শেয়ার বাজার

রাষ্ট্রপতি থেকে হুইপ, আলোচনায় যারা

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

রাষ্ট্রপতি থেকে হুইপ, আলোচনায় যারা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করেছে তারেক রহমানের বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট। মন্ত্রিসভা গঠিত হলেও এখনও রাষ্ট্রপতি, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, সংসদ উপনেতা, চিফ হুইপ ও হুইপ পদে কারা বসছেন তা নিয়ে দলটির ভেতরে চলছে আলোচনা। রাষ্ট্রপতির আহ্বানে আগামী ১২ মার্চ বসছে সংসদ অধিবেশন। 

দলীয় একাধিক সূত্র বলছে, মন্ত্রিসভা গঠনের পর এবার সংসদীয় কাঠামো পুনর্বিন্যাসে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপি।

রাষ্ট্রপতি পদে চার শীর্ষ নেতার কথা উঠছে

রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির বেশ কয়েকজন শীর্ষ পর্যায়ের নেতা। তারা হলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান ও সেলিমা রহমান।

অনেকে বলছেন, রাজনীতিতে আরও চমক দেখাতে পারেন তারেক রহমান। সে ক্ষেত্রে দেশের প্রথম নারী রাষ্ট্রপতি হিসেবে সেলিমা রহমানের নাম সামনে আসতে পারে। নারী নেতৃত্বকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে বসিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতিবাচক বার্তা দেওয়ার কৌশল থাকতে পারে দলীয় প্রধানের।

তবে রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় রাজনীতির বাইরের কাউকে আনার সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে যাচ্ছে না। আলোচনায় রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এস এম এ ফায়েজ ও সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহর নামও। এছাড়া সাবেক সচিব বা অবসরপ্রাপ্ত কোনো সেনাপ্রধানের নামও আলোচনায় ঘুরপাক খাচ্ছে।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পরই তারেক রহমানকে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করেছে বিএনপি জোট।

সংবিধান অনুযায়ী, সরকারি ফলাফল প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে সংসদ অধিবেশন আহ্বানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে গেলো রোববার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আগামী ১২ মার্চ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। সেই অধিবেশনেই স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবেন। ওই অধিবেশনে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

সংবিধান ও জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী, পূর্ববর্তী সংসদের স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার কথা। বিগত সংসদদের স্পিকার-ডেপুটি স্পিকারের অবর্তমানে সংসদ অধিবেশন কিভাবে শুরু হবে বা প্রথম অধিবেশনে কে সভাপতিত্ব করবেন, সেটি নিয়েও নানা আলোচনা চলছে। তবে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যে কোনো জ্যেষ্ঠ নেতাও সভাপতিত্ব করতে পারেন।

এদিকে, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পদে আলোচনায় যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান এম ওসমান ফারুক ও ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন।

আর ডেপুটি স্পিকার পদে আলোচনায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ ও আশরাফ উদ্দিন নিজানের নাম শোনা যাচ্ছে।

বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে উপরাষ্ট্রপতি পদ সৃষ্টির প্রতিশ্রুতিও রয়েছে। পাশাপাশি দুই কক্ষবিশিষ্ট আইনসভায় সরকারদলীয় সদস্য ব্যতীত অন্য দল থেকেও একজন ডেপুটি স্পিকার মনোনয়নের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

সংসদ উপনেতা, চিফ হুইপ ও হুইপ হতে পারেন কারা?

সংসদ উপনেতা হিসেবে আলোচনায় রয়েছে স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের নাম। চিফ হুইপ পদে সম্ভাব্যদের তালিকায় রয়েছেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লা বুলু, ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবদীন ফারুক ও ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মনির নাম।

হুইপ পদে আলোচনায় আছেন নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু, সিলেট-৬ আসন থেকে নির্বাচিত এমরান আহমেদ চৌধুরী, সম্প্রতি বিএনপিতে যোগ দেওয়া ড. রেজা কিবরিয়া, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিম।

দলীয় একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, পর্যায়ক্রমে সংসদীয় কাঠামোতে গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের স্থান দেওয়া হবে।

বিএনপির প্রচার দলের সভাপতি মাহফুজ কবির মুক্তা বলেছেন, দল একেক করে সৎ, যোগ্য ও পরীক্ষিত ব্যক্তিদের মূল্যায়ন করবে। কেননা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মিছিলের শেষ মানুষটিও মূল্যায়িত হবে।

