শেয়ার বাজার

সৌদি মিত্ররা একজোট, হামলা চালিয়ে যাচ্ছে হুতি বিদ্রোহীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সৌদি মিত্ররা একজোট, হামলা চালিয়ে যাচ্ছে হুতি বিদ্রোহীরা

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি সশস্ত্র গোষ্ঠী কর্তৃক সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা তীব্র আকার ধারণ করায় রিয়াদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে তার মিত্রদেশগুলো। সম্প্রতি হুতিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন ভূখণ্ড লক্ষ্য করে অনবরত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। এই পরিস্থিতিতে সৌদি কর্তৃপক্ষ আকাশপথে বেশ কিছু ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে ধ্বংস করলেও দেশটির প্রধান তেল বন্দর এবং গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে চরম নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সার্বিক এই সংকটময় পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের শীর্ষ ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ হুতিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে জীবন বাজি রেখে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জোরালো বার্তা দিয়েছেন।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সেনাপ্রধানেরা একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হতে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। গত আগস্ট মাসে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’র রূপরেখা অনুযায়ী যেকোনো এক দেশের ওপর আক্রমণকে সবার ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে এবং সেই অনুযায়ী যৌথ সামরিক কৌশল নির্ধারণ করা হবে। চুক্তির কার্যকারিতা বাড়াতে এবং মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে তুরস্কের সেনাপ্রধান সম্প্রতি সৌদি আরব সফর করেছেন। তবে চুক্তিটি এখনো তুর্কি পার্লামেন্টে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত না হওয়ায় আঙ্কারার পক্ষ থেকে আপাতত মূলত দ্বিপক্ষীয় ও কারিগরি সহায়তা প্রদানের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

এরই ধারাবাহিকতায় লোহিত সাগর উপকূলের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইয়ানবু তেল বন্দর রক্ষায় সেনা ও আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্স। ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ জানিয়েছেন, বন্দরটির সুরক্ষায় সেনাসদস্য এবং রাডার সিস্টেম মোতায়েন করা হলেও সরাসরি কোনো সংঘাতে জড়ানোর ইচ্ছা তাদের নেই। হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় বর্তমানে সৌদি আরবের জ্বালানি তেল রপ্তানি সম্পূর্ণভাবে ইয়ানবু বন্দরের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, আর তাই এই গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষা করা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত জরুরি।

এদিকে কূটনৈতিক অঙ্গনেও এই সংঘাত নিরসনে নানা ধরনের তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তুরস্কের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, আগামী দিনে এই প্রতিরক্ষা জোটে ইরানসহ মুসলিম বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখা এবং সম্ভাব্য বড় ধরনের সংঘাত এড়ানোর লক্ষ্যেই এই বহুমুখী কূটনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পথে চীনের জোড়া জায়ান্ট পান্ডা, থাকবে ১০ বছর

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের পথে চীনের জোড়া জায়ান্ট পান্ডা, থাকবে ১০ বছর

যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে সফলভাবে দীর্ঘ যাত্রা শুরু করেছে চীনের জনপ্রিয় দুই জায়ান্ট পান্ডা। দীর্ঘমেয়াদী প্রাণী বিনিময় কর্মসূচির অংশ হিসেবে পান্ডা দুটিকে আটলান্টার একটি বিখ্যাত চিড়িয়াখানার প্রাঙ্গণে পাঠানো হচ্ছে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার দীর্ঘস্থায়ী ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্বজুড়ে এই বিশেষ কূটনীতি বেশ সুপরিচিত এবং এটি দুই দেশের জনগণের মাঝে পারস্পরিক সৌহার্দ্য বাড়াতে ভূমিকা রাখে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পান্ডা দুটির এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে প্রায় ১৫ ঘণ্টা সময় লাগার কথা রয়েছে। যাত্রাপথে প্রাণীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও আরামদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। প্রাণী বিশেষজ্ঞরা পুরো সময় জুড়েই পান্ডা দুটির স্বাস্থ্য ও মানসিক অবস্থা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। পর্যাপ্ত বাঁশ এবং পানীয় জলের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে তাদের দীর্ঘ বিমানযাত্রার এই বিশেষ ফ্লাইটে।

