শেয়ার বাজার

শাসন করে চড় মেরেছিলেন ছেলেকে, ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল বাবার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শাসন করে চড় মেরেছিলেন ছেলেকে, ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল বাবার

পরিবারের একটি ছোট বিষয় নিয়ে তৈরি হওয়া কথাকাটাকাটি শেষ পর্যন্ত মর্মান্তিক হত্যাকাૂণ্ডে রূপ নিয়েছে। সম্প্রতি একটি অনভিপ্রেত পারিবারিক ঝামেলার জেরে ছেলের আক্রোশের শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন এক বাবা। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই বিরোধ মুহূর্তের মধ্যে এমন এক হিংসাত্মক রূপ নেয়, যা পুরো এলাকাকুব্ধ করেছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনাটি ঘটেছে বাবা ও ছেলের মধ্যকার তাৎক্ষণিক উত্তেজনার জেরে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, মাহাবুর নামের এক ব্যক্তি তাঁর ছেলে হাসানুরকে নিজ শাশুড়িকে সঙ্গে নিয়ে একসঙ্গে খাবার খাওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু কোনো কারণে ছেলে সেই আহ্বানে রাজি হননি এবং বাবার কথা অমান্য করেন। এই অবাধ্যতায় ক্ষিপ্ত হয়ে বাবা মাহাবুর রাগের মাথায় ছেলেকে একটি চড় মেরে বসেন। সামান্য এই শাসন করার ঘটনাটিই সহ্য করতে পারেনি তরুণ হাসানুর এবং তার ভেতরে চরম ক্ষোভের জন্ম নেয়।

বাবার হাতের চড়ের প্রতিশোধ নিতে সঙ্গে সঙ্গেই চরম হিংস্র পথ বেছে নেয় ওই যুবক। ক্ষুব্ধ হয়ে হাসানুর ঘর থেকে একটি ধারালো ছুরি এনে সজোরে তাঁর বাবার বুকে আঘাত করেন। অতর্কিত এই প্রাণঘাতী আঘাতে মাহাবুর গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। পরিবারের অন্য সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি অনুধাবন করলেও ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে।

গুরুতর আহত অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তুচ্ছ একটি পারিবারিক বিষয়কে কেন্দ্র করে এমন একটি মর্মান্তিক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শোকে স্তব্ধ নিহত ব্যক্তির পরিবার ও প্রতিবেশীরা। ঘটনার পর থেকেই আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

মেজর জাহিদের স্ত্রীকে আয়নাঘরে নিপীড়নের বিভীষিকা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মেজর জাহিদের স্ত্রীকে আয়নাঘরে নিপীড়নের বিভীষিকা

পিলখানা সেনা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য সত্য জেনে ফেলায় ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার শাসনামলে নৃশংসভাবে খুন হন সেনা কর্মকর্তা মেজর জাহিদুল ইসলাম। পরবর্তীতে মরণোত্তর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হিসেবে পদোন্নতিপ্রাপ্ত এই কর্মকর্তার জীবনের ওপর অন্ধকার নেমে আসে ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বিডিআর সদরদপ্তরে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ঘটনার পর। পিলখানা থেকে তার এক কোর্সমেট ও বন্ধু তাকে ফোন করে অফিসারদের হত্যার খবর জানান, যা তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছিলেন। এরপর থেকেই তাকে গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয় এবং নিয়মিত নামাজ পড়া ও দাঁড়ি রাখার কারণে নানা ধরনের মানসিক নির্যাতন ও হেনস্তার শিকার হতে হয়। চরম এই পরিস্থিতিতে তিনি স্বেচ্ছায় চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন এবং পরবর্তী সময়ে সাজানো বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

