শেয়ার বাজার

সন্ত্রাসী দেশ আমাকে এই প্রশ্ন করছে—পাকিস্তানি সাংবাদিককে পাল্টা প্রশ্ন জয়শঙ্করের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সন্ত্রাসী দেশ আমাকে এই প্রশ্ন করছে—পাকিস্তানি সাংবাদিককে পাল্টা প্রশ্ন জয়শঙ্করের

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের সাইডলাইনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের এক সাংবাদিকের মুখোমুখি হন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ওই সাংবাদিক ভারত সরকারের বিরুদ্ধে পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদে সহায়তার অভিযোগ এনে একটি প্রশ্ন উত্থাপন করেন। এর জবাবে তাৎক্ষণিকভাবে কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানান ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি উল্টো প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে জানতে চান যে একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্র কীভাবে তাকে এই ধরনের প্রশ্ন করতে পারে।

এই ঘটনার পর ভারতীয় প্রতিনিধিদলের প্রধান জয়শঙ্করসহ অন্যান্য সদস্যরা অবিলম্বে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। তবে চলে যাওয়ার সময়ও ওই সাংবাদিক নিজের প্রশ্ন ও বক্তব্য চালিয়ে যান। ভারত দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিবেশী রাষ্ট্র পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদে মদদ দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ করে আসছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যকার রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন এই ধরনের মুখোমুখি অবস্থানের মধ্য দিয়ে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

এর আগে জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে পর্যটকদের ওপর বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলায় একাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটে। এই রক্তাক্ত ঘটনার জেরে ভারত তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পরিচালনা করে। নয়াদিল্লির দাবি ছিল, ওই এলাকাগুলোতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সশস্ত্র গোষ্ঠী লস্কর-ই-তাইয়েবা ও জইশ-ই-মুহাম্মদের অবকাঠামো ও ঘাঁটি সক্রিয় রয়েছে। এই সামরিক উত্তেজনার রেশ আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতেও নিয়মিতভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে।

এদিকে জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলেও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে ভারত। ভারতীয় কূটনীতিক ক্ষিতিজ ত্যাগী মন্তব্য করেছেন যে, ইসলামাবাদের উচিত অন্যের ভূখণ্ড দখলের উচ্চাশা বা সন্ত্রাসবাদের পথ পরিহার করে নিজেদের অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন ও অর্থনীতির দিকে মনোযোগ দেওয়া। তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক মঞ্চে এই ধরনের রাজনৈতিক নাটক করে পাকিস্তানের গভীর অর্থনৈতিক সংকট বা ঋণগ্রস্ত অবস্থার কোনো স্থায়ী সমাধান হবে না।

অন্যদিকে জাতিসংঘে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে ভারত পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যু এবং দমনপীড়নের প্রসঙ্গ টানে। পাশাপাশি শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহে বাধার অভিযোগও করা হয়। তবে ইসলামাবাদ বরাবরই এই সমস্ত ভারতীয় অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে এবং কাশ্মীরকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় যাতায়তে রাঙ্গুনিয়ায় ফ্রি বাস।

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০২ মার্চ, ২০২৪

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় যাতায়তে রাঙ্গুনিয়ায় ফ্রি বাস।

রাংগুনিয়া প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় রাঙ্গুনিয়ার শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও  রাঙ্গুনিয়া স্টুডেন্টস ফোরামের প্রধান পৃষ্টপোষক ড. হাছান মাহমুদ এমপি'র তত্ত্বাবধানে ফ্রি বাস সাভিস চালু করা হয়েছে।  

বাস সার্ভিস চালু হওয়ায় রাঙ্গুনিয়া থেকে ভর্তি পরীক্ষায় যাতায়াতে শিক্ষার্থীদের পথের দূর্ভোগটা কমবে।’

শনিবার (২ মার্চ) সকালে  “রাঙ্গুনিয়া স্টুডেন্ট ফোরাম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়” সংগঠনের উদ্যোগে এ. বি.সি.ও ডি. ইউনিটে ৪ দিনের ফ্রি বাস সার্ভিস চালু করা হয়। ভর্তি পরীক্ষা চলাকালীন “রাঙ্গুনিয়া স্টুডেন্ট ফোরাম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়” সংগঠনের সহযোগিতায় প্রতিদিন বাস সার্ভিস রাঙ্গুনিয়ার রোয়াজারহাট থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় যাবে।

কয়েক বছর ধরে রাঙ্গুনিয়ার শিক্ষার্থীদের জন্য সেবাটি চলছে। বাস সার্ভিস উদ্বোধনীতে  উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুবলীগের শাখার সভাপতি বি. কে লিটন চৌধুরী, উপজেলা ছাত্রলীগে সভাপতি রাসেল রাসু,রাঙ্গুনিয়া স্টুডেন্ট'স ফোরাম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি মোস্তফা আজিজ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাবিনা চৌধুরী, বর্তমান সভাপতি মুহাম্মদ আবু মোকাররম দস্তগীর, সাধারণ সম্পাদক পলাশ বড়ুয়া প্রমুখ। বাসটি ৪৫ জনের বেশি শিক্ষার্থীও অভিভাবককে নিয়ে ট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গমন করে।


২৬ বছর ধরে লতাপাতা খেয়ে জীবনযাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

