শেয়ার বাজার

পুলিশ সেজে যাত্রীকে জরিমানা, অর্থ না পেয়ে চলন্ত ট্রেন থেকে ধাক্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পুলিশ সেজে যাত্রীকে জরিমানা, অর্থ না পেয়ে চলন্ত ট্রেন থেকে ধাক্কা

ভারতের বিহারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে ট্রেনের যাত্রীদের জিম্মি করে অর্থ আদায়ের এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। ট্রেনের বিশেষ কামরায় উঠে সাধারণ ও শ্রমজীবী যাত্রীদের টার্গেট করে এই অপরাধ চালাত রোহিত তিওয়ারি নামের এক যুবক। নিজেকে কখনো পুলিশ, কখনো রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী বা এসটিএফের কর্মকর্তা দাবি করে সে বিভিন্ন অজুহাতে যাত্রীদের কাছ থেকে জরিমানা আদায় করত। কেউ তার এই অবৈধ দাবির প্রতিবাদ করলে তাকে শারীরিক লাঞ্ছনা ও মারধরের মুখোমুখি হতে হতো।

এই চক্রের শিকার হন ২১ বছর বয়সী এক তরুণ নিতিন কুমার, যিনি সম্প্রতি একটি বিশেষ ট্রেনে করে নিজের বাড়িতে ফিরছিলেন। গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে ট্রেন চলাকালীন সময়ে ধূমপানের মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাকে জোরপূর্বক ট্রেন থেকে নামিয়ে নেয় ওই প্রতারক। পরবর্তীতে বক্সার স্টেশনের কাছাকাছি এলাকা থেকে নিতিনের ফোন ব্যবহার করে তার পরিবারের কাছে ১০ হাজার রুপি মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে পাঁচ হাজার রুপি পাঠানো হলেও পরদিন আরও ২০ হাজার রুপি চাঁদা দাবি করা হলে তাদের সন্দেহ জাগে।

পরিবারের লোকজনের এমন অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় তারা দ্রুত বিষয়টি বক্সার রেলওয়ে থানাকে অবহিত করেন এবং পুলিশের সহায়তায় তদন্ত শুরু হয়। পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে রোহিত তিওয়ারিকে আটক করতে সক্ষম হয় এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। এই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ আরা ও জগজীবন হল্ট স্টেশনের মধ্যবর্তী রেললাইন এলাকা থেকে এক যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে নিহতের বাবা ঘটনাস্থলে এসে মরদেহটি নিখোঁজ নিতিনের বলে শনাক্ত করেন।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চাহিদামতো চাঁদার টাকা আদায় করতে না পেরে রোহিত ওই যুবককে চলন্ত ট্রেন থেকে বাইরে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছিলেন। গ্রেপ্তারকৃত রোহিতের বিরুদ্ধে এর আগেও নানা অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং তিনি প্রায় পঁচিশ মাস কারাভোগ করেছিলেন। সম্প্রতি জামিনে মুক্ত হয়ে আসার পর তিনি আবারও একই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। পুলিশ তার কাছ থেকে অন্য এক ব্যক্তির মানিব্যাগসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিও উদ্ধার করেছে।

২৬ বছর ধরে লতাপাতা খেয়ে জীবনযাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

২৬ বছর ধরে লতাপাতা খেয়ে জীবনযাপন

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার অমল কৃষ্ণ সুতার এক ব্যতিক্রমী জীবনযাপন করে গোটা এলাকায় আলোচনার সৃষ্টি করেছেন। দীর্ঘ প্রায় ২৬ বছর ধরে তিনি জঙ্গল, খাল ও বিলের বিভিন্ন লতাপাতা, কচুরিপানাসহ নানা উদ্ভিদ কাঁচা খেয়ে জীবনধারণ করছেন। বর্তমানে ৬৬ বছর বয়সী এই ব্যক্তির চেহারায় বয়সের ছাপ থাকলেও তিনি এখনো বেশ কর্মক্ষম ও সতেজ রয়েছেন। তার এই অদ্ভুত খাদ্যাভ্যাসের বিষয়টি স্থানীয় লোকজনকে বিস্মিত করলেও তিনি সম্পূর্ণ স্বাভাবিকভাবে নিজের জীবন চালিয়ে যাচ্ছেন।