হত্যা নিশ্চিত করার পর তার মৃতদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর না করে দীর্ঘ আড়াই বছর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ফেলে রাখা হয় এবং পরবর্তীতে জুরাইন কবরস্থানে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর এই হত্যাকাণ্ডের আসল চিত্র প্রকাশ্যে আসে, যেখানে দেখা যায় রূপনগরের যে ফ্ল্যাটে বন্দুকযুদ্ধের দাবি করা হয়েছিল সেখানে তেমন কোনো ঘটনাই ঘটেনি। মেজর জাহিদের হাত পেছনে মুচড়ে ভেঙে ফেলার পাশাপাশি অত্যন্ত কাছ থেকে গুলি করে তার বুক ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয়েছিল। পরিবারের সদস্যরা চোখের সামনে থেকেও দীর্ঘদিন জানতে পারেননি তার এই নিষ্ঠুর পরিণতির কথা এবং কোথায় রয়েছে তার শেষ ঠিকানা।

স্বামীর মর্মান্তিক মৃত্যুর ওই রাতেই মেজর জাহিদের স্ত্রী জেবুন্নাহার শিলাকে তার কোলের দুগ্ধপোষ্য শিশুসহ ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি সেলে তুলে নেওয়া হয়। ডিবির ওই বন্দিশালায় চার মাস সাতদিন তাদের গুম করে রাখা হয়, যার মধ্যে একটি নোংরা ও পোকায় ভরা কক্ষে ছোট বাচ্চাকে কোলে নিয়ে টানা দুই দিন ও দুই রাত চেয়ারেই বসে কাটাতে বাধ্য করা হয়েছিল তাকে। রিমান্ডের সময় তাকে হোলি আর্টিজান হামলার সঙ্গে স্বামীর সম্পৃক্ততা নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং চরম মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হয়। বন্দী অবস্থায় তিনি পর্দা করে নামাজ পড়তে চাইলে ডিবির লোকজন সেই চাদর টেনে ফেলে দিত এবং বিভিন্নভাবে উপহাস ও তাচ্ছিল্য করত। এমনকি স্বামীকে জঙ্গি হিসেবে স্বীকার না করলে তাকে ও তার অবুঝ দুই সন্তানকেও একই পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে লাগাতার হুমকি দেওয়া হতো।

গুমের ঘটনার এক সপ্তাহ পর তার ছয় বছরের শিশুকন্যাকে নানু-দাদু দেখতে চাওয়ার নাম করে জোরপূর্বক কেড়ে নেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে আজিমপুরে একটি জঙ্গি নাটক সাজিয়ে তাকেও সেই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে ফেলা হয়। এতটুকু একটি অবুঝ শিশুকে ক্যামেরার সামনে দাঁড় করিয়ে সংবাদ সম্মেলন করার কারণে আজও গণমাধ্যম দেখলেই সন্তানরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। এরপর ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে আশকোনার একটি বাসা থেকে তাকে ও তার আট মাসের শিশুকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে প্রথমে রিমান্ড এবং পরে দীর্ঘ ছয় বছরের বিভীষিকাময় কারাজীবন চাপিয়ে দেওয়া হয়। কারাগারে বন্দি থাকাকালীন ছোট বাচ্চার জন্য একটি মশারি পর্যন্ত ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি, বরং মশার কামড় থেকে রক্ষা পাওয়ার ওড়না দিয়ে তৈরি improvised মশারিও কর্তৃপক্ষ কেড়ে নিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছিল। দীর্ঘ এই সংগ্রাম ও নির্যাতনের শিকার হয়ে এই পরিবারটি আজ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত, যা তৎকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চরম অমানবিকতার এক জীবন্ত দলিল।


ঝিনাইদহে চলন্ত ট্রেনে উঠতে গিয়ে পড়ে নারী যাত্রী নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ঝিনাইদহে চলন্ত ট্রেনে উঠতে গিয়ে পড়ে নারী যাত্রী নিহত