রাষ্ট্রপতি থেকে হুইপ পর্যন্ত বিভিন্ন পদে নিয়োগ নিয়ে দলীয় আলোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স জাগো নিউজকে বলেন, ‘এটি রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের বিষয়। এ ধরনের সিদ্ধান্ত দলের সর্বোচ্চ ফোরাম থেকেই নেওয়া হবে। বর্তমানে গণমাধ্যমে যে আলোচনা বা নাম ভেসে বেড়াচ্ছে, সেগুলো মূলত অনুমাননির্ভর। তবে জনগণের প্রত্যাশা আছে—অতীত অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার আলোকে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক। আমরা চাই, সেই জনপ্রত্যাশা যেন পূরণ হয়।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, ‘এই পদগুলো ঠিক করবেন জাতীয় সংসদের মাননীয় সংসদ নেতা। আর আমি বা আমরা জানতে পারলো আপনাদের জানাবো।’

হেলথ ও কৃষি কার্ডের সুফল পাচ্ছে দেশের মানুষ: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

হেলথ ও কৃষি কার্ডের সুফল পাচ্ছে দেশের মানুষ: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান জানিয়েছেন যে হেলথ কার্ড ও কৃষি কার্ডের মতো বিভিন্ন জনহিতকর উদ্যোগের সুফল পর্যায়ক্রমে দেশের মানুষ পেতে শুরু করেছে। সম্প্রতি পলাশ উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন। সীমিত সম্পদকে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। দরিদ্র মানুষের কল্যাণে সরকারের এই ধরনের বিশেষ উদ্যোগগুলো সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

অনুষ্ঠানের মূল অংশে স্থানীয় দরিদ্র মানুষের মাঝে নগদ অর্থ, সেলাই মেশিন এবং শিক্ষার্থীদের হাতে স্কুল ব্যাগ বিতরণ করা হয়। পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইশতিয়াক আহমেদের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা ও বিতরণ কার্যক্রম শেষে অতিথিরা এলাকার একটি বিলে পোনা মাছ অবমুক্ত করেন। এই ধরনের সামাজিক কার্যক্রম প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়াতে স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টারই বহিঃপ্রকাশ।

বক্তব্যের অন্য একটি অংশে মন্ত্রী গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলেন এবং এর অপব্যবহার রোধে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে একটি নির্দিষ্ট চক্র সংবাদমাধ্যম ও ফেসবুকের স্বাধীনতার সুযোগ নিয়ে অসত্য তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তাই সত্যের পরিবর্তে যাতে কেউ মিথ্যা প্রচার চালাতে না পারে, সেদিকে সকলের সজাগ দৃষ্টি রাখা জরুরি। গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে সঠিক তথ্যের প্রচার এবং সুস্থ ধারার গণমাধ্যম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মনে করেন।

বিগত সরকারের কঠোর সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন যে অতীতে বিভিন্ন ত্রুটিপূর্ণ ও কারচুপির মাধ্যমে সরকার গঠিত হয়েছিল। অথচ বর্তমান সরকার জনগণের সরাসরি ভোট, কোটি মানুষের সমর্থন এবং দুই-তৃতীয়াংশ ভোট পেয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতায় এসেছে। কারো দয়া বা কারচুপির মাধ্যমে নয়, বরং সঠিক ও নিরপেক্ষ ভোটের মাধ্যমেই একটি জবাবদিহিমূলক সরকার গঠিত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের অধিকারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বর্তমান প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সরকারের এই জনকল্যাণমূলক কাজগুলো সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য তিনি সকলের নিকট সময় ও সুযোগ প্রত্যাশা করেন। জনগণের প্রকৃত ভোটে নির্বাচিত এই সরকারের মূল লক্ষ্য হলো দেশের প্রতিটি কোণায় উন্নয়ন পৌঁছে দেওয়া এবং সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা। দেশের সীমিত সম্পদকে সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করে একটি স্বাবলম্বী জাতি গঠনে বর্তমান প্রশাসন বদ্ধপরিকর। পরিশেষে, জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতায় দেশ আরও উন্নতির পথে এগিয়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।


আসন সমঝোতা নিয়ে জামায়াতের তৃণমূলে অসন্তোষ

প্রকাশিত: ২০ জানুয়ারি, ২০২৬

আসন সমঝোতা নিয়ে জামায়াতের তৃণমূলে অসন্তোষ

জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা দলগুলোর ‘১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য’ নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। ইসলামী আন্দোলন ছাড়া ১০ দলের আসন সমঝোতাকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামীর তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে এক ধরনের ক্ষোভ ও অসন্তোষ রয়েছে। জোটের একাধিক আসনে জামায়াতের নিজস্ব প্রার্থীর অবস্থান তুলনামূলকভাবে শক্ত হলেও সমঝোতার স্বার্থে প্রার্থী প্রত্যাহার নিয়ে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে মনোমালিন্য নজরে আসছে।

