শেয়ার বাজার

রুটি দিয়ে ত্বকের যত্ন! জেনে নিন ত্বকযত্নে বাসি রুটির জাদুকরি ভূমিকার কথা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রুটি দিয়ে ত্বকের যত্ন! জেনে নিন ত্বকযত্নে বাসি রুটির জাদুকরি ভূমিকার কথা

দৈনন্দিন ব্যস্ততার যুগে ত্বকের যত্নে মানুষ নানা ধরনের রাসায়নিক প্রসাধনী ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু বহুমূল্য এসব প্রসাধনীর পেছনে প্রচুর অর্থ ব্যয় না করে প্রাকৃতিক উপায়েও ত্বকের যত্ন নেওয়া সম্ভব। সম্প্রতি সৌন্দর্যচর্চায় এক অদ্ভুত উপাদানের কথা সামনে এসেছে, যা অনেকের কাছেই অপ্রত্যাশিত। বেঁচে যাওয়া বাসি রুটি দিয়ে এখন ঘরে বসেই খুব সহজে ত্বকের নানা সমস্যার সমাধান করা যায়।

সাধারণত সকালের তৈরি রুটি বেঁচে গেলে অনেকেই তা ফেলে দেন অথবা পশুকে খেতে দেন। অথচ এই বাসি রুটিতেই এমন কিছু প্রাকৃতিক পরিবর্তন আসে যা ত্বকের জন্য অত্যন্ত উপকারী। দীর্ঘ সময় রাখা রুটিতে মৃদু গাঁজনপ্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় ল্যাকটিক অ্যাসিডের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, যা ত্বকের মৃতকোষ দূর করতে দারুণভাবে সাহায্য করে।

গমের তৈরি রুটিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স, জিংক, সিলিকা এবং ভিটামিন ই থাকে। বাসি হওয়ার পর এই পুষ্টি উপাদানগুলো ত্বকে আরও সহজে শোষিত হতে পারে এবং কোষ গঠনে সহায়তা করে। এছাড়া রুটি কিছুটা শক্ত হয়ে যাওয়ায় এটি প্রাকৃতিকভাবে ত্বক পরিষ্কার করার কাজ করে থাকে।

ত্বকের ধরন অনুযায়ী এই বাসি রুটি দিয়ে বিভিন্ন ধরনের কার্যকরী ফেসপ্যাক তৈরি করা যায়। শুষ্ক ত্বকের জন্য দুধের সঙ্গে বাসি রুটি মিশিয়ে প্যাক তৈরি করা যেতে পারে, যা ত্বককে নরম ও উজ্জ্বল করে তোলে। অন্যদিকে, তৈলাক্ত ত্বকের জন্য মধু ও লেবুর রসের সঙ্গে রুটির গুঁড়া মিশিয়ে ব্যবহার করলে চমৎকার ফল পাওয়া যায়।

মুখের বিভিন্ন দাগ দূর করতে টক দই ও হলুদের সঙ্গে রুটি মিশিয়ে ব্যবহার করার প্রচলন রয়েছে। এছাড়া নাকের ব্ল্যাকহেডস দূর করতে বাসি রুটির গুঁড়া এবং চালের গুঁড়ার মিশ্রণ স্ক্রাব হিসেবে চমৎকার কাজ করে। নিয়মিত এসব ঘরোয়া পদ্ধতি অনুসরণ করলে প্রাকৃতিকভাবেই সুস্থ ও সুন্দর ত্বক পাওয়া সম্ভব।

ডায়াবেটিস হলে ফল খাবেন, না খাবেন না

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ডায়াবেটিস হলে ফল খাবেন, না খাবেন না

ডায়াবেটিস রোগীদের খাদ্যতালিকা নিয়ে জনমনে নানা ধরনের প্রশ্ন ও সংশয় কাজ করে থাকে। বিশেষ করে মিষ্টি জাতীয় ফল খাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে অনেকেই দ্বিধায় ভোগেন। চিকিৎসাবিজ্ঞান ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিস থাকলে ফল খাওয়া বারণ নয়, তবে তা খাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ না করলে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ফলের পরিবর্তে ফল গ্রহণের প্রক্রিয়া। জুস, স্মুদি বা চিনি মেশানো বিভিন্ন ধরনের শরবত এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। তরল আকারে ফল খেলে এর ভেতরের প্রাকৃতিক শর্করা খুব দ্রুত রক্তে মিশে যায়, যা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা হঠাৎ বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই প্রক্রিয়াজাত বা রসালো পানীতির বদলে ফল খাওয়ার সময় অন্যান্য মাধ্যম বাদ দিতে হবে।

