শেয়ার বাজার

শ্রীলীলার এক পোস্টে ১ কোটি ১১ লাখ লাইক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শ্রীলীলার এক পোস্টে ১ কোটি ১১ লাখ লাইক

দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্রীলীলা কেবল বড় পর্দাতেই নয়, বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দারুণ প্রভাব বিস্তার করে চলেছেন। সম্প্রতি তাঁর ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে প্রকাশিত একটি বিশেষ ভিডিও ক্লিপ ইন্টারনেট দুনিয়ায় এক নতুন নজির সৃষ্টি করেছে। সামাজিক মাধ্যমটির বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট ও পোস্টের পরিসংখ্যান রাখা নির্ভরযোগ্য ট্র্যাকার রিল্যাক্সের তথ্য অনুযায়ী এই অভিনব মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। অভিনেত্রীর অনুরাগীরা ভিডিওটিতে ব্যাপক মাত্রায় ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন যা তার অনলাইন জনপ্রিয়তাকেই প্রমাণ করে।

প্রকাশিত ওই ইনস্টাগ্রাম রিলসটিতে ইতোমধ্যে কোটিরও বেশি মানুষ পছন্দ বা লাইক দিয়েছেন যা সংখ্যায় প্রায় ১ কোটি ১১ লাখের ঘরে পৌঁছেছে। শুধু তাই নয়, ভিডিওটির কমেন্ট বক্সে জমা পড়েছে প্রায় ৩৬ হাজার ৩০০ এর অধিক মন্তব্য এবং এটি দেখার সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে ২৫ কোটি ৮১ লাখ। এই বিপুল পরিমাণ প্রতিক্রিয়া ও ভিউ সাধারণত দক্ষিণ এশিয়ার মূলধারার শীর্ষ তারকাদের পোস্টে দেখা যায়। সাধারণ ছবি বা অন্যান্য রিলসের তুলনায় এই নির্দিষ্ট ভিডিওটি দর্শকদের মাঝে অবিশ্বাস্য রকমের উন্মাদনা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার পাশাপাশি শ্রীলীলা তাঁর অভিনয় ক্যারিয়ারেও অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন। তিনি দক্ষিণি সিনেমার গণ্ডি পেরিয়ে এবার জনপ্রিয় হিন্দি সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে পা রাখতে চলেছেন এবং সেখানে তাঁর অভিষেক নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। পরিচালক অনুরাগ বসুর একটি নতুন সিনেমায় জনপ্রিয় অভিনেতা কার্তিক আরিয়ানের বিপরীতে স্ক্রিন শেয়ার করতে যাচ্ছেন এই তারকা। এর পাশাপাশি খ্যাতিমান অভিনেতা ধানুশের সাথে 'ওম: চ্যাপটার ওয়ান' শিরোনামের সিনেমাতেও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছেন তিনি।

ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের নানা দিক, নান্দনিক ফ্যাশন সেন্স, ঐতিহ্যবাহী পোশাকের সাজ এবং শুটিংয়ের নেপথ্য মুহূর্ত প্রায়ই ভক্তদের সাথে ভাগ করে নেন এই অভিনেত্রী। তাঁর ঝুলিতে বর্তমানে আরও বেশ কয়েকটি নতুন সিনেমার কাজ রয়েছে যা মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। চিকিৎসাবিদ্যা থেকে অভিনয়ে এসে অল্প সময়েই তারকাখ্যাতি অর্জন করা শ্রীলীলা এখন দুই ইন্ডাস্ট্রির নির্মাতাদের কাছেই অন্যতম পছন্দের মুখ। সামাজিক মাধ্যমের এই নতুন রেকর্ড তাঁর ক্যারিয়ারের মুকুটে আরও একটি নতুন সাফল্যের পালক যুক্ত করল।

বগুড়া পুলিশে বিল জালিয়াতি: আত্মসাৎ ৩ কোটি, তদন্তে ৩০ পুলিশ সদস্যের নাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বগুড়া পুলিশে বিল জালিয়াতি: আত্মসাৎ ৩ কোটি, তদন্তে ৩০ পুলিশ সদস্যের নাম

বগুড়া জেলা পুলিশের বিভিন্ন আর্থিক খাত এবং বিলে ব্যাপক জালিয়াতির চাঞ্চল্যকর তথ্য উন্মোচিত হয়েছে। ভুয়া ভ্রমণ ভাতা বা টিএ বিলের মাধ্যমে সরকারি তহবিল থেকে প্রায় তিন কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। পুলিশের অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধানে এই দুর্নীতির বিষয়টি সামনে আসার পর থেকেই পুরো প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত সরকারি দায়িত্ব পালন করেও অনেক পুলিশ সদস্য তাদের প্রাপ্য ভাতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন, অথচ এই খাতের বরাদ্দকৃত অর্থ দ্রুত শেষ হয়ে যেত।

পুলিশের অভ্যন্তরীণ এই অনিয়মের সূত্রপাত ঘটে যখন জেলা সুপারের ব্যক্তিগত কম্পিউটার আইডি অন্য কারো মাধ্যমে ব্যবহারের বিষয়টি ধরা পড়ে। পুলিশ সুপার মীর্জা সায়েম মাহমুদ সম্প্রতি দাপ্তরিক কাজ করার সময় তার আইডিতে অস্বাভাবিক কর্মকাণ্ড লক্ষ্য করেন। বিষয়টি তিনি দ্রুত জেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তাকে অবহিত করেন এবং আইডির নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার পর শুরু হয় নিবিড় অনুসন্ধান। প্রাথমিক অনুসন্ধানেই পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের অফিস সহকারী রাজিবুল ইসলাম এবং হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের অডিটর ফিরোজ আলমের নাম এই জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে উঠে আসে।

ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে গত আগস্ট মাসের শেষ দিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামানকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করার পর একে একে বর্তমান ও সাবেক প্রায় ৩০ জন পুলিশ সদস্যের নাম এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। ইতোমধ্যে এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে প্রায় ২০ জন পুলিশ সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে অনেক সদস্য দাবি করেছেন যে তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ভুয়া বিলের টাকা জমা হলেও সেই অর্থ তুলে রাজিবুল ও ফিরোজের হাতে তুলে দিতে বাধ্য করা হয়েছিল।

জালিয়াতির পুরো পরিধি এবং এর সঙ্গে জড়িত প্রকৃত কুশীলবদের চিহ্নিত করতে জেলা পুলিশের দুই হাজারেরও বেশি সদস্যের টিএ বিলের রেজিস্টার ও ব্যাংক হিসাব পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হচ্ছে। অভিযুক্ত অডিটর ফিরোজ আলমকে ইতিমধ্যে রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে এবং প্রধান হিসাবরক্ষণ কার্যালয় থেকেও পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশ সুপার নিশ্চিত করেছেন।


তিন জেলায় কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

তিন জেলায় কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

দেশের তিন গুরুত্বপূর্ণ জেলা কুমিল্লা, টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জে সম্প্রতি জিপিএ-৫ প্রাপ্ত মেধাবী শিক্ষার্থীদের নিয়ে এক বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা উৎসবের আয়োজন করা হয়। 'স্বপ্ন দেখো জীবন গড়ো' এই মূল স্লোগানকে সামনে রেখে এই উৎসবের আয়োজন করে দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিক প্রথম আলো। তরুণ প্রজন্মের মেধা বিকাশ ও তাদের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার উৎসাহ জোগাতে এই আয়োজনের পৃষ্ঠপোষকতা করেছে জনপ্রিয় ডিজিটাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিখো। আয়োজকরা জানিয়েছেন, দেশের প্রতিটি জেলার মেধাবী শিক্ষার্থীদের এই উদযাপনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানগুলোকে কেন্দ্র করে প্রতিটি ভেন্যুতে তরুণ শিক্ষার্থীদের ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। সকালের দিকে শিক্ষার্থীরা সারিবদ্ধভাবে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করেন এবং নিজেদের আনন্দ ক্যামেরা বন্দি করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কুমিল্লা জেলা স্কুল প্রাঙ্গণসহ অন্যান্য ভেন্যুগুলোতে আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়, যেখানে শিক্ষার্থীরা একে অপরের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেন। শুধু সংবর্ধনা গ্রহণই নয়, বরং দিনভর নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও আয়োজনে মেতে উঠেছিল পুরো প্রাঙ্গণ।

অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণের পাশাপাশি বিভিন্ন আনন্দদায়ক খেলার আয়োজন করা হয়, যা শিক্ষার্থীদের মনে বাড়তি আনন্দের খোরাক জোগায়। মজার এসব খেলায় শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং বিজয়ী ও কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়াদের হাতে আকর্ষণীয় পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। এছাড়া সিরাজগঞ্জে অনুষ্ঠিত আয়োজনে বন্ধুসভার পক্ষ থেকে জাদু প্রদর্শন করা হয়, যা উপস্থিত সবাইকে দারুণ বিনোদন দেয়। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা তাদের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

দিনব্যাপী এই আয়োজনে কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও প্রথম আলো পত্রিকা তুলে দেওয়া হয়, যা তাদের ভবিষ্যৎ চলার পথে অনুপ্রেরণা জোগাবে। সিরাজগঞ্জের জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে মনোজ্ঞ নৃত্য পরিবেশন ও জাদু প্রদর্শনের মাধ্যমে পুরো অনুষ্ঠানটি এক ভিন্ন মাত্রা লাভ করে। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য জেলাগুলোতেও এই কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা উৎসবের আয়োজন করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।


চুয়েটে আন্দোলনের পঞ্চম দিন, নতুন উপাচার্যকে ‘লাল কার্ড’ শিক্ষার্থীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

চুয়েটে আন্দোলনের পঞ্চম দিন, নতুন উপাচার্যকে ‘লাল কার্ড’ শিক্ষার্থীদের

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে চলমান আন্দোলন পঞ্চম দিনে গড়ায়। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে স্বপদে বহাল রাখার এই আন্দোলনে উত্তাল রয়েছে পুরো ক্যাম্পাস। শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়টির সব ধরনের ক্লাস ও পরীক্ষা বর্তমানে সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

চলমান কর্মসূচির অংশ হিসেবে সম্প্রতি ক্যাম্পাসে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। দুপুর নাগাদ আয়োজিত এই মিছিলে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের নাম উল্লেখ করে তাঁকে ‘লাল কার্ড’ প্রদর্শন করা হয়। এর আগে সকালে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চত্বর ও একাডেমিক ভবনের দেওয়ালজুড়ে নানা ধরনের প্রতিবাদী গ্রাফিতি আঁকেন তাঁরা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাঁরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে ক্লাসে ফিরতে চান, তবে তাদের একমাত্র দাবি অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমের পুনর্বহাল। বিগত কয়েক দিনে এই দাবিতে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলন, মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে পাহারা দেওয়া, কমপ্লিট শাটডাউন এবং মশাল মিছিলের মতো কর্মসূচি পালন করেছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২১ সেপ্টেম্বর সরকার এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে চুয়েটের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়। তাঁর পরিবর্তে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন শিক্ষার্থীরা এবং তখন থেকেই ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।