শেয়ার বাজার

শহীদ দিবসে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রশাসনের আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: বৃহঃস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

শহীদ দিবসে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রশাসনের আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ

বার্তাবেলা ডেস্ক: ২১ ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন উপলক্ষে চট্টগ্রামের  রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত।

বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলা সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা স্বজন কুমার তালুকদার। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রায়হান মেহেবুব। 

বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মারজান হোসাইন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দেব প্রসাদ চক্রবর্তী, রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ওসি চন্দন কুমার চক্রবর্তী, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হিন্দুল বারী, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসান, রাঙ্গুনিয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি জিগারুল ইসলাম জিগার, সাবেক সভাপতি আকাশ আহমেদ, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মাসুদ নাসির, অর্থ ও দপ্তর সম্পাদক জগলুল হুদা, আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা শামিমা আক্তার, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার সুমন শর্মা প্রমুখ। সঞ্চালনা করেন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নিজাম উদ্দিন। পরে উপজেলার বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

জার্মানজুড়ে ৪৫ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর গণবিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জার্মানজুড়ে ৪৫ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর গণবিক্ষোভ

জার্মানিতে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা চালুর সরকারি উদ্যোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন দেশের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সম্প্রতি দেশটির শতাধিক শহরে ক্লাস বর্জন করে রাজপথে নেমে আসেন ৪৫ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী। 'স্কুল স্ট্রাইক অ্যাগেইনস্ট কনস্ক্রিপশন' নামক একটি উদ্যোগের ব্যানারে এই ব্যাপক বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। মূলত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ১৮ বছর বয়সী তরুণদের সামরিক বাহিনীতে যোগদানের উপযোগিতা যাচাইয়ের জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তলব করা শুরু করলে এই ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে।

বিক্ষোভকারী তরুণদের প্রধান অভিযোগ হলো, সামরিক বাহিনীতে যোগদানে বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই এমন শত শত শিক্ষার্থীকেও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নোটিশ পাঠানো হয়েছে। কিল শহরের ১৮ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী গোলো কির্শ জানান, তাদের জানানো হয়েছিল চিকিৎসা সংক্রান্ত পরীক্ষা আগামী বছর থেকে শুরু হবে এবং এটি একটি স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম হবে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের এক বছর আগেই তার মেইলবক্সে তলবপত্র চলে আসে এবং সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয় যে এই বাধ্যবাধকতা এখনই কার্যকর করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে তারা জোরপূর্বক কোনো স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অংশ নেবেন না এবং ব্যারাকেও যাবেন না।

চলতি দশকের শুরুর দিকে প্রণীত জার্মানির নতুন সামরিক সেবা আইনের আওতায় ১৮ বছর বয়সী সব পুরুষকে একটি নির্দিষ্ট প্রশ্নপত্র পূরণ করতে হয়। এর মাধ্যমে তাদের শারীরিক সক্ষমতা, বিভিন্ন দক্ষতা এবং সশস্ত্র বাহিনীতে যোগদানের মানসিকতা যাচাই করা হয়। যদিও বর্তমান সরকার সামরিক সেবা ব্যবস্থাকে স্বেচ্ছামূলক বলে দাবি করছে, তবুও শিক্ষার্থীদের আশঙ্কা সরকার ধীরে ধীরে বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ ফিরিয়ে আনার গোপন কৌশল বাস্তবায়ন করছে। ২০০৮ সালের পরে জন্ম নেওয়া তরুণদের জন্য এই স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হলেও সীমিত সক্ষমতার কারণে তা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

মূলত জার্মান সশস্ত্র বাহিনীতে দীর্ঘদিনের তীব্র জনবল সংকট দূর করতেই সরকার এই নতুন সামরিক সেবা নীতি গ্রহণ করেছে। বর্তমানে দেশটির সক্রিয় সেনাসদস্যের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৮৬ হাজার ৪০০ হলেও, আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক সংকট এবং ন্যাটোর নির্ধারিত প্রতিরক্ষা লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ২০৩৫ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ২ লাখ ৬০ হাজারে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য অর্জনে প্রতিবছর প্রায় ২০ হাজার নতুন সদস্য প্রয়োজন। তবে বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, শুধু স্বেচ্ছাসেবী পদ্ধতির ওপর নির্ভর করে এই লক্ষ্য অর্জন করা অত্যন্ত দুরূহ হবে, যার ফলে ভবিষ্যতে পূর্ণাঙ্গ বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা ফিরিয়ে আনার প্রসঙ্গটি আবারও সামনে আসতে পারে।


বোমা হামলা থেকে জাতিসংঘে, কূটনীতির নতুন অধ্যায়ে ইরান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বোমা হামলা থেকে জাতিসংঘে, কূটনীতির নতুন অধ্যায়ে ইরান