এই কারণে পুষ্টিবিদরা সব সময় প্রক্রিয়াজাত জুসের বদলে আস্ত বা গোটা ফল খাওয়ার ওপর জোর দেন। গোটা ফল চিবিয়ে খেলে তাতে থাকা ফাইবার বা আঁশ হজম প্রক্রিয়ায় ধীরগতি আনে, ফলে রক্তে শর্করা ধীরে শোষিত হয়। ফাইবার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে দারুণ কার্যকর ভূমিকা পালন করে থাকে।

তাই রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রেখে শরীরের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে ডায়াবেটিস রোগীরা নিয়মিত তাজা ও গোটা ফল খেতে পারেন। তবে কোন ফল কী পরিমাণ খাওয়া উচিত, সে বিষয়ে অবশ্যই পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সচেতন জীবনযাপন ও সঠিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রেখে সুস্থ জীবনযাপন করা সম্ভব।


সাকিবকে ছাড়িয়ে দ্রুততম ২০০ উইকেটের রেকর্ড তাইজুলের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১ অক্টোবর, ২০২৪

সাকিবকে ছাড়িয়ে দ্রুততম ২০০ উইকেটের রেকর্ড তাইজুলের

তাইজুল ইসলামের দুর্দান্ত টার্ন, অভিষেক টেস্ট খেলতে নামা ম্যাথু ব্রিটজে হয়তো আশাই করেননি বল এতটা ঢুকে যাবে। যতক্ষণে বুঝেছেন, ততক্ষণে উপড়ে গেছে অফস্টাম্প। শূন্য রানেই টেস্ট ক্যারিয়ার শুরু হলো প্রোটিয়া ব্যাটারের। এরই সঙ্গে তাইজুলও নাম লেখালেন দারুণ এক রেকর্ডে।

ব্রিটজকে আউট করে টেস্টে ২০০ উইকেটের মালিক হলেন তাইজুল। ক্যারিয়ারের ৪৮তম টেস্টে এসে এই মাইলফলক ছুঁয়েছেন বাঁহাতি টাইগার স্পিনার।

তাইজুলের আগে বাংলাদেশের কেবল একজনই ২০০ উইকেটের ক্লাবে ঢুকেছেন। তিনি আর কেউ নন সাকিব আল হাসান। অর্থাৎ দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে ২০০ উইকেটের মালিক হলেন তাইজুল।

তবে একটা জায়গায় সাকিবকে ছাড়িয়ে গেছেন তাইজুল। টেস্টে ২০০ উইকেট তিনি পেয়েছেন ৪৮তম টেস্টে। সাকিবের ২০০ ছুঁতে লেগেছিল ৫৪ টেস্ট।

টেস্টে বাংলাদেশের সেরা ৫ উইকেট শিকারি

১. সাকিব আল হাসান-২৪৬ উইকেট

২. তাইজুল ইসলাম-২০১ উইকেট*

৩. মেহেদী হাসান মিরাজ-১৮৩ উইকেট*

৪. মোহাম্মদ রফিক-১০০ উইকেট

৫. মাশরাফি বিন মর্তুজা-৭৮ উইকেট।

চলতি টেস্টে উইকেটসংখ্যা বাড়তে পারে।


শেষ মুহূর্তে রিশাদ-ঝড়, সিরিজ বাংলাদেশের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮ মার্চ, ২০২৪

শেষ মুহূর্তে রিশাদ-ঝড়, সিরিজ বাংলাদেশের

লক্ষ্য খুব বড় ছিল না, ২৩৬ রানের। কনকাশন বদলি হিসেবে নেমে তানজিদ হাসান তামিম খেলে দিলেন ৮১ বলে ৮৪ রানের মারকুটে ইনিংস। তারপরও সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে হারের শঙ্কায় পড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ।

১৩০ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে রীতিমত ধুঁকছিল টাইগাররা। সেখান থেকে মুশফিকুর রহিম আর মেহেদী হাসান মিরাজের জুটি। কিন্তু মিরাজ আউট হওয়ার পর আবারও শঙ্কা। সেই শঙ্কা কেটে গেলো রিশাদ হোসেনের শেষ সময়ের টর্নেডো এক ইনিংসে।

১৮ বলে ৪৮ রানের হার না মানা ইনিংস খেলে দলকে জয়ের পথ গড়ে দিয়েছেন লোয়ার অর্ডারের রিশাদ। শ্রীলঙ্কাকে ৪ উইকেট আর ৫৮ বল হাতে রেখে হারিয়ে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ।

১৩০ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর মুশফিক-মিরাজ ষষ্ঠ উইকেটে গড়েন ৬২ বলে ৪৮ রানের জুটি। ৪০ বলে ২৫ করে আউট হন মিরাজ। মুশফিকের সঙ্গে তখন বলতে গেলে স্বীকৃত ব্যাটার আর কেউ নেই। শঙ্কা তাই তৈরি হয়েছিল।

