শেয়ার বাজার

প্রতিষ্ঠানের সাফল্যে সব কর্মীকে আইফোন উপহার দিলেন মালিক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রতিষ্ঠানের সাফল্যে সব কর্মীকে আইফোন উপহার দিলেন মালিক

ব্যবসায়িক সাফল্যের উদ্‌যাপন সবসময়ই বিশেষ কিছু নিয়ে আসে, তবে সম্প্রতি এক অভিনব পন্থায় কর্মীদের পুরস্কৃত করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন এক উদ্যোক্তা দম্পতি। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিটি কর্মীর হাতে উপহার হিসেবে নতুন মডেলের আইফোন তুলে দিয়েছেন তারা। এমন উদার মানসিকতা ও কর্মীপ্রীতির দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই তা দারুণ সাড়া ফেলে। নেটিজেনরা এই দম্পতির ভূয়সী প্রশংসা করছেন এবং অনেকেই মন্তব্য করছেন যে, এমন মালিক পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার।

সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওটিতে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার হাসিনা ও নিশাদ দম্পতি একে একে সব কর্মীকে ডেকে তাদের হাতে আইফোন তুলে দিচ্ছেন। কর্মীদের মুখে আনন্দের ঝিলিক এবং কাজের প্রতি তাদের নিবেদনের স্বীকৃতিস্বরূপ এই উপহার প্রদান করা হয়। ভিডিওটির নিচে অজস্র মন্তব্য জমা হয়েছে, যেখানে সাধারণ মানুষ বিভিন্ন মন্তব্য করে এই দম্পতির প্রশংসা করছেন। একজন মজা করে লিখেছেন যে, তার কর্মক্ষেত্রের বস ভিডিওটি দেখার পর মন্তব্য করেছেন এটি নাকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি!

আধুনিক করপোরেট সংস্কৃতিতে কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা রাখতে এ ধরনের উদ্যোগ প্রায়ই বেশ বড় ভূমিকা পালন করে থাকে। অনেক সময় বেতন বা বোনাসের বাইরেও বিশেষ উপহার কর্মীদের প্রতিষ্ঠাগতো আনুগত্য বাড়াতে সাহায্য করে। হাসিনা ও নিশাদ দম্পতির এই ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে, প্রতিষ্ঠানের অংশীদার হিসেবে কর্মীদের অবদানকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তাদের এই কাজের মাধ্যমে অন্যান্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোও অনুপ্রাণিত হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সব মিলিয়ে, ছোট হোক বা বড়, যেকোনো ব্যবসায়িক অর্জনের পেছনে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের পরিশ্রমই মূল চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করে। এই দম্পতি যেভাবে তাদের কর্মীদের মূল্যায়ন করেছেন, তা বর্তমান কর্মসংস্থান বাজারে এক বিরল ও ইতিবাচক উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তাদের প্রতি শুভেচ্ছা ও অভিনন্দনের বার্তা আসছে।

হঠাৎ ভারতের মাটিতে নামল ৬ মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান, সঙ্গে দুই শতাধিক সেনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

হঠাৎ ভারতের মাটিতে নামল ৬ মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান, সঙ্গে দুই শতাধিক সেনা

যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাধুনিক ছয়টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান প্রথমবারের মতো ভারতীয় ভূখণ্ডে অবতরণ করেছে। অত্যাধুনিক এই যুদ্ধবিমানগুলোর পাশাপাশি প্রায় দুই শতাধিক মার্কিন সেনাসদস্যও দেশটিতে এসে পৌঁছেছেন। যোধপুর বিমানঘাঁটিতে আয়োজিত আন্তর্জাতিক মহড়া 'তরং শক্তি'তে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে এই বিশেষ সামরিক দলটি ভারতে এসেছে। দুই দেশের সামরিক কৌশলগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই ঘটনাকে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভারতের মাটিতে এই মার্কিন যুদ্ধবিমানের উপস্থিতি নিশ্চিত করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে আধুনিক বিমানগুলো এবার ভারতীয় বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমানের সঙ্গে একই আকাশসীমায় মহড়া চালাবে। আগামী ১২ অক্টোবর পর্যন্ত চলমান এই বহুজাতিক মহড়া দুই দেশের মধ্যকার প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বকে আরও দৃঢ় করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

চলমান এই আন্তর্জাতিক সামরিক মহড়ায় ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও বিশ্বের বেশ কয়েকটি প্রভাবশালী দেশ অংশগ্রহণ করছে। এই তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ, ফ্রান্স, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিমানবাহিনী। এতগুলো দেশের একত্রে এই ধরনের মহড়ায় অংশ নেওয়া বৈশ্বিক সামরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