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিসের কঠোর সুরক্ষাবলয়ে নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনের রাস্তায় হাঁটতে দেখা গেছে ইরানের শীর্ষ কূটনীতিককে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে বিশ্বনেতারা যখন সমবেত হয়েছেন, তখন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের দেশের অবস্থান জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন। অতীতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বিত বিমান হামলার মুখে ইরানের নেতৃত্বের টিকে থাকা নিয়ে নানা শঙ্কা তৈরি হলেও, বর্তমান দৃশ্যপট সম্পূর্ণ ভিন্ন এক কূটনৈতিক অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ উভয় মহলের কথা মাথায় রেখেই তেহরানের নীতিনির্ধকারকেরা অত্যন্ত সুকৌশলে এই যুক্তরাষ্ট্র সফরের পরিকল্পনা করেছিলেন।

নিউইয়র্কে অবস্থানকালে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউরোপের দশটির বেশি দেশের প্রতিনিধি সহ প্রায় দুই ডজন বিদেশি কূটনীতিদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন। এমনকি যে জর্ডানের ভূখণ্ডে সম্প্রতি ইরান হামলা চালিয়েছিল, সেই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান সাফাদির সঙ্গেও তিনি আলোচনায় অংশ নেন। তবে এই সফরের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা ছিল মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে আরাগচির সরাসরি বৈঠক। দীর্ঘ তিন মাস ধরে স্থবির হয়ে থাকা কূটনৈতিক আলোচনা পুনরায় চালু করার লক্ষ্যেই এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান এই আলোচনার অংশ হিসেবে ওয়াশিংটনের কাছে একটি নতুন প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে তেহরান। ওই প্রস্তাব অনুযায়ী, আমেরিকা ইরানের ওপর থেকে অর্থনৈতিক অবরোধ শিথিল করলে ইরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে বিবেচনা করবে এবং একটি স্থায়ী সমঝোতার পথে এগোবে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান কখনোই কারো কাছে মাথা নত করবে না। তার এই দৃঢ় অবস্থান দেশের ভেতরে থাকা কট্টরপন্থীদের একাংশের কাছে প্রশংসিত হলেও, সার্বিক এই কূটনৈতিক উদ্যোগের কারণে তারা তীব্র সমালোচনাও করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে গিয়ে দেশটির প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করার সিদ্ধান্তকে দেশের কট্টরপন্থী আইনপ্রণেতাদের অনেকে এক ধরনের ‘আত্মসমর্পণ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। বিশেষ করে রক্ষণশীল আইনপ্রণেতা ইব্রাহিম রেজাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বৈঠকের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং এর উপযুক্ত ব্যাখ্যা দাবি করেছেন। যুদ্ধকালীন নিষেধাজ্ঞা ও মার্কিন নৌ-অবরোধের কারণে যখন ইরানের অর্থনীতি চরম বিপর্যস্ত, তখন শত্রুপক্ষের দেশে গিয়ে এই ধরনের রাজনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঝুঁকি ছিল। তা সত্ত্বেও ইরানি প্রতিনিধিদল বিশ্ববাসীর কাছে টিকে থাকার বার্তা পৌঁছে দিতে এবং আলোচনার নতুন পথ উন্মুক্ত করতে সফল হয়েছে।

জাতিসংঘের মঞ্চে পেজেশকিয়ান যখন ইরানের বিভিন্ন দাবি ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরছিলেন, তখন এর সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র দেখা গেছে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ক্ষেত্রে। নেতানিয়াহু যখন ভাষণ দিতে শুরু করেন, তখন নিউ ইয়র্কের রাস্তায় তার বিরুদ্ধে তীব্র বিক্ষোভ হয় এবং অধিবেশনকক্ষে উপস্থিত বহু দেশের প্রতিনিধিরা প্রতিবাদস্বরূপ ওয়াকআউট করেন। সব মিলিয়ে, যুদ্ধের ঘনঘটা ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিরোধিতার মধ্যেও ইরানের এই যুক্তরাষ্ট্র সফর আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এক নতুন এবং উল্লেখযোগ্য মোড় নিয়েছে।


‘পাশের জমির মালিকের জমি নিয়ে বিরোধের জেরে’ সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, আটক ৩: পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

‘পাশের জমির মালিকের জমি নিয়ে বিরোধের জেরে’ সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, আটক ৩: পুলিশ

জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ইউটিউবার সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে অতর্কিত হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। নিউ গিনি প্রপার্টিজ লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পাশের এক জমির মালিকের দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এই সহিংসতার সূত্রপাত হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় স্টুডিওটির ভেতরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে আশেপাশের এলাকায়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিরোধপূর্ণ ওই জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে জটিলতা চলে আসছিল। ঘটনার দিন হঠাৎ করেই একদল লোক স্টুডিও চত্বরে চড়াও হয় এবং জোরপূর্বক ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। বাধা দিতে গেলে হামলাকারীরা স্টুডিওর বিভিন্ন আসবাবপত্র ও মূল্যবান যন্ত্রাংশ ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

খবর পেয়ে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশের তেজগাঁও অঞ্চলের সহকারী কমিশনার নাজমুল আলম সংবাদমাধ্যমকে জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরেই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।

এই আকস্মিক হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সালমান মুক্তাদিরসহ সংশ্লিষ্টরা। আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা। বর্তমানে ওই এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি শান্ত রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।