় রোধের পাশাপাশি কৃষকের উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।  

​৮ কিমি ‘গোপাট’ ও আগাম বন্যা মোকাবিলা: বোরো ফসল দ্রুত কেটে ঘরে তোলার সুবিধার্থে ৮ কিলোমিটার ‘গোপাট’ (ফসল পরিবহনের পথ) নির্মাণ করা হয়েছে। এর ফলে ৪,০৫০ হেক্টর জমির ফসল দ্রুত পরিবহন করা সম্ভব হয়েছে এবং আগাম বন্যার হাত থেকে প্রায় ৫,৪০০ জন কৃষকের ফসল রক্ষা পেয়েছে।  

​থ্রেশিং ফ্লোর নির্মাণ: পাহাড়ি ঢল আসার আগেই ধান দ্রুত মাড়াই, শুকানো এবং নিরাপদে ঘরে তোলার জন্য কৃষকদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে পাকা থ্রেশিং ফ্লোর।  

​কৃষক প্রশিক্ষণ: স্থানীয় পর্যায়ে সেচযন্ত্র পরিচালনা, মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিক সেচ ব্যবস্থাপনার ওপর ২৭০ জন কৃষক ও পাম্প অপারেটরকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।  

​প্রকল্প পরিচালকের বক্তব্য

​এ বিষয়ে প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী প্রনজিত কুমার দেব জানান, “সিলেট বিভাগে বিভিন্ন মৌসুমে বিপুল পরিমাণ জমি অনাবাদী থাকে। এসব অনাবাদী ও পতিত জমি চাষের আওতায় আনতে বর্তমান সরকার নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ১৭ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমি সেচের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।”  

​তিনি আরও বলেন, “ইতোমধ্যেই ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩৫০০ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। ধাপে ধাপে বাকী জমিগুলোকেও আধুনিক সেচের আওতায় আনা হবে। এছাড়া সেচ খরচ কমাতে ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির প্রসারে সৌরশক্তি চালিত সেচ পাম্প (Solar Pump) স্থাপনের বৃহৎ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বর্তমান সরকার।”  

​খাদ্য নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধ কৃষির অঙ্গীকার

​সংশ্লিষ্ট উপকারভোগীদের মতে, বিএডিসির এই প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষক-কৃষাণীদের প্রশিক্ষণের ফলে স্থানীয় পর্যায়ে সেচ ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা তৈরি হয়েছে এবং আত্বকর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।  

​পানির প্রাচুর্যে ভরা সিলেট অঞ্চলে পরিকল্পিত পানি ব্যবহারের মাধ্যমে অনাবাদী প্রান্তরগুলো এখন সোনালী ফসলে ভরে উঠছে। হাওর ও পাহাড়ি জনপদের কৃষকদের শ্রমের সাথে আধুনিক সেচ ব্যবস্থাপনার এই মেলবন্ধন কেবল স্থানীয় কৃষি উৎপাদনকেই বাড়াবে না, বরং দেশের সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।


আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১ জানুয়ারি, ২০২৪

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

বার্তাবেলা ডেস্ক: ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার (ডিআইটিএফ) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার (২১ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় ৩৫ মিনিটে মেলাপ্রাঙ্গণে উপস্থিত হন তিনি। বাণিজ্যমেলার উদ্বোধন করবেন তিনি।

রপ্তানি বাণিজ্য উন্নয়নের অন্যতম প্রধান কৌশল হচ্ছে পণ্য উন্নয়ন ও পণ্যের বহুমুখী বাজার সৃষ্টিকরণ। আর পণ্যের বাজার সৃষ্টিকরণের অন্যতম প্রধান কৌশল হচ্ছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা আয়োজন ও মেলায় অংশগ্রহণ। দেশীয় পণ্যের প্রচার, প্রসার, বিপণন ও উৎপাদনে সহায়তার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর যৌথ উদ্যোগে ১৯৯৫ সাল থেকে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা আয়োজন করা হচ্ছে।

মেলার ২৫টি পর্ব আয়োজিত হয়েছে শের-ই-বাংলা নগরের উন্মুক্ত মাঠে। প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় বাণিজ্যমেলার জন্য নির্মিত স্থায়ী ভেন্যু বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী এক্সিবিশন সেন্টারে (বিবিসিএফইসি) ডিআইটিএফ-২০২২ আয়োজনের মধ্য দিয়ে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে যুক্ত হয়েছে এক নতুন মাত্রা। এই স্থায়ী মেলা কমপ্লেক্সে তৃতীয়বারের মতো হচ্ছে ২৮তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা-২০২৪। চীনের অর্থায়নে পূর্বাচলে স্থায়ী বাণিজ্যমেলা কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে। এখন থেকে প্রতি বছর এখানেই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার আসর বসবে।