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার মোবারকগঞ্জ রেলস্টেশনে ট্রেনে উঠতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে রাবেয়া খাতুন (৩৭) নামের এক নারী যাত্রী নিহত হয়েছেন। তিনি রাজধানী ঢাকার খিলক্ষেত এলাকার জোয়ার সাহারা নিবাসী ইকবাল হোসেনের কন্যা। খুলনা থেকে ছেড়ে আসা রাজশাহীগামী আন্তঃনগর কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী ছিলেন তিনি। ট্রেনটি নির্দিষ্ট বিরতি শেষে স্টেশন ছেড়ে যাওয়ার সময় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, ট্রেনটি চলা শুরু করার পর রাবেয়া খাতুন তাতে ওঠার চেষ্টা করেন। কিন্তু স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম নিচু হওয়া এবং অসাবধানতার কারণে তিনি পা পিছলে ট্রেন ও প্ল্যাটফর্মের মাঝখানে পড়ে যান। এতে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ গুরুতর জখম হয় এবং দুটি পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা দ্রুত এগিয়ে এসে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন।

খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কালীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাকে মারাত্মক আহত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নেন।

যশোর নেওয়ার পথে আনুমানিক সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সাতমাইল নামক এলাকায় পৌঁছানোর পর ওই নারী মারা যান। এদিকে মোবারকগঞ্জ রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার নয়ন খন্দকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফায়ার সার্ভিসকে অবহিত করা হয় এবং তারা দ্রুত আহত যাত্রীকে হাসপাতালে স্থানান্তরিত করে। অন্যদিকে স্থানীয় যাত্রীদের অভিযোগ, নিচু প্ল্যাটফর্ম এবং ট্রেন ছাড়ার সময় যথাযথ সতর্কতার অভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।


জাতিসংঘে জাইমা রহমানের নিয়োগ: লিগ্যাল অফিসার পদটির কাজ কী?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জাতিসংঘে জাইমা রহমানের নিয়োগ: লিগ্যাল অফিসার পদটির কাজ কী?

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ে লিগ্যাল অফিসার হিসেবে সম্প্রতি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। এই নিয়োগের ফলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের সুনাম বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁর এই অর্জন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জাতিসংঘের এই বিশেষ পদে মূলত আন্তর্জাতিক আইন প্রণয়ন, নীতি নির্ধারণী বিষয়ে আইনি সহায়তা প্রদান এবং বিভিন্ন কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় আইনি জটিলতা নিরসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হয়। লিগ্যাল অফিসাররা বিশ্বজুড়ে শান্তি, মানবাধিকার এবং আন্তর্জাতিক আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন নথিপত্র পর্যালোচনা ও আইনি পরামর্শ দিয়ে থাকেন। সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যলয় অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এখানকার কর্মকর্তাদের অত্যন্ত উচ্চমানের পেশাগত দক্ষতা ও আইনি জ্ঞানের অধিকারী হতে হয়।

জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থায় এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ পাওয়ার জন্য প্রার্থীদের অত্যন্ত কঠোর ও প্রতিযোগিতামূলক বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। বিশ্বমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা, আন্তর্জাতিক আইনের ওপর গভীর জ্ঞান এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে দীর্ঘ ও সফল কর্মঅভিজ্ঞতার পরই কেবল এই ধরনের পদে কাজের সুযোগ মেলে। ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের এই নিয়োগে তার নিখুঁত পেশাগত যোগ্যতা এবং আন্তর্জাতিক আইন বিষয়ে তার দক্ষতারই স্বীকৃতি মিলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ে এই পদের দায়িত্ব পালন অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ হলেও এটি একই সঙ্গে একটি চ্যালেঞ্জিং পেশাগত ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত। বিশ্ব রাজনীতির নানা সমীকরণ এবং আন্তর্জাতিক নানা সংকটের আইনি দিকগুলো অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করে এই পদের কর্মকর্তাদের মতামত দিতে হয়। ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের এই সফল কর্মজীবন ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য মেধাবী ও দক্ষ তরুণদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজ করার ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে উৎসাহিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।