শেয়ার বাজার

সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলতে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলতে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের প্রস্তাব

যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়ায় কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছিল তেহরান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ওই সামরিক অভিযানের পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ওপর। এর জবাবে ইসরায়েল ছাড়াও উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং যুক্তরাষ্ট্রের আরব মিত্রদের লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণ চালায় ইরান।

এই সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটায় সংকট নিরসনের নানা কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়। এই প্রেক্ষাপটেই বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ খুঁজতে মার্কিন প্রশাসনের কাছে একটি নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। তাদের এই পদক্ষেপে আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে কিছুটা নমনীয়তার আভাস মিলছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষকরা।

প্রস্তাব অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ সাপেক্ষে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে হরমুজ প্রণালির নৌপথ পুনরায় উন্মুক্ত করতে রাজি রয়েছে ইরান। বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং চলমান সামরিক সংঘাতের মাত্রা কমাতে এই জলপথ সচল হওয়া অত্যন্ত জরুরি। তবে ওয়াশিংটন এই প্রস্তাবে কীভাবে সাড়া দেবে এবং তাদের পক্ষ থেকে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া আসবে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা দীর্ঘমেয়াদে কোনো পক্ষের জন্যই কল্যাণকর নয়। ফলে যুক্তরাষ্ট্র যদি এই সংকট সমাধানে ইরানি প্রস্তাবের ইতিবাচক মূল্যায়ন করে, তবে চলমান উত্তেজনার পারদ কিছুটা নামতে পারে। তবে এই সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে কী ধরনের পরিবর্তন আসবে, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বিশ্ব সম্প্রদায়।

পুলিশ দেখে কেক ও মোটরসাইকেল ফেলে পালালেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

পুলিশ দেখে কেক ও মোটরসাইকেল ফেলে পালালেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা

শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মবার্ষিকী উদযাপনের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে গেছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী। ওই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত তরুণ ও কর্মীরা আতঙ্কিত হয়ে কেক এবং তাদের ব্যবহৃত বাহনগুলো রেখেই দ্রুত সটকে পড়েন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এড়িয়ে গোপনে কর্মসূচি পালনের উদ্দেশ্যে একটি নির্দিষ্ট স্থানে জড়ো হচ্ছিলেন তারা।

খবর পেয়ে স্থানীয় পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি বুঝতে পেরে বিশৃঙ্খলা এড়াতে এবং আটকের ভয়ে ওই তরুণেরা মুহূর্তের মধ্যে চারদিকে ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যান। ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ ৫টি মোটরসাইকেল এবং জন্মদিনের উদযাপনের জন্য আনা একটি কেক উদ্ধার করে। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পাওয়ার আগেই তারা সবাই দ্রুত সুরুত কেটে ফেলায় কাউকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা সম্ভব হয়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে জব্দকৃত মোটরসাইকেলগুলোর মালিকানা ও চালকদের পরিচয় শনাক্ত করার জন্য তদন্ত শুরু হয়েছে। নিষিদ্ধ কোনো সংগঠনের ব্যানারে বা গোপনে কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। এ ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত কিছুদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম ও গোপন তৎপরতা রোধে তৎপর রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। জাজিরার এই ঘটনার পর পুলিশি টহল আরও জোরদার করা হয়েছে যাতে কেউ নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ না পায়। জব্দ করা মোটরসাইকেলগুলো বর্তমানে জাজিরা থানায় হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


জাতিসংঘে খলিলুর রহমানের সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জাতিসংঘে খলিলুর রহমানের সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এই উচ্চপর্যায়ের সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার এক প্রতিবেদনে এই বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।

বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি। দুই শীর্ষ কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সাম্প্রতিক নানা ঘটনাপ্রবাহ নিয়েও বিস্তারিত মতবিনিময় করেন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিরাজমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে কীভাবে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আঞ্চলিক সংঘাত নিরসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা কেমন হওয়া উচিত, তা নিয়েও তাদের মধ্যে কথা হয়।

বর্তমানে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এই সফরে তিনি বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক চালিয়ে যাচ্ছেন। মধ্যপ্রাচ্যকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই এই কূটনৈতিক তৎপরতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে জাতিসংঘে যখন নানা আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই এই সাক্ষাৎ হলো।

অন্যদিকে, খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পালন করছেন। তার কার্যালয় থেকে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও অভিজ্ঞ কূটনীতিকদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই ধারাবাহিক কূটনৈতিক যোগাযোগের অংশ হিসেবেই ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এই বৈঠক সম্পন্ন হয়। এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট উত্তরণে জাতিসংঘের প্ল্যাটফর্মে আলোচনার প্রক্রিয়া আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের আহ্বান গ্র্যান্ড মুফতির, জরুরি বৈঠক করবে পাকিস্তান-তুরস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের আহ্বান গ্র্যান্ড মুফতির, জরুরি বৈঠক করবে পাকিস্তান-তুরস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের কূটনৈতিক ও সামরিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে আলোচনার অংশ হিসেবে পাকিস্তান ও তুরস্কের সামরিক বাহিনীর প্রধানদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মূলত আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার এবং সম্ভাব্য আক্রমণ মোকাবিলায় এই তিন দেশের যৌথ কৌশল নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলছে।

জাতিসংঘ সদরদপ্তরে সম্প্রতি সৌদি আরবের স্থায়ী মিশনে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই যৌথ উদ্যোগের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এবং সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান অংশ নেন। মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির কাঠামোর আওতায় এই জরুরি বৈঠক আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে, যেখানে একটি দেশের ওপর আক্রমণকে সবার ওপর আক্রমণ বলে গণ্য করা হয়।

বৈঠকে সৌদি আরবের পবিত্র স্থান মক্কা এবং দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনায় সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়। পাশাপাশি সৌদি সশস্ত্র বাহিনীর নেওয়া প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপগুলোর উচ্চ প্রশংসা করেন অংশ নেওয়া মন্ত্রীরা। সম্প্রতি সৌদির বিভিন্ন শহর লক্ষ্য করে হুতি বিদ্রোহীদের ছোড়া বেশ কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা সফলভাবে প্রতিহত করেছে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

এই সার্বিক উত্তেজনার মধ্যেই দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় কড়া বার্তা দিয়েছেন সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি শেখ সালেহ বিন ফাওজান। সীমান্তে মোতায়েন করা সেনাসদস্যদের সবসময় প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের ভূখণ্ড রক্ষা এবং যেকোনো আগ্রাসন প্রতিহত করা পবিত্র দায়িত্ব। অন্যদিকে, লোহিত সাগরের কৌশলগত বন্দর ইয়ানবুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি আরবে অতিরিক্ত সেনা, রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্স।