ইপিবি জানিয়েছে, এবারের বাণিজ্যমেলায় দেশীয় পণ্যের পাশাপাশি ভারত, পাকিস্তান, তুরস্ক, ইরান, হংকং, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশ অংশ নেবে। মেলায় এসব দেশের বস্ত্র, মেশিনারিজ, কার্পেট, কসমেটিকস অ্যান্ড বিউটি এইডস, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস, ফার্নিচার, পাট ও পাটজাত পণ্য, গৃহসামগ্রী, চামড়া/আর্টিফিসিয়াল চামড়া ও জুতাসহ চামড়াজাত পণ্য, স্পোর্টস গুডস, স্যানিটারি ওয়্যার, খেলনা, স্টেশনারি, ক্রোকারিজ, প্লাস্টিক, মেলামাইন পলিমার, হারবাল ও টয়লেট্রিজ, ইমিটেশন জুয়েলারি, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ফাস্টফুড, হস্তশিল্পজাত পণ্য, হোম ডেকর ইত্যাদি পণ্য মেলায় প্রদর্শিত হবে। পণ্য প্রদর্শনের পাশাপাশি দেশীয় পণ্য রপ্তানির বড় বাজার খোঁজার লক্ষ্য রয়েছে। আগের মতো মেলাটি মাসব্যাপী সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে। আর সাপ্তাহিক ছুটির দিন চলবে রাত ১০টা পর্যন্ত।

এবার মেলায় যাতায়াতের সুবিধার জন্য মেট্রোরেল ও এলিভেটেট এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে সংযুক্ত করতে ফার্মগেট থেকে বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাতে উত্তরা বা মতিঝিল থেকে যারা মেলায় আসবেন তারা মেট্রোরেল এসে ফার্মগেট থেকে বাসে এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে সোজা মেলায় চলে আসতে পারেন সেই সুবিধা রাখা হয়েছে। এছাড়াও সাধারণ দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে কুড়িল বিশ্বরোড থেকে মেলা পর্যন্ত বিআরটিসি ও কয়েকটি যাত্রীবাহী বাসের ডেডিকেটেড সার্ভিসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মেলা চলাকালীন এ বাস সার্ভিস চালু থাকবে। এবারের বাণিজ্যমেলার লে-আউট প্ল্যান (সংশোধিত) অনুযায়ী বিভিন্ন ক্যাটাগরির প্যাভিলিয়ন, রেস্টুরেন্ট ও স্টলের মোট সংখ্যা ৩৫১টি।

মেলার সার্বিক নিরাপত্তা এবং আগত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণার্থে মেলাপ্রাঙ্গণে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ও র্যাব নিয়োজিত থাকবে। এছাড়া সার্ভিস গেট ও ভিআইপি গেটের শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য প্রাইভেট সিকিউরিটি গার্ড নিয়োগ করা হয়েছে। নিরাপত্তা অগ্রাধিকার বিবেচনায় মেলাপ্রাঙ্গণের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান, প্রবেশপথ, পার্কিং এরিয়া এবং সংশ্লিষ্ট সব এলাকায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক সিসিটিভি স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া মেলার প্রবেশপথে প্রয়োজনীয় সংখ্যক আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। একইভাবে যে কোনো ধরনের অগ্নিদুর্ঘটনা প্রতিরোধে মেলায় সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকবে ফায়ার ব্রিগেড।

মেলার সার্বিক কার্যক্রম মনিটরিংয়ের জন্য মেলায় স্থাপন করা হয়েছে একটি অস্থায়ী সচিবালয়। দর্শনার্থীদের সব প্রকার তথ্য প্রদানের জন্য রয়েছে একটি তথ্যকেন্দ্র। ব্যাংকিং সার্ভিসের জন্য মেলায় থাকছে ডাচ্-বাংলা ও ইসলামী ব্যাংকের একাধিক বুথ। এছাড়া মেলায় থাকছে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকের সার্ভিস বুথ। মেলায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়েছে। মা ও শিশুদের কথা বিবেচনা করে মেলায় স্থাপন করা হয়েছে দুটি মা ও শিশুকেন্দ্র। অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবার মধ্যে রক্ত সংগ্রহ কেন্দ্র, মসজিদ, নিউট্রিশন অ্যান্ড অটিজম সেবা, দর্শনার্থীদের বিশ্রামের জন্য আরামদায়ক ও শোভন চেয়ার বেঞ্চ ইত্যাদির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর জীবন ও আদর্শ, স্বাধীনতা সংগ্রাম, উন্নত শিল্প সমৃদ্ধ-সোনার বাংলা বিনির্মাণে তার অবদান ও ভাবনা, দেশের উন্নয়ন ইত্যাদিকে প্রক্ষেপণ করে এবারের বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়ন অধিকতর নান্দনিক, ভাবগাম্ভীর্য ও অর্থপূর্ণভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। যেখানে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, স্বাধিকার আন্দোলন ও স্বাধীনতা সংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর অবদান, বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন ও আদর্শের বিভিন্ন দিক ছাড়াও যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে উন্নয়নের ধারায় এগিয়ে নেওয়ার প্রকৃত ইতিহাস সবার কাছে বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরারও প্রয়াস নেওয়া হয়েছে। এছাড়া বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়নের ভেতরে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মভিত্তিক বিভিন্ন আলোকচিত্র প্রদর্শন ছাড়াও সম্পর্কিত বই এবং তার জীবন ও কর্মভিত্তিক ডকুমেন্টারি প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।