যোধপুরের এই মহড়ায় নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষার শক্তি প্রদর্শন করতে ভারতীয় বিমানবাহিনীও শক্তিশালী বহর প্রস্তুত রেখেছে। এই মহড়ায় ফরাসি প্রযুক্তিতে নির্মিত রাফাল, দেশীয় প্রযুক্তির তেজস এবং রুশ যুদ্ধবিমান মিগ-২৯ অংশ নিচ্ছে। বিশ্বের অন্যতম সেরা মার্কিন এফ-৩৫ বিমানের সঙ্গে যৌথ এই মহড়া ভারতীয় বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


পশ্চিমবঙ্গে নতুন নির্বাচনের দাবি মমতার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গে নতুন নির্বাচনের দাবি মমতার

পশ্চিমবঙ্গে সর্বশেষ বিধানসভা নির্বাচনে দলের ভরাডুবির প্রায় পাঁচ মাস পর শ্রীরামপুরে একটি বড় রাজনৈতিক জনসভায় যোগ দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘ বিরতির পর আয়োজিত এই জনসভা থেকে তিনি রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক নির্বাচনী ফলাফলের তীব্র সমালোচনা করেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কেরিয়ারে এই প্রথম তিনি প্রকাশ্যে নতুন করে নির্বাচনের দাবি জোরালোভাবে উত্থাপন করলেন।

সমাবেশের মঞ্চ থেকে নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্র তথা রাজ্য স্তরের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, পূর্ব নির্ধারিত একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জনগণের রায়ের সঠিক প্রতিফলন হতে দেওয়া হয়নি এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়েছে। এই ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর এক বিরাট আঘাত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের অভিযোগ তুলে তৃণমূল নেত্রী বলেন যে, সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার সুরক্ষিত না হলে দেশে গণতন্ত্রের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়বে। তিনি উপস্থিত হাজার হাজার দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান। জনগণের প্রকৃত রায় পেতে প্রয়োজনে আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র করা হবে বলে তিনি হুশিয়ারি দেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন পর মমতার এ ধরনের কড়া বার্তা এবং নতুন নির্বাচনের দাবি আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করতে পারে। আসন্ন দিনগুলোতে বিরোধী দলগুলোর বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেসের আন্দোলন কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়। জনসভায় দলের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি এবং উচ্ছ্বাস দেখে বোঝা যায়, তৃণমূল আগামী দিনে মাঠে থেকে লড়াই করার জন্যই প্রস্তুতি নিচ্ছে।


বসতভিটা বাঁচাতে গ্রামবাসীই আটক করলেন ড্রেজার, পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বসতভিটা বাঁচাতে গ্রামবাসীই আটক করলেন ড্রেজার, পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার বালাসীঘাট সংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নদীভাঙন থেকে নিজেদের বসতভিটা ও ফসলি জমি রক্ষার্থে কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের পূর্ব খোলাবাড়ী গ্রামের সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই সাহসী পদক্ষেপ নেন। সম্প্রতি দুপুরে নদীর তীরবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত একটি ড্রেজার ও একটি নৌকা আটক করেন ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই অবৈধ কার্যক্রমের কারণে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করায় তারা নিজেরাই মাঠে নামতে বাধ্য হন।

স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের অভিযোগ অনুযায়ী, বালাসীঘাটের নিকটবর্তী খোলাবাড়ী গ্রামের উজান অংশে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে নিয়মবহির্ভূতভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। নদীর একেবারে কাছ থেকে বালু তোলার ফলে এর আশেপাশের অঞ্চলে মারাত্মক ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে পূর্ব খোলাবাড়ী এবং উত্তর উড়িয়া গ্রামের অসংখ্য বসতবাড়ি, উর্বর ফসলি জমি ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এলাকাবাসী জানান, এর আগেও তারা এই অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবিতে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তરે অভিযোগ এবং মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছিলেন, কিন্তু তাতে কোনো সুফল মেলেনি।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসী জানান, ভিটেমাটি হারানোর আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না দেখায় তারা নিজেরাই নদীতে গিয়ে ড্রেজারগুলো আটক করেন। স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হোসেন ও আব্দুর রশিদ বলেন, নদী ভাঙতে ভাঙতে তাদের শেষ সম্বলটুকু কেড়ে নেওয়ার উপক্রম করেছে, তাই ঘরবাড়ি বাঁচাতে তারা বাধ্য হয়ে এই প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন। অপর এক বাসিন্দা ওমর আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এভাবে বালু উত্তোলন চলতে থাকলে তাদের পথে বসা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না, তাই স্থায়ীভাবে এই ভাঙন রোধ করা জরুরি।

পরিস্থিতি বেগবান হওয়ায় স্থানীয় কঞ্চিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহেল রানা শালুও বিষয়টি দ্রুত প্রশাসনের নজরে আনেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দেন। পরবর্তীতে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে। ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে ড্রেজার মালিক মিলন মিয়া এবং নৌকা মালিক হেলোয়ার হোসেনকে মোট দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। সেই সঙ্গে ভবিষ্যতে নদীতীর থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করবেন না মর্মে তাঁদের কাছ থেকে মুচলেকাও আদায় করা হয়েছে।