জামায়াতে ইসলামীর দাবি, বৃহত্তর ঐক্য ধরে রাখতে এবং এক ভোট বাক্স নীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই তারা এসব আসনে ছাড় দিয়েছে। দলটির ভাষ্য অনুযায়ী, জোট টিকিয়ে রাখতে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছে জামায়াত।

তবে দলের সেই সিদ্ধান্ত সহজভাবে মেনে নিতে পারছেন না তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

১০ দলীয় জোট সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামী ২১৫টি, এনসিপি ৩০টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২৩টি, খেলাফত মজলিস ১৩টি, এলডিপি সাতটি, এবি পার্টি চারটি নেজামে ইসলাম পার্টি তিনটি, বিডিপি দুটি ও খেলাফত আন্দোলন এক আসনে নির্বাচন করবে।

তবে এর মধ্যে জামায়াতের ছেড়ে দেওয়া বেশ কিছু আসনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

জামায়াত ও শিবিরের সমর্থকরা প্রকাশ্যেই প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে আপত্তি তুলেছেন। বিশেষ করে গত ১৫ জানুয়ারি ১০ দলের আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জামায়াত ও ছাত্রশিবির সমর্থকদের মধ্যে নানা মন্তব্য ও সমালোচনা চলছে।

মৌলভীবাজার-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আব্দুল মান্নানকে গ্রামের বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন এলাকাবাসী ও কর্মী-সমর্থকরা। তিনি যেন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে না পারেন এজন্য মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজনগর উপজেলার দত্তগ্রামে নিজ বাড়িতে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল মান্নানের ছেলে ডা. তানভীর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আমার বাবা দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন সামনে রেখে স্থানীয় এলাকাবাসী ও কর্মীদের নিয়ে কাজ করছেন। এজন্য তিনি যাতে মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে না পারেন এজন্য সকাল থেকে বাড়িতে সাধারণ মানুষ এসে বাবাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন। তবে এখানে জামায়াতের কোনো নেতা নেই। সবাই আমাদের এলাকাবাসী ও আমার বাবার কর্মী।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ দেড়ব ছর ধরে নির্বাচন সামনে রেখে মাঠেঘাটে ঘুরেছেন। এসময় সাধারণ মানুষ ব্যাপক সমর্থন করেন। বাবা যাতে মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে না পারেন এজন্য বাড়িতে সবাই অবরোধ করছেন।

অসন্তোষ দেখা গেছে, লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনেও। ওই আসনের জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা বলছেন, জামায়াত প্রার্থী নাজমুল হোসেন পাটোয়ারী মাঠপর্যায়ে ভালো অবস্থানে রয়েছেন। তাদের অভিযোগ, সমঝোতার মাধ্যমে এনসিপি প্রার্থী মাহবুব আলমকে দেওয়া হচ্ছে, তাকে এলাকায় অনেকেই চেনেন না।

লক্ষ্মীপুর-১ আসনে রামগঞ্জ উপজেলার ১ নং কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের আমির সারাফাত হোসেন শাহিদ জাগো নিউজকে বলেন, এ আসনে এনসিপির ওই প্রার্থীকে কেউ চেনে না। আমরা এক বছর থেকে এই আসনটিতে ঘাম ঝরিয়েছি। এখন ১০ দলীয় জোট যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আমরা মনে করি এটা বিবেচনা করা দরকার। সেজন্য এই আসনের বিষয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি বসছে, আমিরে জামায়াতও এটা নিয়ে বসছেন।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, এসব অসন্তোষ সাময়িক। তারা আশা করছেন, নির্বাচনের সময় দলীয় শৃঙ্খলা বজায় থাকবে এবং নেতাকর্মীরা বৃহত্তর স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকবেন।

মঙ্গলবার (১৯ জানুয়ারি) জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের এক সদস্য বার্তাবেলা নিউজকে বলেন, আমাদের প্রার্থীরা মাঠ পর্যায়ে সর্বোচ্চ পরিশ্রম করেছে। জোট চূড়ান্ত হওয়ার আগে থেকে তাদের মেসেজ দেওয়া হয়েছে দেশের স্বার্থে আসন সমঝোতা করা হতে পারে, সেজন্য যে কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রার্থিতা প্রত্যাহার নির্দেশনা মানতে হবে।

তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী শৃঙ্খল সংগঠন। কর্মীরা মাঠ পর্যায়ে কাজ করেছে, কিছুটা অভিমান থাকবে। আশা করছি কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলা হবে না।

এই বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জোবায়ের বার্তাবেলা নিউজকে বলেন, আমরা চেয়েছি জুলাই অভ্যুথানের শক্তিদের সবাইকে একসঙ্গে রাখতে। এটা করতে গিয়ে এমন জায়গায় ত্যাগ শিকার করতে হয়েছে যেটা তারা মেনে নিতে পারছে না। আমাদের নেতাকর্মীরা নিজেদের টাকা খরচ করছে, শ্রম দিয়েছে- তাই তাদের কষ্ট পাওয়া স্বাভাবিক। আবার তার মানে এই না যে, তারা দলের সিদ্ধান্ত মানবে না। আশা করি, বৃহত্তর স্বার্থে দলের নেতাকর্মীরা সিদ্ধান্ত মেনে চলবে।


বাইরের কারও ইন্ধনে চলছে জাপাকে দুর্বল করার চেষ্টা: চুন্নু

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫ জানুয়ারি, ২০২৪

বাইরের কারও ইন্ধনে চলছে জাপাকে দুর্বল করার চেষ্টা: চুন্নু

বার্তাবেলা ডেস্ক: বাইরের কারও ইন্ধনে জাতীয় পার্টিকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু।

নির্বাচনে ভরাডুবি, অনিয়মসহ নানা অভিযোগে জাপার পরাজিত প্রার্থীরা যখন মহাসচিব ও চেয়ারম্যানকে দায়ী করছেন তখন এ আশঙ্কার কথা জানান চুন্নু। এর আগে রোববার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে বিশেষ সভা করেন জাপার পরাজিত প্রার্থীরা। সেখানে নির্বাচনে ভরাডুবির জন্য জাপা মহাসচিব ও চেয়ারম্যানকে দায়ী করেন তারা।

সোমবার (১৫ জানুয়ারি) এ প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে গণমাধ্যমকে চুন্নু বলেন, ‘নির্বাচনে কাঙ্ক্ষিত ফল পাইনি। সেই বিষয়ে আমার ও চেয়ারম্যানের মধ্যে দায়দায়িত্ব আছে। সেই দায়দায়িত্ব নিয়ে আমরা কথা বলতে পারতাম। আমরা ঘরের মধ্যে আলোচনা করতে পারতাম। ফোরামে আলোচনা করতে পারতাম, কিন্তু যেটা করছে সেটা আমার মনে হয় বাইরে থেকে কারও ইন্ধন আছে। পার্টিকে দুর্বল করার জন্য, কারও ইন্ধন আছে। না হলে এ ধরনের কথা বলার কোনো যুক্তি নেই। কারা ইন্ধন দিচ্ছে এটা এখনই বলতে পারবো না। এটা এখনই বলা মুশকিল, অনুমানের ওপর বলছি।’

ভোটে জাপাকে কেউ অর্থ দেয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, কেউ আমাদের ভোট করতে টাকা দেয়নি। ব্যবসায়ীরাও দেয়নি। কেউ একটা পয়সা দিয়েছে, অসম্ভব।

চুন্নু বলেন, আমরা পরাজিত প্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলাম। তার আগেই তারা ফরাসি বিপ্লবের মতো বিপ্লব আরম্ভ করে দিয়েছে।

দলের ভাঙনের গুঞ্জন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ তিনবার চারবার ভাঙছে। বিএনপিও অনেক বার ভাঙছে এটা চলমান প্রক্রিয়া। একটা দল ট্রেনের মতো যাচ্ছে। সেখান থেকে কোনো কোনো যাত্রী নেমে যায়, নতুন যাত্রী ওঠে। এটা কোনো বিষয় নয়। দল ভাঙছে না, কোন জেলার সভাপতি সেক্রেটারি আসছে, প্রেসিডিয়াম মেম্বার সংখ্যাগরিষ্ঠ কেউ বিবৃতি দেয়নি। নির্বাহী সদস্যরাও বিবৃতি দেয়নি। সাংগঠনিক ভাঙা একটা প্রক্রিয়া। কতিপয় প্রার্থী যারা ভেবেছে আমরা টাকা পেয়েছি, ওদের টাকা দেইনি। এটাই কারণ, অন্য কোনো কারণ নেই। এখানে ভাঙা ভাঙির কোনো বিষয় নেই।