অমল কৃষ্ণের এই অস্বাভাবিক জীবনযাপনের নেপথ্যে রয়েছে চরম আর্থিক সংকট ও অভাবের বঞ্চনা। জীবনের শুরুর দিকটা এমন ছিল না, তিনি ১৯৮১ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেছিলেন। বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করার সুবাদে উদ্ভিদ নিয়ে তার মনে ছোটবেলা থেকেই এক ধরনের কৌতূহল কাজ করত। পরবর্তী সময়ে তীব্র খাদ্যসংকটের মুখে পড়ে তিনি প্রকৃতি থেকে উদ্ভিদ খেয়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা শুরু করেন এবং একপর্যায়ে সেটিই তার প্রধান খাদ্যাভ্যাসে পরিণত হয়।

প্রকৃতির ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল এই মানুষের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় কোনো নির্দিষ্ট মেনু বা সময় বাঁধা নেই। ক্ষুধা নিবারণের জন্য তিনি যখন যেখানে পান, লতাপাতা ও জলজ উদ্ভিদ চিবিয়ে খেয়ে নেন। নিজের কোনো স্থায়ী বসতি বা ঘরবাড়ি না থাকায় তিনি কখনো পরিচিতজনদের বাড়িতে আবার কখনো অন্যের আশ্রয়ে রাত কাটান। তবে বিষাক্ত কোনো উদ্ভিদ বা বস্তু তিনি কখনো মুখে তোলেন না বলে নিজেই জানিয়েছেন।

স্থানীয় চিকিৎসকরা অমল কৃষ্ণ সুতারের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে তার শরীরে বড় কোনো জটিল রোগের অস্তিত্ব পাননি। নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, নিয়মিত লতাপাতা খেয়েও তিনি কীভাবে সুস্থ আছেন, তা চিকিৎসাবিজ্ঞানের জন্য একটি গবেষণার বিষয় হতে পারে। তবে তার এই খাদ্যাভ্যাস সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও দীর্ঘদিনের অভ্যাসের ফল হওয়ায় অন্য কাউকে এটি অন্ধভাবে অনুসরণ না করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।


​দোয়ারাবাজারে থামছে না স্বজনদের বিলাপ
ধান কেড়ে নিল কৃষকের প্রাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৪ মে, ২০২৬

ধান কেড়ে নিল কৃষকের প্রাণ

​মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ হেলালী::  মাঠের ধান রক্ষা করতে গিয়ে রক্তে রঞ্জিত হলো কৃষকের আঙিনা। ঘাম আর শ্রমে বোনা স্বপ্নই শেষ পর্যন্ত যমদূত হয়ে দেখা দিল জহুর উদ্দিনের জীবনে। দোয়ারাবাজার উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের সুঁড়িগাঁও গ্রামে এখন বারুদজ্বলা স্তব্ধতা; যেখানে ফসলের মায়ার চেয়ে মানুষের আক্রোশ বড় হয়ে উঠেছে।

গত ​পহেলা মে শুক্রবার সকাল। ভরা বৈশাখে যখন সোনালি ধানে মাঠ ভরে ওঠার কথা, ঠিক তখন তুচ্ছ এক বাকবিতণ্ডায় নিভে গেল ৫ সন্তানের জনক ৫৫ বছর বয়সী জহুর উদ্দিনের জীবনপ্রদীপ। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিজের পরম মমতায় ফলানো ধানি জমিতে প্রতিপক্ষের গরু ঢোকার প্রতিবাদ করেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই প্রতিবাদই কাল হলো। প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিজের আবাদি জমির বুকেই লুটিয়ে পড়েন এই নিরপরাধ কৃষক।

​উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বারান্দায় যখন জহুর উদ্দিনের নিথর দেহ পড়ে ছিল, তখন স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদে হাসপাতালের বাতাসও যেন ভারী হয়ে ওঠে। এক মুঠো ধানের অধিকার কি তবে জীবনের চেয়েও দামি? এই প্রশ্ন এখন সুঁড়িগাঁওয়ের প্রতিটি ঘরে। বিকেলের নিভে আসা আলোয় নিহতের বাড়িতে যে শোকের ছায়া নেমেছে, তা যেন কেবল এক ব্যক্তির মৃত্যু নয়, বরং মানবিকতার এক চরম অপমৃত্যু।