২৬ বছর ধরে লতাপাতা খেয়ে জীবনযাপন

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার অমল কৃষ্ণ সুতার এক ব্যতিক্রমী জীবনযাপন করে গোটা এলাকায় আলোচনার সৃষ্টি করেছেন। দীর্ঘ প্রায় ২৬ বছর ধরে তিনি জঙ্গল, খাল ও বিলের বিভিন্ন লতাপাতা, কচুরিপানাসহ নানা উদ্ভিদ কাঁচা খেয়ে জীবনধারণ করছেন। বর্তমানে ৬৬ বছর বয়সী এই ব্যক্তির চেহারায় বয়সের ছাপ থাকলেও তিনি এখনো বেশ কর্মক্ষম ও সতেজ রয়েছেন। তার এই অদ্ভুত খাদ্যাভ্যাসের বিষয়টি স্থানীয় লোকজনকে বিস্মিত করলেও তিনি সম্পূর্ণ স্বাভাবিকভাবে নিজের জীবন চালিয়ে যাচ্ছেন।

অমল কৃষ্ণের এই অস্বাভাবিক জীবনযাপনের নেপথ্যে রয়েছে চরম আর্থিক সংকট ও অভাবের বঞ্চনা। জীবনের শুরুর দিকটা এমন ছিল না, তিনি ১৯৮১ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেছিলেন। বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করার সুবাদে উদ্ভিদ নিয়ে তার মনে ছোটবেলা থেকেই এক ধরনের কৌতূহল কাজ করত। পরবর্তী সময়ে তীব্র খাদ্যসংকটের মুখে পড়ে তিনি প্রকৃতি থেকে উদ্ভিদ খেয়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা শুরু করেন এবং একপর্যায়ে সেটিই তার প্রধান খাদ্যাভ্যাসে পরিণত হয়।

প্রকৃতির ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল এই মানুষের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় কোনো নির্দিষ্ট মেনু বা সময় বাঁধা নেই। ক্ষুধা নিবারণের জন্য তিনি যখন যেখানে পান, লতাপাতা ও জলজ উদ্ভিদ চিবিয়ে খেয়ে নেন। নিজের কোনো স্থায়ী বসতি বা ঘরবাড়ি না থাকায় তিনি কখনো পরিচিতজনদের বাড়িতে আবার কখনো অন্যের আশ্রয়ে রাত কাটান। তবে বিষাক্ত কোনো উদ্ভিদ বা বস্তু তিনি কখনো মুখে তোলেন না বলে নিজেই জানিয়েছেন।

স্থানীয় চিকিৎসকরা অমল কৃষ্ণ সুতারের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে তার শরীরে বড় কোনো জটিল রোগের অস্তিত্ব পাননি। নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, নিয়মিত লতাপাতা খেয়েও তিনি কীভাবে সুস্থ আছেন, তা চিকিৎসাবিজ্ঞানের জন্য একটি গবেষণার বিষয় হতে পারে। তবে তার এই খাদ্যাভ্যাস সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও দীর্ঘদিনের অভ্যাসের ফল হওয়ায় অন্য কাউকে এটি অন্ধভাবে অনুসরণ না করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।


ইসলামাবাদ সমঝোতায় ফিরতে যুক্তরাষ্ট্রকে শি জিনপিংয়ের আহ্বান, ইরানের প্রশংসা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ইসলামাবাদ সমঝোতায় ফিরতে যুক্তরাষ্ট্রকে শি জিনপিংয়ের আহ্বান, ইরানের প্রশংসা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান সংঘাত এড়াতে ঐতিহাসিক ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) ওয়াশিংটনকে পুনরায় ফিরে আসার তাগিদ দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ আহ্বান জানান তিনি। কূটনীত ও সংলাপের মাধ্যমে তেহরান ও ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের বৈরিতা নিরসনের এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দুই দেশের মধ্যকার কৌশলগত উত্তেজনা প্রশমনে বেইজিংয়ের এমন মধ্যস্থতামূলক ভূরাজনৈতিক ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

চীনের শীর্ষ নেতার এমন দায়িত্বশীল ও বিচক্ষণ অবস্থানের প্রতি উষ্ণ অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় তিনি শি জিনপিংয়ের এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানান। তেহরান সবসময়ই সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে যেকোনো আন্তর্জাতিক সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে বিশ্বাস করে বলে পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। পূর্বনির্ধারিত রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিগুলো রক্ষা করা এবং অর্থবহ আলোচনার পরিবেশ তৈরি করা বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

উল্লেখ্য যে, এর আগে এই ইসলামাবাদ এমওইউর কাঠামোর আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সশস্ত্র সংঘাত সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা সম্ভব হয়েছিল। পাশাপাশি উভয় পক্ষের মধ্যে পরবর্তী কূটনৈতিক বৈঠকের একটি সুনির্দিষ্ট পথরেখাও তৈরি হয়েছিল এই চুক্তির মাধ্যমে। তবে নানা রাজনৈতিক জটিলতা ও আস্থার সংকটের কারণে সেই উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত স্থায়ী হয়নি এবং দুই দেশের সম্পর্কে ফের অবনতি ঘটেছিল। বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় এই পুরনো সমঝোতা পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব হলে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে পারস্পরিক অবিশ্বাস দূর করে কূটনৈতিক আলোচনার টেবিলে বসার ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে তেহরান। মার্কিন প্রশাসনের তরফ থেকে এখনও এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া না গেলেও, চীনের মধ্যস্থতার ফলে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় সেটাই এখন দেখার বিষয়। আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এ ধরনের আন্তর্জাতিক উদ্যোগগুলো দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।