কিন্তু রিশাদ আরও একবার ব্যাট হাতে চমক দেখান। মাঠে নেমেই চার-ছক্কার ফুলঝুরি ছোটাতে থাকেন ডানহাতি এই ব্যাটার। শেষ পর্যন্ত ১৮ বলে ৪৮ রানের ইনিংসে ৫টি চারের সঙ্গে ৪টি ছক্কা হাঁকান এই লেগস্পিনার। ৩৬ বলে ৩৭ রানে অপরাজিত থাকেন মুশফিক।

২৩৬ রানের লক্ষ্য বেশ সহজই। রয়ে সয়ে খেলতে পারলে অনায়াসেই জয় তুলে নেয়া সম্ভব। সৌম্য সরকারের কনকাশন সাব হিসেবে মাঠে নামা তানজিদ হাসান তামিমের ব্যাটে জয়ের স্বপ্নটাও বাংলাদেশের বেশ চওড়া হচ্ছিলো। কিন্তু অহেতুক ছক্কা মারতে গিয়ে সেঞ্চুরি মিস করেন তানজিদ তামিম। বাউন্ডারি লাইনে ক্যাচ দেওয়ার আগে ৮১ বলে ৯ চার আর ৪ ছক্কায় ৮৪ রান করেন এই ওপেনার।

এর আগে ওপেনিংয়ে এনামুল হক বিজয় এবং তানজিদ তামিম মিলে জুটিটা ভালোই গড়ে তুলেছিলো। দু’জনের ৫০ রানের জুটি ভেঙে দেন লাহিরু কুমারা। তার বল অফসাইডে খেলতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন বিজয়। অনেক উঁচুতে লাফিয়ে উঠে ক্যাচটি ধরেন আভিস্কা ফার্নান্দো। ২২ বলে ১২ রান করেন বিজয়।

অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত আজও হতাশ করলেন। প্রথম ম্যাচে সেঞ্চুরি করে দলকে জেতানোর পর টানা দুই ম্যাচ ব্যর্থ হলেন। আজ মাত্র ১ রান করে আউট হয়ে গেলেন তিনি।

মিডল অর্ডারে নির্ভরতার প্রতীক তাওহিদ হৃদয় জুটি বাধেন তানজিদ তামিমের সঙ্গে। ৪৯ রানের জুটি গড়েন তারা দু’জন। ২২তম ওভারের ৪র্থ বলে লাহিরু কুমারার বাউন্স হয়ে আসা বলে খেলতে গিয়ে ডিপ ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ক্যাচ তুলে দেন হৃদয়। ৩৬ বলে ২২ রান করে আউট হন তিনি।

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ওপর আস্থা ছিল সবার। কিন্তু লাহিরু কুমারার দুর্দান্ত একটি বলকে ডিফেন্স করতে গিয়ে ব্যাটের কানায় লাগিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন তিনি। ৪ বলে মাত্র ১ রান করে বিদায় নেন বাংলাদেশ ব্যাটিংয়ের এই স্তম্ভ।

শ্রীলঙ্কার ডানহাতি পেসার লাহিরু কুমারা ৪৮ রান খরচায় নেন ৪টি উইকেট। দুটি উইকেট শিকার ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার।

এর আগে চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৫০ ওভারে ২৩৫ রানে অলআউট হয় শ্রীলঙ্কা। জেনিথ লিয়ানাগে একাই খেলেন। দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করে অপরাজিত থাকেন এই মিডল অর্ডার। ১০১ রান করেন তিনি। এছাড়া ৩৭ রান করেন চারিথ আশালঙ্কা, ২৯ রান করেন কুশল মেন্ডিস।

সংক্ষিপ্ত স্কোর 

শ্রীলঙ্কা: ৫০ ওভারে ২৩৫/১০ (জানিথ লিয়ানাগে ১০১*, চারিথ আসালাঙ্কা ৩৭, কুশল মেন্ডিস ২৯; তাসকিন আহমেদ ৩/৪২, মোস্তাফিজুর রহমান ২/৩৯, মেহেদি হাসান মিরাজ ২/৩৮, রিশাদ হোসেন ১/৫১)

বাংলাদেশ: ৪০.২ ওভারে ২৩৭/৬ (তানজিদ হাসান তামিম ৮৪, তাওহিদ হৃদয় ২২, মেহেদী হাসান মিরাজ ২৫, মুশফিকুর রহিম ৩৭*, রিশাদ হোসেন ৪৮*; লাহিরু কুমারা ৪/৪৮)