উল্লেখ্য, পহেলা মে শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে সুঁড়িগাঁও গ্রামের মৃত হযরত আলীর পুত্র জহুর আলীর জমিতে গরু দিয়ে ধান খাওয়ানো নিয়ে একই গ্রামের কফিল উদ্দিন মাস্টারের পুত্র উজ্জ্বল ও ফয়সাল আহমদের সাথে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে জহুর আলীকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালের বারান্দায় ভাইয়ের নিথর দেহের পাশে কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহতের বোন ও ইউপি সদস্য হোসনে আরা বেগম। গগনবিদারী আর্তনাদে তিনি বলেন, 'এক মুঠো ধানের জন্য আমার ভাইকে এভাবে কুপিয়ে মারল ওরা? ভাই তো শুধু নিজের ফসলটুকু বাঁচাতে চেয়েছিল। আমরা এই রক্তপাতের বিচার চাই, খুনিদের ফাঁসি চাই।' তার এই বুকফাটা হাহাকারে উপস্থিত সবার চোখ ভিজে ওঠে। এক মুঠো ধানের অধিকার কি তবে জীবনের চেয়েও দামি হয়ে উঠল? এই প্রশ্ন এখন সুঁড়িগাঁওয়ের প্রতিটি ঘরে।

নিহতের পুত্র আল আমিন কান্নায় ভেঙে পড়ে বাবার খুনীদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি চেয়েছেন। গরু দিয়ে ধান খাওয়াতে নিষেধ করাই তার পিতার কাল হয়ে দাঁড়ালো।

​দোয়ারাবাজার থানার ওসি তরিকুল ইসলাম জানান, সংবাদ পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

​আইনের খাতায় বিচার হবে, হয়তো সাজাও মিলবে। কিন্তু যে কৃষকের ছোঁয়ায় মাঠের ফসল কথা বলত, সেই চেনা মানুষটি আর কখনো ফিরবে না। হাওরের হাহাকার আর স্বজনদের অশ্রুজলে মিশে রইল কেবল একটিই দীর্ঘশ্বাস— ‘মাঠের ধান মাঠেই রইল, কেবল কৃষকই পরপারে পাড়ি জমালো।


আমরাও একদিন চাঁদে যাবো: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ জুন, ২০২৪

আমরাও একদিন চাঁদে যাবো: প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ একদিন চাঁদে যাবে, এমন প্রত্যাশা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন প্রজন্মকে সেভাবে জ্ঞান-বিজ্ঞানে দক্ষ করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেন, ‘একসময় আমাদের চাঁদেও যেতে হবে, চাঁদও জয় করতে হবে। সেই বিজ্ঞানসম্পন্ন জ্ঞানটা যেন আমাদের শিশুরা এখন থেকে পায়, সেজন্য ব্যবস্থা নিতে হবে।’

বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৩’ এবং ‘জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৪’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

মহাকাশ গবেষণা এবং এ বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ সৃষ্টির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় করে দিয়েছি, অ্যারোস্পেস এবং অ্যাভিয়েশন ইউনিভার্সিটিও করেছি। অ্যারোনটিক্যাল সেন্টারও করে দিয়েছি। গবেষণা এবং সেই সঙ্গে আমাদের শিশুদের এখন থেকে সেভাবে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।’

শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকারের আন্তরিকতা ও উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সবসময় আমরা একটা সুষম, জনকল্যাণমুখী, সর্বজনীন, মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা করতে চাই। আর শুধু ওই কেতাবই পড়ে না, ছোট ছোট শিশুদের ভেতরে যে মেধা-মনন সেগুলোও তো আমাদের বের করে আনতে হবে। তাদের সুযোগ দিতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘তাদের ভেতরে যে একটা কিছু করার ক্ষমতা আছে, সেটা যাতে বিকশিত হয় সেই সুযোগটা সৃষ্টি করা দরকার। আর সেদিকে লক্ষ রেখেই কিন্তু শিক্ষা কারিকুলাম-আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞানের মধ্যে নিয়ে এসে স্কুলে কম্পিউটার করা হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে প্রতিটি স্কুলে কম্পিউটার ল্যাব করা। প্রথমে এটা মাধ্যমিক থেকে শুরু করেছিলাম, এখন আমাদের লক্ষ্য প্রাইমারি থেকেই শুরু করে দেবো।’

দুই বছরের জন্য প্রি-প্রাইমারি চালুর কথা জানিয়ে সরকার প্রধান বলেন, ‘প্রি-প্রাইমারি আমরা চালু করেছি। প্রি-প্রাইমারি এক বছরের জন্য, এখন আমরা সেটা দুই বছরের জন্য করতে চাচ্ছি। শুধু পড়াশোনা না, আসবে-যাবে, একসঙ্গে বসবে, বন্ধুদের নিয়ে খেলাধুলা করবে, ওই খেলাধুলার মধ্য থেকেই তাদের ভেতরে যে সুপ্ত মেধাটা আছে, সেই মেধাটা কীভাবে বিকশিত করা যায়, সেই ধরনের ব্যবস্থা আমাদের নিতে হবে। তাহলেই কিন্তু এই ছেলে-মেয়ে, এরাই তো ভবিষ্যৎ আমাদের। সেভাবে আমরা তাদের তৈরি করে দেবো।

শেখ হাসিনা বলেন, আজকের যুগ হচ্ছে প্রযুক্তির, কাজেই কম্পিউটার শেখা, আমরা যেমন ল্যাব করে দিচ্ছি, ইনকিউবেশন সেন্টারও করে দিচ্ছি। সেভাবে আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন জনগোষ্ঠী আমরা গড়ে তুলতে চাই। সেদিকে লক্ষ রেখেই আমরা সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের বাংলাদেশ স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। তাহলে আমাদের স্মার্ট সিটিজেন হবে। স্মার্ট সরকার, স্মার্ট অর্থনীতি, স্মার্ট সমাজ। অর্থাৎ প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ জনশক্তি। এই ছোটবেলা থেকে, শিশুকাল থেকে ধীরে ধীরে তারা গড়ে উঠবে, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে। দেশের উন্নয়নে তাদের চিন্তা-ভাবনা, তারা আরও নতুন নতুন উদ্ভাবনী শক্তি দিয়েই দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। সেটাই আমি চাই।’

আজকের শিশুরা আগামী দিনের কর্ণধার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের শিশু আগামী দিনের নাগরিক। যারা একদিন এ দেশের কর্ণধার হবে। এই শিশুদের মধ্য থেকেই একদিন কেউ প্রধানমন্ত্রী হবে, মন্ত্রী হবে, বড় বড় সরকারি চাকরি করবে, বৈজ্ঞানিক হবে।’

তিনি বলেন, ‘আজকের শিশুরাই আগামী দিনে স্মার্ট বাংলাদেশের পরিচালক হিসেবে পরিচালনার দায়িত্ব নেবে, সেটাই আমাদের আশা। ২০৪১ সালের মধ্যে হবে স্মার্ট বাংলাদেশ এবং আর ২১০০ সালে ডেল্টা প্ল্যানও করে দিয়েছি। যেন প্রজন্মের পর প্রজন্ম তারা সুন্দর জীবন পায়, সেটাই আমার লক্ষ্য।’

শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘আমাদের ছেলে-মেয়েরা শিক্ষাদীক্ষায়, সংস্কৃতি চর্চায়, খেলাধুলা, সবদিকে যেন উপযুক্ত নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে। সেটাই আমরা করতে চাই। তার জন্য যা যা প্রয়োজন সব কিছু আমরা করবো।’

এ বছর ১৮ ক্যাটাগরিতে মোট ১২৬ শিক্ষার্থী, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৩’ প্রদান করা হয়। এর মধ্যে ৫৪ শিক্ষার্থী, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী রুমানা আলী ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব ফরিদ আহমেদ।