আটলান্টার এই চিড়িয়াখানায় আগামী এক দশক অর্থাৎ পুরো দশ বছর অবস্থান করবে পান্ডা জোড়াটি। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বেশ কিছু পান্ডা চীনে ফিরিয়ে নেওয়া হলেও, নতুন এই জুটির আগমন দেশটির দর্শকদের জন্য এক বিশাল আনন্দের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ পান্ডাগুলোকে বরণ করতে ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রেখেছে। দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করার আগে তাদের নতুন পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও কূটনীতির ক্ষেত্রে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝেও সাংস্কৃতিক ও পরিবেশগত অংশীদারিত্ব বজায় রাখতে এই ধরনের পদক্ষেপ বরাবরই কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষ ও পর্যটকরা এই নতুন অতিথিদের সাদরে গ্রহণ করবেন এবং এটি দুই দেশের সুসম্পর্ককে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।


ইমরান খানকে নিয়ে উভয় সংকটে পাকিস্তান সেনাবাহিনী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ইমরান খানকে নিয়ে উভয় সংকটে পাকিস্তান সেনাবাহিনী

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে ঘিরে দেশটির রাজনীতিতে নতুন করে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কারাবন্দি থাকা সত্ত্বেও তাঁর দলের আসন্ন বিক্ষোভ কর্মসূচি সফল করতে রাজধানী ইসলামাবাদজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে বর্তমান প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন প্রধান সড়কে কন্টেইনার বসিয়ে যাতায়াত নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছে। মূলত সাবেক এই ক্রিকেটারকে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে নানা কৌশল অবলম্বন করা হলেও তাঁর জনসমর্থনে ভাটা পড়েনি।

দেশের প্রধান গণমাধ্যমগুলো দীর্ঘদিন ধরে ইমরান খানের নাম ও ছবি সরাসরি সম্প্রচার থেকে বিরত থাকলেও তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে। তাঁর মুক্তির দাবিতে পিটিআইয়ের পক্ষ থেকে দেশজুড়ে বড় ধরনের আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যাতে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ ও ক্রিকেট তারকারাও সংহতি প্রকাশ করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার অজুহাতে ইমরান খানের বোনসহ পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্যকে আটক করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপ থেকে স্পষ্ট যে, সামরিক প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের বেসামরিক সরকারের জন্য কারাবন্দি এই নেতা বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের একটি বিশাল অংশের কাছে ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলগুলোর দুর্নীতির বিকল্প হিসেবে ইমরান খান অন্যতম জনপ্রিয় নেতা হিসেবে বিবেচিত হন। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিশ্লেষকের মতে, দেশটি বর্তমানে ইমরান খানের বিপুল জনসমর্থন এবং সামরিক বাহিনীর একচ্ছত্র আধিপত্য ধরে রাখার জেদের কারণে এক গভীর রাজনৈতিক অচলাবস্থায় আটকে আছে। একদিকে সামরিক নেতৃত্ব আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে ব্যস্ত রয়েছে, অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরে দুর্বল অর্থনীতি ও নিরাপত্তা সংকটের পাশাপাশি তীব্র রাজনৈতিক চাপের মুখোমুখি হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইমরান খানকে একপাশে সরিয়ে রাখার এই অনমনীয় নীতি দেশের ভেতরে নতুন করে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও বিশৃঙ্খলার ঝুঁকি তৈরি করছে। এর ফলে সরকারের অর্থনৈতিক সংস্কারের মূল এজেন্ডা বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অর্জিত কূটনৈতিক সাফল্যও প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ভিন্নমত দমনে সরকারের কঠোর অবস্থান এবং বিচার বিভাগের ওপর নানামুখী চাপ প্রয়োগের অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে, যা দেশটির সামগ্রিক গণতান্ত্রিক চর্চাকে বড় ধরনের সংকটের মুখে ফেলছে।


সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হামলা বলছে পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হামলা বলছে পুলিশ

রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকায় জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। গত কিছুদিন আগে ঘটে যাওয়া এই আকস্মিক হামলায় স্টুডিওর ভেতরে থাকা বিভিন্ন আসবাবপত্র ও দামি সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় এলাকাবাসী ও ভক্তদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন হঠাৎ করে বেশ কয়েকটি পিকআপভর্তি একদল লোক ওই এলাকায় এসে তাণ্ডব চালায়। তারা শুধু সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওই নয়, বরং আশপাশের কয়েকটি বাড়ি ও অন্যান্য স্থাপনাও লক্ষ্য করে হামলা চালায়। হামলাকারীরা নির্বিচারে ভাঙচুর চালিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করে এবং একপর্যায়ে স্টুডিও থেকে মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

প্রাথমিক তদন্তের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, মূলত জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এই হামলার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ইতোমধ্যে তিনজনকে আটক করেছে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ।

আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই হামলার মূল হোতা এবং পেছনের উসকানিদাতাদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। বর্তমানে ওই এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষ থেকে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।